ছোট গল্প:- নীল আকাশের নীলিমা / প্রথম পর্ব।
বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম
আসসালামু আলাইকুম
শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন ? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভালো আছেন । আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি ।
প্রিয় , আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম।আজ আমি আপনাদের, ছোট গল্প নীল আকাশের নীলিমা সম্পর্কে বলতে চাই। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।
আসুন শুরু করি
সমুদ্রের উপকূলে নীলিমার পরিবার বসবাস করে। নীলিমার বয়স মাত্র এক বছর চার মাস। তার পরিবারের আব্বু আম্মু কাকা এবং তার এক বোন এক ভাই রয়েছে। নীলিমা পরিবারের সবার ছোট।নীলিমার পরিবার যে উপকূলে বসবাস করে সে উপকূলে মানুষজন একেবারে কম । তাদের পরিবারের সকল আত্মীয়-স্বজন সমুদ্রের অন্য উপকূলে বসবাস করে। নীলিমাদের এই উপকূল থেকে তাদের আত্মীয় স্বজনদের উপকূলে যেতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ ঘন্টার উপরে। তার আব্বু এবং তার কাকা সমুদ্রে মাছ ধরে। বলা যায় যে সমুদ্রে মাছ ধরে তারা জীবিকা নির্বাহ করে।
নীলিমার এক ভাই তার নানা বাড়িতে থাকে। মাঝে মধ্যে তাদের কাছে আসে। নীলিমারা যেই উপকূলে বসবাস করে। এই উপকূলে প্রায় সময় ঝড় তুফান জলচ্ছাস লেগেই থাকে। মাঝে মধ্যে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের পানি ঘর বাড়িতে এসে পড়ে। জন্মের পর থেকে তার মায়ের কোলে বসে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের দৃশ্য দেখে তার দিন পার হয়। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয় যখন তার দিকে তেড়ে আসে তখন সেই নির্ভীক চোখের তাকিয়ে থাকে। সমুদ্রের ঢেউয়ের ভয়ংকর শব্দ তার কানে এসে লাগে। সমুদ্রের পানি দিয়ে নীলিমার পরিবারের যাবতীয় দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পন্ন হয়ে থাকে। নীলিমা পরিবারের সদস্যের সাথে সমুদ্রের কিনারায় এসে সমুদ্রে পানি নিয়ে খেলা করে।
নীলিমাদের পরিবার সদস্যদের তেমন কোন কাজ নেই। শুধু মাছ ধরা আর রান্নাবান্না করে খাওয়া ছাড়া। তারা কোন প্রকার কৃষির কাজ করতে পারে না। তাদের এই উপকূল শিলা পাথর দিয়ে তৈরি তেমন কোন গাছ জন্মায় না। তার কাকা মাঝে মধ্যে অনেক দূরের বন থেকে ফলমূল সংগ্রহ করে নিয়ে আসতো। ছোট্ট একটি ঘরের মাঝে এভাবে সমুদ্রের উপকূলে নীলিমাদের জীবন অতিবাহিত হয়। ধীরে ধীরে নীলিমা বড় হচ্ছে। নীলিমাকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের স্বপ্নের কোন শেষ নেই । পরিবারের সকল সদস্য প্রতিনিয়ত তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। পরিবারের সদস্যদের তার জন্য মায়া মমতা আদর যত্নের কোন কমতি নেই।
তার বড় বোন তাকে সমুদ্রের উপকূলে নিয়ে যায়। নীলিমা হাসি খুশিভাবে প্রতিটি মুহূর্ত সকালের সাথে পার করছে। আজ অনেক দিন হয়ে গেল নীলিমা মা তার বাবার বাড়িতে যায় নি। কারণ আজ কয়েক মাস সমুদ্র খুবই উত্তাল। এজন্য সমুদ্রের ঐ উপকূলে যাওয়া হচ্ছে না। ঐ উপকূলে যাওয়ার জন্য নীলিমাদের যে নৌকাটি রয়েছে তা এই উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে যে কোনো মুহূর্তে ডুবে যেতে পারে।
এই কারণে নীলিমার মায়ের মন খুবই খারাপ। নীলিমার মা অপেক্ষা করতেছে যখনই সমুদ্র শান্ত হবে তখন নীলিমাকে নিয়ে তার বাপের বাড়িতে যাবে। নীলিমার আস্তে আস্তে কথা বলা শিখে গেছে। সে তার মায়ের সাথে মিষ্টি মিষ্টি বেশ চমৎকার কথা বলতে পারে। নীলিমার বয়স এখন দুই বছর পার হয়ে গেছে। এই দুই বছরের মধ্যে মাত্র একবার গিয়েছে বাড়িতে---- -- চলবে।
পোস্টটির কোথায় ভুল ত্রুটি হলে সুন্দর ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।
এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে আমি এই ধরনের কবিতা আরো উপস্থাপন করব , ইনশাআল্লাহ।
- অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে।সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন ।এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।
সবাইকে শুভ রাত্রি
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো ।
আমার পরিচিতি
আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে - আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলা এর প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানীত এডমিন মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে।বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy




https://twitter.com/MdAgim17/status/1687852490686115840?t=F1wrbNwznLYHIdOewKqLUg&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সমুদ্র কখন শান্ত হবে আর কখন নীলিমা তার বাবার বাসায় যেতে পারবে! এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষায় রইলাম, ধন্যবাদ আপনাকে।।
গল্পটি পড়ে চমৎকার অনুভূতি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। খুব শীঘ্রই গল্পের পরবর্তী পর্ব উপস্থাপন করবো আপনাদের মাঝে।
আসলে ভাই মাছ ধরে রান্না করে খাওয়া কাজটি মনে হয় আমার কাছে অনেক বড় একটি কাজ, কিন্তু আপনি বলছেন কোন কাজ নেই। আসলে নীলিমার মায়ের মন খারাপ কারণ সমুদ্রের শান্ত হয় না নীলিমাকে নিয়ে তার বাপের বাড়ি যেতে পারে না নীলিমার মা। নীলিমার মা কখন তার বাপের বাড়ি তে যাবে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষায় রইলাম ভাই।
নিশ্চয় পরিবারের জন্য রান্নাবান্না করা বড় কাজ। আমি গল্পের মাঝে রান্নাবান্না ছাড়া আর তারা কোন কাজ করে না এই বিষয় বুঝিয়েছি ভাই। এখানে কোন কাজ ছোট কোন কাজ বড় এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বলি নি। সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
নীল আকাশের নীলিমা গল্পটির প্রথম পর্ব বেশ ভালোই উপভোগ করে পড়েছি। আমার কাছে গল্পটির প্রথম পর্ব পড়তে খুব ভালো লেগেছে। আসলে এরকম অবস্থায় সমুদ্র সমুদ্রের ওই পাড়ে যাওয়াটাও অনেক বেশি রিক্স। আজ না যাওয়ার কারণে নীলিমার মায়েরও অনেক বেশি কষ্ট হচ্ছে যা বুঝতে পারছি। যাইহোক এই গল্পটির পরবর্তী পর্ব দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। আশা করছি পরবর্তী পর্ব আপনি খুব তাড়াতাড়ি আমাদের মাঝে শেয়ার করবেন।
এত সুন্দর মন্তব্য করে উৎসাহ প্রদান করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
নীলিমার গল্পটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। আসলে যারা সাগর বা নদীর পাশে বসবাস করে তারা সবসময় চিন্তায় থাকে। নদী যখন গরম থাকে আবহাওয়া অনেক সময় তাদের জন্য ভয়ংকর হয়ে দাঁড়ায়। তবে নীলিমা এখনো অনেক ছোট। মায়ের কোলে বসে সেই সাগরের উত্তাপ ঢেউ দেখতে পাইতেছে। তবে কখন নদীর উত্তাল ঠান্ডা হবে তখন নীলিমা মা তাদের বাড়িতে যাবে। যাইহোক এখনো পর্যন্ত কোনো সমস্যা দেখতে পাচ্ছি না। অপেক্ষায় রইলাম পরের পর্বের জন্য।
আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে এত দুর্দান্ত অনুভূতি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
সমুদ্র উপকূলের জীবনযাত্রা নিয়ে অনেকসুন্দর একটি গল্পের আভাস পাচ্ছি।ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট অনেক ভাল হয়েছে। নিলিমাদের পরিবারটি যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে।পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম ভাইয়া।
এত সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ভাই।