গল্প। তোমার অপেক্ষায়।। তৃতীয় পর্ব।।

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago
আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে আমার গল্প তোমার অপেক্ষায় এর তৃতীয় পর্ব শেয়ার করব।


background-ge49d0f33d_1920.jpg

সোর্স pixabay


তৃতীয় পর্ব

আরো কিছুক্ষন কথা বলে সাজিদ বলল আগামীকাল একটি রেস্টুরেন্ট এ বাই ওয়ান গেট ওয়ান অফার আছে। নাদিয়া বলল আমার একটি ওটি আছে, সময়টা বলা যাবে? সাজিদ বলল সন্ধ্যার প্রোগ্রাম। নাদিয়া বলল তাহলে এটেন্ড করা যেতে পারে। সাজিদ বলল তাহলে আগামীকাল ঠিক সন্ধ্যা সাতটায় থাকব রাইফেলস স্কয়ার এ। নাদিয়া বলল ঠিক আছে। সেদিনের মত দুজনের কথা শেষ হল।সাজিদ নাদিয়া কে বলল আপনি কোথায় যাবেন নামিয়ে দেই। নাদিয়া বলল খিলক্ষেতের দিকে যাব। সাজিদ দুর থেকে জাহিদকে সরে যাওয়ার ইশারা দিলে জাহিদ গাড়ির উপর চাবি রেখে আড়ালে চলে গেল। সাজিদ গাড়ির চাবি নিয়ে গাড়ি স্টার্ট করল। নাদিয়া সাজিদের পাশেই বসল। সাজিদ নাদিয়াকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়েছে।

পরদিন ওটির কাজ সেরে দ্রুত নাদিয়া রওনা দিল রাইফেলস স্কয়ার এর দিকে। নাদিয়ার সুপিরিয়র তাকে বলল ওটির কাজগুলো নিয়ে দ্রুত একটি রেকর্ড করে তারপর যাও। ততক্ষণে ৫:৪০ মিনিট বেজে গিয়েছে। নাদিয়া বসের কাজ সেরে বের হতে ৬ টা বেজে গেল। যেহেতু স্কয়ার হাসপাতাল থেকে সহজেই চলে আসা যায় নাদিয়া রিকশা নিয়ে চলে এল রাইফেলস স্কয়ার এর গেট এ। নাদিয়া ভেবেছিল সাজিদ চলে এসেছে কিন্তু সাজিদ কে দেখা যাচ্ছে না। নাদিয়া কিছুক্ষণ এদিক ওদিক দেখে সাজিদকে পায়নি কিন্তু মনে মনে খুশি হয়েছে যে সে সাজিদের আগেই চলে এসেছে।

তখন প্রায় ৭ টা বাজে সাজিদ আসছে না। নাদিয়া এর মধ্যে কয়েকবার ফোন দিয়েছে কিন্তু সাজিদের ফোন বন্ধ। রাত ৮ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে নাদিয়া রাগে ক্ষোভ এ বাসায় চলে গেল। পরদিন নাদিয়া আবার হসপিটাল এ গিয়ে তার যথারিতি কাজ করা শুরু করেছে। এভাবে ৬ দিন চলে গেল কিন্তু সাজিদের দেখা নেই।

নাদিয়া একদিন তার চেম্বারে বসে আর্টিক্যাল এর কাজ করছিল। ঠিক এমন সময় একজন এসে বলল আমি খুবই দুঃখিত। নাদিয়া তাকিয়ে দেখে সাজিদ এসে তার রুমের দরজায় দাড়িয়ে আছে। নাদিয়া সি এক প্রকার অভিমান করেই সাজিদের দিকে না তাকিয়ে নিজের কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়ল। সাজিদ বলল সেদিন আমি রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিব তখনই আমার সুপিরিয়র একটি সিক্রেট মিশন আমাকে দিয়ে বলল এটা দ্রুত করে দাও। তখন আমার ফোনও বন্ধ ছিল। তাই তোমাকে জানাতে পারিনি। সাজিদ আবার আরেকটি ডেট দিয়ে বলল তাহলে এই দিনে মিলিত হই। নাদিয়া কিছু বলছে না দেখে সাজিদ বলল প্লিজ চলুন। নাদিয়া শেষ পর্যন্ত রাজি হল।

নাদিয়া আবার সেই ঠিক করা তারিখে রওনা দিয়েছে। এবার নাদিয়া ঠিক করল খুব সেজে যাবে এবং তাই করেছে। নাদিয়া যথারীতি গন্তব্যে চলে গেল। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে আজও এসে সাজিদের দেখা পেল না। আবার ভাবল হয়ত কোন জ্যাম বা ঝামেলায় পড়ে দেরি হচ্ছে। কিন্তু না এবারও সাজিদ আসেনি। নাদিয়া আর অপেক্ষা না করে চলে গেল বাসায়।

কিছুদিন পর নাদিয়া ডিউটি থেকে বের হচ্ছে তখনই দেখল সাজিদ গাড়ি নিয়ে দাড়িয়ে আছে। নাদিয়া না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছিল কিন্তু সাজিদ আশেপাশে দেখে কানে ধরে বলল প্লিজ আরেকটি বার ক্ষমা করেন। নাদিয়া হেঁটেই যাচ্ছে। সাজিদ বলল আসলে এই সিক্রেট মিশন যেকোন সময় আসতে পারে। আর এই মিশনে যাওয়ার আগে পরে কাউকে কিছু বলা যাবে না। নাদিয়া বলল তাহলে আপনার মিশন আসলে আপনি উধাও হয়ে যাবেন, কাউকে বলার প্রয়োজন মনে করব?
চলবে...

আশা করি আমার গল্প পড়ে ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ সবাইকে।

Sort:  

Thank you, friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.105
BTC 65120.31
ETH 1941.58
USDT 1.00
SBD 0.37