হঠাৎ নিভে যাওয়া (তৃতীয় পর্ব)।
পূর্ববর্তী পর্বের লিংক
প্রথমে চেয়ারম্যান সাহেব কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করলেও পরে রাসেলের মাকে বলে ঠিক আছে তুমি থাকো। আমি থানায় গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে আসছি। দেখি কি করা যায়? তখন রাসেলের মা চেয়ারম্যান সাহেবকে বলে। চেয়ারম্যান সাহেব আমিও আপনার সাথে থানায় যাব। তখন চেয়ারম্যান সাহেব বলে ঠিক আছে চলো। তারপর চেয়ারম্যান রাসেলের মাকে নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়। থানায় গিয়ে যে দারোগা রাসেলকে ধরে এনেছে তার সাথে কথা বলে। সে চেয়ারম্যানকে জানায় রাসেল তার মালিকের দোকান থেকে জিনিসপত্র চুরি করে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। এর আগেও সে অনেকবার এরকম কাজ করেছে। এবার তারা রাসেলকে হাতেনাতে ধরেছে।
পরে চেয়ারম্যান সাহেব পুলিশ এর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে রাসেলের সাথে কথা বলে। তখন রাসেল চেয়ারম্যান সাহেবকে জানায় সে এ ব্যাপারে কিছুই জানে না। তার দোকানের মালিক নিজেই ব্যাগটি রাসেলের কাছে দিয়েছে। চেয়ারম্যান অত্যন্ত বুদ্ধিমান মানুষ। সবকিছু শুনে সে ঘটনা বুঝতে পারে। কিন্তু সে এটাও বুঝতে পারে রাসেলের দোকানের মালিক পয়সা ওয়ালা অনেক প্রভাবশালী মানুষ। রাসেলকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করতে হলে তাকে বুঝে শুনে পা ফেলতে হবে। আবার পরক্ষণে অনাহুত এই ঝামেলার জন্য তার রাসেলের উপরে বিরক্ত লাগতে লাগলো।
এদিকে রাসেলের মা সমানে কান্নাকাটি করেই যাচ্ছে। চেয়ারম্যান সাহেব রাসেলের মাকে ধমক লাগালো। বললো কান্নাকাটি বন্ধ করো। আমি দেখছি কি করা যায়। পরে চেয়ারম্যান রাসেলের জন্য কিছু খাবার কিনে দিয়ে রাসেলের মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে গেল। এলাকায় ফিরে গিয়ে রাসেলের মাকে বলল তুমি বাড়ি যাও। আমি দেখি রাসেলকে ছাড়াতে পারি কিনা। চেয়ারম্যান সাহেব একবার চিন্তা করছিল শুধু শুধু এই ছেলেটার জন্য তার এত বড় ঝামেলায় যাওয়া ঠিক হচ্ছে না। আবার পরবর্তীতে রাসেলের আর তার পরিবারের কথা চিন্তা করে তার কিছুটা খারাপ লাগতে লাগলো। পরে সে সিদ্ধান্ত নিল যেভাবেই হোক সে রাসেলকে এই ঝামেলা থেকে মুক্ত করবে।
চেয়ারম্যান পরদিন রাসেলের দেয়া তথ্য মতে রাসেল যে দোকানে কাজ করতে চেয়েছিল সেই দোকান মালিকের সাথে দেখা করে। তারপর সে তাকে সবকিছু খুলে বলে। সেই দোকান মালিক রাসেলের কথা শুনে অবাক হয়ে যায়। সেইসাথে রাসেলের আগের মালিকের উপর সে প্রচন্ড রাগান্বিত হয়। সে চেয়ারম্যান সাহেবকে বলে আপনি কোন চিন্তা করবেন না। আমি খুব তাড়াতাড়ি রাসেলকে ছাড়িয়ে আনছি। একটা ভালো ছেলে অকারণে অন্যায়ের শিকার হবে সেটা আমি কিছুতেই মানতে পারব না।
তখন চেয়ারম্যান সাহেব বলে ভাই এখন কি করা যায়? আমাকে একটু পরামর্শ দেন। তখন সেই লোকটা চেয়ারম্যান সাহেবকে বলে আপনি বসুন আমি এক্ষুনি ব্যবস্থা করছি। পরক্ষণেই তিনি পুলিশে চাকরিরতো তার এক আত্মীয়কে ফোন দেয়। ফোন দিয়ে তাকে সবকিছু খুলে বলে। তখন সে পুলিশ কর্মকর্তা তার কাছ থেকে রাসেলের ব্যাপারে সবকিছু শুনে নিয়ে বলে আপনি চিন্তা করবেন না। ওকে কিছুক্ষণের ভিতরেই ছেড়ে দেবে। আমি এখনই থানায় ফোন করে বলে দিচ্ছি। পরে সেই লোক চেয়ারম্যান সাহেবকে বলে আপনি এখুনি থানায় চলে যান। রাসেলকে এখনই ছেড়ে দেবে। চেয়ারম্যান সাহেব রাসেলের সেই নতুন দোকান মালিক কে অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে সরাসরি থানায় চলে আসে।
সে থানায় এসে দেখে ততক্ষণে রাসেলকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। রাসেল কে সে থানার সামনেই দেখতে পায়। তারপর সে রাসেলকে নিয়ে রাসেলের বাড়ি পৌঁছে দেয়। রাসেল পরদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে সেই নতুন মালিকের সাথে দেখা করতে যায়। গিয়ে তার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে তাকে অনেক ধন্যবাদ জানায় তাকে সাহায্য করার জন্য। রাসেলকে সেই লোক বলে তুমি আজকে থেকেই আমার এখানে কাজ শুরু কর। আর এরপর যদি তোমাকে কেউ ডিস্টার্ব করার চেষ্টা করে সেটা আমি দেখবো।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
চেয়ারম্যান সাহেবের রাসেলের জন্য মায়া হওয়ার ব্যাপারটা ভীষণ ভালো লাগলো। আসলে আমাদের এদিকে চেয়ারম্যান তো সাধারণ মানুষের কথা ভাবেই না। তবে চেয়ারম্যান সাহেব রাসেলের নতুন মালিকের কাছে গিয়ে, তার পরিচিত পুলিশের মাধ্যমে রাসেলকে অবশেষে ছাড়ালেও, এই বিষয়টা খুবই ভালো লেগেছে। যদিও এই গল্পটার প্রথম পর্বগুলো হয়তোবা আমি মিস করে গিয়েছি। কিন্তু আজকের পর্বটা পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো।
রাসেল ছাড়া পেয়েছে এটা পড়ে বেশ ভালো লাগলো ভাইয়া। চেয়ারম্যান এবং রাসেলের নতুন মালিক খুব ভালো মানুষ বিধায় রাসেল তাড়াতাড়ি ছাড়া পেয়েছে। যাইহোক পৃথিবীতে রাসেলের আগের দোকানের মালিকের মতো খারাপ মানুষও আছে, আবার চেয়ারম্যান এবং নতুন মালিকের মতো ভালো মানুষও আছে। গল্পটি পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাইয়া। এত সুন্দর একটি গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।