ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা
ঘুম থেকে দেরি করে ওঠা, বলতে গেলে প্রতিদিনের অভ্যাস। আজকেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তখনো ঘুমিয়েই ছিলাম, মুঠোফোনটা যে বারবার বেজে যাচ্ছিল, তা যেন বুঝতে পারছিলাম। তবে ইচ্ছে হচ্ছিল না ফোনটা ধরি। শেষমেষ ফোনটা না ধরেই, আবারও ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম।
ভিডিও লিংক
তবে ঘুমটা আর বেশিক্ষণ হয়নি, কেননা গ্রামের তরুণ ছেলেরা ততক্ষণে আমার বাড়িতে চলে এসেছে। মোটামুটি এসেই ওরা হাঁকডাক শুরু করেছিল। কোনরকমে যখন বিছানা থেকে উঠে গিয়ে ওদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলাম,ওরা তখন বলেই ফেলল যে বন্যার্তদের জন্য ওরা কিছু করতে চায়।
মানবিক কাজগুলোর জন্য আমি প্রতিনিয়ত সজাগ ও তৎপর। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই কোন অবস্থাতেই, আমি নিজেকে অজুহাত দেই না। বরং তাদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করলাম তারা কি পদক্ষেপ নিচ্ছে, তারা বলল যেহেতু হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাই তারা গ্রামের সকলের কাছ থেকে চাঁদা তুলছে। যে যতটুকু পারছে, সে সেই ভাবেই সহযোগিতা করছে এবং সব কালেকশন শেষ হলে, বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকায় সহযোগিতা পাঠাবে।
নিজের কাছে খুব ভালো লাগছে, কেননা এই তরুণদের নিয়েই কয়েকদিন আগেই বিবেক সংগঠনটা গঠিত হয়েছে। আজ তারা নিজেরাই এসে মানবিক কাজের জন্য যখন সহযোগিতার প্রস্তাব করছে, তখন ইচ্ছে হচ্ছিল সবাইকেই যেন বুকে জড়িয়ে নেই।
আমার নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না, কেননা পারিবারিক ও সাংসারিক কিছু বিষয় নিয়ে বেশ চাপের ভেতরে আছি। তারপরেও মানিব্যাগের চিপা থেকে একটা পাঁচশো টাকার নোট বের করে ওদের হাতে দিলাম এবং বললাম বিকালের দিকে পুরো এলাকায় ঘোরাঘুরি করা হবে এবং সন্ধ্যায় বাজারে গিয়ে উন্মুক্তভাবে কালেকশন করা হবে।
বিকালের মধ্যেই অনেকগুলো টাকা মোটামুটি সংগ্রহ হয়ে গিয়েছে এলাকা থেকে, তারপর আবার সন্ধ্যাবেলা বেশ ভালোই কালেকশন হয়েছে বাজার থেকে। মোটামুটি সচেতন মানুষরা কেউ হতাশ করেনি। যেহেতু মানবিক ব্যাপার, তাই বিষয়টাতে সবাই ভীষণ গুরুত্ব দিয়েছিল।
এখন থেকে বছর দশেক আগে রাজশাহীতে থাকার সময়, এক বন্ধুর চিকিৎসার খরচ মেটানোর জন্য রাস্তায় নেমেছিলাম । সেই রাস্তাতেই আবারো নামলাম নিজের এলাকায় দীর্ঘ বছর দশেক পরে। তবে এবার কোন বন্ধুর জন্য না, এবার নেমেছি অজানা-অচেনা ভিন্ন এলাকার যে মানুষরা বন্যাকবলিত হয়েছে , ঠিক তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
মানুষ মানুষের জন্য।আমাদের বাংলাদেশের এই দুঃসময়ে আমরা একে অপরের হাত ধরে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।আমরা যার যার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।আপনাদের এই উদ্যোগটা দেখে আরো অনুপ্রাণিত হলাম।অক্লান্ত পরিশ্রম করার মাধ্যমে সবাই একত্রে মিলে বন্যার্থদের জন্য তারাবির গঠন করে তাদের পাশে থাকছেন।উদ্যোগটি অনেক মহৎ একটা কাজ।এভাবে আমরা সবাই একসাথে তাদের পাশে থাকলে এই সংকট আমরা খুব শীঘ্রই কাটিয়ে উঠতে পারব ইনশাআল্লাহ।
ধন্যবাদ ভাই আপনার সাবলীল মন্তব্যের জন্য।
আমাদের সবারই উচিত এরকম কম বেশি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া । আমাদের একটু সাহায্যে যদি তাদের কিছুটা উপকার হয় । সব সময় তো চেনাজানা মানুষের জন্যই কাজ করা হয় করলাম না হয় অপরিচিত লোকদের জন্য কিছুটা কাজ ।
অপরিচিত মানুষজনের জন্যই তো আমাদের আজকের এই কার্যক্রম, মানুষ হোক মানুষের জন্য। ধন্যবাদ আপু।
ছোট ছোট বালুকনা বিন্দু বিন্দু জল গড়ে তুলে মহাদেশে সাগর অতল। সেই রকমেরই আপনাদের উদোগ। বেশ ভালো লাগলো আপনাদের এমন উদ্যোগ দেখে। আশা করবো এমন করে অনেক দূর এগিয়ে যাবেন। আর দোয়া রইল আপনাদের জন্য যেন আপনাদের এই উদ্যোগ বানবাসী মানুষের জন্য উপকার বয়ে আনে।
ধন্যবাদ আপু আমাকে অনুপ্রাণিত করার জন্য।
ভাই আপনার পোস্ট দেখে অনুপ্রাণিত হলাম। সত্যি ভাইয়া আপনাকে কি বলে ধন্যবাদ জানাবো সে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তবে আপনার এই উদ্যোগটি বেশ ভালো লাগলো আমার। সত্যিই আবার প্রোমানিত হলো । মানুষ মানুষের জন্য। আমাদের সকলের এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় সকলের জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে। ভাই আমরাও এভাবে কালেকশন করছি । আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই আমরা এগুলো ফান্ডে জমা দিয়ে দিবো। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য। এতে করে আমার এই প্রচেষ্টার আগ্রহী আরও অনেক বেড়ে গেল। আপনার জন্য শুভকামনা রইল ভাইয়া।
আপনাদের উদ্যোগকেও আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি আমার জায়গা থেকে ।
আপনার গ্রামের তরুনরা বন্যার্তদের সাহায্য করা জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছে ,তা প্রশংসার যোগ্য ।আমরা যদি সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াই, তবে তারা সহজেই এই দূর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারবে। আর এই তরুনরাই পারে সুন্দর বাংলাদেশ নির্মান করতে। পোস্টটি পরে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
সুন্দর দেশ নির্মাণের জন্যই তো এমন পদক্ষেপ, আমরা সবাই একে অন্যের জন্য কাজ করছি।
এভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা অনেক বড় আকারের ধারণ করে। যেহেতু সবে মাত্র আপনারা সংগঠন তৈরি করেছিলেন। শুরুতেই বেশ সুন্দর একটি ভালো ফলাফল পেয়ে গেলেন। যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তা দিয়েই বেশ বড় একটা এমাউন্ট হয়ে যাবে। আপনারা সবাই এভাবে দুর্যোগ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা নিলেন বেশ ভালো লাগলো পুরো পোস্ট পড়ে।
হ্যাঁ আপু চেষ্টা করছি আমাদের জায়গা থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য, এখন দেখা যাক কতদূর কি করা যায় ।
বেশ ভালো লাগলো ভাই আপনাদের এই মহৎ উদ্যোগ দেখে। আমাদের মহল্লা এবং পাশের মহল্লা থেকেও চাঁদা তোলা হচ্ছে। কারণ আমাদের এখানকার বেশ কয়েকজন যুবক পরশুদিন অর্থাৎ সোমবার বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাবে। তাছাড়া অনেকে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি পুরনো জামাকাপড়ও দিচ্ছে। আমাদের সবার উচিত বন্যা কবলিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। যাইহোক এভাবেই আপনাদের বিবেক সংগঠন এগিয়ে যাক,সেই কামনা করছি। পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনাদের এলাকার কার্যক্রম জেনেও বেশ ভালো লাগলো ভাই।
বন্যার্ত মানুষদের সাহায্য করার জন্য আবারো মাঠে নেমে পরেছেন জেনে খুবই ভালো লাগলো ভাইয়া। আসলে বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্মের ছেলেরা অনেক এগিয়ে গেছে। তারা সবার বিপদে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসছে। আপনিও তাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন এটা জেনে ভালো লাগলো ভাইয়া।
চেষ্টা করছি আপু, নিজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে করার জন্য ।