২য় পর্বঃ স্ট্যান্ডিং টিকেট

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

06-03-23

২২ ফাল্গুন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ


আসসালামুআলাইকুম সবাইকে


কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই অনেক ভালো আছেন। যাক, ভালো থাকলেই ভালো। ইতোপূর্বে আপনাদের সাথে স্ট্যান্ডিং টিকেটের একটি পর্ব শেয়ার করেছিলাম। আজকে দ্বিতীয় পর্বটি শেয়ার করবো।

১ম পর্বের পর

IMG20230228082944.jpg

বেশ খানিকসময় ট্রেনের জন্য দাড়িঁয়ে থাকতে হলো। এদিকে জিহাদও বাড়ি যাবে! তার ট্রেন সকাল সাতটায়! আমার ট্রেনের সিডিউল ছিল ৬:২২ মিনিটে কিন্তু ট্রেন আসতে দেরি করেছিল। ৬:৫০ এর দিকে যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেন চলে আসে। তিন নাম্বার প্লাটফর্মে এসে দাঁড়াই। একদম মিডল বরাবর! ট্রেন আসতেই সবাই তাড়াহুড়ো করে উঠছিল। অনেকেই হয়তো এখান থেকে গিয়ে অফিস ধরবে। ট্রেনে করে প্রতিদিন অফিস করতে পারে। ট্রেন এসে কিছুক্ষণ দাঁড়ালো। আমি হেটেঁ হেটেঁ সামনের বগীতে চলে গিয়েছিলাম। সেখানেও গিয়ে দেখি মানুষের ভীড়! সকাল সকাল মানুষের এতো ভীড় হয় কেমনে! মনে মনে ভাবছিলাম ঘুম থেকে উঠতে পারলো কি করে। বগী ভর্তি মানুষ। ভিতরে প্রবেশ করে আর দাঁড়ানোর সুযোগ হয়নি। দাঁড়ালাম দরজার পাশে! সাথে এক পুলিশ কর্মকর্তা! ঢাকায় হয়তো অফিস। এখান থেকে অফিস ধরবে। কিছুক্ষণ পর ট্রেন ছেড়ে দিল।

ট্রেন ছাড়ার পর কিছু মানুষ চিৎকার করতে থাকলো। মহিলাটাকে ভিতরে তোলার জন্য। মহিলা চলন্ত ট্রেনে উঠে ট্রেনের রোলিং এ ধরে রেখেছিল। ট্রেনের ভিতরে থাকা পাবলিক মহিলাকে জায়গাই দিচ্ছিল না! মহিলার কোলে ছোট বাচ্চা ছিল। অবশেষে এক ভদ্রলোকের সহায়তায় মহিলা উঠতে পারলো ট্রেনে তবে ট্রেনের বগীতে থাকা সাধারণ জনগণের মানসিকতার কথা আমি চিন্তা করছিলাম! একটা জীবন চলে যেত তাদের অমানবিক আচরণের জন্য! সাথে ছোট বাচ্চাটি। একটু পিছনে চলে গেলেই হয়ে যেত! যাক, মহিলাটি ঠিকঠাক ভাবেই ট্রেনে উঠতে পেরেছিল। ট্রেন চলছিল এদিকে। মানুষের ভীড়ে নাড়াচাড়া করার সুযোগ নেই! এক জায়গায় স্থির হয়ে দাড়িঁয়ে থাকতে হলো। এরই মাঝে পকেটে ফোন কাপঁছে। আমি নরমালি ফোন ভাইব্রেট করে রাখি। জেনারেল মোডে রাখতে আমি এতো স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করি না। যাক, ফোনটি হাতে নিতেই নিশাদের ফোন! সে কমলাপুর চলে এসেছে। এসেই টিকেট কেটে ফেলেছে ফেনী যাওয়ার।

আমাকে তাহলে এয়ারপোর্ট রেলস্টেশনে গিয়ে টিকেট কাটতে হবে। এয়ারপোর্ট আসতেও বেশিক্ষণ লাগেনি। ৪৫ মিনিটের মতো লেগেছিল। সকাল নয়টার আগেই নেমে পড়ি স্টেশনে। সকাল সকাল স্টেশনে ভীড়! শহরের কর্মজীবী মানুষ সব বেরিয়ে পরেছে তাদের কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্য! ট্রেন থেকে নেমে মামাকে ফোন দেয়! মইনুল মামা! যারা সাথে দীর্ঘ কয়েকটা বছর একসাথে থেকেছি। এখন ব্যস্ততার কারণে একেকজন একেক জায়গায় অবস্থান করছি। আসলে ব্যস্ততার কারণে আমাদের দূরত্ব বেড়ে যায়। কম কথা হয়। তবে মানুষগুলো কিন্তু আপনই থেকে। মইনুল মামা তেমনি একজন! ঢাকায় জব করেন। টেকনোলোজি স্পেশালিষ্ট হিসেবে একটা হসপিটালে জব করছেন। আমাকে বলেছিল ঢাকা আসলে যেন ফোন দেয়! আমি ফোন দিলাম। মামা তখনও ঘুমাচ্ছিল। অফিস দশটা থেকে। ফোন দেয়ার পর মামা বললো কিছুক্ষণ ওয়েট করতে। আমি তখন ফেনী যাওয়ার জন্য টিকেট কাটতে কাউন্টারে গেলাম!

IMG20230228080230.jpg

কাউন্টারে গিয়ে দেখি লম্বা সিরিয়াল! আরেকটায় সিরিয়াল নেই। আমি সেদিকটাই গেলাম। মহানগর প্রভাতী ট্রেনের টিকেট সংগ্রহ করার জন্য। কিন্তু স্ট্যান্ডিং টিকেট। আর এতোদূর দাড়িঁয়ে যেতে হবে। দাড়িঁয়ে গেলেও ট্রেনে একটা সুবিধা হলো বোরিং ফিল হয় না। বাসে উঠলে যেমন মাথায় ঘুরায়, বমি চলে আসে এসব হয় না! আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা ট্রেনে জার্নি করতে পারবেন। যেহেতু আমি স্টুডেন্ট তো একটু সুবিধা তো নিতেই হয়। টিকেট কাটলাম কুমিল্লা পর্যন্ত! দাড়িঁয়ে যাবো এতোদূর পর্যন্ত টিকেট কেটে লাভ কি। তার উপর টাকার পরিমাণও বেশি। স্ট্যান্ডিং টিকেটের দাম নিয়েছিল ২০৫ টাকা। যাক, টিকেট সংগ্রহ করে আমি গেইটের বাইরে এসে দাড়িঁয়ে রইলাম মামার জন্য! কিন্তু মামার তো আসার কোনো খবর নেই। এদিকে দশটা বেজে গেল। গেইটের সামনে একটা টং এর দোকান দেখলাম। সেখান থেকে এক কাপ কফি কিনে নিলাম। ভাবছিলাম কফি খেতে খেতে হয়তো মামা চলে আসবে। কিন্তু তখনও মামা আসেনি। তখন নিশাদকে ফোন দিলাম।

IMG20230228080206.jpg

কমলাপুর থেকে ট্রেন ছেড়ে আসছে। আমি নিশাদকে বলে দিয়েছিলাম এয়ারপোর্ট এ ট্রেন যখন প্রবেশ করে আমাকে বলার জন্য। আর নিশাদ ট্রেনের বগীর শেষে উঠেছিল। কমলাপুর থেকে এয়ারপোর্ট এ আসতেও বেশিক্ষণ লাগে না! আমার একটা খারাপ অভ্যাস হলো কোনো কিছুতে আগ বাড়িয়ে টেনশন করে ফেলা। এই যে ট্রেন আসছে এখন যদি মামার সাথে দেখা না করেই চলে যায় তখন! এসব চিন্তা মাথায় এসে ভর করে। মামাকে ফোন দিলাম। মামা ফোন ধরে বললো বাসে আছে। আসতে আর ৫ মিনিটের মতো লাগবে। মামা উত্তরা থাকে। সেখান থেকে বাসে করে চলে আসে। আমি কিছুক্ষণ রেল স্টেশনে হাটাঁহাটিঁ করতে থাকলাম। কিন্তু সময় যেন দ্রুত চলে যাচ্ছে মনে হচ্ছিল। ভিতর থেকে হেটেঁ বাহিরে প্রবেশ করতেই দেখি মামা প্রবেশ করছে। আমি মামাকে চেনার আগেই আমাকে চেনে ডাক দিল।

তারপর মামার সাথে ভালো খারাপ মিলিয়ে আলাপচারিতা হলো। সকাল সকাল নাস্তা করা হয়নি। তাই মামা আমাকে নিয়ে চলে গিয়েছিল ছোটখাটো একটা রেস্টুরেন্ট এর দোকানে। সেখানে আমি আর মামা মিলে বার্গার খেয়েছিলাম। খাওয়া শেষ করে স্টেশনের মাথায় এসে দাঁড়ালাম। যেখান দিয়ে প্লাটফর্মে ট্রেন প্রবেশ করে। দূর থেকে দেখতেছিলাম একটি ট্রেন দাড়িঁয়ে আছে। ধরেই নিয়েছিলাম এটি মহানগর প্রভাতী। কিন্তু যখন আসলো তখন দেখি এটা মহানগর প্রভাতী না । তারপর মহানগর প্রভাতী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম। এর ফাকেঁ মামার সাথে আলাপ করছিলাম চাকরি, পড়াশোনা টপিক নিয়ে। বর্তমানে চাকরির বাজার খুবই কঠিন। চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে স্কিল লাগবেই। মামা যেহেতু বেশ কয়েক জায়গায় চাকরি করেছে সে বিষয়ে ভালো ধারণাই আছে।

মামাকে বলেছিলাম আমি এখন ডুয়েট প্রিপারেশন নিচ্ছি। এটার পরে অবশ্য চাকরির ব্যাপারটা দেখা যাবে। আপাতত এডমিশন নিয়ে চিন্তা করাটাই ভালো হবে। মামার সাথে কথা বলতে বলতে ট্রেনও চলে এসেছিল। আসলে মামার সাথে ত্রিশ মিনিটও কথা হয়নি! তবে স্বল্প সময়ে মামার সাথে দেখা করতে ভালো লেগেছিল। মামার সাথে যেহেতু আমি দীর্ঘ কয়েকটা বছর কাটিয়েছি। একটা টান তো আছেই। আর আমাকেও অনেক আদর করেছে এবং এখনও করে। ট্রেন স্টেশনে চলে এসেছিল। সব যাত্রী উঠে পরছিল। মামার কাছে বিদায় নিয়ে আমিও ট্রেনে উঠে পরলাম! শেষের বগীতে উঠলাম। কারণ শেষের বগীতে নিশাদও উঠেছিল।

DeviceOppo A12
Photographer@haideremtiaz
Locationw3w
Date28 February, 20233

চলবে...



10% beneficary for @shyfox ❤️

C3TZR1g81UNaPs7vzNXHueW5ZM76DSHWEY7onmfLxcK2iNzq2MSXKSji21JRspt4nqpkXPR5ea7deLzvmJtuzVBwdLJUpBqtgAZ5gHtHPbayD2jR3CWqjkJ.png

ধন্যবাদ সবাইকে



WhatsApp Image 2021-12-23 at 19.46.54.jpeg


VOTE @bangla.witness as witness

witness_proxy_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

আমি কে?

IMG20210908180509.jpg

আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।

Sort:  

Thank you, friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 3 years ago 

সত্যি ভাইয়া কিছু কিছু মানুষের ব্যবহার এমনি, মানুষ মরে গেলেও তাদের দেখার সময় নেই। যাইহোক অবশেষে মহিলাটা ঠিকঠাক ভাবে বসতে পেরেছে এটাই অনেক। আসলে ভাইয়া সব জায়গায় সিরিয়াল শুধু টিকিট কাউন্টারে না। যাইহোক শেষ মেষ মামার কাছ থেকে বিদয় নিয়ে নিশাদের কাছে বসতে পেরেছেন জেনে ভালো লাগল। ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

মনে মনে ভাবছিলাম ঘুম থেকে উঠতে পারলো কি করে।

আমাদের এটা চিন্তা করাই স্বাভাবিক ভাই। আপনার জায়গাই আমি থাকলেও এটাই চিন্তা করতাম। আমি প্রায় প্রতিনিয়ত ট্রেনে যাতায়াত করি সেজন্য ট্রেনে মানুষের অমানবিক এবং মানবিক দুটো আচরণ সম্পর্কেই আমার ধারণা আছে। ট্রেন জার্নি আমার কাছেও ভালো লাগে এবং বাস জার্নি ঠিক তার উল্টোটা মানে বিরক্তিকর।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.086
BTC 59286.20
ETH 1583.08
USDT 1.00
SBD 0.37