ভাত নাটকের রিভিউ
প্রিয় বন্ধুগন, সবাই কেমন আছেন? আজকে আপনাদের মাঝে একটি নাটক রিভিউ নিয়ে হাজির হলাম। আশা করছি নাটক রিভিউটি পড়ে আপনাদের ভালো লাগবে।
| ভাত নাটকের রিভিউ। |
|---|
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য |
|---|
| নাটকের নাম | ভাত |
|---|---|
| পরিচালক | জাকিউল ইসলাম রিপন |
| অভিনয় | শামিম হাসান সরকার, তানিয়া বৃষ্টি, মনিরা মিঠু সহ আরো অনেকে |
| ভাষা | বাংলা |
| মুক্তির তারিখ | ০৯ মে ২০২৪ |
আপনারা নাটকটির নাম শুনে বুঝতে পেরেছেন নাটকটি কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। প্রথমে নায়ক কে দেখানো হয়, সে গ্রাম থেকে শহরে এসেছে চাকরির সন্ধানে। শহরে এসে সে একটি বস্তিতে বসবাস শুরু করে। নায়ক ছোটখাটো একটি কাজ পেল। তার কাজটি কিছুদিন চলমান থাকলেও, পরে কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে নায়িকা এবং তার আম্মু ঘরের মধ্যে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ভাত রান্না করে। তারা তিন হাজার টাকা করে মাস কন্ট্রাকে সবাইকে খাওয়ায়। মাসের শেষে যখন সবাই বেতন পায় তখন সবাই টাকা পে করে দেয়। নায়ক যখন নায়িকার ঘরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল তখন সাইনবোর্ডটি দেখলো। তখন পর্যন্ত নায়ক তিনদিনের উপবাস, শুধু পানি খেয়ে বেঁচে আছে। সাইনবোর্ড পড়ে নায়ক ভিতরে প্রবেশ করল।
নায়ক মাস কন্টাকে খাওয়ার প্রস্তাব রাখল নায়িকার মায়ের কাছে, পাশে নায়িকাও ছিল। নায়িকার মা পরিচিত একজনের সুপারিশ চাইলো, কিন্তু নায়কের কোন পরিচিত কেউ নেই কারণ সে নতুন এসেছে। তাই নায়িকার মা নায়ককে বাদ দিয়ে দিল, পরে নায়িকা নিজে গ্যারান্টেড হয়ে তাকে খাওয়ার জন্য সুপারিশ করলো। নায়ককে যখন খাওয়ার জন্য বলল, তখন তার খাওয়া দেখে সবাই হতবাক হয়ে গেল, তিন দিনের উপবাস মানুষের খাবার গতি সবাইকে চমকে দিল।
কিছুদিন খাওয়ার পর নায়ক উধাও হয়ে গেল। তখন নায়িকার মা নায়িকাকে বকাঝকা করলো। তখন নায়িকা নায়কের এড্রেস নিয়ে তার বস্তিতে গেল। সেখানে গিয়ে প্রথমে নায়িকা নায়ককে বকাঝকা করতে লাগলো। তখন নায়ক বলল সে তিন দিনের উপবাস, তারপরও নায়িকা বকাঝকা করতেছে পাওনা টাকার জন্য। তখন নায়ক তার মায়ের শেষ সম্বল কানের দুল দিয়ে বলে বিক্রি করে টাকা নিতে। তখন নায়িকা শান্ত হয়, এবং দেখলো তার প্রচন্ড জ্বর। তখন নায়িকা নিজেই নায়ককে ওষুধ এবং খাবার দেয়।
এরপর নায়কের ভালো একটি চাকরির ইন্টারভিউর ডাক পড়লো, তখন সে নায়িকার মাকে গিয়ে সালাম করে দোয়া নিয়ে ইন্টারভিউ দিতে যায়। নায়কের ভালো পোশাক না থাকা নায়িকা ভালো পোশাক কিনে দেয়। অবশেষে চাকরি হলো, বেতন পঞ্চাশ হাজার টাকা। তখন সে সবাইকে মিষ্টি বিতরণ করে।
অফিসে জয়েন করার পরেও, যখন নায়িকা তার জন্য খাবার নিয়ে যায় তখন বস এবং বসের মেয়ে নায়িকাকে অনেক বেশি হেওনাস্ত করে। তখন নায়িকা দারোয়ানের কাছে খাবার রেখে যেত। তখন বসের মেয়ে নায়ককে তার সাথে খাওয়ার জন্য বলে, পরে নায়ক বাধ্য হয়ে যেতে হয়। একসময় নায়িকা প্রতিদিন খাবার নিয়ে এসে গরিবদের মাঝে বিতরণ করে, আর সবার কাছে নায়কের জন্য দোয়া চায়। হঠাৎ একদিন নায়ক তা জানতে পারল।
এরপর নায়ক যখন তার গাড়ি নিয়ে বের হয় তখন দেখল রাস্তা অনেক মানুষ জড়ো হয়ে আছে। সে গাড়ি থেকে নেমে দেখল নায়িকা অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে মারা গেল সেখানে। এবং টিফিন বক্সের ভাতগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রইল রাস্তায়। তখন নায়ক নায়িকাকে ধরে কান্নাকাটি করলো। এখানেই নাটকের ইতি ঘটলো।
আমার ব্যক্তিগত মতামত।
এ নাটকটি সত্যিই অসাধারণ একটি নাটক ছিল। এ নাটকটি অনেকটা শিক্ষনীয় নাটক। গ্রাম থেকে হাজারো ছেলে শহরে আসে চাকরির সন্ধানে। চাকরির না পেয়ে বস্তিতে বসবাস করে। অনেক বেলা তারা না খেয়ে থাকতে হয়। এভাবে দিন কাটে অসংখ্য মানুষের। তবে শামীম হাসান সরকারের অসাধারণ দক্ষতা এই নাটকটি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। চাকরির ভাইভার সময় অসাধারণ কথোপকথনের মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে নায়ক তার চাকরি কনফার্ম করলো। তবে খুব দুঃখের বিষয় হচ্ছে, নায়িকা প্রতীক্ষায় থাকা। অবশেষে নায়িকার অ্যাক্সিডেন্টের মধ্য দিয়ে নাটকটির শেষ করে আসলেই দর্শকদেরকে অনেকটা দুঃখ দিয়েছে। এক কথা অসাধারণ একটি নাটক ছিল
| আমার ব্যক্তিগত মতামত অনুসারে নাটকের রেটিংঃ |
|---|
৯.৯/১০
সমাপ্ত
ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের মত এখানে বিদায় নিচ্ছি।আগামিতে অন্য কোন নাটকের রিভিউ নিয়ে আবারও হাজির হবো। ভালো থাকবেন সবাই। আর কষ্ট করে রিভিউটি যারা পড়ছেন তাদেরকে ধন্যবাদ।
সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানেই শেষ করছি।
নিজেকে নিয়ে কিছু কথা
আসসালামু আলাইকুম, আশা করি সবাই ভালো আছেন। প্রথমেই সবাইকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। আমি তাহেরুল ইসলাম, আমার স্টিমিট ইউজার আইডি হল - @ti-taher। আমি ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেছি। বর্তমানে ফেনী শহরে অবস্থান করছি। আমি ফেনীতে পড়াশোনা করেছি এবং বড় হয়েছি। আমি একজন ভ্রমণপ্রিয় মানুষ, আমি ভ্রমণ করতে এবং ছবি তুলতে ভালোবাসি। নতুন জায়গায় ঘুরতে আগ্রহী, নতুন জায়গায় ঘুরতে এবং নতুন কিছু আবিষ্কার করতে ভালোবাসি। আমি বই পড়তেও ভালোবাসি, অনেকে আমাকে বই পোকাও বলে থাকে। আমি কবিতা, গল্প, উপন্যাস এবং বৈজ্ঞানিক বই সহ সব ধরনের বই পড়তে পছন্দ করি। আমার প্রিয় কবি "কাজী নজরুল ইসলাম"। প্রিয় কবিতা "বিদ্রোহী"।( ফি আমানিল্লাহ)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy


https://twitter.com/titaherul/status/1796217380810760219?t=HZjPjamsKCu2kd2EnmsSWA&s=19
খুব সুন্দর একটি নাটক আজকে আপনি আমাদের মাঝে রিভিউ করে দেখিয়েছেন ভাইয়া। এ সমস্ত নাটকগুলো আমার খুবই ভালো লাগে। আর সবচেয়ে আমি বেশি পছন্দ করে যে সমস্ত নাটকগুলোর মধ্যে শিক্ষনীয় বিষয় থাকে। এত সুন্দর একটি নাটক রিভিউ করে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আমার নাটকের রিভিউটি পড়ে আপনি আপনার মূল্যবান মন্তব্য উপস্থাপন করার জন্য। এ নাটকের মধ্যে অসংখ্য শিক্ষা রয়েছে। যদি সময় সুযোগ হয় তাহলে অবশ্যই নাটকটি দেখে নিবেন।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
বাংলা নাটক দেখা বাদ দিয়েছি অনেক দিন হলো। এই নাটকের কাহিনী টা বেশ ভালো। পাশাপাশি নাটকটা যে ভাব টা প্রকাশ করার জন্য করা হয়েছে সেটাও ফুটে উঠেছে। শেষে নায়িকার মৃত্যু টা খুবই হৃদয়বিদারক। নায়কের সব হলেও তখন আর নায়িকা থাকতে পারিনি। দারুণ রিভিউ করেছেন নাটক টার। ধন্যবাদ আমাদের সাথে শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে নাটকের রিভিউটা পড়ে আপনার মূল্যবান মন্তব্য উপস্থাপন করার জন্য। নাটকের নাম অনুসারে গল্পের সার্থকতা ফুটে উঠেছে। সবকিছু মিলিয়ে দারুন একটি নাটক ছিল।
এই নাটকের নামটি দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। খুবই ভালো লাগেছে আমার কাছে। হাসি কান্না সব যদি একটি নাটকের মধ্যে থাকে তাহলে ওই নাটকটি দেখতে খুবই সুন্দর হয়। বেশ ভালো লিখেছেন ভাই।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মন্তব্য দেওয়ার জন্য। নাটকের মূলভাবটি ছিল খুব সুন্দর। একটা শিক্ষনীয় বিষয়ের মধ্য দিয়ে নাটকটির পরিসমাপ্তি হয়।
খুব সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন আপনি। আপনার কাছ থেকে বেশ অসাধারণ একটি নাটকের রিভিউ দেখতে পেলাম৷ আগে কখনো আমি এই নাটকটি দেখিনি৷ এই নাটকের রিভিউও কখনো দেখিনি ৷ এই প্রথম আপনার কাছ থেকে এই নাটকটির রিভিউ দেখে নিলাম৷ খুবই সুন্দর হয়েছে নাটকটি৷ অবশ্যই চেষ্টা করবো এই নাটকটি দেখে নেওয়ার।