গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবার
আসসালামুয়ালাইকুম কেমন আছেন সবাই? আশা রাখি সবাই যে যেখানে আছেন ভালো আছেন।
আমি @sairazerin লিখছি বাংলাদেশ থেকে।
লিখার শুরু তে আমি আমার সকল স্টিমিট বন্ধুদের জানাই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
(মায়ের হাতের স্পর্শে বানানো ঐতিহ্য বাহী খাবার)
আধুনিক সভ্যতার যুগে পদার্পন করছি আমরা।
সর্বত্র ই আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে।যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে,এটাই সত্য , কিন্তূ আমাদের যে ঐতিহ্য রয়েছে তা কেও ধরে রাখতে হবে।
আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করার গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী দুটি খাবার
১.খুদের ভাতের সাথে সিধলশূটকির বর্তা ও কালজিরার বতা।
২.খুদের চালের চাপটি।
অগ্রাহায়ন মাসে নতুন ধান তখন কৃষকের ঘরে আসত,তখন নানা রকমের পিঠা পুলি বানানোর দুম
পড়ত।সাথে থাকত চালের খুদ দিয়ে বানানো খুদের ভাত সিধলশূটকির বর্তা ও কালজিরার বতা।এটি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার।একবাড়িতে রান্না করলে আসে পাশের বাড়িতেও বিলিয়ে দিত।সে এক অন্য রকম বন্ধন।একে অপরের সাথে এক সৌহার্দ্য পূনসম্পক গড়ে তুলতে সাহায্য করত এই সব কৃস্টি কালচার।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় সব বিলীন হতে বসেছে।
যৌথপরিবারে এসব খাবার সবাই মিলে উনুনের পাশে বসে গরম গরম খেত আর জমে উঠত খোস
গল্প।
এখন সেই যৌথপরিবার পরিবার এর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে সাথে সেই খোস গল্প করার পরিবেশ ও নেই।এখন সবাই যান্রিক হয়ে গেছে।কেউ কাউকে সময় দেওয়ার সুযোগ নেই।
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী আরেকটি খাবার হলো খুদের চাল দিয়ে ই তৈরি করা চাপটি সাথে সেই সিধলশূটকির বর্তা আর কি লাগে অসাধারন খেতে।
জিবে জল আসার মত দুটি খাবার। আমার খুব পছন্দের খাবার এইগুলি। বাসায় গেলেই মাকে বলি বানাতে।
(আমার মায়ের যাদু মাখা হাত)
(শিল পাটায় বানানো বতা)
(Pictures taken by me oppo A54).
আমাদের বাঙ্গালী খাবার গুলো আমাদের ঐতিহ্যের প্রতীক। এগুলো কে আমাদের ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে দেওয়া যাবেনা।ফাস্ট ফুড এখন আধুনিক প্রজন্মের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এগুলো স্বাস্থ্যেরজন্য খুব ই ক্ষতিকর।
তাই ফাস্ট ফুড পরিহার করতে হবে। এবং আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের যে ঐতিহ্য বাহী খাবার গুলো রয়েছে তা তাদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে হবে।
তা না হলে একসময় এইসব খাবার গুলি সমাজ থেকে বিলীন হয়ে যাবে। আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে,তা যেমন সত্য তেমনি এটাও সত্য যে আমাদের যে নিজেস্ব কৃস্টি কালচার রয়েছে তাকেও টিকিয়ে রাখতে হবে।
এখন প্রতিটি কাজে ভিন্নতা চলে আসছে,আগে মা চাচী রা ভতা বানাতো শিল পাটায় করে ,এখন সেই বতা ই বানানো হয় ভেলেন্ডারে।কাজ সহজ হলেও স্বাদে রয়েছে ভিন্ন তা।শিল পাটায় বানানো বতা স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়।
সেদিন বাসায় গিয়ে মাকে বললাম, সকালে বতা ও খুদের ভাত রাঁধতে।মা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে নিজহাতে বানিয়ে নিল সিধলশূটকির বর্তা ও কালজিরার বতা।কি আর বলব কি যে খেলাম ,তা আর ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। সাথে ছিল খুদের চালের চাপটি।চাপটি বানানো জন্য চাল গুলো রাতেই ভিজিয়ে রেখে ছিলেন মা,মাটির একটি পাত্রে।তারপর পিষে বানিয়ে ফেললেন সুস্বাদু সেই চালের চাপটি।
মায়ের হাতের স্পর্শে বানানো যে কোন খাবার তার সন্তানের কাছে পৃথিবীর স্রেস্ঠ খাবার। আমি তৃপ্তি সহকারে খেলাম সেই খুদের ভাত ও চাপটি।
যেসব খাবার গুলো আমাদের ঐতিহ্যের প্রতীক বহন করে তা কে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি যৌথপরিবারে থাকার চেষ্টা করতে হবে।তাহলে, আধুনিক সমাজে কাছে আমাদের সেই কৃস্টি কালচার গুলি সহজেই উপস্থাপন করার সুযোগ পাব। পাশাপাশি পারিবারিক কোলহ যাতে না থাকে,সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।তাহলেই সোনার বাংলা হবে আমাদের ঐতিহ্য সংস্কৃতি প্রতীক।
আমাদের বাঙ্গালী সংস্কৃতি যাতে বিলীন হয়ে না যায়, সেদিন নতুন প্রজন্মকে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে।একটি গাড়ির দুটি চাকা যদি সমান তালে না চলে তাহলে গাড়িটি যেমন সামনে এগিয়ে যেতে পারবেনা,তেমনি আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের যে ঐতিহ্য রয়েছে তাকে বিলীন হতে দেওয়া যাবে না।তাকে যত্নে লালন করতে হবে।
আথ্যাৎ দুটোরই প্রয়োজনীয় রয়েছে। আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে ও চলতে হবে, আবার আমাদের যে ঐতিহ্য রয়েছে তাকে ও টিকিয়ে রাখতে হবে। পরিশেষে আমি কায়িক পরিশ্রমের প্রতি খেয়াল রাখব,ততটুকু সম্ভব যন্রের ব্যবহার কমিয়ে করব।
তাহলে , আমার অতি সহজেই সুস্থ সুন্দর জীবন কাটাতে পারব।
আজ আর নয়। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সবপরি মনের যত্ন নিবেন।
আপনাদের সাপোর্ট আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগায়।
এখানে আমার এচিভমেন্ট ৩লিংক দেওয়া আছে।
https://steemit.com/hive-172186/@sairazerin/achievement-3-content-etiquette-by-sairazerin
বিদায়,
@sairazerin
Bangladesh.
গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্য কিছু খাবার সম্পর্কে আমাদের মাঝে অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আপনি শেয়ার করেছেন আসলে গ্রাম গঞ্জের এসব ধরনের খাবার আমরা শহরে বসে কখনো খেতে পারবো না গ্রামাঞ্চলের খাবারগুলো সারা জীবনই মনে থাকবে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
@sanaula আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার পোস্ট টি সময় ও ধৈর্য্য নিয়ে পড়ার জন্য।
ভালো থাকবেন।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
সেদিন বাসায় গিয়ে মাকে বললাম, সকালে বতা ও খুদের ভাত রাঁধতে।মা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে নিজহাতে বানিয়ে নিল সিধলশূটকির বর্তা ও কালজিরার বতা।কি আর বলব কি যে খেলাম ,তা আর ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। সাথে ছিল খুদের চালের চাপটি।চাপটি বানানো জন্য চাল গুলো রাতেই ভিজিয়ে রেখে ছিলেন মা,মাটির একটি পাত্রে।তারপর পিষে বানিয়ে ফেললেন সুস্বাদু সেই চালের চাপটি।
সত্যি আমার ও এই খাবার টা খুব পছন্দ সময় পেলেই তৈরি করি।
আপনার জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা
@karobiamin আমার পোস্ট টি সময় ও ধৈর্য্য নিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
Hello
@sairazerin
আমাদের কমিউনিটিতে আপনাকে স্বাগতম। আপনার লেখাটি অনেক ভালো লাগলো। এভাবেই আমাদের পরিবারের সাথে যুক্ত থাকুন।
আপনাকে আমাদের ডিসকর্ডে জয়েন করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আশাকরি, আপনার পোস্টসহ প্ল্যাটফর্ম বিষয়ক সকল প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে সুবিধা হবে।
Discord link