ছোট গল্প:- নীল আকাশের নীলিমা / শেষ পর্ব
বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম
আসসালামু আলাইকুম
শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন ? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভালো আছেন । আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি ।
প্রিয় , আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম। আজ আমি আপনাদের, নীল আকাশের নীলিমা শেষ পর্ব
সম্পর্কে বলতে চাই। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।
আসুন শুরু করি
গত পর্বে আমি গল্পের দ্বিতীয় পর্ব উপস্থাপন করেছি । আজ আমি শেষ পর্ব উপস্থাপন করতে যাচ্ছি। নীল আকাশের নীলিমা গল্পের গত দুই পর্ব যারা পড়েছেন তারা আজকের শেষ পর্ব পড়লে বেশ ভালো লাগবে। নীলিমা এবং নীলিমার মা সমুদ্রের মাঝে ঘূর্ণিঝড়ের কবলের মধ্যে পড়েছে। যতোই সময় পার হচ্ছে ততোই যেন বিপদ তেড়ে আসছে। প্রচন্ড ঝড় আরম্ভ হলো। ঝড়ের কারণে সামনে তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। ঝড় যতোই বৃদ্ধি পাচ্ছে ততোই সমুদ্রের ঢেউয়ের ভয়ংকর রূপ বেড়েই চলেছে। ঢেউয়ের কারণে নীলিমার মা অনেক চেষ্টা করেও নৌকার ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছে না।
প্রচন্ড ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি বারবার গতিপথ হারিয়ে যাচ্ছে। নীলিমার মা নীলিমাকে কোলে নিয়ে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে নৌকাটি রক্ষা করতে চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছুতেই নৌকাটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। এদিকে নীলিমা সমুদ্রের এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দেখে কান্না করতেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে নীলিমার মা কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। নীলিমার মা সব দিকে অন্ধকার দেখছে। নীলিমাকে কোন ভাবে কান্না থামাতে পারছে না। আর এদিকে নৌকাটি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। হঠাৎ বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকাটি উল্টে গেলো।
নীলিমা এবং নীলিমার মা দুজনে পানির ঢেউয়ের মধ্যে চলে গেলো। পানির ঢেউয়ের ধাক্কা এতটাই বেশি ছিলো যে নীলিমার মায়ের হাত থেকে নীলিমা পানির ঢেউয়ের সাথে তলিয়ে গেলো। পানির ঢেউয়ের সাথে ধাক্কা লেগে নৌকাটি ভেঙ্গে সমুদ্রের মাঝে বিলীন হয়ে গেলো । উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে নীলিমার মা হাবুডুবু খাচ্ছে। উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে নীলিমার মায়ের যতক্ষণ নিজের সামর্থ্য ছিলো মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছে। পরবর্তীতে নিজে বাঁচার জন্য অনেক প্রচেষ্টা করেছে। ঢেউয়ের মধ্যে হাবুডুবু খেতে খেতে নীলিমার মা তলিয়ে গেল সমুদ্রের মাঝে ।
অনেকক্ষণ ঝড় বৃষ্টি হওয়ার পর সমুদ্র কিছুটা শান্ত হয়ে আসলো । রাত পেরিয়ে ভোরের নিভু নিভু আলো চারদিকে ছড়াচ্ছে। পূর্ব আকাশের সূর্যের আলো সমুদ্রের পড়ছে। সকাল বেলায় সমুদ্রে উপকূল দিয়ে কয়জন লোক যাচ্ছে। তারা হঠাৎ করে দেখতে পেলো একজন মহিলা পানির মাঝে গাছের শিকড়ের সাথে আটকে আছে। তারা তাড়াতাড়ি মহিলাকে উদ্ধার করলো। তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো মহিলাটি হচ্ছে নীলিমার মা। তারা নীলিমার মাকে ভালো করে দেখলো বেঁচে আছে কিনা মরে গেছে?
তারা বুঝতে পারল নীলিমার মা অজ্ঞান হয়ে গেছে। তবে পেটের মধ্যে অনেক পানি রয়েছে । অনেক প্রচেষ্টার পর নীলিমার মা জ্ঞান ফিরে আসলো। জ্ঞান ফিরে আসার পরে ঐ লোক গুলোকে নীলিমার মা জিজ্ঞেস করলো আমার নীলিমা কোথায়? তারা বললো আমরা আপনাকে পানির মধ্যে পেয়েছি তবে আপনার মেয়েকে খুঁজে পাই নি। হয়তো আপনার মেয়ে সমুদ্রের অতল গর্ভে হারিয়ে গেছে। এ কথা শুনে নীলিমার মা কান্না ভেঙ্গে পরলো কান্না করতেছে আর বলতেছে আমার মেয়ে মরতে পারে না আমার মেয়ে সমুদ্রের হারিয়ে যায় নি। ঐ নীল আকাশে উড়ে চলে। গেছে হয়তো আবার ফিরে আসবে আমার বুকে।
পোস্টটির কোথায় ভুল ত্রুটি হলে সুন্দর ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।
এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে আমি এই ধরনের গল্প আরো উপস্থাপন করবো , ইনশাআল্লাহ।
- অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে।সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন ।এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।
সবাইকে শুভ রাত্রি
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো ।
আমার পরিচিতি
আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে - আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলা এর প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানীত এডমিন মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে।বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy



https://twitter.com/MdAgim17/status/1692584085926076912?t=3EF2JLWwOfslvIaTZ9shbw&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সমুদ্রের মাঝে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে নৌকা নিয়ন্ত্রণ করা মোটেই সম্ভব নয়। একদিকে নীলিমার কান্না থামানোর চেষ্টা করছে, অপরদিকে নৌকার গতিপথ ঠিক করার চেষ্টা করেছে নীলিমার মা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছুই শেষ হয়ে গেল। আগের পর্ব গুলো পড়া হয়নি আমার। তবে এই পর্বটি পড়ে খুব ভালো লেগেছে। আশা করি সামনে নতুন কোনো গল্প নিয়ে হাজির হবেন আমাদের মাঝে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
চেষ্টা করবো আপনাদের মাঝে নতুন গল্প নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য। চমৎকার মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনার পোষ্টটি অনেক ভালো লাগলো ভাই। তবে নীলিমার মা সমুদ্রের মধ্যে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল। এতে সে নৌকাটি কেউ হারানোর সাথে সাথে নীলিমা কেউ হারিয়ে ফেলল। কিন্তু তারপরেও নীলিমার মা সমুদ্রের ঢেউয়ে তলিয়ে গেল। গল্পটির শেষের দিকের কাহিনী টা বেশ দুঃখজনক। এরকম একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
গল্পটি পড়ে এত সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
এই গল্পটির আগের পর্ব গুলো আমার পড়া হয়েছিল। গল্পের শেষটা পড়ে সত্যি খুবই খারাপ লেগেছে আমার কাছে। মা মেয়ে দুইজনে সমুদ্রের পানির ঢেউয়ের মধ্যে তলিয়ে গিয়েছে এটা শুনে সত্যি খারাপ লেগেছে। ভাবিনি গল্পটা এরকম একটা পর্যায়ে এসে শেষ হবে। আপনি অনেক সুন্দর করে এই গল্পটা পর্বের মাধ্যমে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন যা পড়ে আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।
গল্পের প্রত্যেকটা পর্ব আপনি পড়েছেন জেনে আমার কাছেও খুব ভালো লাগলো । এতো চমৎকার মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
ভাই আপনি আজকে আমাদের মাঝে নীল আকাশের নীলিমা নামের দারুন একটি ছোট গল্প লিখে শেয়ার করেছেন। আপনি একদম ঠিক বলেছেন ভাই সমুদ্রের মাঝে যদি ঘূর্ণিঝড় ওঠে নৌকা নিয়ন্ত্রণে রাখায় বেশ মুশকিল। এদিকে ভয়ে নীলিমা অনেক কান্না করছে। তারপরে ওই সমুদ্রের ঢেউয়ে নীলিমা তলিয়ে গেল। আসলে গল্পটার শেষ দিকের কাহিনী পড়ে একটু কষ্ট পেলাম ভাই। ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি গল্প শেয়ার করার জন্য।
গল্পটি পড়ে চমৎকার মতামত শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।