সাপ ধরতে ধনঞ্জয় দাদার বাড়িতে কাটানো কিছু মুহূর্তের/ শেষ পর্ব
বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম
আসসালামু আলাইকুম
শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন ? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভালো আছেন । আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি ।
প্রিয় , আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম। আজ আমি আপনাদের, সাপ ধরতে ধনঞ্জয় দাদার বাড়িতে কাটানো কিছু মুহূর্তের শেষ পর্ব সম্পর্কে বলতে চাই। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।
আসুন শুরু করি
আপনাদের মাঝে আমি গত পর্বে সাপ ধরতে ধনঞ্জয় দাদার বাড়িতে কাটানো কিছু মুহূর্তের প্রথম পর্ব উপস্থাপন করছি। আজ শেষ পর্ব উপস্থাপন করতে যাচ্ছি। যারা প্রথম পর্ব পড়েছেন তারা আজকের পর্বটি পড়লে বেশ ভালো লাগবে। ধনঞ্জয় দাদার বাড়িতে গিয়ে দেখি সেই নেই। পরে তার কাছে ফোন দিয়ে তাকে বাড়িতে ডেকে আনি। সেই চা খেতে বাড়ি থেকে কিছুটা দূর চায়ের দোকানে গিয়েছে। ধনঞ্জয় দাদার অনেক বয়স হইছে প্রায় আশি বছরের উপরে। লাঠির উপর বর দিয়ে হাঁটাচলা করে থাকে। তার সাথে আমরা দুজনে প্রথমে কৌশল বিনিময় করলাম পরে তাকে ঘরের ভিতর সাপ ঢুকার বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।
তাকে বললাম দাদা এখন কি করা যায়? ধনঞ্জয় দাদা বললো আমি খুবই অসুস্থ তোমাদের বাড়িতে গিয়ে সাপ ধরতে পারবো না। আমি কিছু নারিকেলের শলা পড়ে দিচ্ছি তোমাদের ঘরের চার কোণে এবং দরজার সামনে এই শলা গুলো মাটিতে পুতে দিবে। এজন্য আমাকে এক হাজার টাকা দিতে হবে। আশা করি ঘরের মধ্যে সাপ থাকলে বের হয়ে যাবে তোমাদের কারো কোন ক্ষতি করতে পারবে না। শলা পড়ে দেওয়ার বিষয় টি আমার কাছে কেমন যেন অন্যরকম মনে হলো । সাধারণত আমি এসব বিষয়ে তেমন একটা বিশ্বাস করি নাই। তাই আমরা তাকে খুব অনুরোধ করেছি যে ভাবে হোক আপনি আমাদের বাসায় যেতে হবে।
আমরা আপনাকে গাড়ি করে নিয়ে যাবো আবার গাড়ি করে আপনার বাসায় নিয়ে আসবো। সেই প্রথমে রাজি হলো না পরবর্তীতে আমাদের বাড়িতে আসতে রাজি হলো। সে বললো আমার সাথে আরও একজনকে নিতে হবে। যদি সাপ ধরতে পারি তাহলে তোমরা আমাকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিবে। আমরা তার কথা রাজি হয়ে গেলাম। যাই হোক টাকা গেলেও যদি সাপ ধরা পড়ে তাহলে পরিবারের সবাই নিরাপদে থাকা যাবে। ধনঞ্জয় দাদার সহকারীকে নিয়ে আমাদের বাসায় চলে আসলো । প্রথমে তারা দুজন লাইট দিয়ে প্রত্যেকটি রুম দেখতে লাগলো। খাটের নিচে, আলমারির তলে, ফ্রিজের তলসহ বাসার সবকিছুই চেক করলো।
কিন্তু সাপটি দেখতে পেল না। পরবর্তীতে ধনঞ্জয় দাদার সহকারী ঘরের দমদমার উপর উঠলো। সেখানে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাঁশের চিপায় সাপটি দেখতে পেলো। তার সহকারী অনেকক্ষণ চেষ্টা করার পরে সাপটি ধরতে সক্ষম হলো। সাপটি ধরে একটি কালো কাপড়ের ব্যাগের মধ্যে নিয়ে নিলো। যেহেতু ঘরের দমদমার উপর সাপটি ধরেছে তাই আমরা কেউ কিভাবে সাপটি ধরেছে তা দেখতে পেলাম না। যে কোনো জায়গায় সাধারণত দুটি সাপ থাকে। যেহেতু আমাদের বাসায় একটি সাপ ধরা পড়েছে অন্য আরো একটি সাপ থাকতে পারে। তাই তারা দুজনই খুব ভালো করে ঘরের প্রত্যেকটি জিনিস দেখে নিলো কিন্তু অন্য সাপটি পাওয়া গেল না।
ধনঞ্জয় দাদা বলছে অন্য সাপটি হয়তো ঘর থেকে বের হয়ে গেছে। ঘরের থাকলে অবশ্যই তা দেখতে পেতাম। তোমরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারো তোমাদের আর কোন সমস্যা হবে না। যেহেতু একটি সাপ ধরা পড়েছে। যে সাপটির ধরা পড়েছে তা খুবই বিষধর সাপ। এই সাপটির নাম হলো কেউটে। কেউটে সাপ খুবই বিষধর। কেউটে সাপ মানুষকে বেশি দংশন করে থাকে। ধনঞ্জয় দাদা যখন সাপের নাম বলো তখন তো ভয়ে আমার হাত পা কাঁপতে আরম্ভ করলো। এই সাপটি প্রায় পাঁচ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। সাপটি কালো রঙ্গের হতে পারে আবার কালোর মাঝে সাদা সাদা ডোরকাটা হতে পারে।
ঘরের মধ্যে বিষধর সাপ কিভাবে এলো তা ভেবে পাচ্ছি না। এই সাপটি যদি ধরা না পড়তো তাহলে পরিবারের সবাই খুবই মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়তো। যে কোন সময় সাপটি যে কাউকে দংশন করতে পারতো। ধনঞ্জয় দাদা সাপটি তার বাড়িতে নিয়ে গেল। ধনঞ্জয় দাদার একটি কাঁচের বক্সের মধ্যে রাখা হলো। ঐ কাঁচের বক্সের মধ্যে অন্য একটি সাপ ছিলো। পরে আমি সাপের ফটোগ্রাফি করে নিলাম। সাপ ধরাকে কেন্দ্র করে আমার পুরো একদিন কেটে গেল।
এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে আমি অন্য কোন বিষয় উপস্থাপন করব , ইনশাআল্লাহ।
- অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে।সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন ।এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।
সবাইকে শুভ রাত্রি
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো ।
আমার পরিচিতি
আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে পেরে আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলায় প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানিত ফাউন্ডার, এডমিন, মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করে থাকি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে। বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy



Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
https://twitter.com/MdAgim17/status/1695826935031730363?t=m175QRRL-6Kh9Sj_Rzy17w&s=19
যাক অবশেষে যে সাপ ধরা পরেছে এটাই অনেক। টাকা গেলে গেছে। মানুষ গুলো তো এখন নিরাপদে থাকতে পারবে। তবুও তাদের একটু সাবধানে থাকতে বলবেন। যেহেতু একটি সাপ পাওয়া যায়নি। বাজারে এক প্রকার এসিড পাওয়া যায় । সেটি ঘরের মধ্যে ব্যবহার করতে পারেন। এতে সাপ আসবেনা।
আপনি ঠিকই বলছেন ভাই কার্বলিক এসিড ব্যবহার করলে সাপ আসে না। এত চমৎকার গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.