অনেকদিন পর শুক্রবারে ঘুরাঘুরি।।
আপনারা যারা আমার ব্লগ পড়েন তারা জানেন আমি বন্ধের দিনগুলোতে বিশেষ করে শুক্রবারে পরিবার নিয়ে বের হই। তবে অফিসের ব্যস্ততা এবং ব্যক্তিগত কারণে বেশ কিছুদিন যাবৎ বন্ধের দিনে বের হওয়া হয় না। তার উপর আমার বাসায় প্রায় ২ মাস হলো আমার শাশুড়ি আছেন। উনার পায়ের অপারেশন হয়েছে এবং ডাক্তার সম্পূর্ন বেড রেস্ট দিয়েছেন । শাশুড়ি কে বাসায় একা রেখে কোথাও যাওয়া ও হয় না। আমার মেয়েও বাসা থেকে বের হতে না পেরে হাপিয়ে গিয়েছে। আমার শাশুড়ি খুব বিচক্ষণ মানুষ কারণ উনি ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে। আজ উনি বললেন তোমরা কিছুক্ষণের জন্য মেয়েকে নিয়ে ঘুরে এসো আমি একা থাকতে পারব। যাই হোক আমরা যাবনা তাও শাশুড়ির আবদারে কিছুক্ষণের জন্য বিকেলে বের হয়েছি।
প্রথমে ভেবেছিলাম যেহেতু সময় কম রিকশা দিয়ে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে চলে আসব। বের হয়ে রিকশা নিয়ে কিছুক্ষণ ঘুরলাম। ওয়ারী থেকে ফকিরাপুল এর দিকে গেলাম। এতেই দেখলাম প্রায় আধ ঘন্টা চলে গেল। এদিকে বাসায় অসুস্থ মানুষ আছে ভেবে চিন্তা হচ্ছিল। তারপর রিকশা নিয়ে বেক করব বাসার দিকে মেয়ে চিপস ললিপপ আইস্ক্রিম এসব খাবে বলছিল। আমি ভাবলাম বাহিরের এসব হাবি জাবি না খাইয়ে কোথাও বসে ওকে নিয়ে খেতে পারলে ভালো হতো। এসব চিন্তা করতে করতে দেখলাম আমাদের সামনে কিছুদূর হীরাঝিল রেস্টুরেন্ট। হিরাঝিলের কথা এর আগেও আমি পোস্ট এ বলেছিলাম।
আমার ওয়াইফ বাসায় ফোন দিয়ে তার মার খবর নিল যে কি অবস্থায় আছেন। উনি বললেন আমি টিভি তে রণজিৎ মল্লিকের সিনেমা দেখছি তোমরা আরো কিছু সময় পার করে আসো। এই কথা শুনে আমরা নেমে পড়লাম হিরাঝিল রেস্টুরেন্টের সামনে। হীরাঝিলের দুটি ফ্লোরের নিচে নন এসি এবং একটু ক্রাউডেড যেখানে দোতলায় খুবই নিরিবিলি পরিবেশ এবং এসি আছে। তবে এই ফেসিলিটি এর জন্য প্রতি খাবারে দাম বেশি দিতে হয় । যাই হোক কর্নার এর একটি টেবিলে বসে পড়লাম।
আমার কেন জানি খুব খিচুড়ি খেতে ইচ্ছে করল। আপনারা অনেকেই হয়ত চিন্তা করবেন বিকেল বেলায় খিচুড়ি খাচ্ছে কেন। আসলে আজ সকালের নাশতা অনেক দেরি করে খাওয়ায় দুপুরের খাবার মিস হয়ে গিয়েছে। তাই ক্ষুধাও লেগেছিল আর হিরঝিলের স্পেশাল খিচুড়ি দুই মিলিয়ে খিচুড়ি খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি মাটন খিচুড়ি অর্ডার করে দিলাম দুটি। সাথে মেয়ের জন্য একটি গ্রিল চিকেন উইথ বাটার নান আর শাশুড়ির জন্য একটি গ্রিল চিকেন উইথ বাটার নান পার্সেল অর্ডার করলাম। কিছুক্ষণ পর খিচুড়ি চলে এসেছে। আসলে এদের খিচুড়ি রান্না করা থাকে এবং আগুনে দমে রেখে দেয়। যখণ অর্ডার হয় সেখান থেকে দিয়ে দেয়।
খিচুড়ি খাওয়া শুরু করে দিয়েছি কারণ গরম গরম খিচুড়ি না খেলে স্বাদ থাকে না। তবে আশ্চর্য হলাম এই ভেবে খিচুড়ির মানের পরিবর্তন এসেছে। খিচুড়ি ভালোই লেগেছে খেতে কিন্তু পরিমাণ এবং পোলাওর চাল এর কোয়ালিটি পরিবর্তন হয়েছে। মাটন এর সাইজ ও ছোট হয়েছে। যাই হোক খিচুড়ি খেতে খেতে মেয়ের গ্রিল চিকেন চলে এসেছে।
এদের গ্রিল চিকেন ও বেশ মজার এবং সাইজ এ বেশ বড় থাকে। মেয়ে চিকেন পেয়ে খুশি। খিচুড়ি খেয়ে আমরা হিরাঝিলের স্পেশাল চা অর্ডার করেছি। চায়ের ছবি তুলতে ভুলে গিয়েছি। এই চা এর নাম আমি দিয়েছি ক্যাপাচিনো চা, কারণ এই চা এর উপরিভাগে বেশ অনেকখানি ফোম থাকে। কেউ হিরাঝিলে আসলে এই চা অবশ্যই খেয়ে যাবেন।
সবশেষে বিলের পালা। বিল দেয়ার সময় বিশেষ এক চমক পেলাম। ওয়েটার বিল বলল ৯৯০ টাকা। আমি হিসেব করলাম ৭৮০ টাকার মত বিল আসবে কিন্তু বিল এসেছে ৯৯০ টাকা। আমি রীতিমত রেগে যাচ্ছিলাম। পরে ওয়েটার হিসেব দিল এভাবে গ্রিল হাফ ২৭০ টাকা (আগের মূল্য ২০০ টাকা) মাটন খিচুড়ি দুটি ৫০০ ( আগের মূল্য ৪০০ টাকা) চা ৮০ টাকা (আগের মূল্য ৭০ টাকা)। যাই হোক বুঝেছি পুরো দেশ এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে তাই সবকিছুর পরিবর্তন আসছে।
উন্নয়নের তালে তাল মিলিয়ে বিল চুকিয়ে পার্সেল নিয়ে গেলাম বেরিয়ে।
| ডিভাইস | অপ্পো এ ৫৪ |
|---|---|
| বিষয় | অনেকদিন পর শুক্রবারে ঘুরাঘুরি |
| what3words location | https://what3words.com/bagpipes.tripods.props |
| ক্রেডিট | @miratek |
আশা করি আমার পোস্ট আপনাদের ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ সবাইকে।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
শুক্রবার দিন তো দারুণ সময় পার করলেন আপনারা তবে খিচুড়ির কালার দেখে বেশ ভালো লাগলো কালারটা দারুণ। একটা জিনিস খেয়াল করলাম সেটা হচ্ছে আপনার শাশুড়ি কিন্তু এখনো মনের দিক দিয়ে বেশ ইয়াং বসে বসে মুভি দেখতেছে বেশ ভালো। মেয়েরা এমন হাবিজাবি খাওয়ার জন্য আবদার করে তবে দিবোনা বললেও কিন্তু রক্ষা হয় না মাঝে মাঝে। সুন্দর সময় অতিবাহিত করলেন সাথে পার্সেল নিলেন বেশ ভালো।
জ্বি ভাইয়া সারা সপ্তাহ ঘুরাঘুরি না করলেও শুক্রবারে দিনটা বাসায় থাকতে একদম মন চায় না। তার ওপরে ছোট বাচ্চা থাকলে তো কোন কথাই নাই। ওরা সারাদিন বাসায় থাকতে থাকতে একদম বিরক্ত হয়ে যায়। তাই আমরাও চেষ্টা করি বিকেল বেলা করে অন্তত ওকে বাহিরে ঘোরাফেরা করানো। আপনার পোস্টটি পড়ে বুঝতে পারলাম বেশ ভালো সময় কাটিয়েছেন। ধন্যবাদ সেই অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
আসলে অসুস্থ মানুষ বাসায় রেখে কোথাও ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করে না। আবার খালি বাসায় রেখে কোথাও গেলেও বেশ চিন্তা হয়। খাবারের ফটোগ্রাফি দেখেই বুঝা যাচ্ছে খেতে খুব ইয়াম্মি লেগেছে সবগুলো খাবার। সবকিছুর দাম অনেক বেড়েছে ভাই এবং প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। সেদিন গুলিস্তানের রাজধানী হোটেলে মাটন বিরিয়ানি খেলাম ২৪৫ টাকা করে। মাটির ছোট কাপের দই খেলাম ৮০ টাকা করে। উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছি আমরা। চারিদিকে শুধু উন্নয়ন আর উন্নয়ন 😂। যাইহোক পোস্টটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।