১ম পর্বঃ অধরা তুমি

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

16-02-23

০৪ ফাল্গুন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ


আসসালামুআলাইকুম সবাইকে


কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই অনেক ভালো আছেন! যাক, ভালো থাকাটাই হচ্ছে সব থেকে বড় বিষয়! আপনারা জানেন যে আমি গল্প লিখে থাকি! অনেক ভেবে চিন্তে গল্প লিখতে হয়, গল্পের প্লট বানাতে হয়! তারই ধারাবাহিকতায় আপনাদের সাথে নতুম আরেকটি গল্প নিয়ে হাজির হলাম। আশা করছি শেষ পর্যন্ত পাশে থাকবেন।

heart-3085515__480.jpg

copyright free image from pixabay

ছোট বেলা থেকেই বাবার স্বপ্ন! ছেলে ঢাকার নামকরা ঢাকা ভার্সিটিতে পড়াশোনা করুক! সেই সুবাধে ছেলের চাওয়া-পাওয়া সবই পূরণ করেছে। আসিফ, নজরুল সাহেবের একমাত্র ছেলে। খুব আদুরে সন্তান। বড় দুই বোন আছে! দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। নজরুল সাহেবের মাথার বোঝা যেন মেয়ে দুটিকে বিয়ে দিয়েই শেষ হলো। কিন্তু নজরুল সাহেবের মাথায় আবার বোঝা এসে চেপে ধরলো! আসিফের রেজাল্ট শোনার পর থেকে তার বাবার মন ভীষণ খারাপ! আসিফকে নিয়ে এতো স্বপ্ন কি তাহলে ধুলিসাৎ হতে লাগলো! এইচ এস সি তে আসিফ কমার্স নিয়ে পড়াশোনা করেছে। সায়েন্স তার মাথার উপর দিয়ে যায়! ক্লাস নাইন-টেন দুটি বছর আসিফের উপর দিয়ে অনেক প্রেসার গিয়েছে বলতে গেলে। যে রকম এক্সপেটেশন করেছিল তেমনটা হয়নি। বাবার ইচ্ছেটাও সেদিন মরে গিয়েছিল। একমাত্র ছেলের রেজাল্ট খুব খারাপ এসেছে। পাশের বাসার রেজাউল সাহেবের ছেলে আবার গোল্ডেন এ+ পেয়েছে। ছেলের রেজাল্টের খবর শুনে সবাই খুশি।

বাসায় নজরুল সাহেবের ছেলের মিষ্টি এসেছে! ছেলে এস এস সি তে এ+ পেয়েছে। বাঙালিদের একটা সংস্কৃতি আছে। কোনো ভালো কাজে মিষ্টি না খাওয়ালে হয়ই না! শুভ কাজগুলো মিষ্টির মাধ্যমেই যেন শুরু হয়! রেজাউল সাহেব আসিফের বাবার কাছে এসে বলেই বসলো!
-রেজাল্ট কি এসেছে আসিফের?
-কোনো উত্তর নেই নজরুল সাহেবের! কিছুক্ষণ পর!
এসেছে মোটামোটি !
রেজাউল সাহেব ঠিকই আসিফের বাবার মনের অবস্থা বুঝতে পারে। কিছু না বলেই সেখান থেকে চলে যায় রেজাউল সাহেব! আসিফ ঘরে শুয়ে আছে। সবাই যেন সাইলেন্ট! সায়েন্স থেকে জিপিএ ৩.৯০ পেয়েছে । আসিফ আবার এই রেজাল্টেই খুশি। এর পিছনেও যে কারণ আছে!

নবম শ্রেণীতে পরিচয় হয়েছিল ঝর্ণা নামের এক মেয়ের সাথে! সেইম ব্যাচ! সেইম সাবজেক্ট! তবে ঝর্ণা গার্লস পাইলটে পড়াশোনা করে! সেদিন আকাশ ঘনকালো মেঘে ঢেকে ছিল। মুকশোদ স্যারের প্রাইভেট বিকালে! মুকশোদ স্যার গণিত সাবজেক্ট পড়াতো। নতুন ব্যাচে আসিফ জয়েন দিয়েছে। স্যার যেখানে প্রাইভেট পড়ায় সেখানে আবার খোলামেলা পরিবেশ, রাস্তার পাশেই। টিনসেট রুম! বিকাল চারটা থেকে ক্লাস! স্কুল থেকে সোজা চলে আসতে হয় প্রাইভেটে। সেদিন আসিফ এসে দেখতে পায় একটি মেয়েকে। পড়নে নীল জামা, সাদাসিধে একটা মেয়ে! প্রাইভেটে তখনও কেউ আসেনি। আসিফ সেদিন ঝর্ণাকে প্রথম দেখেই ভালো লেগে যায়! তারপর থেকে আসিফ প্রতিদিন আগে-ভাগে প্রাইভেটে চলে আসতো। যখন কেউ থাকতো না, তখন শুধু ঝর্ণা আর আসিফই সেখানে থাকতো।

দুজনের মাঝে কোনো কথা নেই। কিন্তু মেয়েরা যে একটু বেশি এক্সপার্ট মন বোঝার বেলায়! ঝর্ণা ঠিকই বুঝতে পারে কেন আসিফ তাড়াতাড়ি এসে দাড়িঁয়ে থাকে। আসিফের সাহস নেই কথা বলার। আসিফের মাথায় চিন্তা এসেছিল, সৌরভকে দিয়ে ঝর্ণাকে ভালোলাগার কথাটা বলবে। সৌরভ, আসিফের কাছের একজন বন্ধু! সেই প্রাইমারী লেভেল থেকে পড়াশোনা করে আসছে। যেখানে দরকার পরেছে আসিফ সৌরভকে পেয়েছে। সৌরভ ছাড়া এ কাজ কোনোভাবেই করা সম্ভব না! কিছুক্ষণ পর স্যার চলে আসে! ঝর্ণা সব প্রাইভেটের সব মেয়েদের থেকে লম্বা! পিছনের সারির বেঞ্চে বসে। আসিফও পিছনের সারিতেই বসে। সাথে সৌরভ! সৌরভকে বলেই দিয়েছে ঝর্ণাকে তার ভালো লাগে। ক্লাস নাইন-টেন অনুভূতির বয়স বললেও ভুল হবে না! নিজের ভেতর নতুন নতুন অনুভূতির স্বাদ নিতে ভালো লাগে।

আসিফের বেলায়ও তাই হয়েছিল। হাই স্কুলের শেষে এসে এমন কাউকে দেখলো যাকে দেখেই ভালো লেগে গেল। কিন্তু ঝর্ণাকে ভালো লাগার কথা বলার মাধ্যম হলো সৌরভ!
-বন্ধু! আমার একটা হেল্প করে দেয়া লাগবে?
-কি, বল??
-ঐ যে পিছনের সারিতে লম্বা করে মেয়েটাকে দেখছিস! আমার তাকে ভালো লাগে। প্রথম দিন দেখেই ভালো লেগে যায়!!
-তোর কাজটা করে দিবো! কিন্তু কি খাওয়াবি আমাকে??
-তুই যা খেতে চাইবি সেটাই!
-ওকে, ডান তাহলে। প্রাইভেট শেষে তোর কাজটা করে দিচ্ছি! তবে মেয়ের নামটাই জানা হলো না!
-ঝর্ণা! আমারদের গার্লস হাই স্কুলে পড়ে! আমাদের গ্রুপেই।
-ঠিক আছে! তবে মেয়ে যদি রিজেক্ট করে তাহলে কিছু করার নেই।
-ঠিক আছে। একবার বলে তো দেখ!

আসিফ ভীষণ খুশি! মনের অনুভূতিগুলো সৌরভের মাধ্যমে বলবে। মুকশোদ স্যারের প্রাইভেট শেষে সবাই বেরিয়ে পরে। তার আগেই চৌরাস্তার মোড় গিয়ে আসিফ আর সৌরভ দাড়িঁয়ে থাকে। ঝর্ণাকে আজ মনের কথা বলে দিবে। আসিফ অনেক এক্সাইটেড। দূর থেকেই দেখতে পায় ঝর্ণা ধীরে ধীরে হেটেঁ আসছে। আশে পাশে কেউ নেই! ঝর্ণাকে অনেক সুন্দর লাগছে দূর থেকে! তার বেণী করা চুল আসিফের মনে শিহরণ তৈরি করে! ঝর্ণা যত কাছে আসছে, আসিফের বুক তত ধুক ধুক করছে! এই বুঝি তাকে নিয়ে চলে গেল। ঝর্ণা, আসিফ আর সৌরভদের পাশ দিয়ে চলে যায়! সৌরভ পিছন থেকে ঝর্নার কাছে যায়। আসিফ দাড়িঁয়ে আছে পিছনে!
-ঝর্ণা, তোমার সাথে কিছু কথা বলতে চাই!
-হুমম! বলো।
-আসলে তোমাকে প্রথমদিনের পর থেকে আমার বন্ধু আসিফ ভালোবেসে ফেলেছে। তুমি কি তার ভালোবাসাটা গ্রহণ করবে!!

ঝর্ণা কিছু বলছে না। আসিফের দিকে তাকায়! আসিফের দিকে তাকিয়ে সুহাসিনীর মতো একটা স্নিগ্ধ হাসি দেয়! গালে টোল পরে ঝর্ণার! আসিফ টোল পরা হাসি দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। মুচকি হাসি দিয়েই ঝর্ণা চলে যেতে থাকে!

চলবে....


10% beneficary for @shyfox ❤️

C3TZR1g81UNaPs7vzNXHueW5ZM76DSHWEY7onmfLxcK2iNzq2MSXKSji21JRspt4nqpkXPR5ea7deLzvmJtuzVBwdLJUpBqtgAZ5gHtHPbayD2jR3CWqjkJ.png

ধন্যবাদ সবাইকে



WhatsApp Image 2021-12-23 at 19.46.54.jpeg


VOTE @bangla.witness as witness

witness_proxy_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

আমি কে?

IMG20210908180509.jpg

আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।

Sort:  

Thank you, friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

আপনার গল্পটা পড়ে আমার অনেক ভালো লাগল। আসলে প্রতিটি বাবা মার স্বপ্ন থাকে তার সন্তান জীবনে বড় কিছু হোক।কিন্তু সব স্বপ্ন তো আর পূর্ণ হয় না।যাইহোক আসিফের ঝর্ণাকে প্রথম দিন থেকেই ভালো লেগেছে।আমার মনে হয় প্রথম ভালো লাগাটাই ভালোবাসা পূর্ণতা পায়।যাইহোক আসিফের বন্ধু যেহেতু ঝর্ণাকে বলেছে, দেখা যাক ঝর্ণা কি উত্তর দেয়।পরিবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।

 3 years ago 

এটা অবশ্য ঠিক বলেছেন আপু! প্রথম ভালোবাসাটা অনেক সময় পূর্ণতা পায় 🌼🦋

 3 years ago 

আরে ভাই মেয়েদের মুচকি হাসি দেওয়া মানেই ছেলেদের ফাঁসিয়ে দেওয়া। অনেক সুন্দর লিখেছেন, আসিফ এর সাথে ঝর্নার কাহিনী টা জমে গিয়েছে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম ভাইয়া।

 3 years ago 

হাহাহা!! আপনি তো দেখছি বুঝে গেছেন পুরোটা 😁😁। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া 😍

 3 years ago 

গল্পটা কিন্তু পড়ে আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। আসিফ কে নিয়ে তার বাবার অনেক স্বপ্ন ছিল কিন্তু তার এমন রেজাল্ট এর কথা শুনে তার বাবার মন খারাপ হওয়ারই কথা। আসিফ নবম শ্রেণীতে থাকতে ঝর্ণা কে পছন্দ করত। আপনি যেভাবে শেষের দিকে বললেন আসিফের কতগুলো শুনে জন্য মুচকি হাসি দিয়ে চলে গিয়েছিল তার মানে ঝর্না ও আসিফ কে পছন্দ করত ‌। যাইহোক পরের পর্বে কি আসবে তা দেখারই অপেক্ষায় আছি। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি শেয়ার করবেন।

 3 years ago 

জি ভাইয়া! দেখা যাক পরবর্তী পর্বে কি হয়! আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া 🌼🦋

 3 years ago 

সব বাবা-মা তাদের সন্তানদেরকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে। কিন্তু যারা তার বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনা তাদের জন্য তাদের বাবা-মার অনেক কষ্ট হয়। যেমন আসিফকে নিয়ে তাদের বাবা-মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল কিন্তু পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ আসার কারণে তার বাবা অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছিল। ঝর্ণার সাথে কি আসিফের প্রেম হয়ে গিয়েছিল। মাথায় অনেক রকমের প্রশ্ন যাচ্ছে এখন। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি পরের পর্ব শেয়ার করবেন অপেক্ষায় থাকলাম তাহলে।

 3 years ago 

জি আপু! আপনি একদম ঠিক ধরেছেন। যখন বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে ব্যর্থ হয় তখন সেটা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। অনেক ধন্যবাদ আপু 🌻🌼🦋

 3 years ago 

প্রত্যেক বাবা মা এর তার সন্তানদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন,কিন্তু এই গল্পে আসিফ এর রেজাল্ট খারাপ হওয়ার সব আশা শেষ হয়ে গেল আসিফের বাবার।ঝর্নাকে আসিফ তার মনের কথা বললো সৌরভের মাধ্যমে।আর ঝর্ণা যেহেতু মুচকি হেসেছে আশা করছি ঝর্ণাও আসিফের প্রেমে পড়েছেন।এখন দেখা যাক পরবর্তী পর্বে কি হয়,অপেক্ষায় রইলাম।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর গল্পটি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

জি আপনি আসিফকে হয়তো ঝর্ণার ভালো লেগে গিয়েছে! সামনের পর্বে কিছুটা হলেও জানতে পারবেন 🌼

 3 years ago 

আসিফ পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করার কারণে তার বাবার স্বপ্ন তছনছ হয়ে গিয়েছে ভেঙে। আসিফের বাবার স্বপ্ন ছিল তার ছেলেকে অনেক বড় করার আসলে ছেলে মেয়েদের নিয়ে বাবা-মায়ের অনেক স্বপ্ন থাকে। সৌরভের মাধ্যমে আসিফ তার মনের কথা ঝর্নাকে জানিয়েছিল ঝরনা তাকে দেখে মুচকি হাসি দিয়ে চলে যায় আমার তো মনে হচ্ছে ঝর্ণা ও তাকে পছন্দ করত। ভালই লাগলো আজকের এই গল্পটির প্রথম পর্ব পড়ে।

 3 years ago 

জি আপু! বাবা মায়েদের অনেক স্বপ্ন থাকে ছেলে মেয়েদের। যদি সেটা করতে না পারে তাহলে বাবা মা খুবই কষ্ট পায়। অনেক ধন্যবাদ আপু

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.101
BTC 64919.19
ETH 1900.45
USDT 1.00
SBD 0.39