নাটক রিভিউ // বালক বালিকা
আসসালামু আলাইকুম/আদাব আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গন আমি @kibreay001 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (০৪-০৮-২০২৪)
| নাটকের নাম | বালক বালিকা |
|---|---|
| পরিচালক | জাকারিয়া শোখিন |
| অভিনয় | জোভান , তানজিন তিশা |
| দৈর্ঘ্য | ৪৫ মিনিট ৩১ সেকেন্ড |
| ভাষা | বাংলা |
| মুক্তির তারিখ | ১৪ মে ২০২১ ইং |
বালক বালিকা এ নাটকটি আমি কিছুদিন আগে দেখেছিলাম সত্যি আমার কাছে দেখতে বেশ ভালো লেগেছিল। নাটকের শুরুতেই নায়িকা একটি অটোরিকশা চালাতে ছিল রাস্তার। সেই সময় নায়ক জোভান সাইকেল চালিয়ে রাস্তা দিয়ে যেতে ছিল। হঠাৎ নায়িকা অটো রিক্সার ব্যালেন্স হারিয়ে নায়ক জোভানের সাথে ধাক্কা মারে। নায়ক জোভানের হাত কেটে যায় সাথে সাথে ডক্টরের কাছে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক ভাবে ট্রিটমেন্ট করেছিল। সেখান থেকে পরবর্তীতে বাসায় ফিরে নায়ক শুধুমাত্র অটোরিকশা চালাতে ছিল নায়িকা সেই মেয়েটির কথাই ভাবতে থাকে। সে মেয়েটি আর কে নয় নায়িকা তানজিন তিশা। পরবর্তী সময়ে নায়িকা যখন প্রাইভেট পড়তে যায় জোভান সাইকেল নিয়ে নায়িকার পিছনে ফলো করতে থাকে। পরে নায়িকা ডেকে নায়কের কাছে সেদিনের ঘটনার জন্য সরি বলেছিল। সত্যি নাটকটি প্রথম থেকেই বেশ রোমান্টিক ছিল।
পরবর্তীতে নায়ক জোভান অনেক খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে মেয়েটি সায়েন্সের স্টুডেন্ট। কিন্তু নায়ক জোভান হচ্ছে কমার্সের স্টুডেন্ট। পরে নায়ক জোভান তার এক বন্ধুকে ফোন দিয়ে ডেকে বন্ধুকে অনেক রিকোয়েস্ট করে দুইজন বন্ধু সাইন্স এর বই কিনে সাইন্সের স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়বে। প্রথমে সেই বন্ধু রাজি হয়েছিল না জোভান অনেক আকুতি মিনতি করেছিল। পরে নায়ক বাড়িতে এসে তার মায়ের কাছ থেকে মিথ্যা কথা বলে টাকা নিয়েছিল সাইন্সের বই কেনার জন্য। পরবর্তীতে সেই মেয়েটির সাথে একই স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়া শুরু করেছিল। বাড়ি ফেরার পথে মেয়েটি নায়কের দিকে তাকিয়ে ছিল তখন আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়েছিল।
এভাবে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পরে নায়ক এবং নায়িকার মধ্যে চিঠি আদান-প্রদান হয়। প্রথমে নায়ক একটা চিঠি দিয়েছিল নায়িকাকে কিন্তু প্রথমে সেই চিঠিটা নায়িকা নেওয়া আগ্রহ করেছিল না কিন্তু নায়িকার বান্ধবী নিয়েছিল। পরবর্তীতে দুজন স্কুলে গিয়ে সেই চিঠি খুলে দেখে নায়িকা বলে এত বড় চিটিং আমাদের সাথে দাঁড়াও মজা দেখাচ্ছি। পরবর্তীতে নায়িকা সেই চিঠির মতোই আরেকটি ফাকা চিঠি দিয়েছিল নায়কের সাথে চ্যাটিং করার জন্য। নায়ক চিঠি পেয়ে বলে এই চিঠির মধ্যে না বলা অনেক কথা লেখা আছে। পরবর্তীতে নায়িকা রাতে ঘুমাতে পারে না শুধুমাত্র সেই চিঠিটা হাতে নাড়তে থাকে। এভাবেই প্রেম কাহিনী শুরু হয়েছিল।
অবশেষে নায়ক খোঁজ নিয়ে নায়িকার বাড়ির ঠিকানা পেয়ে যায়। নায়িকা যখন পড়তে বসেছিল তখন জানালা দিয়ে বাইরের দিকের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যেত। নায়ক ঠিক নায়িকার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতো একটি বার দেখা করার জন্য। কিন্তু হঠাৎ এক সময় নায়িকার বাবা সবকিছু দেখে ফেলে। পরবর্তীতে নায়িকা কে জিজ্ঞেস করেছিল কিন্তু নায়িকা মিথ্যা কথা বলতে বাধ্য হয়েছিল। অবশেষে নায়িকা এসে নায়কের সাথে কথা বলে সেখান থেকে চলে যেতে অনুরোধ করেছিল। বেশ কিছুদিন পরে তাদের পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছিল নায়ক পরীক্ষায় ফেল করেছিল। নায়ক পরবর্তীতে নায়িকার সাথে কথা বলতে চেয়েছিল কিন্তু নায়িকা বলে তোমার সাথে আমার কোন কথা নেই। সত্যি এই কথাটা নায়কের কাছে বেশ খারাপ লেগেছিল।
নায়ক অবশেষে নায়িকার বান্ধবীর সাথে কথা বলে নায়িকার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। কিন্তু নায়িকা বলে তার বাবা শুধুমাত্র এখানে ট্রান্সফার হয়ে আসছে তার একটা বড় বোন আছে প্রেম করে সেই ছেলের হাত ধরে চলে গেছে বলে বাবা সেই বোনের পরিচয় ও দেয় না। তাই নায়িকা এই বিষয়ে বেশ ভয় পাচ্ছিল। কিন্তু নায়িকার বাবা এসব কিছু কথা শোনার পরে । মেয়েকে নিয়ে এখান থেকে নিয়ে আবার অন্য জায়গায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু নায়ক সেই সময়ে এসে নায়িকার হাত ধরে অনেক কান্নাকাটি করেছিল। সত্যি বলতে তারা দুজন দুজনকে ভালোবাসতো কিন্তু এ কথা কখনো তারা দুজন বলতে পারেনি।
অবশেষে নায়িকার বাবা নায়িকাকে ভালো একটি পাত্র দেখে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিল। হঠাৎ একদিন একটা রেস্টুরেন্টে নায়িকার সাথে দেখা হয়ে যায় নায়কের। অবশেষে নায়ক বলে আমি তোমাকে অনেক খুজেছি অনেক ভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি কোথাও তোমাকে খুঁজে পাইনি। নায়ক অবশেষে তার পকেট থেকে নায়িকার দেওয়া ফাঁকা চিরকুট বের করেছিল নায়িকাকে ফেরত দিল নায়িকা সেই চিরকুট হাতে নিয়ে কেঁদে ফেলেছিল। অবশেষে নায়িকার হাসবেন্ড তাকে জিজ্ঞেস করেছিল শুধু কি তোমার বন্ধু ছিল নাকি বয়ফ্রেন্ড। নায়িকা বলে বয়ফ্রেন্ড ছিল না কিন্তু আমি ছেলেটাকে অনেক ভালবাসতাম কখনো বলাই হয়নি। আসলে নাটকটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
বালক বালিকা এই নাটকটি দেখার পরে আমার কাছে সত্যিই অনেক ভালো লেগেছে। একজন তার ভালোবাসার মানুষের জন্য তার জীবনের লক্ষ্যকে হারিয়ে ফেলে। নায়ক নায়িকার দুজনের ভালোবাসার মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় শুধু নায়িকার বাবা। শুধু ভালবেসে বিয়ে করার জন্য তার বড় মেয়েকে নিজের মেয়ে বলেও স্বীকৃতি দেয় না। তবে যদি শেষের দিকে নায়ক এবং নায়িকার বিয়ে হলে নাটকটি আরও বেশি রোমান্টিক হতো আমার কাছে মনে হয়।
এই নাটকটিতে আমি আমার ব্যক্তিগত রেটিং পয়েন্ট দিতে চাই ১০/৮.৫
আমি মোঃ কিবরিয়া হোসেন। আমি বাংলাদেশ খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানা কামারখালী গ্রামে বসবাস করি। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি বর্তমানে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলতে এবং লিখতে অনেক ভালোবাসি। সব থেকে আমি বেশি পছন্দ করি ফটোগ্রাফি করতে। আমি বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন জায়গা ঘোরাঘুরি করে থাকি। কয়েকটি শখের মধ্যে আমার প্রধান শখ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করা। সংক্ষিপ্ত আকারে আমি আমার নিজের পরিচয় শেয়ার করলাম আপনাদের মাঝে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
x-promotion
নাটক দেখতে আমার খুবই ভালো লাগে।আজকে আপনি বেশ সুন্দর একটি নাটক রিভিউ করেছেন ভাইয়া।যদিও নাটক টি দেখা হয় নি তবে আপনার লেখা নাটকের গল্প টি পড়ে খুবই ভালো লাগলো।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
খুব সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করেছেন ভাইয়া। আগে নাটক তেমন দেখা হতো না, কিন্তু এখন রিভিউ শেয়ার করার উদ্দেশ্যে নাটক দেখা হয়। যাইহোক ভালো লাগলো নাটকটি রিভিউটি। ধন্যবাদ আপনাকে ভালো থাকবেন।
আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে বেশ খুশি হলাম ধন্যবাদ আপু।
খুব চমৎকার একটি নাটক আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। যদি ওই নাটকটা আমি এর আগে দেখি নাই তবে নাটকের রিভিউ পড়ে বেশ ভালো লাগলো। এত সুন্দর একটি নাটক আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
নাটকটি দেখার জন্য আপনার আপনার আমন্ত্রণ রইল। ধন্যবাদ মতামত প্রকাশ করার জন্য।