সবুজ বাংলার জীবন চিত্র ||ফটোগ্রাফি পর্ব-২||
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আসসালামু আলাইকুম/আদাব। সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন আশা করছি। আমিও মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার ব্লগ লেখা শুরু করছি।
গ্রাম বাংলার জীবন চিত্র কি রকম হতে পারে আসলে নিজে উপস্থিত থেকে না দেখলে ঠিকমতো অনুভব করা যায় না। তাদের জীবিকা নির্বাহের পদ্ধতি যোগাযোগ ব্যবস্থা আসলে এই সব কিছু অনুভূতির ব্যাপার। শত কষ্টের মাঝেও তাদের মধ্যে অনেক ভালোলাগা ও আত্মতৃপ্তি আছে।
তারা সবসময় নির্ভেজাল প্রয়োজনীয় সব জিনিস হাতের কাছেই পেয়ে যায়। ঠিক সেরকমই তারা মানসিক দিক দিয়েও অনেক খাঁটি। ইট পাথরের আধুনিক শহরের লোক গুলোর মত তারা মুখোশধারী নয়। দুর্নীতি কি, এই শব্দের কাছ থেকে তারা বহু ক্রোশ দূরে।
যাইহোক ইসমাইল সাহেবের ক্ষেত দেখতে গিয়ে ভালোলাগার বেশ কিছু ফটোগ্রাফি করা হয়েছিল। তারমধ্যে প্রথম পর্বে কয়েকটি ফটোগ্রাফা শেয়ার করেছি। আজ আরও কিছু ফটোগ্রাফ নিয়ে আজকে লিখতে বসেছি।
বর্তমান সময়ে নদীর তীরবর্তী অঞ্চল এবং আশেপাশের পুকুর ও ডোবায় এরকম কচুরিপানার ফুল অসংখ্য লেখা যায়। আমি যে অঞ্চলে থাকি সেদিকে অবশ্য অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও এরকম ফুল পাই না।
সে কারণে যখন এরকম প্রকৃতির সাজিয়ে রাখা ফুলের বাগান দেখতে পাই তখন আর লোভ সামলাতে পারি না। ঝটপট রাস্তা থেকে নিচে নেমে গেলাম সেই ফুলগুলো কাছে থেকে দেখার জন্য।
ফসলের ক্ষেতের পাশ দিয়ে হাটাহাটি করার সময় আগাছার অনেক সুন্দর সুন্দর কিছু ফুল আমার চোখে পড়ল। তার মধ্যে সাদা ও হলুদ রঙের মিশ্রণে এই ফুলটি আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিল। দেখতে খুব ছোট হলেও ফুলটি অসম্ভব সুন্দর।
এই অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয় পরিবহনের মাধ্যম হচ্ছে ঘোড়া। মালামাল পরিবহনের জন্য যেমন ঘোড়ার গাড়ি আছে, তেমনি মানুষের চলাচলের জন্য ঘোড়ার ব্যবহার সর্বাধিক। আসলে রাস্তাঘাট নাই বললেই চলে তাই এখানে ঘোড়া অত্যন্ত জনপ্রিয়।
আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু সেখানেই। বর্তমান আধুনিক এই যুগে এসে এখনো মধ্যযুগের সেই পরিবহন ব্যবস্থা আমাকে অনেক আনন্দ দিয়েছিল।
এখানে আরো দুটি উল্লেখযোগ্য জিনিস লক্ষ্য করেছিলাম। একটি হলো বর্ষা মৌসুমে পরিবহনের একমাত্র অবলম্বন বিভিন্ন রকম নৌকা। যেগুলো এখন ঠিকঠাক রাখার জন্য পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হয়েছে।
অপরটি সেই সময়ে জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন বিভিন্ন রকম মাছ ধরার কৌশল। চরাঞ্চলের অধিকাংশ লোকজন মাছ ধরাকে তাদের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা দিনের অধিকাংশ সময় নদীতে মাছ ধরে।
দেখতে দেখতে দুপুর গড়িয়ে বিকাল তারপর সূর্য্য অস্ত যেতে শুরু করল। আর কিছুক্ষণ পর ইফতারের সময় হয়ে যাবে তাই আর দেরি না করে দ্রুত বাড়ি ফেরার পথ বেছে নিলাম।
গোধূলি লগ্নের এই সময়টা আমার খুব প্রিয়। সূর্যের আলোর লাল বিচ্ছুরণ পশ্চিম আকাশকে রাঙিয়ে রাখে। সেই দৃশ্য দেখতে দেখতে সূর্য প্রায় অস্ত যেতে চলেছে। ভুলেই গিয়েছিলাম আমার কিছুক্ষণ পর ইফতার।
ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখলাম আর মাত্র ২১ মিনিট বাকি। তাই আর কোথাও সময় নষ্ট না করে বাড়ির উদ্দেশ্যে দৌড় দিলাম। বাসায় ঢোকার সাথে সাথে ইফতারের সময় হয়ে গেল। তাই আর এখন কথা না বাড়িয়ে ইফতার শুরু করে দিলাম হা হা হা।
বন্ধুরা আজ আর লিখছিনা। অন্য কোনদিন অন্যকিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে চলে আসবো। আজকের জন্য বিদায় নিচ্ছি। সবার জন্য শুভকামনা। আল্লাহ হাফেজ।
| ডিভাইস | realme narzo 50 |
|---|---|
| ফটো | @mayedul |
| লোকেশন | পাঁচগাছি, কুড়িগ্রাম |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
বাংলার প্রকৃত রূপ সবুজের সময় দেখতে হলে অবশ্যই গ্রাম অঞ্চল ভ্রমণ করতে হবে। এ পর্বে আপনার ফটোগ্রাফি গুলা অসাধারণ হয়েছে আমার মনে হচ্ছে যে গ্রামটি আপনি ভ্রমন করেছেন গ্রামের চারিদিকেই সবুজের সমারোহ।।
সবুজ বাংলা জীবন চিত্রের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে অনেকে ভালো লাগলো। সব কটি ফটোগ্রাফি আমার কাছে অনেক ব্যতিক্রম লেগেছে। তবে সময় মত যে ইফতারি করতে পেরেছেন এটাও অনেক বড় পাওয়া। প্রকৃতির সৌন্দর্য আকৃষ্ট করে আমাদের সবাইকে।
প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেলে সময় যে কোন দিকে চলে যায় বোঝাই মুশকিল। ধন্যবাদ ভাই সুন্দর কিছু জীবন চিত্রের ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
সবুজ বাংলার জীবন চিত্র ফটোগ্রাফির মাধ্যমে চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন। এধরনের পরিবেশ আমার ভীষণ ভালো লাগে। অনেক দিন পরে ঘোড়া দেখলাম। ধন্যবাদ আপনাকে ভাইয়া।
আপনি তো দেখছি ফটোগ্রাফির মধ্যে এতটাই বেশি প্রবেশ করে গিয়েছিলেন যে ইফতারের কথাই ভুলে গিয়েছেন। আপনার শেয়ার করা ফটোগ্রাফি গুলোর মধ্যে আমার কাছে কচুরিপানার ফটোগ্রাফি খুবই ভালো লেগেছে।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনার নদী পার হয়ে নৌকায় করে চড়ে যাওয়ার অনুভূতিটি সত্যিই দারুণ । আসলে চরের পরিবেশ বেশ ভালই লাগে । বেশ কয়েকদিন আগে আমিও পদ্মা নদী পার হয়ে চড়ে ঘুরতে গিয়েছিলাম । আমিও দেখেছিলাম ওখানের মানুষের মালামাল পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ঘোড়া । আপনার মাধ্যমেও সেই একই জিনিস দেখতে পেলাম ।এখনো ঘোরার ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে দেখে ভালো লাগলো । ধন্যবাদ আপনাকে।
ঠিকই বলেছেন শহরের মানুষগুলোর মত গ্রামের মানুষগুলো এরকম মুখোশধারী নয়। তারা খুবই সহজ সরল হয়ে থাকে। চমৎকার কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন আপনি। সবগুলো ফটোগ্রাফির মনোমুগ্ধ ছিল।প্রাকৃতিক ফটোগ্রাফি গুলো আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। এত সুন্দর ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
প্রকৃতির ফটোগ্রাফি গুলো দারুন হয়েছে ভাইয়া।সবুজ প্রকৃতির ফটোগ্রাফি আমার কাছে খুব ভাল লাগে।আপনার শেয়ার করার ফটোগ্রাফি গুলোর জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
একদম, গ্রাম বাংলার সবুজ প্রকৃতির দৃশ্য আসলেই ভালো লাগার মত।
আসলে আমিও সেটাই মনে করি গ্রাম বাংলার জীবন যাত্রার মান কি রকম হতে সেটা সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে নিজ চোখে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়। তবুও তাদের মাঝে একটা বন্ধন রয়েছে সেটা হচ্ছে আত্মার বন্ধন যেটা কখনো ভেঙে যাওয়ার নয়। সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি আপনি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন দেখে খুবই ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে
গ্রামে সকলের মধ্যে একাত্মতা দেখে আসলেই অনেক ভালো লাগে। অত্যন্ত সহজ সরল তাদের জীবন।