"লাচুং নদীর তীরে প্রথমবার উষ্ণ প্রস্রবণ (Hot Spring) দেখার অভিজ্ঞতা"
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।
আজ আবার আপনাদের সাথে আমার সিকিম ঘোরার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চলেছি। গত পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম গুরুদংমার লেকে কাটানো কিছু সুন্দর মুহূর্তের গল্প। সেখানে কিছু অপরিচিত মানুষের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো সারা জীবন মনে থাকবে।
যাইহোক সেখান থেকে আমরা আবার পুনরায় গাড়িতে উঠে রওনা করলাম লাচুং এর উদ্দেশ্যে। জিরো পয়েন্টে যাওয়ার দিন যেখান থেকে আমরা নিজেদের জুতো বদলে, বরফে পড়ার উপযুক্ত জুতো পড়ে গিয়েছিলাম। আমাদের গাড়ি সেখানে এসেই দাঁড়ালো। আমরা সেখানে নিজেদের জুতো বদলে, জুতোর ভাড়া দিয়ে দিলাম। প্রত্যেকের মাথাপিছু ১০০ টাকা করে ভাড়া পড়েছিলো এই জুতোর জন্য।
|
|---|
সেখানে ড্রাইভার দাদাও কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েছিলেন। আসলে একটানা পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর, কারণ রাস্তার পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনাদের সাথে পূর্বের পোস্টে আলোচনা করেছি। ড্রাইভার দাদার কাছ থেকে শুনলাম কিছুটা হেঁটে একটু উপরে গেলেই উষ্ণ প্রস্রবণ দেখতে পারবো। লাচুং এর এই একটা জায়গাতেই উষ্ণ প্রস্রবণ দেখা যায়।
উষ্ণ প্রস্রবণ সম্পর্কে বইয়ে পড়লেও সামনা সামনি তা দেখার সুযোগ হয়নি। তাই ভাবলাম যদি খানিকটা হাঁটতেই হয়, তবুও একবার দেখে আসা হবে। এই ভেবেই সকলে মিলে হাঁটতে শুরু করলাম।
|
|---|
পাহাড়ি রাস্তায় অল্প জায়গাও অনেকখানি দূরত্ব মনে হয়। আর সেখানে এতো বেশি ঠান্ডা ছিল যে হাত-পা একেবারে শীতল হয়ে আসছিলো। কিন্তু উষ্ণ প্রস্রবণ দেখার লোভ সামলাতে না পেরে চলতে শুরু করলাম সকলে মিলেই।
কিছুদূর হেঁটে যাওয়ার পর ছোট্ট একটা ব্রিজ চোখে পড়লো, যার নিচে দিয়ে বয়ে চলেছে লাচুং নদী। ব্রিজে দাঁড়িয়ে অনেকটা সময় কাটলো আমাদের। কারণ ব্রিজের উপর থেকে চারিপাশের প্রকৃতি এতো সুন্দর লাগছিলো যে, তা থেকে চোখ ফেরানো সম্ভব ছিলো না।
|
|---|
একদিকে ব্রীজের নীচে দিয়ে লাচুং নদীর বয়ে চলা, অন্যদিকে বরফে ঢাকা পাহাড়, তার উল্টোদিকে অসংখ্য পাথরে ভরপুর ছোট্ট রাস্তা, যেটা দিয়ে বেশ কিছুটা উপরে উঠতে হবে উষ্ণ প্রস্রবণ দেখতে।
তবে সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম পাশে সুন্দর করে রাস্তা তৈরি হচ্ছে। পরবর্তীতে যে সকল পর্যটক এই উষ্ণ প্রস্রবণ দেখতে যাবেন, তাদেরকে আর পাথরের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে হবে না। সুন্দর ঢালাই রাস্তা তৈরি হয়ে যাবে ততদিনে। সত্যি বলতে ঠান্ডার কারণে এবং অক্সিজেন কম থাকার কারণে সামান্য উঁচুতে উঠতেই যেন আমাদের অনেক বেশি কষ্ট হচ্ছিলো।
|
|---|
তবে সব কষ্ট উপেক্ষা করে আমরা শেষপর্যন্ত পৌঁছেছিলাম সেই ছোট্ট ঘরে, যেখানে উষ্ণ প্রস্রবণ দেখার সুযোগ হয়েছিলো। প্রকৃতির কি অপূর্ব সৃষ্টি, এই সমস্ত জিনিসগুলো দেখলে সত্যিই অবাক লাগে। বাইরের দিকে এতো ঠান্ডা যে, আমরা একে অপরের সাথে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিলাম না।
অথচ ওই ঘরের মধ্যে যেটুকু জল ছিলো সেটুকু প্রাকৃতিকভাবেই গরম ছিলো। আশ্চর্য লাগে মাঝেমধ্যে প্রকৃতির এই সকল সৃষ্টি দেখলে। যাইহোক সকলে মিলে সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটালাম।
|
|---|
সেখানে কিছু বিধি-নিষেধ উল্লেখ করা রয়েছে। সব থেকে যেটা ভালো লাগলো আপনারা চাইলে নিজেরা ড্রেস নিয়ে গিয়ে ওখানে কিন্তু স্নানও করতে পারেন। তবে সেখানে কোনো নোংরা ফেলতে পারবেন না। আমরা যখন ওখানে ছিলাম তখন দেখলাম একজন প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে, পোশাক বদলে উষ্ণ প্রস্রবণে স্নান করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আজ আমি আপনাদের সাথে উষ্ণ প্রস্রবণ দেখার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। আর তিনি সেখানে স্নান সেরে তার উপলব্ধি কেমন হয়েছিলো তা হয়তো অন্য কারোর সাথে এমন ভাবেই শেয়ার করছেন।
|
|---|
যাইহোক এরপরে আমরা আবার সেখান থেকে আমাদের গাড়ির পার্কিংয়ে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। ফেরার পথে চোখে পড়ল লাচুং নদীর দুধার দিয়ে টানিয়ে রাখা অসংখ্য সাদা রঙের পতাকা। এই পতাকা গুলোই লাচুং নদীকে যেন আরও বিশেষ করে তুলেছে। কি যে অপূর্ব সুন্দর ছিলো সেই দৃশ্য, তা ছবির মাধ্যমে আসলেই কতোখানি তুলে ধরতে পারছি, তা জানি না।
|
|---|
তবে এগুলো যে নিজের চোখে দেখেছি তা যেন এখনও অবিশ্বাস্য মনে হয়। সকলেই সেখানে দাঁড়িয়ে নিজেদের মতো করে কিছু ছবি তোলা হলো। তারপর আবার আমরা চলতে শুরু করলাম গাড়ির উদ্দেশ্যে। হোমস্টেতে ফেরার আগে তখনো রডোডেনড্রন ফুলের গাছ দেখা বাকি ছিলো।
বিভিন্ন রঙের রডোডেনড্রন ফুলে সম্পূর্ণ রাস্তাটা ভর্তি ছিলো, যা জিরো পয়েন্টে যাওয়ার সময় গাড়ির মধ্যে থেকেই দেখেছিলাম আমরা। তবে সেগুলো ছুঁয়ে দেখার সুযোগ যে কোনো মতেই মিস করবো না, সে কথা আগেই জানিয়েছিলাম। ড্রাইভার দাদাই বলেছিলেন ফেরার পথে আমাদেরকে অবশ্যই রাস্তায় দাঁড় করাবেন। তাই সেই উদ্দেশ্য নিয়েই আবার পুনরায় রওনা করলাম।
পরবর্তী পোস্টে আপনাদের সাথে রডোডেনড্রন ফুলের গাছ, সেখানকার সৌন্দর্য্য এবং আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অবশ্যই শেয়ার করবো। আপনারা সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভরাত্রি।