খুবই মজাদার টক ঝাল মিষ্টি জলপাইয়ের আচারের রেসিপি
বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম
আসসালামু আলাইকুম
শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন ? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভাল আছেন । আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি ।
প্রিয় , আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম।
আজ আমি আপনাদের, খুবই মজাদার এবং সুস্বাদু টক ঝাল মিষ্টি জলপাইয়ের আচারের রেসিপি সম্পর্কে বলতে চাই। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।
আসুন শুরু করি
আচার আমাদের সকলের খুবই পছন্দনীয় খাবার। আচার খুবই লোভনীয় খাবার। আসলে আমরা কম বেশি যে কোনো আচার খেয়ে থাকি। বিশেষ করে দুপুরে খাবারের সময় এবং পড়ন্ত বিকেলে আচার খেতে খুবই ভালো লাগে।
কত রকমের আচার তৈরি করা যায় তা বলা বাহুল্য। এক এক জনের কাছে এক এক ধরনের আচার খুবই পছন্দের। কিছু কিছু আচারের স্বাদ কখনো ভুলা যায় না। একবার খেলে বারবার আচার খেতে ইচ্ছে করে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ সমূহ :-
| নাম | পরিমাণ |
|---|---|
| জলপাই | ১ কেজি |
| চিনি | ৫ টেবিল চামচ |
| পাঁচফোড়ন | মিনি ১ পেকেট |
| শুকনো মরিচ | পরিমাণমতো |
| রসুন বাটা | পরিমাণমতো |
| আদা বাটা | পরিমান মতো |
| ভিনেগার | পরিমাণমতো |
| এলাচি | পরিমান মতো |
| তেজপাতা | ৩ টি |
| লবণ | পরিমান মতো |
| সরিষার তেল | পরিমাণমতো |
↘️ প্রস্তুত প্রণালীঃ ↙️
↘️ধাপ :- ১↙️
- আচার তৈরির জন্য আমি যাবতীয় উপকরণ জোগাড় করে নিলাম।
- প্রথমে আমি জলপাই গুলো পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিলাম। পরে গরম পানি দিয়ে সিদ্ধ করে একদিন রোদে শুকিয়ে নিলাম।
↘️ধাপ :- ২↙️
- এখন আমি পাঁচফোড়ন গুলো গ্যাসের উপর পাতিলের মধ্যে দিয়ে গরম করে বেঁটে গুঁড়া করে নিলাম।
↘️ধাপ :- ৩↙️
- এই পর্যায়ে আমি একটি পাতিল গ্যাসের চুলার উপরে বসালাম। তারপর পরিমাণমতো সরিষার তেল ঢেলে দিলাম।
↘️ধাপ :- ৪↙️
- জলপাই গুলো পাতিলের মধ্যে ঢেলে দিলাম। এবং কিছুক্ষণ তেলের মধ্যে জলপাই চামচ দিয়ে নাড়িয়ে নিচ্ছি।
↘️ধাপ :- ৫↙️
- তেলের মধ্যে জলপাই গুলো কিছুক্ষণ নাড়িয়ে নেওয়ার পর এখন প্রয়োজনীয় সকল উপাদান দিয়ে দিবো।
↘️ধাপ :- ৬↙️
- আমি জলপাইয়ের এর মধ্যে পরিমাণমতো লবণ, রসুন বাটা, আদা বাটা, তেজপাতা দিলাম।
↘️ধাপ :- ৭↙️
- এখন আমি এলাচি, পরিমাণ মতো চিনি, পাঁচফোড়ন গুঁড়ো, শুকনো মরিচের গুঁড়া দিলাম।
↘️ধাপ :- ৮↙️
- সকল উপাদান দেওয়ার পর এখন আমি চামচ দিয়ে নাড়িয়ে নিচ্ছি।
↘️ধাপ :- ৯↙️
- আমি গ্যাসের আগুন কিছুটা কমিয়ে দিলাম এবং কিছুক্ষণ পরপর চামচ দিয়ে নাড়িয়ে নিচ্ছি। আচার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।
↘️সর্বশেষ ধাপ :- ↙️
- আচার হয়ে আসলে এখন আমি পরিমান মতো ভিনেগার ঢেলে দিলাম।
আশা করি আমার কাঙ্খিত জলপাইয়ের আচারের রন্ধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। এইভাবে আমি আচারের এই রেসিপিটি টি সম্পূর্ণ করি।
যা এখন আপনাদের কাছে দৃশ্যমান।
- রেসিপি তৈরি শেষ করার পর এখন আমি খাবার পরিবেশনের জন্য । একটি সুন্দর নাস্তার প্লেটে আচার নিলাম। আমি আচার খেয়েছি খুবই ভালো লেগেছে আমার কাছে।
আমি রেসিপি কিছু আলোকচিত্র করে নিলাম।
পোস্টটির কোথায় ভুল ত্রুটি হলে সুন্দর ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।
পোস্ট বিবরণ :-
| শ্রেণী | রেসিপি |
|---|---|
| ক্যামেরা | Redmi note 7 |
| পোস্ট তৈরি | @ah-agim |
| লোকেশন | ফেনী, বাংলাদেশ |
এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে আমি আরো বিভিন্ন ধরনের রেসিপি আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করবো , ইনশাআল্লাহ।
- অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন ।এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।
সবাইকে শুভ রাত্রি
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো ।
আমার পরিচিতি
আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে - আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলা এর প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানীত এডমিন মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে।বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।





ঠিক বলেছেন ভাইয়া, আচার খেতে সবাই খুব পছন্দ করে। ডাল ভাতের সাথে, খিচুড়ির সাথে আচার খেতে খুবই ভালো লাগে। গোটা গোটা জলপাই গুলো দেখে খুবই লোভনীয় লাগছে। সুস্বাদু জলপাই এর আচারের রেসিপি টি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ভাইয়া।
কিছুদিন আগেই আন্টির বাসায় গিয়ে এমন আচার খেয়েছি,যা আপনাত এই রেসিপির মতোই পুরো জলপাই-ই ছিল।
বেশ ভালো লেগেছিল খেতে।নিশ্চয়ই একটি লোভনীয় রেসিপি। শুভ কামনা রইলো আপনার জন্য 🖤
খুবই মজাদার টক ঝাল মিষ্টি জলপাইয়ের আচারের রেসিপি শেয়ার করেছেন। অনেক দিন হয়ে গেলো এভাবে জলপাইয়ের আচারে খাওয়া হয়না। আপনার রেসিপি দেখে তো খেতে ইচ্ছা করছে ভাই। আজকে মাকে বলবো জলপাইয়ের আচার তৈরি করার জন্য। আপনার পোস্ট দেখে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।
ভাই, আমিও আপনার মত করে জলপাইয়ের আচার তৈরি করেছি। তবে এখনো রেসিপিটি শেয়ার করা হয়নি। আমার কাছে এই আচার খেতে খুবই ভালো লাগে, তার চেয়েও ভালো লাগে এই আচার সরিষার তেলে ডুবিয়ে রেখে, সেই তেল দিয়ে মুড়ি মাখিয়ে খেতে। আচার তৈরীর প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
কিছু কিছু আচারের স্বাদ কখনোই ভুলা যায় না। ঠিক বলেছেন আপনি দুপুরে খাবারের সাথে বা বিকেলে আচার খেতে ভীষণ ভালো লাগে। আপনি খুব সুন্দর ভাবে জলপাইয়ের আচার রেসিপিটি ধাপে ধাপে উপস্থাপন করেছেন। বেশ ভালো লাগলো রেসিপিটি।
অনেকদিন হয়ে গেল জলপাইর আচার খাওয়া হয়না। আচার দেখলেই জিভে জল চলে আসে। ঠিক বলেছেন ভাইয়া পড়ন্ত বিকেলে কয়েকজন মিলে একসাথে বসে আচার খেতে কিন্তু খুবই ভালো লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে আচারের রেসিপিটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ঠিকই বলেছেন কিছু কিছু আচারের স্বাদ কখনো ভুলা যায় না আর জলপাইর আচার আমার এমনিতে খুবই পছন্দের। আমাদের বাসায় সব সময় জলপাইয়ের আচার থাকে আচার খিচুড়ির সাথে খেতে আমার খুবই ভালো লাগে। আপনার রেসিপি তৈরির পদ্ধতি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে । অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
বর্তমানে জলপাই বাজারে পাওয়া যায়। আর অনেকেই আচার তৈরি করে থাকে। আমিও প্রতি বছরই বিভিন্ন রকম আচার তৈরি করি। যে সময় যে ফল থাকে আচার করার জন্য সেগুলো দিয়েই করি। তবে এখনো পর্যন্ত জলপাইয়ের আচার এ বছর করা হয়নি। যদিও গতকালকে জলপাই আনার কথা বলা হয়েছে আচার করবো বলে। কিন্তু আজকে আপনার রেসিপি দেখলাম। আসলে জলপাই এর আচার খুব সুস্বাদু হয়। ভাতের সাথে খেতে তো খুবই ভালো লাগে। আর আমরা যে কোন আচার তৈরি করলে ভাতের সাথে খাওয়া হয়ে যায়। আর সেই হিসেবেই তৈরি করা হয়।
ভাই আপনি কি আর কোন রেসিপি পান নাই? এমন একটা রেসিপি দিলেন একেবারে জিবে জল টলমল করছে। আসলে শীত কাল আসলে যেন জলপাই এর আচাঁর না দিলেই নয়। অনেক সুন্দর উপস্থাপনা।
আমার কাছে আচার খেতে খুব বেশি একটা ভালো লাগে না। তবে আপনি যেভাবে বানিয়েছেন দেখে তো বেশ ভালোই লাগছে। তবে জলপাইয়ের আচার আমাদের বাড়ি যখন বানায় তখন সেদ্ধ করে রোদে শুকাতে দেখিনি। সরাসরি সেদ্ধ করেই দিয়ে দেয়।