রেনডম ফটোগ্রাফি পোস্ট।
বেশ কিছুদিন হল কোন ফটোগ্রাফি পোস্ট করা হয় না। আজকে এমনিতেও চিন্তা করছিলাম কি বিষয় নিয়ে পোস্ট করা যায়? তখনই মাথায় এলো ফটোগ্রাফি পোস্ট করার কথা। মানুষ এখন কারণে-অকারণে অনেক ছবি তোলে। বিশেষ করে মোবাইলের সাথে ক্যামেরা যোগ হওয়ার পর মানুষের এই ছবি তোলার অভ্যাস হয়েছে। অথচ যখন ক্যামেরা এতটা সহজলভ্য ছিল না তখন মানুষ ইচ্ছা করলেও ছবি তুলতে পারত না। আমার কাছে মনে হয় সেই সময়টাই ভালো ছিলো। কারণ তখন মানুষ দু চোখ ভরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করতো। কিন্তু এখন সবাই ছবি তোলাতে এতটাই নিমগ্ন হয়ে যায় যে সৌন্দর্য উপভোগ করার থেকে তার কাছে ছবি তোলাটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।
মানুষ কোথাও ঘুরতে গিয়ে সেখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করার থেকে সেখানকার ছবি তুলে কিভাবে ফেসবুকে পোস্ট করা যাবে সেটা নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকে। আমার কাছে এই বিষয়গুলো একেবারেই ভালো লাগেনা। এজন্য আমি কোথাও গেলে আগে চেষ্টা করি সেখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করার। তারপর সময় সুযোগ বের করে কিছু ছবি তুলি। আজকে এমনি আমার তোলা কিছু ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আশা করি ছবিগুলো আপনাদের ভালো লাগবে।
একদিন গোধূলি বেলায় এই ছবিটি তোলা ছবিতে। দেখতে পাচ্ছেন নদীতে নিঃসঙ্গ এক নৌকা। দৃশ্যটা দেখেই মনে ধরে গেলো। কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার পর মনে হল এই দৃশ্যটা ক্যামেরা বন্দী করে নেই। কখনো হয়তো পোস্টে শেয়ার করা যাবে। এই ধরনের দৃশ্য দেখলে এমনিতেই মন উদাস হয়ে যায়। গোধূলি বেলার সময়টাই মনে হয় এমন। এই সময়ে মনে হয় সবার ভেতরেই এক ধরনের নিঃসঙ্গতা কাজ করে।
এই ছবিটি ও তোলা গোধূলি লগ্নে। ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন একটি ব্রিজের উপর দিয়ে কিছু মানুষ বাড়ি ফিরছে। যদিও আপনারা চিন্তা করতে পারেন বাড়ি ফিরছে এটা বুঝলাম কিভাবে? আসলে এই সময়টা তো মানুষের বাড়িতে ফেরার সময়। সেই কারণেই মনে হয়েছিল এই লোকগুলো বাড়িতে ফিরছে। আমরা কয়েক বন্ধু মিলে ব্রীজের রেলিং এর উপর বসে ছিলাম। বসে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখনই হঠাৎ করে এই ছবিটি তোলা।
এটা গ্রামের দিক থেকে তোলা একটি ছবি। ছবিতে যে ফুলটি দেখা যাচ্ছে এই ফুলের নামটা আমার জানা নেই। তবে ছোটবেলায় যখন মাঝে মাঝে গ্রামে যাওয়া হতো তখন এই ধরনের ফুল খুবই চোখে পড়তো। তবে এখন গ্রামেও এ ধরনের ফুল গাছের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। এই গাছে সম্ভবত এক ধরনের ফলও ধরে। কারো যদি এই গাছের নাম জানা থাকে তাহলে আমাকে জানাবেন।
আমার সবচাইতে প্রিয় রাস্তা হচ্ছে এই ধরনের রাস্তা। রাস্তার দুপাশ দিয়ে সবুজ গাছের সাড়ি। তার ভেতর দিয়ে পিচ ঢালা পথ। মোটরসাইকেলে করে ঘোরার জন্য এই রাস্তাগুলো আমার কাছে একেবারে পারফেক্ট মনে হয়। কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই এই ধরনের রাস্তা দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ঘুরে বেড়ানো যায়। এই ধরনের রাস্তা দেখলেই মনে শান্তি লাগে।
এই ছবিটি তুলেছিলাম সকালে হাঁটতে যাওয়ার সময়। আমি এখন প্রতিদিন সকালে নিয়মিত হাঁটার চেষ্টা করি। বেশিরভাগ দিনে একই দিকে যাওয়া হয় হাঁটতে। তবে মাঝে মাঝে একটু এদিক-ওদিক যাওয়ার চেষ্টা করি। শহরের ভেতর এই রাস্তাটি হাঁটার জন্য আমার কাছে খুবই প্রিয়। অবশ্য শুধু আমার জন্য না। আমার মত আরও অনেকেই এই রাস্তা বেছে নেয় হাঁটার জন্য। কারণটা হচ্ছে এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ।
শুকনো মৌসুমে পদ্মার পাড় থেকে এই ছবিটি তুলেছিলাম। ছবিতে দেখা যাচ্ছে নদীতে পানি অনেকটা শুকিয়ে গিয়েছে। প্রমত্তা পদ্মা এক ধরনের সরু খালে পরিণত হয়েছে। সেখানে কয়েকটি নৌকা দাঁড়ানো দেখা যাচ্ছে।
শহর থেকে কিছুটা দূরে আমার আর বন্ধু ফেরদৌসের প্রিয় একটি জায়গা আছে। সেই জায়গাতে আমরা মাঝে মাঝে ঘুরতে যাই। ছবিতে আপনারা সেই জায়গাটি দেখতে পাচ্ছেন। যদিও এই জায়গাটি একেক মৌসুমে একেক রূপ ধারণ করে। ছবিতে আপনারা শুষ্ক মৌসুমের চিত্র দেখতে পাচ্ছেন। তখন নদীর পানি প্রায় শুকিয়ে গিয়েছে। আবার ভরা বর্ষায় এই জায়গাটার চেহারা একেবারেই পাল্টে যায়। তখন দেখতে সম্পূর্ণ অন্যরকম লাগে।
এই ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন একটি বিড়াল তার দুটি বাচ্চা নিয়ে বিল্ডিংয়ের রেলিংয়ের উপর বসে আছে। কয়েকদিন আগে আমার এক আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ করে এই দৃশ্যটি চোখে পড়ে যায়। তখনই মনে হল বিড়াল গুলোর একটা ছবি তুলে নেই। যাতে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারি।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | ফরিদপুর |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সবাই এন্ড্রয়েড ফোন হাতে পেয়ে সুন্দর দৃশ্য দেখলেই ছবি তোলে। যেটা বললেন কারণে অকারণে অভ্যাস হয়ে গিয়েছে সবারই। বিশেষ করে ফেসবুক বিষয়টি মানুষকে ছবি তুলতে আরও বেশি উৎসাহিত করেছে। যাইহোক, গ্রাম্য পরিবেশের এই সুন্দর দৃশ্য ফটোগ্রাফি করলে সত্যি অনেক ভালো লাগে । যেটা আমিও করে থাকি আপনার ফটোগ্রাফি গুলো অনেক ভালো লেগেছে ভাই।
ঠিক বলেছেন ভাই, এরকম দ্বিধার মধ্যে আমিও মাঝে মাঝে পরে যাই। মাঝেমাঝে মনে হয় কি পোস্ট করব? কোন কিছু মাথায় আসেনা, তারপর ও আপনি আজ কিছু চমৎকার ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। তবে সবচেয়ে বেশী ভালো লেগেছে পদ্মার পাড়ে সেই নৌকো ছবিটি যা শুকনো মৌসুমে আপনি আর ফটোগ্রাফি করেছেন, সত্যিই অসাধারণ ছিল।
আসলেই মানুষ এখন প্রকৃতি উপভোগ করার থেকে সেই দৃশ্যে গুলো ক্যামেরা বন্দি করতে বেশি ব্যস্ত থাকে ৷ হয়তো সেই দিন গুলোই ভালো ছিলো যখন ক্যামেরার ব্যবহার সবার হাতে ছিলো নাহ ৷ এখন মানুষ কারণে অকারণে ফটোগ্রাফি করে বিষযটা আসলেই কেমন জানি ৷ যাই হোক চমৎকার কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন আপনি ৷ ফটোগ্রাফি দেখতে অসম্ভব সুন্দর হয়েছে ৷ মুগ্ধ করার মতো ছবি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ ৷
সত্যি বলেছেন ভাই মোবাইলের সাথে ক্যামেরাযুক্ত হওয়ার পর থেকে মানুষের ছবি তোলার প্রতি আগ্রহ বেড়ে গিয়েছে। আপনার প্রতিটি ফটোগ্রাফি মনমুগ্ধকর ছিল। আপনার মতো আমারও রাস্তার দুপাশ দিয়ে সবুজ গাছ থাকলে সে রাস্তা দেখতে অনেক ভালো লাগে। মনে হয় যেনো, সে রাস্তা দিয়ে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে চলে যায় অজানা দিগন্তে। ভাই আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
ভাইয়া আপনার রেনডম ফটোগ্রাফি পোস্টগুলো পড়তে আমার খুবই ভালো লাগে। গোধূলি লগ্নে নিঃসঙ্গ নৌকার ফটোগ্রাফিটি, সকাল বেলায় হাঁটতে যাওয়ার মুহূর্তে তোলা ফাঁকা একটি রাস্তার ফটোগ্রাফি এবং বিল্ডিং এর উপর একটি বিড়ালের দুইটি বাচ্চার ফটোগ্রাফিতে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। দারুন একটি ফটোগ্রাফি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ভাইয়া আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমরা যেন সবাই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি যেখানেই যাই ভালো কোন দৃশ্য দেখলেই ফ্রেমবন্দি করার চেষ্টা করি।।
আজকের পোস্টে আপনি অনেক সুন্দর সুন্দর আলোকচিত্র আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন খুবই ভালো লাগলো দেখে ।বিশেষ করে পদ্মা নদীর সবগুলো দৃশ্য অসাধারণ লেগেছে আমার কাছে।
ভাইয়া রেনডম ফটোগ্রাফি গুলো দেখে তো মুগ্ধ হয়ে গেলাম। প্রতিটি ফটোগ্রাফি এককথায় দুর্দান্ত হয়েছে। এই ধরনের ফটোগ্রাফি দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। বিশেষ করে প্রথম, চতুর্থ এবং ষষ্ঠ ফটোগ্রাফি গুলো দেখে বেশি ভালো লেগেছে। যাইহোক এতো মনোমুগ্ধকর ফটোগ্রাফি গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।