চট্টগ্রাম ডিসি পার্কে আর্ট গ্যালারিতে কাটানো কিছু মুহূর্ত/ দ্বিতীয় পর্ব
বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম
আসসালামু আলাইকুম
শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভালো আছেন। আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি।
প্রিয়, আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম। আজ আমি আপনাদের, চট্টগ্রাম ডিসি পার্কে আর্ট গ্যালারিতে কাটানো কিছু মুহূর্তের অনুভূতি সম্পর্কে বলতে চাই। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।
গত সপ্তাহে আমি আপনাদের মাঝে চট্টগ্রাম ডিসি পার্কে আর্ট গ্যালারিতে কাটানো কিছু মুহূর্তের প্রথম পর্ব উপস্থাপন করেছি। আজ দ্বিতীয় পর্ব উপস্থাপন করতে যাচ্ছি। আমরা যখন আর্ট গ্যালারিতে গিয়েছি তখন বেলা বারোটা বাজে। আর্ট গ্যালারিতে লোক সমাগম অনেক বেশি ছিলো। অনেক দর্শনার্থী এসেছে আর্ট গ্যালারিতে। আর্ট গ্যালারির এরিয়া অনেক বড় ছিলো। তারপরেও মানুষের ভিড় অনেক বেশি। অনেক রকমের পেইন্টিং দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হয়েছে। পেইন্টিং গুলো অনেক রকমের ছিলো । বেশিরভাগ পেইন্টিং জল রং দিয়ে আঁকা ছিলো। আবার কিছু পেইন্টিং পোস্টার রং দিয়ে আঁকা হয়েছে।
কিছু পেইন্টিং প্রাচীন পদ্ধতিতে তেল এবং বিভিন্ন জিনিস মিশিয়ে আঁকা হয়েছে। সাদাকালো আর্ট, পেন্সিল দিয়ে আঁকা আর্ট অনেক বেশি ছিলো। প্রতিটি পেইন্টিং এর সৌন্দর্য সত্যি বেশ দারুন ছিলো। কিছু কিছু পেইন্টিং এর সৌন্দর্য একেবারে নজর কাড়া ছিলো। বিশেষ করে গ্রাম বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে একেবারে বাস্তবের মতোন মনে হচ্ছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন সত্যিকারের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করছি। আর্ট গ্যালারিতে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাপনের দৃশ্যগুলো। শিল্পের তুলির ছোঁয়ায় এই আর্ট গুলো জীবন্ত ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
আসলে কিছু কিছু আর্ট এতোটাই দৃষ্টিনন্দন ছিলো যা একবার দেখলে বারবার দেখতে মন চায়। বিভিন্ন রং দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রাকৃতিক দৃশ্যের আর্ট গুলো। প্রাকৃতিক দৃশ্যের আর্ট দেখলে চোখ ফেরানো যায় না। আট প্রদর্শনীতে বিভিন্ন পশু পাখি, হিন্দু ধর্ম অবলম্বীদের বিভিন্ন দেবতার পেইন্টিং, প্রাকৃতিক দৃশ্য, গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন যাপনের দৃশ্য, বিভিন্ন রাজনীতিবিদ কবি সাহিত্যিক মনীষীদের স্কেচ প্রাচীন যুগের ব্যবহৃত বিভিন্ন দুর্লভ জিনিসের পেইন্টিং প্রদর্শনী করা হয়েছে। প্রতিটি পেইন্টিং অনেক বড় ছিলো। সাধারণত দর্শনার্থীদের দেখার সুবিধার্থে আর্ট বা, পেইন্টিং চমৎকার ভাবে দেয়ালে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
কিছু কিছু আর্ট বা, পেইন্টিংয়ের দাম অনেক বেশি ছিলো । কিছু পেইন্টিং এর দাম বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আসলে দাম অনেক বেশি হলেও এই পেইন্টিং গুলো করতে একজন শিল্পীর অনেক বেশি পরিশ্রম এবং দক্ষতার প্রয়োজন হয়েছে। রং তুলে সাহায্যে খুবই নিখুঁতভাবে দৃশ্যগুলো ফুটিয়ে তুলেছে। শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় দৃশ্যগুলো চমৎকারভাবে ফুটিয়ে উঠেছে। অনেক দর্শনার্থী তাদের পছন্দের পেইন্টিং কিনতেছে। পুরো আর্ট গ্যালারি ছিলো শিল্পের সম্ভারে পরিপূর্ণ। আর্ট গ্যালারিতে যখন ঘুরে ঘুরে পেইন্টিং গুলো দেখছি তখন বেশ মুগ্ধ হচ্ছি। দৃশ্যগুলো সত্যি বেশ মনোমুগ্ধকর ছিলো।
গ্রাম বাংলার সাংস্কৃতিক চিত্রকর্ম বেশ অসাধারণ ছিলো। আর্ট গ্যালারির প্রতিটি দেয়ালে শোভা পাচ্ছে শিল্পীদের অসাধারণ সব শিল্পকর্ম। প্রতিটি পেইন্টিং এর আলাদা বিশেষ দিক রয়েছে। প্রদর্শিত শিল্পের সাহায্যে গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছে অনেকে। আসলে পেইন্টিং গুলো দেখলে শৈল্পিক বিস্ময়ের জগতে হারিয়ে যায় মন। আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখে অনেক বিষয়ের উপর জ্ঞান লাভ করা যায়। প্রতিটি পেইন্টিং কোন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। আজ আর নয়। আগামী পর্বে আপনাদের মাঝে আরো বৈচিত্রময় পেইন্টিং উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো।
পোস্টটির কোথায় ভুল ত্রুটি হলে সুন্দর ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।
এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে আমি অন্য কোন বিষয় উপস্থাপন করবো, ইনশাআল্লাহ।
অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন । এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।
সবাইকে শুভ রাত্রি
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো।
আমার পরিচিতি
আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে পেরে আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলায় প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানিত ফাউন্ডার, এডমিন, মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করে থাকি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে। বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy



https://x.com/MdAgim17/status/1824447089268625446?t=c9IUzdxazNke2Qwe9O0BKg&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
দারুন ফটোগ্রাফি আপনি ডিসি পার্ক গ্যালারি থেকে নিলেন। আপনিও তাহলে ডিসি পার্কে ঘুরতে গেলেন। তবে এই ডিসি পার্কের অনেক ফটোগ্রাফি দেখেছি ভীষণ ভালো লাগছে আমার। চেষ্টা করব চট্টগ্রামে গেলে ডিসি পার্কে ঘুরাঘুরি করার। যেহেতু আপনাদের শেয়ার করা ফটোগ্রাফি গুলোর মাধ্যমে বুঝতে পারছি খুব সুন্দর একটি জায়গা।
ডিসি পার্ক গেলে নিশ্চয় আপনার বেশ ভালো লাগবে । ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
পার্কের আর্ট গ্যালারি থেকে খুব সুন্দর সুন্দর ফটো ধারণ করেছেন। অনেক ভালো লাগলো আপনার এই ফটো ধারণ দেখে। যেখানে অচেনা অজানা জায়গা আর বেশ কিছু দেখার ও জানার সুযোগ মিললো পোষ্টের মধ্য দিয়ে।
ধন্যবাদ আপনাকে আপু সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
ডিসি পার্কে ভ্রমণ করতে গিয়ে ভাইয়া ভ্রমনের বর্ণনার পাশাপাশি অসাধারণ কিছু ফটোগ্রাফি তুলে ধরেছেন। দেখতে সত্যি নান্দনীয় ছিল।ডিসি পার্কের কথা অনেক শুনেছি। আজ আবারও আপনার ভ্রমণ পোস্টটি পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো। সত্যি ভাইয়া ডিসি পার্কের প্রতিটি পেইন্টিং এর সৌন্দর্য একেবারে নজর কাড়া ছিলো। আসলে পেইন্টিং গুলো দেখে আমিও আজ শৈল্পিক বিস্ময়ের জগতে হারিয়ে গিয়েছিলাম।
জি আপু, পেইন্টিং এর সৌন্দর্য একেবারে নজর কাড়া ছিলো। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
চট্টগ্রাম ডিসি পার্কের আর্ট গ্যালারিতে দারুন কিছু মুহূর্ত কাটিয়েছেন। আর্টের ফটোগ্রাফি গুলো খুবই সুন্দর ছিল। বিশেষ করে দাবা এবং পদ্ম ফুলের আর্ট আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। বাকি আর্ট গুলোও সুন্দর ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য।
পদ্ম ফুলের আর্ট এর সৌন্দর্য সত্যি বেশ দারুন। ধন্যবাদ আপনাকে আপু ।
খুবই ভালো একটি দিন কাটিয়েছিলাম সেদিন। অনেক বেশি সুন্দর সময় ছিল। প্রত্যেকটি ছবি খুবই সুন্দরভাবে তুলেছেন আপনি। আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে ভাই। আবারো কোথাও থেকে এভাবে ঘুরে আসা দরকার।
জি ভাইয়া, আবারও কোন জায়গায় থেকে ঘুরে আসা প্রয়োজন । ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।
বাহ্! পেইন্টিং গুলো দেখে তো চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। খুবই নিখুঁতভাবে শিল্পীরা এই পেইন্টিং গুলো করেছেন। তাদের এমন শিল্পকর্ম দেখলে যে কেউ মুগ্ধ হয়ে যাবে। পেইন্টিং গুলো দেখে মনে হচ্ছে একেবারে বাস্তব দৃশ্য। আপনি ফটোগ্রাফি গুলো দারুণভাবে ক্যাপচার করেছেন ভাই। সবমিলিয়ে দারুণ সময় কাটিয়েছেন সেখানে। যাইহোক এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার এতো চমৎকার অনুভূতি পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাই ধন্যবাদ আপনাকে।