পুরোনো ঢাকার অতীত ও বর্তমানের বিয়ের গল্প। - ১
বেশ কয়েক বছর আগে বাইরে থেকে বাসার গ্যারেজে পা ঢুকিয়েই চমকে উঠলাম। পুরো গ্যারেজ ভর্তি করে রাখা হয়েছে জিনিসপত্র দিয়ে।একটা সরু পায়ে হাঁটা পথ রাখা হয়েছে লিফ্ট পর্যন্ত যাতে মানুষ ঐ পর্যন্ত যেতে পারে। তখন রমজান মাস চলতেছিল। দারোয়ানদের জিজ্ঞেস করায় জানালো ,এসব জিনিস আমাদের বাড়িওলার মেয়ের হবু শশুর বাড়ি থেকে ইফতার হিসেবে পাঠানো হয়েছে।
এসব জিনিসের মাঝে দেখলাম ,কয়েক বস্তা পোলাওয়ের চাল ,কয়েক খাঁচি ভর্তি মুরগি ,বেশ কিছু খাসি ,কয়েক কার্টন সেমাই,কতগুলো আমের ঝুড়ি ,কাঁঠাল ,নারিকেলের মতো জিনিসগুলো রাখা হয়েছে স্তুপ করে ,এছাড়াও বিভিন্ন ধরণের ফলমূল ইত্যাদিও রাখা হয়েছে ।
শুনলাম যে ,আরো অনেক জিনিস নাকি বাসার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুনলাম যে ,পিকআপ ভর্তি করে করে আনা হয়েছে এসব জিনিস ।
আমি যে বাড়িতে ভাড়া থাকি তার অরিজিনাল বাড়ি পুরোনো ঢাকায়।এরকম আদানপ্রদান যে শুধু অবস্থাপন্ন বাড়িগুলিতেই হয় এমন না। সাধ্যমত এরা সর্বোচ্চ দিয়ে থাকেন।
কিছু দিন আগে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটা ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছিল ,কোনো এক পুরোনো ঢাকার বিয়েতে ইফতার পাঠানো হচ্ছে। লাইন করে ইফতারির জিনিস নিয়ে ভ্যান যাচ্ছে । আমাদের বাড়ির মালিক তার বাসায় উর্দুতেই কথা বলে থাকেন।
পুরোনো ঢাকার অনেক লোকজনই এখনো উর্দুতেই কথা বলে থাকেন ,কিন্তু এরা মোটেও বিহারি কিংবা পাকিস্তানি বংশোদ্ভুতো না। এরাই ঢাকার আদি বাসিন্দা । অবশ্য কুট্টি নামের এক জগাখিচুড়ি ভাষাতেও কথা বলে থাকেন অনেকেই ।
পুরোনো ঢাকায় ঢুকলে দেখা যাবে সরু ঘিঞ্চি জ্যামে ঠাসা রাস্তাঘাট। এদের চালচলন দেখে বুঝার কোনো উপায়ই নেই এরা আসলে কত টাকার মালিক।
এরা অত্যন্ত উৎসবপ্রিয়। খাওয়াতে এবং খেতে খুব ভালোবাসে। এদের সম্পর্কে একটা সাধারণ কথা প্রচলিত আছে যে ,পৃথিবীর সব মানুষের শরীরে তিনভাগ পানি কিন্তু পুরনো ঢাকার লোকজনের শরীরে তিনভাগই হচ্ছে বিরিয়ানি। এটা অবশ্য আমি নিজেও অনেকটাই বিশ্বাস করি।
কারণ আমার এক বন্ধুর কথা জানি যে প্রায় দিনই বলতো যে ,আজকে ওর বর মাঝরাতে ঘুম ভেঙে উঠে বলছে যে বিরিয়ানি খেতে ইচ্ছে করতেছে। আর ও ওই রাতেই ঘুম থেকে উঠে ফ্রিজ থেকে মাংস টেনে বের করে গরম পানিতে ডুবিয়ে বিরিয়ানি রান্না করতো।
যায় হোক যা শুরুতেই লিখছিলাম যে ,আমাদের বাড়িওলার মেয়ের বিয়ের এসব ইফতার সামগ্রীর একটা অংশ আমরা ভাড়াটিয়া সহ আশেপাশের বাসার বেশ কিছু সদস্যও ভাগে পেয়েছিলাম।
আর আমরা সব ভাড়াটিয়ারা মিলে একটা গিফট কিনে বাসায় পৌঁছে দিতে গিয়েছিলম এটা ভেবে যে , বিয়ের দিন দিলে বিশাল বিশাল গিফটের ভিড়ে পরে কোথায় হারাবে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না ।তখন বাসায় গিয়ে দেখেছিলাম বিয়ে উপলক্ষে কেনাটার বহর কাকে বলে।অবশ্য পরবর্তী সময়ে উনার ছেলেমেয়ের বিয়েতে কোনো গিফটই নেন নাই কারো কাছ থেকেই।
◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦
◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦
💯⚜2️⃣0️⃣2️⃣4️⃣ This is a manual curation from the @tipu Curation Project.
Also your post was promoted on 🧵"X"🧵 by the account josluds
@tipu curate
Upvoted 👌 (Mana: 2/7) Get profit votes with @tipU :)
আপনার বাড়ি মেয়ের বিয়ে হয়েছে পুরান ঢাকায় যেহেতু তাদের বাড়ি ওখানে, তাই গিফট দিয়েছিলাম, তবে এটা জেনে ভালো লাগলো পরবর্তী সময়ের বিয়েতে কোন গিফট নেয়নি।
এ ব্যাপারটা আমিও বেশ পছন্দ করি। মানুষকে খাওয়া দাওয়া করে ,দোয়া করা যাবে এটাই অনেক।
হ্যা। তবে ইদানীং অনেকই এটা শুরু করেছেন যে বিয়েতে কোন গিফট নেন না শুধু দোয়া চান বর কনের জন্য। যদিও পরিমাণে বেশ কম, তারপরও ট্টেন্ড দেখে মনে হয় আরেকটু বাড়তেও পারে।
ধন্যবাদ এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য
পুরোনো ঢাকার বিয়ে সম্পর্কে তেমন কোন ধারনা ছিলনা তবে আপনার প্রথম পর্ব পড়ে অনেকটাই ধারণা পেলাম।
ঢাকায় অতীত ঘনবসতি আর এই কারণেই পুরোনো ঢাকায় ঢুকলে দেখা যাই সরু ঘিঞ্চি জ্যামে ঠাসা রাস্তাঘাট। তবে এখন যারা পুরোনো ঢাকার তাদের এখন অনেকটাই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পুরোনো ঢাকার অতীত ও বর্তমানের বিয়ের প্রথম পর্ব শেয়ার করার জন্য আমরা দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষায় রইলাম ভালো থাকবেন।
আসলে যে যেখানে থাকে সেখানেই তারা অভ্যস্ত হয়ে যায়। পুরনো ঢাকার অনেক মানুষ আছে যাদের গুলশান বনানীর মতো জায়গায় নিজস্ব বাড়ি কিংবা আ্যপার্টমেন্ট থাকার পরেও ওই ঘিন্চি এলাকাতেই থাকে। এ
ভালো লাগল আপানার মন্তব্য পড়ে।
ভালো থাকবেন সবসময়।
আজকে আপনার পোস্ট পরিদর্শন করার মাধ্যমে পুরান ঢাকার বিয়ে সম্পর্কে জানতে পারলাম। আসলে এত পরিমাণে জিনিসপত্র বিয়ের আগে দিলে। বিয়ের পরে কি পরিমাণ জিনিসপত্র দেয়া হয় সেটা ভেবেই আমি একটু অবাক হচ্ছি। সেই সাথে আমার কাছে মনে হয় এত পরিমাণে জিনিস অপচয় না করে, কিছু জিনিস গরীব দুঃখী মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয়া উচিত। এতে করে তারা খেয়ে আল্লাহতালার কাছে দোয়া করবেন। ধন্যবাদ আপনাকে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য নিয়ে এত সুন্দর একটা টপিক আমাদের সাথে আলোচনা করার জন্য। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল ভালো থাকবেন।
ওদের কালচারটাই এমন যুগের পর যুগ ধরে। দানও হয়তো করে।
ধন্যবাদ আপনাকে এত চমৎকার করে মন্তব্য করার জন্য। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।
আহা এরকম বাড়িওয়ালার মেয়ের শ্বশুরবাড়ির মত যদি আমার শ্বশুরবাড়ি হতো তাহলে কি মজাই না হতো। আমার মত গরিবের কয়েক মাসের খাওয়া খরচা বেচে যেত। কুট্টি নামক জগাখিচুড়ি ভাষার কথা এই প্রথমবার শুনলাম।
আপনার বান্ধবীর মত বউ পেলে আমি বর্তে যেতাম যে কিনা মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে স্বামীর ইচ্ছানুযায়ী বিরিয়ানি রান্না করে তাকে খাওয়াচ্ছে। খুব সুন্দর করে আপনি পুরনো ঢাকার অতীত ও বর্তমান বিয়ের গল্প তুলে ধরেছেন। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
পুরোনো ঢাকায় বিয়ে করলে আসলেই মজা পেতেন। দাড়ান বৌদিকে জানাচ্ছি এসব কথা।🤣ওরা বিরিয়ানির নাম শুনলে শীতের রাতে গলা পানি ভেঙে খেতে হেলেও খাবে।
আমি ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি এবং দেখে এসেছি যে পুরান ঢাকার মানুষ খুবই আত্মীয়তা পরায়ন হয়ে থাকেন । তারা খেতে ভালোবাসে এবং অন্যকে খাওয়াতেও ভালোবাসে ।আর যাই বলুন না কেন, আমার পুরান ঢাকার কুট্টি ভাষাটা খুবই ভালো লাগে। প্রতিটি কথার ভেতর একটা অন্য ভাব থাকে।
পুরান ঢাকার হাজী বিরিয়ানি ও বাকরখানি বিস্কিট আমিও খেতে খুব ভালোবাসি । সত্যিকারে কথা কি ,যাদের টাকা বেশি থাকে তাদের স্বাজ-স্বাজ্জা যত বেশি থাকে না। কথায় আছে না ”খালি কলস বাজে বেশি ভরা কলস বাজে না” তেমনি তাদের টাকা আছে বেশি তাই তারা মানুষের কাছে প্রকাশ করে না। আপনার পোস্টটি পড়ে সত্যিই অনেক ভালো লাগলো। নতুন বছরের শুভেচ্ছা রইল ।
এটা অবশ্য ঠিক যারা আসলেই খুব বেশি টাকার মালিক দীর্ঘ সনয় ধরে তাদের থেকে নতুন ধনীদের শোঅফ বেশি।
আমার এক বন্ধু ছিলো যে কুট্টি ছিলো। সে দশটা শব্দ বললে ৬/৭গালি দিতো।কিছু বললে বলতো আমি কখন কাকল গালি দিলাম😅কারন এটা ওর কাছে খুব সাধারণ একটা জিনিস ছিলো।তবে শুনতে আমারো ভালোই লাগে।
পুরনো ঢাকার মানুষদের এলাহী কারবার এর সাথে আমি অনেকটাই পরিচিত। কারণ আমি অনেকটা সময় পুরনো ঢাকায় থেকেছি। আছে কিছু আত্মীয় ও। ওদের নাস্তায় পরোটা আর মিষ্টি, সিঙ্গারা না হলেই নয়। আর নল্লী, নেহারী, পায়া যেকোনো সময় তারা খেতে পারে। বিয়ের সময় তো এত বেশি আদান-প্রদান করে যে এটার লম্বা লিস্ট হয়ে যাবে। আসলে এটাই পুরনো ঢাকাইয়াদের কালচার। আপনার লেখাটি পড়ে আমার সেই পুরনো কথাগুলো মনে পড়ে গেল। খুব ভালো লাগলো লেখাটি পড়ে।
আমার কোন রিলেটিভ নেই তবে কয়েকটা বন্ধু আছে। ভালোই লাগে এদের এই ধরনের বিষয়গুলো।ধন্যবাদ এত সুন্দর করে মন্তব্য করার জন্য। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।