আবোল তাবোল জীবনের গল্প [ স্বার্থ হাসিলের মানসিকতা ]
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন অথবা ভালো থাকার চেষ্টা করছেন। না না চেষ্টার কথাই বললাম কারণ এটা অধিক ভদ্র শব্দ আর অভদ্র শব্দ কোনটা? জ্বী জ্বী সেটাও বলছি, সেটা হলো অভিনয় করা। নিশ্চয় ভালো থাকার অভিনয় শব্দটা শুনার চাইতে চেষ্টা শব্দটা বেশী ভালো লেগেছে, হি হি হি সেটা বুঝেই বলেছি আমি। আজকে পুনরায় কিছু বাস্তবতার কথা বলবো আবোল তাবোল জীবনের গল্পের ব্যানারে। অনেক দিন হয়ে গেলো বাস্তবতার আলোকে জীবনের অভিজ্ঞতার গল্প শেয়ার করা হচ্ছে না। আসলে লেখার খুব একটা টাইম পাচ্ছি না, টাইমের পেছনে ছুটতে ছুটতে বেশ ক্লান্ত হয়ে গেছি, ডাক্তারের পরামর্শে ক্যালসিয়ামের ঔষধ খাচ্ছি, হি হি হি।
আমাদের সমাজটা দেখুন, সমাজের চারপাশের মানুষগুলোকে দেখুন, না না না থাক সমাজের চারপাশের মানুষগুলোকে দেখার দরকার নেই, কাকে দেখতে গিয়ে আবার কি দেখে ফেলবেন পরে আমার নামে নালিশ করে মামলার ঝামেলায় ফেলে দিবেন। তার চেয়ে ভালো আপনার চারপাশে যারা আছেন তাদের দিকে লক্ষ্য করুন। যখন কারো সমস্যা ছিলো বা কারোর কোন ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন ছিলো তখন তাদের ব্যবহার কিংবা মানসিকতা কেমন ছিলো? কতটা সুন্দর আচরণ কিংবা ব্যবহারের দ্বারা তারা আপনাকে মুগ্ধ করার চেষ্টা করেছিলো এবং আপনার নিকট হতে কতটা সুন্দর ভাবে তাদের চাহিত বিষয়টি আদায় করে নিয়েছিলো?
এটা একটা নির্মম ও জ্বলন্ত সত্য, আমাদের যখন কারো কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হয় কিংবা আমাদের কোন সমস্যা জীবনের গতিকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে তখন আমরা অন্যের দ্বার প্রান্তে ছুটি এবং যেমনভাবেই হোক তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করি, ভিন্ন মানসিকতা কিংবা নিজের আত্ম সম্মান বলি দানের বিষয়টি তখন মোটেও আমাদের মাথায় থাকে না, কারন তখনতো আমার মাথায় একটা বিষয়ই কাজ করে আর সেটা হলো অমুকের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং যে কোন উপায়ে হোক নিজের সমস্যা দূর করতে হবে। এটা আমরা প্রায় সবাই করে থাকি এবং সকলের মাঝে একই ধরনের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান আছে মানুষ হিসেবে, হ্যা এখানে মানুষ হিসেবে আমরা সবাই প্রায় সমান অবস্থানে আছি।
কিন্তু তারপর? তার পরের দৃশ্যগুলো দেখুন কিংবা কল্পনা করার চেষ্টা করুন? আপনার সহযোগিতা নিশ্চিত হওয়ার পর কিংবা তার সমস্যা দূর হওয়ার পর তার মানসিকতা কতটা আগের মতো আছে কিংবা তার ব্যবহার কতটা নতুন রূপ ধারণ করেছে? নিশ্চয় সেটা একদমই আগের অবস্থানে নেই কিংবা নতুন সেই ব্যবহারটা এখনো বিদ্যমান নেই? এটাও আমাদের মানুষদের বর্তমান সময়ের অন্যতম একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য, সহযোগিতা কিংবা চাহিত বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা আর আগের অবস্থানে থাকি না, নিজেকে আর আগের মতো দুর্বল ভাবতে চাই না, মুহুর্তের মাঝেই গিরগিটির মতো আমাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, আমাদের ব্যবহার তার মাধুর্য হারিয়ে ফেলে।
আসলে একটা কথা আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে, সেটা হলো স্বার্থ শেষ হওয়ার সাথে সাথে নতুন অধ্যায় শুরু হয় আর সেটা হলো বদনামের। আমাদের স্বার্থ হাসিল হওয়ার পরই আমরা পাল্টে যেতে শুরু করি এবং যার মাধ্যমে কিংবা যার সহযোগিতা নিজেদের সমস্যার সমাধান টানলাম তাকেই নতুনভাবে আঘার করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়ে গেলাম। কি আশ্চর্যজনকভাবে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটে, কতটা নির্মমভাবে আমরা উপকারীর অপকার করার চেষ্টা করি। অথচ তার থেকে সুবিধা কিংবা স্বার্থ হাসিল করার সময় আমাদের ব্যবহার কতটা সুন্দর ছিলো, আমরা কতটা সংযতভাবে তার নিকট হতে সুবিধা আদায় করার চেষ্টা করেছি। এটা এখন আমাদের স্বভাব জাত বৈশিষ্ট্য হয়ে গেছে, না এটা মোটেও আমাদের বৈশিষ্ট্যের মাঝে ছিলো না বরং ভালোবেসে এটাকে আমরা নতুনভাবে সংযুক্ত করেছি।
বাস্তবতা সত্যি নির্মম, আমরা যতটা বলি বা প্রকাশ করি তার চেয়ে অধিক নির্মম। আপনার চারপাশের মানুষগুলোর দিকে তাকান, প্রতি নিয়ত এর যথার্থতার প্রমাণ পাবেন, প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদাহরণ কিংবা অভিজ্ঞতার স্বাদ নেয়ার সুযোগ পাবেন। হয়তো সময়ের সাথে সাথে আমরা আমাদের চরিত্র পরিবর্তন করি, হয়তো সময়ের সাথে সাথে নিজেদের পরিবর্তন করে স্বার্থ হাসিল করার পাঁয়তারা করি, তারপর নিজের স্বার্থ শেষ হলেই তাকে ভিন্নভাবে আঘাত করার চেষ্টা করি। স্বার্থ যতক্ষন আছে ততক্ষন ব্যবহারের মাঝে মাধুর্যতা আছে, আর স্বার্থ ফুরানোর সাথে সাথে সেখানে ভালোবাসার ঘাটতি দেখা দেয় এবং উপকারীর বদনাম রটানোর সুযোগ তৈরী করার চেষ্টা করতে থাকি।
আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের উন্নত করছি, সেটা শিক্ষায় কিংবা পোষাক আসাকের মাধ্যমে হোক অথবা অর্থ সম্পদের মাধ্যমে হোক কিন্তু আমাদের মানসিকতা সেটা আগের অবস্থানেই রযে যাচ্ছে, স্বার্থের তাগিদে মাঝে মাঝে সেটাকে ভিন্ন রঙে উপস্থাপন করছি আর স্বার্থ হাসিল হওয়ার পর নতুনভাবে সেটাকে প্রকাশ করছি। পরিবর্তন আসুক আমাদের মানসিতায়, পরিবর্তন আসুক আমাদের ভাবনায়। আজ এখানে শেষ করছি, পরবর্তীতে দেখা হবে নতুন কোন বিষয় নিয়ে।
Image taken from Pixabay 1 and 2
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
সময়ের সাথে দৌড়াতে দৌড়াতে আজ আপনি ক্লান্ত। তাই ক্যালসিয়াম খাচ্ছেন। ভাইয়া বেশী করে কলমী শাক খান। তাহলে ক্যালসিয়ামের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। আপনার করা আবোল তাবোল জীবনের গল্প গুলো পড়তে আমার কিন্তু বেশ ভালো লাগে। এসব গল্পের মধ্যে আনেক বাস্তবতার ছোঁয়া পাওয়া যায়। সমাজের মানুষের দিকে তো তাকাতেই হবে। কারন আজ কাল মানুষের যে স্বভাব। ঐ যে বলে না কাজের সময় কাজী আর কাজ ফুরালে পাজি। এই আর কি। স্বার্থ স্বিদ্বীর জন্য যে মানুষ কত রূপ ধারন করতে পারে তা কেবল আমি নিজেই জানি। ধন্যবাদ ভাইয়া মানুষের এত সুন্দর বাস্তব রূপটি তুলে ধরার জন্য।
ভাই আপনারা আবোল তাবোল জীবনের গল্প পড়তে ভাল লাগে। বিশেষ করে প্রথম দিকে বিনোদনমূলক যে কথাগুলো বলেন অনেক মজা পাই। আস্তে আস্তে যখন বাস্তবিক জীবনের তথ্যবহুল বিষয়টি তুলে ধরেন সত্যিই সেটা জীবনের সাথে মিলে যায়। এরকম অনেক ধরনের লোক আছে যারা স্বার্থ হাসিলের জন্য তার সাথে বা আমার সাথে ভালো ব্যবহার করবে যখন তাদের স্বার্থ হাসিল হয়ে যাবে তারা তাদের পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। আসলে তাদের এই অন্তর্নিহিত রূপটাই বুঝে উঠতে পারি না কারণ তার উপকারের বিষয়টি বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি অনেক ভালো লেগেছে ভাই।
আবোল তাবোল জীবনের গল্পের আড়ালে বেশ ভয়ঙ্কর কিছু সত্যি কথা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাইয়া।অকৃতজ্ঞতা তো মানুষের বড় একটি রোগ। স্বার্থ হাসিল হওয়া পর্যন্ত যা করতে প্রয়োজন মানুষ তাই করে।কিন্তু যখন প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়,ঠিক তখনি শুরু হয় আসল কাহিনী।কিভাবে সেই মানুষটির অপকার করা যায় তার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করতে থাকেন মানুষ নামের সেই অকৃতজ্ঞ।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।
ভাইয়া আপনি সব সময় জীবনের বাস্তবতা থেকে লিখেন তাইতো আপনার লেখাগুলো পড়তে বেশি ভালো লাগে। আসলে মাঝে মাঝে আমরা মানুষ চিনতে ভুল করে ফেলি। হয়তো স্বার্থ হাসিল হলে মানুষের চেহারা বদলে যায়। আসলে তারা এতটা নিখুঁত অভিনয় করে যে তাদের আসল চেহারা বুঝতে পারা যায় না। যাই হোক ভাইয়া অনেক ভালো লাগলো আপনার লেখাগুলো পড়ে। একদম চিরন্তন সত্য কথা আপনি আপনার লেখার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
আমার কাছে মনে হয় স্বার্থ আর সংযত এরা আপন ভাই বোন।কারণ স্বার্থ আসলেই সংযত হয়,এরপর কি হয় তা আর না ই বা উল্লেখ্য করলাম।
Congratulations, your post has been upvoted by @dsc-r2cornell, which is the curating account for @R2cornell's Discord Community.
ভাইয়া, আপনি খুবই বাস্তবসম্মত এবং যুক্তিসম্মত একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আমরা আমাদের সমাজের চারপাশের পরিবেশের দিকে তাকালে এবং আমাদের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে তাকালে দেখব যে, তারা তাদের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য প্রথমে কত সংযত হয়, নরম হয়, ভালোবাসা তাদের মধ্য দিয়ে উতলিয়ে পড়ে। কিন্তু তাদের স্বার্থ হাসিল হয়ে গেলেই তাদের নরম কোমল হৃদয় ইস্পাতের চেয়েও কঠিন হয়ে যায়, উতলিয়ে পড়া ভালবাসা ঈর্ষার আগুন এর চেয়েও ঝাঁঝালো হয়ে যায়। আর এটাই হলো আমাদের বর্তমান সমাজে স্বার্থবাদী মানুষের প্রধান চরিত্র। আসলে ভাইয়া, আমরা দিন দিন আমাদের উপরের চেহারাকে যতই উন্নত করছি কিন্তু আমাদের মনটাকে ততই নিচের দিকে নামিয়ে ফেলছি। কিন্তু মানুষ হয়ে আমাদের এরকম হওয়া উচিত নয়। চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, ভাইয়া।