ফয়েজ লেক ভ্রমণ। শেষ পর্ব।।
এরই মধ্যে আমরা দুটি ছোট ব্রিজ এপার থেকে ওপার পার হয়েছি। শেষের ব্রিজ পার হয়ে দেখি ছোট ছোট সুন্দর কিছু দোলনা টানিয়ে রাখা হয়েছে। আমার মেয়েকে দোলনায় বসিয়ে দিয়েছি। দোল খেয়ে সে মহা খুশি। এক পর্যায়ে সে আমাকে পেছন থেকে সরিয়ে দিয়েছে আর বলে আমি একা দোল খাবো। আমি ভেবেছিলাম আমিও বসব কিন্তু সিকিউরিটির একজন এসে বললেন এই দোলনা শুধু বাচ্চাদের জন্য।
দোলনা থেকে এক প্রকার জোর করে মেয়েকে নিয়ে চললাম সেই বিখ্যাত ফয়েজ লেকের দিকে। এখান থেকে লেকে যেতে প্রায় ৫০ টির বেশি সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হয়েছে। উপরে উঠে কিছুক্ষণ বসে রেস্ট নিয়েছি। এবার পালা প্রধান লেক ভ্রমণের পালা। যথারীতি লাইনে দাঁড়িয়ে গেলাম টিকেট হাতে নিয়ে। টিকেট নিয়ে খুব একটা ঝামেলা করতে হল না যেহেতু আগেই টিকেট কেটে নিয়েছি।
এখানে অনেকগুলো রাইডের অপশন থাকলেও মাত্র তিনটি লাইন ছিল- একটি লেক ভ্রমণের লাইন, আরেকটি ওয়াটার কিংডমের লাইন ( লেকের শেষে আলাদা অনেকগুলো ওয়াটার রাইডের জায়গা), আরেকটি হচ্ছে প্যাডেল বোট চালানোর লাইন। আমার টিকেট ছিল লেক ভ্রমণের টিকেট। আগে থেকে কিছু স্টাডি করে গিয়েছিলাম তাই আমি জানি প্রায় ২০ মিনিট ইঞ্জিন নৌকা দিয়ে পুরো লেক ভ্রমণ করা হয়। নিচে নৌকা ভিড়তে ই আমরা নেমে গিয়ে নৌকায় উঠেছি। আমার একটু টেনশন হচ্ছিল যেহেতু আমার মেয়ে ছোট এবং খুব দৌড়াদৌড়ি করে তাই। যাই হোক ওকে ভালো করে চেপে ধরে বসেছিলাম।
কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকা ছুটতে শুরু করল। বলে বোঝাতে পারবো না যে অসাধারণ এক অনুভূতি কাজ করছিল। নৌকা যতই এগুচ্ছিল ততই মন মুগ্ধ হয়ে তাকাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পরপর লেকের শাখা দেখা যাচ্ছিল। লেকের দু পাশেই ঘন জঙ্গলের মত। দেখতে কিছুটা ভয়ানক মনে হলেও লেকের মাঝ দিয়ে দেখতে ভালো লাগছিল। আমি ঠিক করেছি লেকের শেষ মাথায় যেতে যেতে বাম পাশ দেখব আর ফেরার সময় ডান পাশ দেখতে দেখতে আসব।
মাঝে অনেক বানর ছুটাছুটি করতে দেখা যাচ্ছিল। লেকের শেষ মাথায় যেয়ে দেখলাম সেই ওয়াটার কিংডম। যারা লেক ভ্রমণ করে তারা সেখানে নামতে পারবে না। যাই হোক দেখলাম অনেকেই ওয়াটার কিংডমের ওখানে জড়ো হয়েছে। ফিরতি পথে আমি আবার অন্য পাশ দেখতে দেখতে এসেছি। লেকের দুপাশে সবুজের এমন দৃশ্য আমার চোখে আর কোথাও পড়েনি। লেক ভ্রমণ যখণ শেষ পর্যায়ে ঠিক তখন মন কেন যেন বিষন্ন হয়ে গেল মনে হচ্ছিল আরো একবার ঘুরে আসি।
ইঞ্জিন নৌকা থেকে নেমে সোজা চলে গেলাম খাবার রেস্টুরেন্ট এ। আমাদের আগে থেকে খাবারের টিকেট কেনা ছিল তাই গিয়েই টিকেট দিয়ে দিয়েছি। খাবারের মেন্যুতে ছিল বিরিয়ানী। আমার মেয়ে বিরিয়ানী খাবে না সে স্যুপ খাবে কিন্তু খুবই দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে এখানে লাঞ্চের সময় শুধু বিরিয়ানী পাওয়া যায় বলে জানালেন। আমার খুব মেজাজ খারাপ হলো কারণ এত বড় একটি ট্যুরিস্ট স্পট এবং তাও কনকর্ড এর সেখানে কিনা দুপুরের খাবারে শুধু বিরিয়ানী। এবং পুরো লেকে এই একটি রেস্টুরেন্ট ই আছে লাঞ্চ করার জন্য।
কি আর করার আমরা খাওয়া শুরু করেছি। খাবার খেতে গিয়ে আরো খারাপ লাগল কারণ অনেকগুলো রাইস দিয়েছে কিন্তু সেই তুলনায় ঝোল খুবই কম আর টেস্ট অনেক বাজে ছিল। মেন্যু কার্ড এ অনেক অপশন থাকলেও বলা হল এখন শুধু বিরিয়ানী পাওয়া যাবে। এক্সট্রা ঝোল চাওয়াতে বলল নেই। আমি কনকর্ডের আরো কয়েকটি থিম পার্ক বা অন্যান্য জায়গায় গিয়েছি বিশেষ করে যদি বলি ফ্যান্টাসি কিংডম। সেখানে অনেক খাবারের অপশন আছে কিন্তু সেই তুলনায় এখানে খাবার নিয়ে আমার খুব ভালো অভিজ্ঞতা ছিল না। তারপর মেয়ের জন্য পিৎজা খুঁজতে গিয়ে দেখি স্ন্যাকস কর্নার গুলোতে কোন পিৎজা বা বার্গার নেই।
যাই হোক খাওয়া শেষে আবার এক্সিট এর দিকে এগিয়ে গেলাম। আমার ইচ্ছে ছিল বের হয়ে যাব কিন্তু আমার ওয়াইফ বলল আরো অনেকগুলো রাইড আছে দু একটা অন্তত রাইড করে যাও। শেষে এসে VR গেম খেলে বের হয়ে গেলাম। তাদের খাবার খুব একটা ভালো না লাগলেও একটি মেসেজ আমার খুব পছন্দ হয়েছে যার একটি ছবি আমি শেয়ার করেছি। আমরা বের হয়ে হোটেল এ চলে এসেছি।
| ডিভাইস | অপ্পো এ ৫৪ |
|---|---|
| বিষয় | ফয়েজ লেক ভ্রমণ |
| what3words location | https://what3words.com/award.consults.painting |
| ক্রেডিট | @miratek |
আশা করি আমার পোস্ট আপনাদের ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ সবাইকে।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনার রিভিউটা দেখে এই ফয়েজ লেকের লোকেশন টা দেখতে বাধ্য হলাম, আমাদের মামনি চমৎকার একটা দিন কাটিয়েছে এবং সে খুব ইনজয় করেছে বোঝা যাচ্ছে, পুরোটা দেখার জন্য এতগুলো সিঁড়ি উপরে উঠতে হয়েছে একটু কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু এত চমৎকার একটা পরিবেশ আমার যেতে ইচ্ছে করছে বিশেষ করে লাস্টে ওই লেখাটি খুব চমৎকার ছিল একজন মানুষ অবশ্যই সেটিসফাই হয়ে এখান থেকে বের হবেন।
আপনার ফয়েজ লেক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেখে আসলে খুব ভালো লাগলো। আমিও ফয়েজ লেক ঘুরতে গিয়েছিলাম। ফয়েজ লেক আমার কাছে অনেক সুন্দর লেগেছিল। আপনার পোষ্টটি পড়ে আমার সেখানকার স্মৃতি মনে পড়ে গেল। অনেক শুভকামনা রইল আপনার জন্য।