বিটকপি এবং গাজরের ভাজি রেসিপি
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
আজকে আপনাদের সাথে আমি একটা রেসিপি শেয়ার করে নেবো। আজকে আমি একটা ভাজি রেসিপি তৈরি করেছি। আজকে গাজর আর বিটকপি এই দুই সবজির সমন্বয়ে একটা ভাজি করেছি। এই দুই সবজি এখন শীতকালে খুবই উপকারী একটা সবজি। বিটকপি ভাজাটা আমার কাছে সব থেকে বেশি ভালো লাগে আর আমি বরাবরই বিটকপি ভাজা ছাড়া অন্য কোনোভাবে তৈরি করে তেমন খাইনা বললেও চলে। বিট এমনি সারাবছরই কেনা হয় আর আমি মাঝেমধ্যে কিনিও কিন্তু শীতকালে এই বিটের যে স্বাদ অনুভব করা যায় অন্যান্য মরশুমে কিন্তু সেই স্বাদটা পাওয়া যায়না, আমি বিশেষ করে তেমন স্বাদ অনুভব করতে পারিনা। তাই শীতকালে আমি বাজারে গেলে অন্যান্য সবজির সাথে বিটকপি মাস্ট আনি। বিটকপি যেমন আমরা ভাজা করে খেয়ে থাকি তেমনি আবার এই বিটের জুস তৈরি করে খাওয়া হয়ে থাকে। আর এই বিট জুস খাওয়াটা বেশি উপকারী সিদ্ধ হয়ে থাকে। তবে এই জুস যদি বাড়িতে তৈরি করা জুস্ হয় তাহলে, নাহলে বাইরে মার্কেটে অনেক বিট জুস্ পাওয়া যায় কিন্তু সেগুলো খাওয়া আর না খাওয়া সমান কথা, কারণ সেগুলো ক্যামিক্যাল দিয়ে ভরে রাখে।
তাছাড়া বিভিন্ন স্বাদের তৈরি করতে গিয়ে নানারকম দ্রব্যাদি মেশায়। অরিজিনাল খেতে গেলে বাড়িতে তৈরি করে খেয়ে দেখতে হবে। আসলে বিট জুস্ কেমন লাগে খেয়ে দেখিনি কখনো আগে, তাই এর অরিজিনাল স্বাদ কেমন হতে পারে জানা নেই আমার কিন্তু অনেক উপকার আছে সেটা জানি। আর গাজরও আরেকটা দারুন সবজি। এই গাজর আমরা প্রায় খেয়ে থাকি আর বিভিন্ন উপায়ে খেয়ে থাকি। গাজর এমন একটা সবজি যে এটা সদ্য কাঁচাও খাওয়া যায়। আমাদের গ্রামের বাড়িতে যখন গাজর লাগাতো আমি তুলে সদ্য খেয়ে ফেলতাম। গাজর আমার কাছে কাঁচা অনেক ভালো লাগে, তাছাড়া সবাই এখন সালাদ হিসেবে গাজরটাকে সাথে রাখে। গাজর রান্না করে খাওয়ার থেকে কাঁচা অবস্থায় বেশি উপকারী আমাদের শরীরের জন্য। আর একটা বেশি ভালো লাগে সেটা হলো গাজরের হালুয়া। বাড়িতে যদিও তেমন একটা বানানো হয় না, তবে মা যখন বানায় তখন আমার একারই খাওয়া হয়ে যায়। গাজরের হালুয়া শুধু আমার যে প্রিয় তাই নয়, প্রায় প্রতি প্রত্যেকের অনেক প্রিয়। যাইহোক এখন বিট আর গাজরের ভাজির মূল পর্বের দিকে চলে যাবো।
☀প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ:☀
❣এখন ভাজি রেসিপিটা যেভাবে প্রস্তুত করলাম---
❂প্রস্তুত প্রণালী:❂
❖বিটকপি তিনটির প্রথমে খোসা ছালিয়ে নেওয়ার পরে চাকা করে নিয়েছিলাম এবং পরে কেটে কুচি মতো করে নিয়ে জল দিয়ে ধুয়ে নিয়েছিলাম। এরপর গাজর তিনটির খোসা ছালিয়ে নিয়েছিলাম এবং একইভাবে কেটে কুচি মতো করে নেওয়ার পরে জল দিয়ে ধুয়ে নিয়েছিলাম।
❖পেঁয়াজ তিনটির খোসা ছালিয়ে নেওয়ার পরে কেটে নিয়েছিলাম এবং পরে জল দিয়ে ধুয়ে নিয়েছিলাম। এরপর কাঁচা লঙ্কাগুলো কেটে নেওয়ার পরে ধুয়ে নিয়েছিলাম।
❖কড়াইতে অল্প করে তেল দেওয়ার পরে কেটে রাখা পেঁয়াজ দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর কিছুক্ষন ধরে ভাজা মতো করে নিয়েছিলাম।
❖পেঁয়াজ ভাজা হয়ে গেলে তাতে একেবারে ধুয়ে রাখা বিটকপি সব দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে গাজর দিয়ে দিয়েছিলাম।
❖গাজর দেওয়ার পরে তাতে কাঁচা লঙ্কাগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম এবং পরে তাতে স্বাদ মতো লবন আর হলুদ গুঁড়ো দিয়ে দিয়েছিলাম।
❖লবন এবং হলুদ দেওয়ার পরে সব একসাথে উল্টেপাল্টে মিক্স করে নিয়েছিলাম। এরপর কড়াইটি ঢেকে দিয়েছিলাম বিট এবং গাজর ভালোভাবে সিদ্ধ হয়ে আসার জন্য।
❖বিট এবং গাজর ভালোভাবে সিদ্ধ হয়ে আসলে আমি ঢাকনাটা তুলে নিয়েছিলাম। এরপর সবজিগুলো ভাজা হয়ে আসার জন্য মাঝে মাঝে কিছুক্ষন ধরে নেড়েচেড়ে দিতে লাগলাম।
❖কিছুক্ষন ধরে নেড়েচেড়ে দিতে দিতে আমার ভাজাটা ভালোভাবে হয়ে এসেছিলো এবং আমি চুলাটি অফ করে সবজি ভাজাটা একটি পাত্রে তুলে নিয়েছিলাম পরিবেশনের জন্য।
রেসিপি বাই, @winkles
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


বিটকপি এবং গাজরের ভাজি রেসিপি খুবই মজাদার রেসিপি তৈরি করেছেন দাদা। আপনার রেসিপির পরিবেশন অনেক ভালো লাগলো। আসলেই এই রেসিপি আমারও খুব প্রিয়।শীতের মধ্যে এই রেসিপি আমার অনেক বেশি প্রিয়। আপনার রেসিপির পরিবেশন অনেক ভালো হয়েছে। আজ আপনার এই রেসিপিটি দেখে আমি শিখতে পারলাম। পরবর্তীতে তৈরি করব ইনশাল্লাহ। আমাদের মাঝে মজাদার রেসিপি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
বিটকপিতে রয়েছে পটাসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম জিংক ক্লোরিন, আয়রন ও সোডিয়ামসহ নানা ধরনের উপকারী উপাদান। আমাদের এখানে সচারাচর এই উপকারী সবজি টি পাওয়া যায় না। দাদা আপনি ঠিকই বলেছেন বাজারের কেনা জুস খাওয়ার চেয়ে বাসায় তৈরি করে খাওয়াই অনেক ভালো। বাজারে কেনা জুসের স্বাদ বাড়ানোর জন্য অনেক কেমিক্যাল ব্যবহার করে থাকে। গাজরের মধ্যেও অনেক উপকারী উপাদান রয়েছে দুটি উপকারী সবজির সমন্বয়ে খুবই সুন্দর একটি ভাজি তৈরি করেছেন যা দেখতে খুবই কালারফুল হয়েছে। খেতেও সুস্বাদু হয়েছিল নিশ্চয়ই? সুন্দর রেসিপি টি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই দাদা।
বিটকপি এবং গাজরের ভাজি দেখে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগলো। শীতকালে এই ভাজির জুড়ি মেলা ভার। আমি গাজরের ভীষণ ভক্ত। মাঝে মাঝে বাজার থেকে এনে রান্নার আগেই ঈলমা আর আমি অর্ধেক কাঁচা খেয়ে ফেলি। তবে বিটকপির জুস খাওয়া হয়নি এখনও আমার, ভাবছি একবার খেয়ে দেখবো।
গাজরের হালুয়া আমাদের পরিবারের সবার ভীষণ পছন্দের খাবার। আপনিও পছন্দ করেন জেনে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগলো।
ধন্যবাদ দাদা এই চমৎকার স্বাদের রেসিপি ভাগ করে নেয়ার জন্য।
দোয়া রইল পুরো পরিবারের জন্য 🥀
আমিও আগে প্রায় খেতাম সকালে বা দুপুরে, সালাদ মতো করে কেটে রেখে দিতাম । এখন সময় হয় না তেমন, তাই মাঝে মাঝে মনে পড়লে ফ্রিজ থেকে বের করে ধুয়ে গোটাই খেয়ে ফেলি। গাজর আসলে কাঁচা অবস্থায় একবার মজা পেয়ে গেলে শুধু খেতে ইচ্ছা হয় বার বার।
বিট কপি এবং গাজরের ভাঁজি রেসিপিটি ভীষণ চমৎকার হয়েছে।বিশেষ করে রান্নার কালার দেখেই খাওয়ার আগ্রহ বেড়ে গেছে। বিট কপির জুস করে খাওয়া যায় এটা জানতাম না। এমনকি আপনার মাধ্যমে এটাও জানতে পারলাম যে বিট কপির জুস বাইরে থেকে খেলে না খাওয়ারই সমান।কারণ তারা সেখানে কেমিক্যাল মেশায়।এমনিতেই যে কোন খাবার আমি ঘরে নিজ হাতে তৈরি করে খেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করি।তবুও মাঝে মাঝে বাইরে অনিচ্ছা সত্ত্বেও খেতে হয়। আর গাজরের 🥕 তো কোন তুলনাই হয় না ।গাজর এমন একটি সবজি যা আমি কাঁচা চিবিয়ে খেতেও পছন্দ করি। দুটো রঙিন সবজি একসাথে কুচি করে ভাজি করেছেন দেখে দারুন লাগছে।
একেবারে ঠিক বলেছেন দাদা শীতের সবজির স্বাদ টা শীত চলে গেলে আর পাওয়া যায় না। গাজর সবজি হিসেবে কম আমি ফল হিসেবে বেশি খেয়ে থাকি। আমার কাছে গাজর বেশ মজা লাগে। বিটকপি এবং গাজরের রেসিপি টা বেশ দারুণ ছিল দাদা। এই দুইয়ের কম্বো কখনো ট্রাই করা হয় নি। ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে রেসিপি টা শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।।
বিটকপি নামটি যখন দেখছিলাম তখন ভাবছিলাম এটা আবার কোন সবজি। আমি তো কখনো নাম শুনিনি। এরপর যখন ছবি দেখলাম তখন বুঝতে পারলাম এটা অনেকটা শালগমের মত। শীতকালীন সবজি গুলো শীতকালে খেতেই বেশি ভালো লাগে। আসলে অন্যান্য সিজনে সেই সবজি গুলো পাওয়া গেলেও শীতকালের মত টেস্ট আসে না। গাজর খেতে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুবই কম আছে। গাজরের সালাত, গাজরের তরকারি, কিংবা ভাজি খেতে খুবই ভালো লাগে। আর গাজরের হালুয়া হলে তো কথাই নেই। একদিন গাজরের শরবত করেও খেয়ে দেখতে হবে। মনে হচ্ছে ভালই লাগবে খেতে 🤪🤪। যাই হোক দাদা আজকে যেহেতু একটি ভাজির রেসিপি শেয়ার করেছেন তাই মনে হচ্ছে গরম ভাতের সাথে এই ভাজি খেতে দারুন লাগবে।
গাজরের শরবত এর কথা প্রথম শুনলাম। একদিন করলে শেয়ার করবেন। কত কিছু করা যায়, একটু সবকিছুতে ভালোমতো সময় দিতে পারলে করা যায়, কিন্তু ওটারই অভাব পড়েছে।
বিট কপি এবং গাজর ভাজি সত্যি অনেক লোভনীয় দেখাচ্ছে দেখেই জিভে জল চলে আসলো খেতে মনে হয় নিশ্চয়ই মজাদার হবে। শুধু গাজর ভাজি করে খেয়েছি অনেকবার যদিও বিট কপি কখনো ভাজ করে খাওয়া হয়নি। তবে আপনার প্রস্তুত করা আজকের রেসিপিটি দেখে খুব লোভে পড়ে গেলাম বাসায় একবার প্রস্তুত করে খেতে হবে।।
দাদা আজকে আনকমন দুইটি সবজির রেসিপি শেয়ার করলেন। বিটকপি এবং গাজর দুইটিই আমার অনেক প্রিয়। যদিও গাজরের হালুয়া আর বিটকপির জুস কখনো খাওয়া হয়নি। তবে দুইটি সবজির ভাজি খেয়েছি। গাজর কাঁচা খেতে এতো ভাল লাগে যে মন চাই এক জাগায় বসে এক কেজি খয়ে ফেলি,হি হি হি। আমি বাজারে গেলে গাজর ছাড়া বাজার থেকে ফিরি না। আপনার আজকের রেসিপিটা সব দিক দিয়েই অন্যরকম হয়েছে। বিটকপির রং এ সম্পূর্ণ ভাজিটা কালার হয়েগেছে। অনেক দিন পরে আপনার ঝোল ছাড়া রেসিপি দেখলাম। ধন্যবাদ দাদা।
দাদা এই বিটকপি কে কি বিটরুট বলে? আমার অবশ্য কখনোই খাওয়া হয়নি বিটকপি। কিন্তু এর কালারটা আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। তাছাড়া বিট কপি যে অনেক উপকারিতা তা জানা ছিল। যেকোনো সবজি রান্না থেকে কাঁচা অবস্থায় উপকারী বেশি থাকে। তাছাড়া গাজর তো প্রতিদিনকার নিত্যসঙ্গী । যেকোন সবজির মধ্যে গাজর দেওয়া হয়। তাছাড়া গাজরের হালুয়া খেতে আসলেই খুবই ভালো লাগে। আপনি যে দুটি সবজি রান্না করেছেন দুটি সবজিরই কালার খুবই সুন্দর। যার কারণে শেষে আপনার ভাজির কালার আরো বেশি সুন্দর এসেছে। নতুন একটি ভাজির রেসিপি শিখে নিলাম আপনার কাছ থেকে। একদিন বিটকপি খেয়ে দেখতে হবে । যেভাবে বর্ণনা করলেন মনে হচ্ছে তো খেতে খুবই সুস্বাদু হবে। দেখেই লোভ লেগে যাচ্ছে। ধন্যবাদ দাদা।
হুম, ইংলিশ ওয়ার্ড হিসেবে অনেকে বীটরুটও বলে।
ঠিক বলেছেন আপনি ভাইয়া কাঁচা গাজর আস্ত খাওয়া যায়। রান্নার থেকেও গাজর কাঁচা খেতে ভীষণ ভালো লাগে। আর তাছাড়া গাজর আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী। কাঁচা খেলে একটু বেশি উপকার পাওয়া যায়। যখন কুচি কুচি করে সালাত তৈরি করা হয় তখন খেতে বেশি ভালো লাগে।
আর সত্যি কথা বলতে বিট কপির সাথে আমি প্রথম পরিচিত হলাম। আজ কখনো খেয়েছি কিনা মনে পড়ছে না তবে বিট কফির রংটা আমার কাছে ড্রাগন ফলের মত লেগেছে। 😁
ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া সুন্দর একটা রেসিপি শেয়ার করার জন্য আপনার পরবর্তী রেসিপির অপেক্ষায় রইলাম।