গল্প :- বাস্তবিক জিনে ধরার গল্প। (পর্ব ১)
হ্যালো বন্ধুরা,
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। আমার বাংলা ব্লগে আসার পর থেকে দেখছি সবাই খুব সুন্দর সুন্দর গল্প লিখে। আর সেই গল্পগুলো পড়তেও ভীষণ ভালো লাগে। ইতিমধ্যে আমিও প্রায় কয়েকটা গল্প লেখার চেষ্টা করেছি। আজকে আবারো আপনাদের সাথে একটি গল্প শেয়ার করার জন্য আসলাম। আশা করি গল্পটি আপনাদের ভালো লাগবে।
আজকে আমি যে গল্পটি লিখব তা একেবারে বাস্তবিক। আসলে এই ঘটনাটি ঘটেছিল আমার কাছের একজন মানুষের সাথে। আসলে যার সাথে এই ঘটনাটি ঘটেছিল সে হচ্ছে আমার আপন চাচাতো ভাই। আমার আপন চাচাতো ভাইয়ের সাথে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা আমি আজকে সবার মাঝেই শেয়ার করতে চলেছি। আসলে এরকম অনেক ঘটনা রয়েছে যেগুলো মনে পড়লে অন্যরকম লাগে। এই ঘটনাটি ও তেমনি অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা। কিন্তু এরকম ঘটনাগুলো গ্রামাঞ্চলে একটু বেশিই ঘটে থাকে। বেশিরভাগ জায়গায় এরকম ঘটনার কথা শোনা যায়। এই ঘটনাটা যদিও অনেক বছরের পুরনো। হঠাৎ করে একটা কথা মনে পড়ার কারণে এই ঘটনাটিও আমার মনে পড়ে গিয়েছিল। তাই ভাবলাম আপনাদের মাঝে শেয়ার করি।
প্রায় ৫-৬ বছর আগের এই ঘটনা। আমার চাচাতো ভাইয়ের সাথে ঘটেছিল। আমার চাচাতো ভাই এর এর বয়স তেমন বেশি না এখন ১৮ বছরের মত হবে। আমার চাচাতো ভাইয়ের নাম হচ্ছে রিপন। আমার চাচাতো ভাই এবং আমার আপন ছোট ভাই দুইজন সমবয়সী। তারা দুইজন ২৩ বা ২৪ দিনের ছোট বড় হবে। তারা দুজন এমনিতে সব সময় একসাথে থাকতো যেহেতু দুইজন সমবয়সী ছিল। আমার আরো একটা চাচাতো ভাই আছে রিপনের ছোট ভাই যার নাম রায়হান। রায়হান রিপনের থেকে এক বছরের ছোট। তারা তিনজন একসাথেই বড় হয়েছে ছোটবেলা থেকেই। তাই তিনজন মিলে মিশে থাকতো।
রিপন এর পরিবারে ছিল তার বাবা-মা এবং তার ভাই। রিপন ছিল পরিবারের বড় ছেলে। বড় ছেলে হওয়ার কারণে এমনিতেই সবারই আদরের ছিল। রিপনের আব্বু এমনিতে কোন কাজ করত না। দিনে এনে দিনে খেত। রিপনের আম্মু এমনিতে কয়েক রকমের কাজ জানত সেগুলো করতো। একদিন রিপনের ছোট ভাই রায়হান তাকে এসে বলে ভাইয়া আমাদের এই দিকের একটা মসজিদে ওয়াজ হবে পরশুদিন। রায়হান তাকে বলে সে ওয়াজে যাবে কিনা। তখন রিপন বলে হ্যাঁ আমি যাব আর কে কে যাবে। তখন রায়হান বলে আমি যাব আর আপনি যাবেন সেই সাথে রিয়াদ ভাইয়া ও যাবে। রিয়াদ হচ্ছে আমার ছোট ভাই। তখন রিপন বলে আচ্ছা ঠিক আছে আমি আম্মু আব্বুর কাছ থেকে টাকা নিব খাওয়া-দাওয়া করার জন্য।
তখন রায়হান বলে আচ্ছা ঠিক আছে আমিও আম্মু আব্বুকে বলে দেখব আমাকে টাকা দেয় কিনা। তখন রিপন বলে আচ্ছা ঠিক আছে পরশুদিন বিকেল বেলায় তাহলে আমরা তিনজন একসাথে যাব। এরপর ওখানে আমার ভাই রিয়াদ আসে। তখন রিয়াদ রিপনকে জিজ্ঞেস করে পরশুদিন ওয়াজে যাবে কিনা। তখন রিপন বলে হ্যাঁ যাবো আমি এবং রায়হান এই বিষয়েই কথা বলছিলাম। তখন রিয়াদ বলে তাহলে আমরা একটা সময় ঠিক করব ওই সময় তিনজন ওয়াজে যাবার জন্য বাড়ি থেকে বের হব এবং সবাই যা পারি তা আম্মু আব্বুর কাছ থেকে টাকা নিয়ে যাব কিছু খাওয়ার জন্য। এভাবে তারা তিনজন ওয়াজে যাওয়ার সময় ঠিক করল।
এভাবে ই একটা দিন কেটে গেল ওয়াজে যাওয়ার দিন চলে আসলো। তারা বিকেল পাঁচটায় ওয়াজে যাওয়ার কথা বলেছিল। যেহেতু একি বাড়ির তিনজনে, তাই তিনজনেই তৈরি হয়ে উঠোনে আসলো। তারা তিনজন তিন-চারশো টাকার মতো নিয়েছিল ওয়াজে গিয়ে কিছু খাওয়া দাওয়া করার জন্য। এরপর তারা তিনজনেই খুবই মজা করতে করতে ওয়াজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১০-১৫ মিনিট হাঁটার মধ্যেই তারা সেই মসজিদের কাছে চলে এসেছিল। তারা দেখে মসজিদের চারপাশ খুবই সুন্দরভাবে সাজিয়েছে এবং সামনে একটা গেট লাগিয়েছে খুবই বড় দেখতে। এরপর তারা বাহিরে ওয়াজের স্টেজের ওখানে যায়।
তিনজনে গিয়ে একই সাথে তিনটি চেয়ারের মধ্যে বসে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওয়াজ শুরু হয়। তারা কিছুক্ষণ চেয়ারের মধ্যে বসে ছিল এরপরে তারা তিনজন উঠে কিছু একটা খাওয়া-দাওয়া করার জন্য। এরপর তারা তিনজনে মিলে টাকা দিয়ে কয়েক রকমের জিনিস কিনে খায়। এরপর প্রায় রাত এগারোটা থেকে বারোটা বেজে যায় ওয়াজ শেষ হতে। এরপর তারা তিনজনে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বের হয় ওখান থেকে। যেহেতু এই ঘটনাটি অনেক পুরনো তখন তো তারা অনেক ছোট ছিল তাই তারা ভয়ে আসতে লাগলো আবার আসার পথে কয়েকটা তালগাছও ছিল ওখানে। রিয়াদ এবং রায়হান দৌড়ে চলে আসে পেছনে রিপন থেকে যায়। তখনই ঘটে সেই ঘটনাটি। হঠাৎ করে তাল গাছ থেকে কিছু একটা রিপনকে (চলবে)
আমার পরিচয়
আমার নাম তাসলিমা আক্তার সনিয়া। আমি বাংলাদেশী। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা বলে আমি অনেক গর্বিত। আমি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের একজন ছাত্রী। আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে যে কোন ধরনের পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। যখনই অবসর সময় পায় আমি ছবি আঁকতে বসে পড়ি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করার চেষ্টা করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ করতে পছন্দ করি। রান্না করতেও আমার খুব ভালো লাগে। আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে পছন্দ করি। আমি যখনই সময় পাই আমার পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করে খাওয়াই। আমি সব সময় নতুন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি।
🎀 ধন্যবাদ সবাইকে 🎀 |
|---|

Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ভয়ে ভয়ে আপনার গল্পটি পড়তে শুরু করেছিলাম । যেহেতু রুমে একা ছিলাম একটু ভয় লাগছিল পড়তে । তারপরেও সাহস নিয়ে পড়ছিলাম মনে হচ্ছিল এই জানি কি হবে । কিন্তু শেষমেষ কিছুই হলো না । এমন জায়গায় কেউ শেষ করে ? যাই হোক ভালো ছিল ধন্যবাদ ।
গল্পের পরের রহস্যটা অবশ্যই জানতে পারবেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু, যেকোনো ভৌতিক গল্প পড়তে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগে। তাই আপনার গল্পটি খুবই আগ্রহ সহকারে পড়তে শুরু করেছিলাম। কিন্তু গল্পের মাঝে টুইস্ট আসতেই গল্পটি শেষ হয়ে গেল। হঠাৎ করে তাল গাছ থেকে কি হলো তা আর জানা হলো না। তাই আপনার গল্পে পরবর্তীতে কি হবে জানার জন্য অধীর আগ্রহে রইলাম। ধন্যবাদ
গল্পটা অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়েছেন শুনে ভালো লাগলো। পরবর্তী পর্ব খুব শীঘ্রই দেখতে পাবেন।
আসলে আগের দিনে জিন ভূত এগুলোর কথা অনেক বেশি শোনা যেত। আপনার জিনে ধরার গল্পটি পড়ে আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। এমন একটি জায়গায় গল্পটি আপনি শেষ করেছেন । আসল আকর্ষণটাই রয়ে গেল। পরবর্তীতে কি হলো তা অধীর আগ্রহে জানার অপেক্ষায় রইলাম।
আকর্ষণীয় আছে বলেই একটু দেরি করে জানতে পারবেন।
ছোটবেলায় দাদীর মুখ থেকে জিন ভূতের গল্প অনেক শুনেছি। গ্রামে নাকি এগুলোর আনাগোনা বেশি থাকে। তারা তিনজন ওয়াজ শেষ করে যখন বাড়িতে ফিরছিলো, সেই সময়টা বিপজ্জনক ই বটে। তালগাছে জিন ভূত একটু বেশি ই থাকে। যাইহোক রিপনের সাথে কি ঘটলো সেটা জানার আগ্রহ বেড়ে গিয়েছে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। এতো সুন্দর একটি গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ঠিক বলেছেন ছোটবেলায় আমরা এইসব গল্পগুলো বেশি শুনেছি।
গল্পটা এমন এক জায়গায় শেষ করেছ তুমি যার কারণে আগ্রহটা একটু বেশি বেড়ে গিয়েছে জানার জন্য রিপনের সাথে কি হয়েছিল তা। রিপন পিছনে থেকে গিয়েছিল হঠাৎ করে তাল গাছ থেকে কিছু একটা রিপনকে কি করেছিল ওটা জানতে বড় ইচ্ছে করছে। সেই জন্যই তো আমি অধীর আগ্রহে বসে আছি তোমার পরবর্তী পর্বটির জন্য। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি পরবর্তী পর্ব নিয়ে আমাদের সকলের মাঝে হাজির হবে। অপেক্ষায় থাকলাম রিপনের সাথে কি ঘটেছিল তা জানার জন্য।
রিপনের সাথে কি হয়েছে সেটা অবশ্যই জানতে পারবেন।