ভাপা পিঠা খাওয়ার অনুভূতি
02-01-2024
১৯ পৌষ , ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
🌼 আসসালামুআলাইকুম সবাইকে 🌼
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো ও সুস্থ্য আছেন। আসলে শীতের সময়টা পিঠা খাওয়ার উপযুক্ত সময় আমি মনে করি। শুধু যে আমি মনে করি তাও না। কারণ এ সময়ে হরেক রকমের পিঠা পাওয়া যায়। কিন্তু আগের মতো সেই পিঠা খাওয়ার অনুভূতি কাজ করে না। আগে শীত আসলেই দেখতাম আম্মা কয়েক রকমের পিঠা বানাতে। চিতই, চ্যাপা, ভাপা পিঠা, দুধ চিতই পিঠা, কলার পিঠা, কেক পিঠা, নারকেল দিয়ে ম্যারা পিঠা! আর ছোটবেলা থেকেই পিঠা ছিল আমার প্রিয়। পিঠা পেলে আর কিছুই লাগতো না! মায়ের হাতের সব পিঠাই খেতে মজা লাগতো। শীতের সকালে সেই গরম গরম পিঠা খাওয়ার স্বাদ আমার এখনও মনে পরে।
তবে এখন চিত্রটা পুরোপুরি উল্টো। এই যে শীত চলে যাচ্ছে তেমন কোনো পিঠাই খাওয়া হচ্ছে না। আর আম্মার শরীরটাও এখন ভালো নেই। চাইলেই পিঠা বানাতে পারে না। আসলে শরীর ভালো না থাকলে কোনো কিছুই করতে ভালো লাগে না। যাক, কিছুদিন আগে আমাদের বাড়ির এখানে মাহফিল হয়েছিল। আর বর্তমানে বলতে গেলে মাহফিলকে কেন্দ্র করে বলতে গেলে একটা ছোট পরিসরে মেলার মতো হয়ে যায়। সেখানে বেশ কিছু ফটোগ্রাফি করেছিলাম সেগুলো অন্যদিন শেয়ার করবো। আজকে শুধু ভাপা পিঠা খাওয়ার অনুভূতি শেয়ার করবো।
সন্ধ্যার দিকে বলতে গেলে মাহফিল উপলক্ষে যে মেলা হয় সেখানে অনেক মানুষজন আসে। মাহফিলটি আয়োজন করেছিল আমাদের চৌরাস্তা জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে তিনবার আয়োজন করেছিল। তো মেলায় গিয়ে দেখলাম মেটামোটি অনেক মানুষের সমাগম। বিশেষ করে দেখলাম মেয়েরাও সেখানে এসেছে। নানান রকমের কসমেটিক্স এর দোকানও উঠেছিল। তো যায়হোক, আমি মূলত গিয়েছিলাম ভাপা পিঠা খাওয়ার জন্য! শীত চলে যাচ্ছে ভাপাই যদি না খাওয়া হয় তাহলে কেমনে হয়! রাস্তার পাশেই দেখলাম একটা ভাপা পিঠার দোকান।
সেখানে দেখতে পেলাম গরম গরম ভাপা পিঠা তৈরি করছে। অনেকেই দেখতে পেলাম খাইতেছিল। তো আমি দাম জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম একটা পিঠা দশটাকা করে। তো আমি প্রথমে দুইটা পিঠা দোকানদারকে দিতে বললাম! আসলে দোকানে পিঠা তৈরির প্রসেসটা আমার কাছে ভালো লেগেছিল। দোকানদারের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছিলাম ভাপা পিঠা তৈরির জন্যই এই যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছে। একসাথে বলতে গেলে তিনটা পিঠা হয়ে যাচ্ছে। আগে দেখতাম মাঠির ঢাকনাতে পিঠা বানানো হতো। এখন আর সেভাবে দেখা হয় না।
শীতের এই সময়ে পিঠা বিক্রির মতো ছোট একটা ব্যবসা দাড়ঁ করিয়ে আয় করে থাকে। তাদের জীবন জীবিকা সেটার উপরই নির্ভর করে বলতে গেলে। তবে এ শীতের সময়টা যতদিন থাকে ততদিন তাদের পিঠা বিক্রিটাও ভালো হয়। শীত শেষে তাদেরকে খুজঁতে হয় ভিন্ন কোনো উপায়ে জীবিকার সন্ধ্যান! তবে মাহফিল উপলক্ষে যেহেতু লোকের সমাগমও বেশি ঘটে তাই তাদের বিক্রিটাও ভালো হয়। সাধারণত মহিলাদের বেশি পিঠা বিক্রির ব্যবসার সাথে দেখা যায়। তবে আজকাল পুরুষরাও পিঠা বিক্রির ব্যবসায় উৎসাহিত হচ্ছে।
তো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আমার পিঠা চলে আসলো! গরম গরম ভাপা পিঠা খাওয়ার স্বাদই অন্যরকম! ভাপা পিঠা খেয়ে ভালোই লাগছিল। শৈশবের সেই ভাপা পিঠা খাওয়ার একটা অনুভূতি পেলাম। ভাপা পিঠা আসলে তেল ছাড়া বানায় এজন্য খেতেও ভালো লাগে। আমি তিনটা পিঠা অর্ডার দিয়েছিলাম ! গরম গরম ভাপা পিঠার স্বাদ গ্রহণ করে সেখানে আর বেশিক্ষণ থাকেনি। তারপর বাড়ির দিকে চলে এসেছিলাম। তো আপনারাও নিশ্চয় শীতের ভাপা পিঠা খাওয়ার অনুভূতি রয়েছে এবার!
| Device | Oppo A12 |
|---|---|
| Photographer | @haideremtiaz |
| Location | w3w |
| Date | 22-12-2023 |
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। সম্প্রতি আমি ইলেকট্রিক্যাল থেকে ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছি। এখন বিএসসি এর জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছি। পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত দু বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। যাক,
নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।
বর্তমানে যেকোনো জায়গায় মাহফিল হলে, বিভিন্ন ধরনের দোকান দেখা যায়। মোটকথা একপ্রকার মেলার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ভাপা পিঠা তৈরি করতে তেল ব্যবহার করা হয় না বিধায়, আমার কাছেও খেতে দারুণ লাগে। এই বছর ইতিমধ্যে পাঁচ ছয় রকমের পিঠা খাওয়া হয়ে গিয়েছে আমার। যদিও পিঠা ২/৩ টার বেশি খাওয়া যায় না এখন। তবে ছোটবেলায় প্রচুর পরিমাণে পিঠা খেতাম শীতকালে। যাইহোক আপনি তাহলে তিনটা ভাপা পিঠা খেতে পেরেছেন। গরম গরম ভাপা পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। পিঠাগুলো দেখেই বুঝা যাচ্ছে খেতে খুব সুস্বাদু লেগেছিল। যাইহোক এতো সুন্দর অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
জি ভাইয়া পিঠাগুলো ভালোই ছিল। স্লাইস ছোট এজন্য তিনটা খেতে পারলাম
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
মাহফিল উপলক্ষে আবার মেলারও আয়োজন করেছে। মেলা হলেই তো মহিলাদের সমাগম হয়। বিভিন্ন ধরনের জিনিস কিনতে পাওয়া যায় মেলাতে। তাছাড়া মেলায় গিয়ে আপনারা আবার পিঠাও খেয়েছেন। শীতকালে অনেকে এরকম ছোট ছোট দোকান নিয়ে পিঠার ব্যবসা করে। এতে করে যারা পিঠা বানাতে পারেনা তাদেরও পিঠা খাওয়া হয়ে যায়। বেশ ভালোই সময় কাটিয়েছেন বোঝা যাচ্ছে।
জি আপু এটা ঠিক বলেছেন মেলা হলেই মহিলাদের সমাগম ঘটে বেশি 🌼
শীতকালে পিঠা খাওয়ার মুহূর্তগুলো অসাধারণ হয়েছে ওঠে।আর এই পিঠা খাওয়ার মুহূর্ত আপনি আনন্দে সাথে উপভোগ করেছেন। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
আসলেই ভাই, পিঠা খাওয়াটা উপভোগ করেছিলাম। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই 🌼
শীতকাল এলে শুরু হয়ে যায় পিঠা উৎসব ঘরে ঘরে।
আর এখন তো রাস্তার বাঁকে বাঁকে এই সুস্বাদু পিঠাগুলো পাওয়া যায়।
আমিও আপনাদের মত মাঝে মাঝেই এমন ভাবে খেয়ে থাকি পিঠা।
অনেক সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছেন সেই সাথে পিঠা খাওয়ার অনুভূতি জানতে পেরে ভালো লাগলো।
জি এটা ঠিক বলেছেন! বাজারের রাস্তার পাশে দোকানগুলো দেখতে পাওয়া যায়
twitter share
ভাই আপনি ভাপা পিঠে খাওয়ার খুব দুর্দান্ত একটি অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন আপনার পোস্ট পড়ে খুবই ভালো লাগলো। আসলে বাজারে যে ভাপা পিঠাগুলো বিক্রয় করে সেগুলোর থেকে বাসায় বানিয়ে খেলে সে ভাবা পিঠা খেয়ে আরও বেশি স্বাদ লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে ভাপা পিঠা খাওয়ার এমন একটা দুর্দান্ত অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
এটা ঠিক বলেছেন, বাসায় বানানো পিঠা খেতেও মজা লাগে, বাজার থেকেও
প্রথমে আপনার মায়ের সুস্থতা কামনা করছি। আসলে শরীর সুস্থ না থাকলে কোন কাজ করা সম্ভব হয়না। আপনার আম্মু অসুস্থ এজন্য এবার ভাপা পিঠা তৈরি করে খাওয়া হয়নি জেনে বিষয়টি আমার কাছে খারাপ লেগেছে। শীতের সময় ভাপা পিঠা খাওয়ার মজাটাই আলাদা। আপনার পিঠা খাওয়ার অনুভূতি পড়ে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে ধন্যবাদ আপনাকে পিঠা খাওয়ার অনুভূতি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আসলেই ঠিক বলেছেন, আম্মা অসুস্থ এজন্য পিঠা খাওয়া হয়না আসলে তেমনভাবে। তাই মাহফিলে মেলায় ভাপা পিঠা খেয়ে ভালো লাগলো 🌼
মাহফিল উপলক্ষে মেলা ও পিঠা খুব ভালো একটা আয়োজন। আপনার মায়ের শরীর খারাপ জন্য পিঠা বানাতে পারেন না।আসলে শরীর খারাপ থাকলে কোন কিছু ভালো লাগে না। ঠিক বলেছেন আপনি বর্তমানে শীত মৌসুমে এই ভাপা পিঠার ব্যাবসা জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে গেছে। আর মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও এখন এই ব্যাবসার সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে। ধন্যবাদ সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
জি আপু শরীর ভালো না থাকলে কোনো কিছু করতেই ভালো লাগে না। তবে মেলায় ভাপা পিঠা খেয়ে ভালোই লাগছিল 🌼