আবোল তাবোল জীবনের গল্প [ বাস্তবতা ]
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি ভালো আছেন। মাঝে মাঝে জীবনের সবগুলো কেমন জানি লাগে, মনে হয় সব কিছু, সকল নিয়ম এবং চলমান সিস্টেমকে পরিবর্তন করে ফেলি। সত্যি বলছি এই রকম একটা অনুভূতি মাঝে মাঝেই আমার কাছে জাগ্রত হয়। আমি জানি না আপনাদের এমনটা হয় কিনা? দেখুন বাস্তবতা আমাদের প্রতিনিয়ত শিক্ষা দিচ্ছে, নানা ভাবে আমাদের ভুলগুলোকে ধরিয়ে দিচ্ছে এবং তার সাথে সাথে সেগুলোকে সংশোধন করার সময়ও দিচ্ছে। কিন্তু আমরা কি সেগুলোকে বুঝতে পারছি এবং সে অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নিতে পারছি? মোটেও পারছি না এবং ভবিষ্যতেও পারবো না, এটাই হলো চরম বাস্তবতা।
আবোল তাবোল জীবনের গল্পে আজ পুনরায় কিছু অনুভূতি শেয়ার করতে চাই। যদিও এসব বিষয়ে বলে তেমন কোন লাভ হয় না, কারন আমরা যা পড়ি, যা পড়তে ভালো লাগে, পড়া শেষে সবটা আবার ভুলে যাই। যেমনটা আমাদের অভিজ্ঞতাগুলো তেমন কাজে লাগে না, কারন আমরা সেগুলোকেও ভুলে যাই। প্রতিনিয়ত মানুষ নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করে, তারপর পরবর্তীতে সেগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করে অনাকাংখিত সমস্যা যেমন এড়িয়ে যায় ঠিক তেমনি কাংখিত উন্নয়নও নিশ্চিত করতে পারে। কিন্তু আমরা শুরু হতে যেখানে ছিলাম বর্তমানে সেখানেই আছি, তাহলে বলুন আমাদের অভিজ্ঞতাগুলোকে আমরা কোথায় রেখেছি?
না না না আমি রাজনীতি কোন কথা বলছি না, বরং বাস্তবতার কিছু উদাহরণ তুলে ধরেছি। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আমাদের বানিজ্যিক রাজধানীখ্যাত চট্টগ্রামে কতটা জলবদ্ধতা ছিলো? আর বর্তমানে কতটা হচ্ছে? একটু তুলনা করুন তাহলে অনেক কিছুই পরিস্কার হয়ে যাবে। প্রতিবছর আমরা এই রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি, তারপর নানা ধরনের পরিকল্পনা কিংবা প্রচেষ্টার কথা বলি তারপর সব কিছু আবার আগের মতো বাতাসে হারিয়ে যায়। তাহলে সমস্যা এবং বাস্তবতা আমাদের কতটা শিক্ষা দিলো, দুর্ভোগ কিংবা অভিজ্ঞতা আমাদের কতটা সচেতন করলো? আমরা সত্যি একটা দুর্ভোগের স্বীকার হয়েও মোটেও সচেতন হই নাই।
আমরা মাঝে মাঝে ভাগ্যের দোষারোপ করি এবং তারপর সবটা মেনে নেয়ার চেষ্টা করি। কারনটা হলো আমরা নিজেদের উপর হারিয়ে ফেলেছি, নিজেদের ঐতিহ্য আমরা ভুলতে বসেছি। সত্যি বলতে একটা সময় মানুষ সব হাল ছেড়ে দেয় এবং নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। আমাদের অবস্থা অনেকটাই সেই রকম হয়ে গেছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে বাড়ির মেঝে ডুবে গেলে কিংবা বাহিরের সড়কে হাঁটু সমান পানি হলেও আমাদের মাঝে চেতনাবোধ জাগ্রত হয় না। না না না আমি বিক্ষোভ কিংবা আন্দোলনের কথা বলছি না, আমি সরকার কিংবা বিরোধী দলের বিপক্ষে কোন ভূমিকা পালন করার কথা বলছি না। বরং এতটুকু বলার চেষ্টা করছি, সবটা মেনে নিতে নিতে নিজের সক্ষমতাকে ভুলতে বসেছি।
আমি ছোট বেলায় দেখেছিলাম, বাঙালী মানেই প্রতিবাদী, প্রতিবাদী বাঙালির শিরায় শিরায় থাকে। অনাকাংখিতভাবে হঠাৎ কোন কিছুর দাম বৃদ্ধি হলে কিংবা স্বাভাবিক অবস্থার ব্যতিক্রম হলেও প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠছে এবং সেটাকে তার কাংখিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিজয়ী হাসি হাসতে। কিন্তু সেই বাঙালী জাতিই আজ মুছে যেতে বসেছে, অন্য রকম একটা নিস্তেজতা তাদের হৃদয়ে বিরাজ করছে। অতীত ঐতিহ্য কিংবা প্রতিবাদের সংস্কৃতি অথবা হার না মানা উচ্চ শীর কোথায় যেন বাঁধা পড়ে আছে। মাঝে মাঝে নিজের কাছেই নিজেকে অচেনা মনে হয়, অস্বাভাবিক অবস্থা কিংবা অবাস্তবমুখী আচরণ বেশ যন্ত্রণা দেয় এবং সেই স্মৃতিগুলোকে চোখের সামনে ভেসে উঠে।
আসলেই কি আমরা পরিবর্তন হয়ে গেছি? আসলেই কি আমরা আমাদের অতীত ভুলতে বসেছি? প্রশ্ন শুধু প্রশ্ন করার জন্য বরং আপনাদের মনোভাব এবং ভেতরের কথা জানার আগ্রহ নিয়ে করলাম। বাঙালি হিসেবে বর্তমান আমাদের নির্জীবতাকে আপনি কোন দৃষ্টিকোন হতে দেখেন? রাজনীতি নয়, আমজনতার বাস্তবমুখী অনুভূতি শুনতে চাই। জাগ্রত হোক বাঙালীর সেই ঐতিহ্য, বাঙালীর চির চেনা সেই বিপ্লবী স্পন্দন। জাতীয় শোক দিবসে, শত বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালীর মতো শত শত বীর পুরুষের আগমন ঘটুক এই ধরাতে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেই আজকে শেষ করছি।
Image taken from Pixabay 1 and 2
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আজ জীবনের গল্পে বাস্তবতা খুব সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে। আমরা সব দেখছি,জানছি কিন্তু কিছুই করতে পারছিনা।বর্তমান দ্রব্যমূল্যের কথা ভাবলে আসলে সবাই খুব অসহায় জীবন যাপন করছেন।আর চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কথা কি আর বলবো।আমরা বিপদে পরলে অনেক বেশি সচেতন হই।আবার বিপদ চলে গেলে সব ভুলেও যাই।আপনার মতো আমার ও মেয়ে হয়ে ও এর পরিবর্তন করতে খুব বেশী ইচ্ছে করে।কিন্তু পারিনা।সত্যি ভাইয়া আমাদের দেশে বীরপুরুষের খুব অভাব।বীরপুরুষ শূন্য আজ বাংলাদেশ। অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
আমরা বাঙালি ঠিকই কিন্তু আস্তে আস্তে আমরা আমাদের শেখর কে ভুলে যাচ্ছি। সব সময় আসলে ভাগ্যের দোষ দেওয়াটা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। আপনি ঠিকই বলেছেন ভাই বাঙালি আজ ঐতিহ্য, সাংস্কৃতি, শির উঁচু করে কথা বলার সাহস সবকিছুই হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদেরকে আগের সেই অবস্থানে ফিরে আসতে হবে। সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
অনেক ধন্যবাদ আপনার অনুভূতি শেয়ার করার জন্য। বাস্তবতা মানুষকে বাঁচতে শেখায় নতুনভাবে কিন্তু আমাদের কেন জানি হারিয়ে যেতে শেখাচ্ছে।
হ্যাঁ ভাই বাস্তবতা আমাদেরকে আস্তে আস্তে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে।
কোন এক সময় বাঙালি বীরের জাতি ছিল, যাদের রক্ত অন্যায় আর অবিচার দেখলে টগবগিয়ে ফুটতো। তবে তারা কালের ব্যাবধানে আজ প্রান হারানোর ভয়ে বেশ নিস্তেজ ভূমিকা পালন করছে।
তবে একদিন হয়তো আবারো জেগে উঠবে, ইতিহাস হয়তো তৈরি হবে নতুন করে।
কালের বিবর্তনে হরলিক্সে অভাবে কুমির যেমন টিকটিকি হয়ে গেছে, ঠিক তেমনি কালের বিবর্তনে ঐতিহ্য হারিয়ে বাঙালি নিজেকে ভুলে গেছে। ধন্যবাদ
কুমির হরলিক্স এর অভাবে টিকটিকি হয়ে গেছে এই কথাটা কিন্তু সত্যিই অনেক ভালো লেগেছে। আসলে সমাজের বর্তমান অবস্থাই এরকম হয়েছে ভাইয়া।
এটা ভাই অনস্বীকার্য।
তবুও ভাই আশায় বুক বাঁধি।
আমরা যখন বিপদে পড়ি তখন সেই বিপদ থেকে অনেক শিক্ষা অর্জন করি। কিন্তু পরবর্তীতে সেই শিক্ষা কোন কাজে লাগে না। আসলে বাস্তবতার সাথে মিল রেখে আমরা কোন কিছুই করতে পারি না। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা এর আগেও হয়েছিল। কিন্তু কোন পদক্ষেপ সঠিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। তাই তো আবারও সেই একই পরিস্থিতি হয়েছে। আর দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কথা নাই বা বললাম। সবাই আমরা এই খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে সময় কাটাচ্ছি। ভাইয়া আপনার লেখাগুলো পড়ে অনেক ভালো লাগলো। আমাদের সমাজের কিংবা জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন আপনি।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
Congratulations, your post has been upvoted by @dsc-r2cornell, which is the curating account for @R2cornell's Discord Community.
ভাইয়া আমার তো মাঝে মাঝে একদিনের জন্য ফাটাকেস্ট হয়ে সবকিছু পরিবর্তন করে দিতে ইচেছ করে। কিন্ত তা তো আর সম্ভব নয়। আমার তো মনে হয় এ দেশে আর কখনও বীর সেনা আসবে না। উঠবে না কোন প্রতিবাদের ঝড়। সব কিছু এভাবেই রয়ে যাবে। শুধু মাঝখান হতে যে যার স্বার্থ হাসিল করে নিবে। হি হি হি
মাঝেমধ্যে আমি ভাবি যারা যুদ্ধ করে আমাদের দেশ স্বাধীন করেছে, তারাও বাঙালি আমরাও বাঙালি। কিন্তু তাদের সাথে আমাদের কতোটা পার্থক্য। আমাদের মতো যদি তাদের চিন্তা ভাবনা হতো, তাহলে এই দেশ কখনোই স্বাধীনতা লাভ করতে পারতো না। এখনকার বাঙালিরা অন্যায় দেখেও পাশকাটিয়ে চলে যায়, নয়তো দেখে দেখে মজা নেয়। প্রতিবাদী রক্ত একেবারে পানি হয়ে গিয়েছে। তাইতো আমাদের দেশ দিনদিন রসাতলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আদৌও সম্ভব নয়। যাইহোক পোস্টটি শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
আপনার কথাগুলো সব সময় বাস্তবিক হয় এবং পড়তেও খুবই ভালো লাগে। কারণ বাস্তব সমস্যার বিষয় গুলো আপনি তুলে ধরেন। আসলে দেশের কিংবা অন্যান্য সব পরিস্থিতির দিক আলোচনা করলে বুঝা যায় যে বর্তমান সময়ের মানুষের পরিস্থিতি এবং আগের মানুষের উপস্থিতির মধ্যে খুবই তফাৎ লক্ষ্য করা যায়। এখনকার মানুষ খুবই সুবিধাবাদী এবং ঝোপ বুঝে কথা বলে। এবং সামনে পা বাড়াতে এবং পিছনে এক পা বাড়াতে খুবই চিন্তা করে। সমস্যা গুলো সমস্যায় থেকে যায় কিন্তু কোন সমাধান নেই।