ব্যস্ত সময়
দুদিন হলো গ্রামে এসেছি, মূলত কিছু ব্যক্তিগত কাজে। তাছাড়াও যেহেতু এই সময়টাতে গ্রামের লোকজন ভীষণ ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে ধান মাড়াইয়ের কাজে, বলতে গেলে নিজেরদের আবাদি জমির ফসল সংক্রান্ত ব্যাপারে তদারকির জন্যই এখানে আসা। হয়তো আরো কিছুটা দিন থাকা লাগতে পারে এখানে।
এই কাজগুলো করা যে, কতটা পরিমাণ কষ্টদায়ক তা হয়তো যারা স্বচক্ষে দেখেছে বা করেছে, তারা বেশ ভালোভাবেই এটা জানে। একসময় শুধু আমি দেখেই গিয়েছিলাম, কখনো সেভাবে এই কাজগুলো করে ওঠা হয়নি, তবে এখন যখন বাস্তবে এই কাজগুলো তো সম্পৃক্ত হয়েছি,তখন যেন ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা প্রতিনিয়ত বেড়েই যাচ্ছে।
যদিও সকলের সম্মিলিত কাজ, তারপরেও এই কাজগুলোতে কায়িক পরিশ্রম হয় প্রচুর। যেটা আমি আপনি সাধারণভাবে চিন্তা করেও পারবো না। একটা বার ভেবে দেখুন, ৫০০ টাকার জন্য সারাদিন ৫০ কেজি ওজনের বস্তা ধান ভর্তি করে, সেটা কাঁধে নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া। একদম অমানবিক কায়িক পরিশ্রম।
যদিও তদারকি করেছি স্বচক্ষে, তবে যখন নিজের হাতে দু-একবার সেই কাজে হাত লাগানোর চেষ্টা করেছিলাম, তখন বুঝেছিলাম কষ্ট কাকে বলে। বাপ রে বাপ, আমার এখনো হাত-পা এবং কাঁধ বেশ ভালোই ব্যথা করছে। হঠাৎ এই কাজগুলো করে, বলা যায় খানিকটা আমি অসুস্থই হয়ে গিয়েছি।
তারপরেও প্রান্তিক মানুষ গুলোর জন্য, আলাদা একটা সম্মানের স্থান নিজের মাঝে তৈরি হয়েছে। তাদের ইনকামের প্রতিটা পয়সা, একদম কঠিন পরিশ্রমের। যেখানে হয়তো বিন্দুমাত্র ফাঁকিবাজি নেই। শরীরের রক্ত-ঘাম পানি করে, প্রতিনিয়ত উপার্জন করতে হয় এই মানুষগুলোকে। আর সেই উপার্জনের টাকা দিয়েই তাদের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে।
প্রতিবারই তদারকি করতাম কিন্তু কখনোই সেভাবে, এই কাজগুলোতে সশরীরে যুক্ত হতে হতো না। তবে দিন যত যাচ্ছে, এক প্রকার বাধ্য হয়েই অনেক দায়িত্ব নিজেকে বুঝে নিতে হচ্ছে, তাই হয়তো এবারের প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে থাকবে বহুদিন।
জায়গাভেদে জীবন সত্যিই বেশ অদ্ভুত। শহর অঞ্চলের যান্ত্রিক জীবনে, যান্ত্রিকতায় যেমন পিষে যাচ্ছি তেমনটা আবার গ্রামে আসলে অনেকটাই যেন মুক্ত পরিবেশের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলছি। জীবনে এই ভারসাম্য বজায় রাখাটা খুবই জরুরি । তা না হলে, বেঁচে থাকাটা যেন অনেকটা অনর্থক মনে হয়।
যদিও ব্যস্ত সময় যাচ্ছে, তারপরেও উপভোগ করার চেষ্টা করছি, প্রতিটা মুহূর্তকে।
ডিসকর্ড লিংক
https://discord.gg/VtARrTn6ht
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
VOTE @bangla.witness as witness
OR
https://twitter.com/sharifShuvo11/status/1732288666847019477?t=jdPZLuVSC7qAc2e358QjHA&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
যতটুকু ভালো লেগেছে আপনার পোস্টের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে, তার চেয়েও বেশী ভালো লেগেছে আপনার উদ্দীপনা দেখে। বেশ ভালোই করেছেন নিজেও কিছুটা অনুভব করে নিলেন যে কি কষ্ট হয় প্রান্তিক কৃষকদের। আমরা তো বুঝি না কত কষ্ট করে এসব কাজ করতে হয়। আর একটি কথা না বললেই নয় ভাইয়া, আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে তো বেশ ছুটে যেতে মন চাইছে গ্রামের এমন পরিবেশে।
একটু না বেশ ভালই কষ্ট হয় প্রান্তিক কৃষকদের, মোটামুটি আমার শরীর বেশ ভালই কাহিল হয়ে গিয়েছে আপু।
হ্যাঁ সোনালী ধান ঘরে ওঠানোর কাজে কৃষকেরা ব্যস্ত রয়েছে। প্রতিটা জায়গায় সোনালী ধান কাটায় কৃষকেরা ব্যস্ত তাদের সেই মুহূর্তের বিষয়টি আপনি ভালই উপলব্ধি করেছেন দেখছি। সত্যিই কৃষকের কষ্টের এই কাজ চিন্তা ভাবনা করে দেখলে সত্যিই তাদের পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক খুবই কম তবুও তাদের মুখে অনেক হাসি । তাদের জীবন যাপন খুবই সুখের ভালো লাগলো দেখে।
এটা সত্য, তাদের পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক আসলেই বেশ কম।
বর্তমান গ্রামের সৌন্দর্য খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, আপনার লেখা ও ছবিতে। গ্রামের যে মানুষ গুলো কৃষি শ্রমের সাথ যুক্ত তাদের আমি সোনা মানুষ বলি। তারা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে বলেই আমাদের মুখে অন্ন জোটে। আমিও গত কয়েকদিন থেকে গ্রামে অবস্থান করছি। শীত উপেক্ষা করে কি পরিশ্রমেই না করছে প্রান্তিক মানুষ গুলো। তাদের সেলুট। লেখাটি শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে।
আসলেই তারা স্যালুট পাওয়ার যোগ্য আপু । তারা আছে বলেই আমরা বেঁচে আছি।
আসলে দূর থেকে দেখলে আমরা অনেক কিছুই উপলব্ধি করতে পারি না,কিন্তু আমরা যদি কোনো কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হই,তাহলে সেটা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি। আসলেই এতো কায়িক পরিশ্রম করার পর মাত্র ৫০০ টাকা পায় দিনে,এটা ভাবতে আসলেই অবাক লাগে। তারা হাড়ে হাড়ে টের পায় কায়িক পরিশ্রম কাকে বলে এবং টাকার মূল্য কতটুকু। যাইহোক তদারকি করতে গ্রামে গিয়ে বেশ ভালো করেছেন,কারণ নিজের হিসাব নিজে বুঝে নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। আশা করি ব্যস্ততার মাঝেও কয়েকটা দিন গ্রামে বেশ ভালো সময় কাটাতে পারবেন। আপনার জন্য শুভকামনা রইল ভাই।
তদারকি করতে এসে ভাই, অনেকটা বলতে পারেন ফেঁসে গিয়েছি। তবে অভিজ্ঞতা হয়েছে ভিন্নরকম।