বিলুপ্ত প্রায় ঐতিহ্যের ঢেঁকি
আসসালামু আলাইকুম
সবাই কেমন আছেন, আশা করি সবাই ভালো আছেন, আমি
আজ বিলুপ্ত প্রায় ঐতিহ্যের ঢেকি।
ঘুমাই আছি আর মনে মনে ভাবছি,, কি পোস্ট করবো, আজানের সময় নামাজ পড়া শেষ তখন আমার এক চাচি আম্মুকে ডাকছে, আমাদের চালের গুড়া করবে বলে আমি ও মনে মনে ভাবলাম এটা নিয়ে ও পোস্ট করা যায়।শীতে আর উঠতে মন চাইলো না,, আমি ভাবিকে ডাকলাম পিক তুলে দিতে তারপর কিছু খন পর আমি ফ্রেশ হয়ে গেলাম ঢেকির কাছে গিয়ে পিক তুলে নিয়ে আসলাম বাড়ি আত্মীয় ছিলো আম্মু নাস্তা তৈরি করলো। সাথে চালের গুড়া পিঠা তৈরি করে দিলো, তেলের পিঠা আমার তেমন পছন্দের পিঠা না,, মিষ্টি আমি কম পছন্দ করি, আমি নারকেলের পিঠা খেতে পছন্দ করি। ছোট বেলায় আম্মুর সাথে চাল গুড়া টুকতাম আর খুব আনন্দ অনুভব করতাম এখন আর এই সব কিছুই সৃতি হয়ে আছে।
প্রথমে চাল একটা পাএে ঢালতে হবে তারপর পানি দিয়ে কয়েক বার ধুয়ে নিতে হবে। পরবর্তী তে হালকা নরম হলে চালের গুড়া করতে সুবিধা হয়।
একটা সময় ধান ভানার একমাত্র অবলম্বন ছিল ঢেঁকি গ্রামের কৃষাণী থেকে শুরু করে জমিদার বাড়ি পযন্ত সর্বত্রই ছিল এর প্রচলন। ঘরে ঘরে চিড়া কোটা, চাল ও চালের গুড়া তৈরির জন্য ঢেঁকিই একমাত্র মাধ্যম বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক ঢেঁকি গৃহস্থের সচ্ছলতা ও সুখ সমৃদ্ধির প্রতিক হিসেবে প্রচলিত ছিল, শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঙ্জে ও এখন পুরোপুরি যান্ত্রিক ঢেউ লেগেছে। ফলে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এ যন্ত্রটি একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে।
সত্তরের দশকে ও প্রায় প্রত্যের কৃষকের বাড়িতে ঢেঁকি ছিল, ঢেঁকির ধুপুর ধুপুর শব্দের মুখরিত ছিলো গ্রামীণ জনপদ।
- কালের বিবর্তনে আর যান্ত্রিক সভ্যতার আগ্রাসনে আধুনিক এই যুগে গ্রাম বাংলার ঢেঁকি আজ বিলুপ্তর পথে।
গ্রামের ঘরে ঘরে এখন আর আগের চোখে পড়ে না। ঐতিহ্যেহি ঢেঁকি। আজানের সাথে সাথে ভোরের স্তব্ধতা ভেগে ঢেঁকির ঠক ঠক শব্দ আর কানে আসে না। যেখানে ঢেঁকি ছাড়া গ্রাম কল্পনা করাও কঠিন ছিল। যেখানে বসতি সেখানেই ঢেঁকি কিন্তু আজ তা আমাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য থেকে মুছে যাচ্ছে।
মাছে ভাতে বাঙালির ঘরে এক সময় নবান্নের উৎসব হতো ঘটা করে। উৎসবের প্রতিপাদ্যটাই ছিল মাটির গন্ধ মাখা সুগন্ধি ধান, ঢেঁকি ছাটা চালের ভাত আর সুস্বাদু পিঠার আয়োজন রাতের পররাত জেগে শরীরটাকে ঘামে ভিজিয়ে ঢেঁকিতে ধান ভানার পর প্রান খোলা হাসি তাদের মুখে। কালের বিবর্তনে আর যান্ত্রিক সভ্যতার আগ্রাসনে আধুনিক এই যুগে গ্রাম বাংলার ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে।
আমাদের গ্রামে কিছু মানুষেরা এখনো ঐতিহাসিক জিনিস ধরে রেখেছেন,, বর্তমান সময়ে এখন সব কিছু বিলুপ্তর পথে। শীত কালে বেশি ধুম পড়ে যায়।। চালের গুড়া করার জন্য।
আজকের মতো এখানে শেষ করছি,, আশা করি সবার ভালো লাগবে। সবার জন্য দোয়া ও শুভকামনা রইল।
আজ আপনি বিলুপ্তের পথে , ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি সম্পর্কে লিখেছেন। সত্যি এই ঢেঁকি আমার কাছে বেশ ভালো লাগে,, বিশেষ করে শীতের সময় যখন চাল কোটা হয়, তখন শরীর পুরো গরম হয়ে যায় এই ঢেঁকির মাধ্যমে চাল কোটার কারণে,,
আমাদের গ্রামে এখন এই ঢেঁকি দেখা নাই বললেই চলে,, খুঁজে মনে হয় না একটা পাওয়া যাবে তবে আমি ছোটবেলা অনেক বেশি পরিচালিত ছিল। একবার দাদির সাথে গিয়েছিলাম ঢেঁকিতে চাল কোটার জন্য। যেটা আপনার পোস্টটি পড়ে মনে পড়ে গেল।
আসলেই আগের আমাদের দাদীরা এসব ঢেঁকিতেই ধান বেনে সেই চাল দিয়ে ভাত রান্না করে খেত, কিন্তু এখন যুগের পরিবর্তন হয়েছে এবং খুব সহজ ও হয়েছে। এখন আর আগের মতো কষ্ট করতে হয় না, তবে গ্রামে অনেক ঢেঁকি এখনো রয়ে গেছে চালের গুড়া বানানোর জন্য, আর এখন তো শীতকাল চালের গোড়া বানানোর ধুম পরে গেছে।
চালের গুড়া বানানো দেখে মনে করলাম শীতের পিঠা বানাবেন, কিন্তু শীতের মধ্যে তেলের পিঠা বানিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি তেলের পিঠা বেশি পছন্দ করি না, তবে পিঠাগুলো দেখে খাওয়ার প্রতি লোভ হয়েছে।
ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
বর্তমান যুগে সব কিছুই আধুনিকতার ছোয়া পেয়েছে। ঠিক তেমনি এখন ঢেকের বদলে, মেশিন এর সাহায্যে ধান ভানা হয়,চাল গুড়ো করা হয়। কিন্তু গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় জিনিসের মধ্যে যেই মাধুর্য ছিল তা এখন আর এই আধুনিকতার ছোয়ায় পওয়া যায় না।
যদিও আমার শ্বশুর বাড়িতে এখন ঢেঁকিতে চাল কোটা হয়,আর এই বিষয় টা আমার কাছে অনেক ভালো লাগে।আর ঢেঁকিতে কোটা চালের গুড়ার পিঠার যেই একট স্বাদ আছে তা,মেলে ভাঙানো গুড়োর পিঠায় নেই।
ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
এখন ঢেঁকি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলা চলে। একটা সময় গ্রামের ঘরে ঘরে এই ঢেঁকি ব্যবহার করা হতো। নবান্ন উৎসবও তো এখন খুব কম ঘরেই দেখতে পাওয়া যায়। অতি আধুনিকতার প্রভাবে পুরাতন সব ঐতিহ্যই এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। ধন্যবাদ পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।ভালো থাকবেন।
হারিয়ে যাওয়া একটি ঐতিহ্য ঢেঁকি নিয়ে আজকে আপনি লিখেছেন। সৌভাগ্যবশত ছোটবেলায় আমার ঢেঁকিতে পাড় দেয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। জানি কাজটি মোটেও মজার নয় তবে যেহেতু আমি শখের বসে করেছিলাম খুবই ভালো লেগেছিল। তখন মায়েরা দেখতাম শীতকাল আসলেই চালের গুড়ি ভাঙ্গাতো। খুব কষ্টকর ছিল এই কাজগুলো। তবে ঢেঁকিতে ভাঙ্গানো চালের গুড়ের পিঠা অনেক মজাদার হতো। আর এখন তো মেশিনে ভাঙ্গা হয়। পুরাই কমার্শিয়াল হয়ে গেছে সবকিছু। এমন সময়ে ঢেকির স্মৃতিচারণ খুবই ভালো লাগলো।
এই ধরনের ঢেঁকি গুলো আগেকার সময়ে গ্রামে খুবই চলতো ৷ আর এগুলো দিয়েই চাল গুড়ো করা হতো তারপর গম ভূট্টা গুড়ো করা হতো তারপর চালের আটা তৈরি করা হতো ৷ কিন্তু বর্তমান সময়ে এগুলো আর দেখা যায় না ৷ বর্তমানে নানা ধরনের আধুনিক যন্ত্র পাতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে যেখানে এক মিনিটেই গুড়ো করা যায় ৷
যাই হোক ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷
আমার শুনে অনেক ভালো লাগলো যে আপনাদের গ্রামে ঐতিহাসিক জিনিস গুলো এখনো ধরে রেখেছে সবাই। আমাদের গ্রামে এখন আর এগুলো দেখাই যায় না। ঢেঁকি দেখা ছোটবেলায় দেখা হতো কিন্তু সেটিও অনেক কম। আর এর বিষয়ে আমি আমার নানীর কাছে অনেক কথা শুনেছি। আমাদের সাথে এতো সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আর পরিবার ও নিজের খেয়াল রাখবেন।
প্রথমে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই, আমার অনেক ভালো লাগলো যে এখনো ঐতিহাসিক জিনিসগুলো আপনারা ধরে রেখেছেন। আমাদের গ্রামে এখন আর এগুলোর কোনো দেখায় মিলে না। আমি এখন পর্যন্ত ঢেকিট চাল কোরানে পিঠা বা কিছু খাইনি। বিশেষ করে ঢেকওট চাল কোরানো নাকি পিঠা অনেক স্বাদ লাগে।
থ্যাংক ইউ আপু ঐতিহাসিক একটা জিনিস আমাদের মধ্যে তুলে ধরেছেন।