আর্জেন্টিনা বনাম ইকুয়েডর ম্যাচ রিভিউ।
আশা রাখি সকলেই ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি ঈশ্বররের কৃপায়। আজ আপনাদের সাথে আলোচনা করব আর্জেন্টিনা বনাম ইকুয়েডরের আজকের কোপা আমেরিকার প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ফুটবল খেলা নিয়ে। তাহলে শুরু করা যাক।
আমি আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের একজন পাগল ভক্ত।
সারা বিশ্বে সব থেকে জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে ফুটবল। আজকে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭ টা কোপা আমেরিকার প্রথম কোয়াটার ফাইনালে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ফুটবল দলটি মুখোমুখি হয় ইকুয়েডরের সাথে। তাই গতকাল রাতেই আমার মোবাইল ফোনে এলার্ম সেট করে রাখি সকাল সাড়ে ছয়টা খেলা দেখার জন্য।
এলার্ম শব্দে ঘুম থেকে উঠে তাড়াতাড়ি করে দাঁত ব্রাশ করে নেই। তারপর ঘরে স্ত্রী না থাকার কারণে নিজেই গ্যাসের চুলায় একটু চা করে নেই। তারপর চা নিয়ে মোবাইল ফোনে আর্জেন্টিনা বনাম ইকুয়েডরের ফুটবল খেলা দেখার জন্য বসে পড়ি। তবে এই কোয়ার্টার ফাইনালে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অষ্টম বারের ব্যালন ডিয়র জয়ী লিওনেল মেসির চোটের কারণে খেলা নিয়ে ছিল সংখ্যা।
তবে যাই হোক আমার প্রিয় খেলোয়ার শুরুর প্রথম থেকেই মাঠে খেলতে নেমেছিল। সময়মতো খেলা শুরু হয় মাঠে। তবে আজকে তুলনামূলকভাবে আর্জেন্টিনা ভালো খেলা দেখাতে পারেনি। প্রিয় খেলোয়ার মেসি ও তেমন একটা ভালো কিছু করে দেখাতে পারেনি।খেলার মাঠে একবার আর্জেন্টিনা গোল করার জন্য ইকুয়েডরের গোল বারের দিকে আক্রমণে যায় তো অপর প্রান্ত থেকে আবার ইকুয়েডর আর্জেন্টিনার গোলবারের দিকে আক্রমণে যায়।
এভাবেই দুপক্ষের গোল বারের দিকে আক্রমন চলে গোলের জন্য। একপর্যায়ে আর্জেন্টিনা খেলার ৩৫ তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের হেড থেকে পাওয়া একমাত্র গোলে এগিয়ে যায় কুপার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের খেলা ১-০ তে এগিয়ে থেকে আর্জেন্টিনা শেষ করে। বিরতির পর দ্বিতীয়ধের্র খেলা শুরু হয় শুরুতেই আক্রমণের দ্বার বাড়ায় ইকুয়েডর।
খেলার ৬১তম মিনিটে ইকুয়েডর কর্নার কিক থেকে পেনাল্টি পায় ডি বক্সের ভিতর দি পলের হ্যান্ডবল সুবাদে। স্পটকিকের বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিকটি নেন ইকুয়েডরের অধিনায়ক এনার ভ্যালেন্সিয়া। স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক বল গিয়ে আঘাত আনে পোস্টের ডান পাশে।এই যাত্রায় আর্জেন্টিনা বেঁচে যায়।
খেলার শেষ সময়ে যোগ করা টাইমে ইকুয়েডর গোল করে বসেন। ১-১ গোলে খেলা শেষ হয়। যেহেতু নিয়ম অনুযায়ী ফাইনাল ম্যাচ ছাড়া অন্য কোন ম্যাচে টাইম বাড়ানো হবে না তাই খেলা গিয়ে গড়ায় ট্রাইবেকারে। আর সেই ট্রাইবেকারে বাজিমাত করে দেখালেন আর্জেন্টিনার বাজপাখি খ্যাত গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেস। ট্রাইবেকারে আর্জেন্টিনার প্রথম শটটি নেন লিওনেল মেসি তিনি গোল করতে ব্যর্থ হন বল গিয়ে আঘাত আনে উপরের গোলবারের পোস্টে।
তারপর ইকুয়েডের প্রথম ও দ্বিতীয় শট ফিরিয়ে দেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেস। আর্জেন্টিনা তারপরের প্রতিটা শট থেকে গোল করেন। আর এই সুবাদে আর্জেন্টিনা ট্রাইবেকারে ৪-২ ব্যবধানে ইকুয়েডর কে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে জয়ের উল্লাসে মেতে উঠে। আবারো একবার আর্জেন্টিনাকে কোন বড় মঞ্চে জিতিয়ে নায়ক হয়ে গেলেন আর্জেন্টিনার বাজপাখি খ্যাত গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
আর্জেন্টিনা জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল। আমাদের বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল এই দুটি দেশের ফুটবল খেলা নিয়ে সব সময় সবাই উৎসবের আমেজে মেতে ওঠে। আশা রাখি সবার ভালো লাগবে পোস্টি পড়ে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই প্রত্যাশাই করি।
উপরে যে ছবিগুলো ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো স্ক্রিনশট নেওয়া ।
ধন্যবাদ।
বর্তমান সময়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল অনেক ভালো মানের ফুটবল খেলছে তবে আজ খেলায় কেমন অগোছালো ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছিলো। ইকুয়েডর পেনাল্টি মিস না করতে খেলায় ২-১ গোলে এগিয়ে থাকতো ইকুয়েডর। মেসি পেনাল্টি মিস করলেও খুব ভালো পারফর্ম করেছে মার্টিনেজ। অসাধারণ সেভ করার মাধ্যমে ম্যাচ জিতে নিয়েছে।
এ বছর এখনো সরাসরি ভাবে ফুটবল খেলা দেখা হয়নি হাইলাইট দেখা হয়েছে।। এর আগের বার অনেক খেলা রাত জেগে দেখেছি কিন্তু এবার দেখার হবে সৌভাগ্য হয়নি। আহা এই খেলা আমি হাইলাইট দেখেছি আসলে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক খুবই চতুর।।
হয়তোবা সময়ের অভাবে আগের মত খেলা দেখতে সময় দিতে পারেন না। এটাই স্বাভাবিক মানুষ কোন না কোন কারণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে জীবনে। তবে আমাদের জীবনে বিনোদনেরও প্রয়োজন আছে। আর বিনোদনের মধ্যে খেলাধুলা অন্যতম। আর খেলাধুলার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাই হচ্ছে ফুটবল। ফুটবল ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না বিশ্বে। যাই হোক যত ব্যস্ততাই থাকেন না কেন একটু সময় খুঁজে বের করে নেবেন বিনোদনের জন্য। আপনার এই সুন্দর মন্তব্যটির জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
ধন্যবাদ।
আসলে আগের মত এখন আর আগ্রহ হয় না একটা সময় রাত দুটা তিনটার সময় উঠে খেলা দেখতাম আর এখন সকালে উঠেই দেখতে ইচ্ছে করে না।। এটা একদম সঠিক বলেছেন জীবনে বিনোদন দরকার রয়েছে আর বিনোদনের মাধ্যমে শরীর অনেক ভাল থাকে ফ্রেশ থাকে।
আপনি যে ম্যাচের রিপোর্টটা দিয়েছেন এই ম্যাচটা আসলে অনেকটাই সুন্দর ছিল আর্জেন্টিনা বনাম ইকুইটার এই ম্যাচটি অনেক সুন্দর ছিল প্রথম দিক থেকে যখন আর্জেন্টিনা একটি গোল দিয়েছিল তখন তো আমি মনে করছিলাম আর্জেন্টিনাই জিতে যাবে কিন্তু অতিরিক্ত টাইমে তারা গোল করে সমতায়েন এবং খেলাটি টাইমে করে যাই।
যখন প্রথম মেসি প্লান্টি টা মিস করলো তখন তো আমি মনে করলাম আর্জেন্টিনা মনে হয় হেরে গেল কিন্তু না আর্জেন্টিনা যে গোলকিপার আছে সে আর্জেন্টিনাকে কাদের কিনারা থেকে টেনে উঠিয়েছে।
আপনাকে অসংখ্যভাবে আবারও ধন্যবাদ জানাই এত সুন্দর একটি রিভিউ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমি ফুটবল খেলা খুব ভালোবাসি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা আমার প্রিয় দল। আর প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করে আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি তাতে আমি খুব আনন্দ পেয়েছি। তুলনামূলকভাবে অন্যদিনের তুলনায় আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে তেমন ছন্দ দেখাতে পারেনি। তবে একেবারে খারাপ খেলে নাই। কিন্তু আর্জেন্টিনা দলে মধ্যে যে বাজপাখি খ্যাত গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেস বড় প্রাচীর হয়ে গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকে। তাইতো একুকেডর এ প্রাচীর টপকাতে পারেনি। এই প্রাচীর যতদিন আর্জেন্টিনা দলে থাকবে যে কারো দলের পক্ষে প্রাচীর টপকাতে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।