যারা ব্যর্থতায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে তারাই সফল যা বিশ্ববাসীকে দিয়ে দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম
আসসালামু আলাইকুম
শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভালো আছেন। আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি।
প্রিয়, আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম। আজ আমি আপনাদের, ২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার অনুভূতি সম্পর্কে বলতে চাই। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।
আসুন শুরু করি
screenshot credit from MS sports Facebook page
যারা হেরে যাওয়ার চিন্তায় বিভোর থাকে না তারাই সফল। যারা হেরে যাওয়ার মাঝ পথে হেরে যাওয়া নিয়ে চিন্তা না করে সফলতার চিন্তায় বিভোর থাকে তারাই সফল। হেরে তারাই যায় যারা হেরে যাওয়া নিয়ে চিন্তায় ক্লান্ত থাকে। আর যারা হেরে যাওয়া পর্যন্ত হেরে যাওয়ার চিন্তা করে না শুধুমাত্র সফলতা পথ খুঁজে তারাই পৃথিবীতে সফল হয়েছে বারবার। বলছি ক্রিকেট ২০২৩ বিশ্বকাপের কথা । যে দলটি গ্রুপ পর্বে প্রথম দুই ম্যাচে হেরে গিয়ে পয়েন্ট টেবিলে সবাই তলানিতে চলে গিয়েছে। সে দলটি গতকাল বিশ্বকাপ জয় করেছে। শুনতে বেশ অবাক লাগে আসলে নিজের চোখকে বিশ্বাস করা যায় না।
যে দলটি আফগানিস্তান দলের সাথে হারতে হারতে জিতে গিয়েছে। সেই দলটি বিশ্বকাপ তুলে ধরেছে বিশ্ববাসীর কাছে। আসলে দৃশ্যগুলো দেখতে কেমন যেন অবাক লাগে। ব্যর্থতা থেকে কিভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায় তা আরেকবার বিশ্ববাসীকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যে দল টানা দশ ম্যাচ অপরাজিত ছিলো। যে দল অনায়াসে ৩০০ থেকে ৩৫০ রান করতে পারে। যে দলের বোলারদের সামনে ৫০ থেকে ৬০ রান নিতে ছয় থেকে সাতটি উইকেট পড়ে যায়। যাদেরকে পরাজয় করা শুধু কল্পনায় ছিলো । তাদেরকেই মুহূর্তে আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে অস্ট্রেলিয়া।
তাইতো বলা হয়ে থাকে ব্যর্থতা যতোই আসুক না কেন? সঠিক লক্ষ্য স্থির করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া টাই উত্তম। অস্ট্রেলিয়া তাদের লক্ষ্য স্থির করে প্রথম দুইবার ব্যর্থ হওয়ার পর পরবর্তীতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারতের মতোন দলকে মুহূর্তে বিধ্বস্ত করে বিশ্বকাপ জয় করলো। গতকাল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্বাগতিক ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মত বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করেছে অস্ট্রেলিয়া।অস্ট্রেলিয়ার ট্রেভিস হেডের অসাধারণ শতরান যা ছিল অসাধারণ। ট্রেভিস হেড খেলেছেন ১২০ বলে ১৩৭ রানের দুর্ধর্ষ ম্যাচ। আসলে যে সামি তিন থেকে চারটি ওভার করলেই উইকেট বন্যা পড়ে যেতো। সেই সামি এতো ওভার করার পরে মাত্র ১ টি উইকেট পেয়েছেন।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম পুরো নিস্তব্ধ। দশ ম্যাচ অপরাজিত থাকা ভারত দলটি মুহূর্তে বিধ্বস্ত হলো। গোটা টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকা ভারত শেষ পর্যন্ত ফাইনালে এসেই মুখ থুবড়ে পড়লো। আর অস্ট্রেলিয়া হারতে হারতে দিতে গেলো। প্রকৃতি বারবার শিক্ষা দেয় যারা হারার চিন্তায় নেশাগ্রস্ত থাকে না তারাই একমাত্র জয়ী। কখনো হাল ছেড়ে দিতে নেই। সফলতা আসা পর্যন্ত প্রকৃতির বিরূপ পরিবেশে টিকিয়ে থাকতে হয়।
পোস্টটির কোথায় ভুল ত্রুটি হলে সুন্দর ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।
এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে আমি অন্য কোন বিষয় উপস্থাপন করবো, ইনশাআল্লাহ।
অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে।সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন ।এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।
সবাইকে শুভ রাত্রি
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো।
আমার পরিচিতি
আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে পেরে আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলায় প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানিত ফাউন্ডার, এডমিন, মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করে থাকি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে। বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy



অনেক ছোটবেলা থেকেই আমি খেলা দেখে থাকি। আর সেই সময় থেকে আমি একটা বিষয় অস্ট্রেলিয়ার খেলাতে লক্ষ্য করে দেখি এরা প্রথম দিক থেকে খারাপ খেললেও যত উপরের দিকে আসে তত ভালো পারফরমেন্স দেখায়। এবারে বিশ্বকাপ ও তার ব্যতিক্রম কিছু হয় নাই। আমি ঠিক জানতাম অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে গেলেই কাপ নিবে। তবে ব্যর্থতা যে সফলতার প্রথম ধাপ এটা তারা আবার প্রমাণ করলো।
ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর মন্তব্য করে উৎসাহ প্রদান করার জন্য।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
অপ্রতিরোধ্য ভারতকে যেভাবে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া হেক্সা মিশন জয় করল সত্যিই সবাইকে অবাক করিয়ে দিয়েছে। আসলে হোঁচট খাওয়া মানে হেরে যাওয়া নয় জয়ের অনীহা থেকে পরাজয় শুরু । তারা কয়েকটি ম্যাচ হেরেছিল সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েছে যেটা ফাইনালে কাজে লাগিয়েছে ভারতের জন্য ব্যাড লাক।
এত চমৎকার অনুভূতি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
প্রথম দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর ডি ভিলিয়ার্স বলেছিল অস্ট্রেলিয়া একবার জয়ের স্বাদ পেয়ে গেলে তাদের আর থামানো যাবে না। এবং হলো সেটাই। প্রথম দুই ম্যাচ হারার পর কী অনবদ্য ফিরে আসা। কী অনবদ্য অসাধারণ জয় গুলো তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ জয়। এজন্যই হয়তো বলে হারার আগে হারতে নেই। বেশ দারুণ ছিল অস্ট্রেলিয়ার লড়াই টা
ডি ভিলিয়ার্সের কথা সত্যি হলো ভাই। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
জী ভাইয়া ঠিক বলেছেন। অস্ট্রেলিয়া প্রথম রাউন্ডে দুইটি ম্যাচ হেরেছিল। তবে তারা হাল ছাড়েনি। চেষ্টা চালিয়ে গেছে, আফগানিস্তানের সাথে গর্তের কিনারা থেকে বেচেঁ উঠেছে। আজকে তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। তারা শিখেয়েছে ব্যর্থতার মধ্যেই সফলতা লুকিয়ে থাকে। ধন্যবাদ।
আপনি ঠিক বলেছেন ভাই, ব্যর্থতার মধ্যেই সফলতা লুকিয়ে থাকে। ধন্যবাদ আপনাকে এত অসাধারণ অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।