" গন্তব্য ছিলো নাথুলা‌ পাস- পথের গল্প"

in Incredible India2 days ago
IMG_20260512_080315.jpg
"নাথুলা পাস‌ যাওয়ার পথে তোলা ছবি"

Hello,

Everyone,

আপনারা সকলে ভালো আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।

অনেকদিন হয়ে গেল আপনাদের সাথে সিকিম ভ্রমণের কাহিনী শেয়ার করিনি। আসলে একই ধরনের পোস্ট প্রতিদিন শেয়ার করলে, সেটা আপনাদেরও পড়তে ভালো লাগবে না। তাই অনেকদিন বাদে আজ আবার সিকিম ভ্রমণের গল্প নিয়ে আজকের পোস্ট শেয়ার করতে চলেছি।

লাস্ট যে পর্ব শেয়ার করেছিলাম, সেখানে জানিয়েছিলাম গ্যাংটক থেকে আমাদের পরদিন নাথুলা পাস দেখতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা ছিলো। তাই আমরা খুব সকালে লাগেজ গুছিয়ে নিয়ে হোটেল থেকে রওনা করেছিলাম।

IMG_20260512_075658.jpg
IMG_20260512_075741.jpg
"খুব সকালে আমরা রওনা করেছিলাম পাহাড়ি পথ দিয়ে।"

এমনকি ব্রেকফাস্ট পর্যন্ত করিনি। কারণ ব্রেকফাস্ট শেষ করে রওনা দিতে হলে অনেকটাই দেরি হয়ে যাবে। আর ততক্ষণে যদি না নাথুলা‌ পাসে গাড়ির লাইন পড়ে যায়, তাহলে চার পাঁচ ঘন্টা সেই লাইনেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, যেটা আমরা একেবারেই চাইনি।

কারণ এই একদিনে আমাদের অনেকগুলো স্পট ভিজিট করার কথা ছিলো। এই দিনে এই নাথুলা পাস থেকে বাকি জায়গা ভিজিট করে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম ঋষি খোলাতে। সেটাই আমাদের এই ট্রিপে লাস্ট ডেস্টিনেশন ছিলো।

1783521544279.jpg
"গাড়ির ভিতরেও বেশ‌ ঠান্ডা লাগছিলো সেদিন"

তাই মোটামুটি পাঁচটার দিকে উঠে এক এক করে রেডি হয়ে, ছটার মধ্যে আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম হোটেল থেকে। আমাদের ব্রেকফাস্ট হোটেল থেকে তৈরি করে দিয়েছিলো। "ব্রেড অমলেট" গুলো আমরা প্যাক করে নিয়ে, গাড়িতে উঠে পড়েছিলাম। রাস্তায় যেতে যেতে খেয়ে নেবো এমনটাই ঠিক ছিলো। কারণ এই দিনের জার্নি ছিলো অনেকটা।

1783521544603.jpg
1783521544589.jpg
"গাড়িতে কিছু লোক চলেছিল নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতে তার।আর পেছনেই আমরা চলেছিলাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে।"

নাথুলা পাস যাওয়ার জন্য যে পারমিট প্রয়োজন হয়, সেগুলো আগে থেকে আমাদের ড্রাইভার দাদা তৈরি করে রেখেছিলেন। তাই সেটা নিয়ে আলাদা কোনো টেনশন ছিলো না। যখন আমরা গ্যাংটক ছেড়ে নাথুলা পাসের রাস্তায় ঢুকছিলাম, তখন দেখলাম একটা খোলা গাড়িতে করে অনেক মানুষ একসাথে রওনা করছে।

বিষয়টা দেখে আমাদের কৌতুহল হলো। তবে আমাদের ড্রাইভার দাদা জানালো এটা এখানকার রোজকার চিত্র। প্রতিদিন কাজের জন্য বহু মানুষ এসে এখানে দাঁড়ায়। আর এইরকম ভাবে মালিক এসে প্রয়োজন অনুসারে লোক ঠিক করে নেন। তারপর গাড়িতে করে তারা কাজের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরেন।

আবার এই গাড়িতে করেই সবাইকে বিকেলের দিকে একই জায়গাতে ছেড়ে দেয়। তারপর যে যার মত বাড়িতে পৌঁছে যায়। বহু মানুষ এই রকম ভাবেই বহু বছর ধরে এখানে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

1783521544540.jpg
1783521544522.jpg
1783521544506.jpg
1783521544470.jpg
"মেঘের কারণে আশেপাশের দৃশ্য ততটা উপভোগ করতে না পারলেও, মেঘে ঢাকা রাস্তার সৌন্দর্য্যও কিন্তু অপূর্ব ছিলো।"

নাথুলা পাসে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে অনেক সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। তবে দুর্ভাগ্যবশত সেদিন এমন মেঘলা আকাশ ছিলো যে, গোটা রাস্তা মেঘেই ভর্তি ছিলো। দেখে মনে হচ্ছিল যেন কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে।

পাহাড়ে চলতে চলতে আপনারা এইরকম ধরনের দৃশ্য অনেক দেখতে পারবেন। তবে এর পেছনের যে কাহিনী ছিলো সেটা সত্যিই আমার অজানা ছিলো না। এইবার গিয়েই জানতে পারলাম এই প্রত্যেকটা লাঠি যাতে একটা করে কাপড় জড়ানো থাকে, এগুলো পাহাড়ের মানুষের তাদের কাছের মানুষদের প্রতি উৎসর্গ করা শ্রদ্ধার প্রতীক।

1783521544488.jpg
1783521544449.jpg
1783521544431.jpg
1783521544368.jpg
"কত প্রিয় মানুষের চলে যাওয়ার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই লাঠি গুলো। যা পাহাড়ের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির পাশাপাশি, শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে আছে।"

পরিবারের বা খুব কাছের মানুষের যখন মৃত্যু হয়, তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তারা এই রকম একটি লাঠি দাঁড় করিয়ে রাখে। তাই কিছুটা দূরে দূরে এইরকম লাইন দেওয়া সারিবদ্ধ লাঠি আপনার চোখে পড়বে, যা পাহাড়ি রাস্তাকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে।

নাথুলা পাশে যাওয়ার সময় যে শুধুমাত্র এই চিত্রগুলো চোখে পড়ে এমন নাম আহারে প্রায় বেশিরভাগ জায়গাতেই এইরকম চিত্র দেখা যায়। মাঝে মধ্যে কিছু জায়গা পরিষ্কার থাকলেও কিছু কিছু সময় এমনভাবে মেঘগুলো যে কিছুটা দূরের পথই আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম না।

1783521544348.jpg
1783521544325.jpg
1783521544307.jpg
"পাহাড়ি পথ বেয়ে এগিয়ে চলতে চলতে এমন বাড়িগুলোও মেঘের মধ্যে হারিয়ে যেতে দেখেছি।"

ধীরে ধীরে আমাদের গাড়ি যখন উপরের দিকে উঠে চলেছে তখন পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট বাড়িগুলো যেন অনেক আকর্ষণীয় লাগছিলো। মাঝখান থেকে মেঘেদের ভেসে চলার দৃশ্য দেখে কখনো কখনো মনে হচ্ছিলো যেন, বাড়িগুলো থেকে কোনো ধোঁয়া উঠছে। এই ধরনের দৃশ্যগুলোর ব্যাখ্যা আসলে ভাষায় করা সম্ভব নয়, আর না সেগুলোকে ক্যামেরার লেন্সে ততটাও সুন্দরভাবে বন্দি করা সম্ভব।

1783521544390.jpg
"চলার পথে যখন এসে মেঘ ঘিরে ধরে, তখন যেন পথগুলো আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।"

ড্রাইভার দাদাই বললেন চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখার মতন। কিন্তু কুয়াশার কারণে তার বেশির ভাগটাই আমরা দেখতে পারলাম না। আসলে পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়ার কথা আগে থেকে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না। তবুও চলতি পথে যতটুকু দেখলাম তাও যেন স্বর্গীয় অনুভূতি।

নাথুলা পাস পৌঁছানোর আগে আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম ছাঙ্গু লেকে, যার সৌন্দর্য্য ও অসাধারণ ছিলো। তবে ছাঙ্গু লেক পরিদর্শন করার অভিজ্ঞতা আমি পরবর্তী পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

আজকের পোস্ট এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে।

Sort:  

Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟

Loading...

Curated by @ dove11

curator5.png

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.100
BTC 63806.13
ETH 1769.93
USDT 1.00
SBD 0.39