আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে লিঙ্গ বৈষম্য।
Hello Everyone,
এখন সকাল গড়িয়ে দুপুর, তাই সকলকে রৌদ্রজ্জ্বল দুপুরের শুভেচ্ছা। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি সারাটি দিন ভালো কাটুক আপনাদের।
"লিঙ্গ বৈষম্য" এই শব্দ দুইটির সাথে কম বেশি সকলেই পরিচিত। আজ সকালের একটি ঘটনা আর এটার পর মনে হলো যে এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমার মনে হয় বাংলাদেশের এমন কোনো মেয়ে নেই যে তিনি তার জীবনে একবার ও এই লিঙ্গ বৈষম্যের ব্যাপারটি সে অনূভব করেনি।
লিঙ্গ বৈষম্য খুবই খারাপ একটি ব্যাপার। আমার জানা মতে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত ও সুন্দর দেশ সেইটা যেখানে লিঙ্গ বৈষম্য নেই। তারাই আদর্শ দেশের আদর্শ নাগরিক।
কারণ আমি নিজেও এই লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে। তাই যখন আমার সামনেই এরকম কিছু দৃশ্যমান অথচ আমি কিছু বলতে পারছি না।
আমার দুঃসম্পর্কের এক কাকু তার বিবাহের ২/৩ বছর পর তাদের পরিবারের জন্মগ্রহণ করলো এক ফুটফুটে কণ্যা সন্তান।
বেশ ভালোই ছিল সবকিছু বছর পাঁচেক পর আবার তাদের পরিবারে জন্মগ্রহণ করলো এক ফুটফুটে পুত্র সন্তান। প্রথমে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু যখন ঐ পুত্র সন্তানের বয়স ২বছরের বেশি, তখনই মায়ের রূপ পরিবর্তন।
মায়ের আচরণ দেখে মনে হয়, মেয়েটা হয়তো বাড়ির কাজের মেয়ে। এখানে কি করার আছে বলুন তো?
আজ সকালে ও মেয়েটি না খেয়ে আমাদের বাড়িতে এসেছে। তবে আজ আর কিছু না বলে পারলাম না। হয়তো সম্পর্ক একটু খারাপ হবে, কিন্তু ঈশ্বরের কাছে ভালো থাকাটা আগে দরকার।
- এটাকে এক প্রকার নির্যাতন ও বলা যেতে পারে। শারীরিক নির্যাতনের থেকে ও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে এটিতে। একটি মেয়ে তার স্বাধীনতা হারায়। আমি মনে করি পরাধীন মানুষ আর জড় পদার্থ একই রকম।
এভাবে একটি মেয়ে তার প্রতিভাকে কখনোই কাজে লাগাতে পারে না। তার জন্য সে নিজের, দেশ ও দশের জন্য কিছু করতে পারে না।
লিঙ্গ বৈষম্যের জন্য সে নিজেকে কোণঠাসা করে ফেলে। শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়।
একটি গাড়ির দুইটি চাকার একটি যদি অকেজো হয়ে যায়, তাহলে গাড়িটি কোনো কাজে আসেনা ঠিক তেমনি মেয়েরাও অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমেই আমাদের পরিবারের ওপর এটার দায়ভার পড়বে। পরিবার থেকেই একটা মেয়ে অনুভব করে যে তাঁর কোনো মূল্য নেই, কোনো স্বাধীনতা নেই।
মেয়েরা পরিবার ও সমাজের বোঝা। মেয়েদেরকে ঘরের মধ্যেই মানায়।
মেয়েরা একা চলতে পারে না। ঈশ্বর সব কিছুই দিয়েছেন কিন্তু তার কিছু করতে পারবেনা। পরিবারে তাদের মতামতের কোনো মূল্য নেই।
মেয়েদের জন্য ঘরের কাজ, আলাদা পোশাক সবকিছুতেই সীমাবদ্ধতা।
শুধুমাত্র ছেলেরাই মা-বাবার অবলম্বন।
এরকম হাজারো কারণ রয়েছে, যার জন্য আজকের দিনেও এই লিঙ্গ বৈষম্য।
- ছেলে মেয়ে উভয়কেই সমান সুযোগ দিতে হবে। পরিবারের সেকেলে ধারনাগুলোকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।
একটি মেয়েও তার মা-বাবার ভার বহন করতে পারে, এটা উপলব্ধি করাতে হবে।
এখনো অনেক কুসংস্কার প্রচলিত আছে, এগুলো এখন আর মানায় না।
পৃথিবীর উন্নত দেশের দিকে তাকালেই মেয়েদের গুরুত্ব উপলব্ধি করা সম্ভব।
একজন শিক্ষিত মা জাতির জন্য আশীর্বাদ। শিক্ষিত মায়ের থেকেই শিক্ষিত সন্তান প্রত্যাশা করা যায়।
বাংলাদেশে যেদিন নারী-পুরুষ সমান মর্যাদা পাবে, সেইদিন এই দেশের চেহারার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। সবার আগে দৃষ্টি ভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।
আজ এখানেই সমাপ্ত করছি। আগামীকাল আবারও দেখা হবে নতুন কোনো লেখতে। সবার সুস্বাস্থ্য প্রার্থনা করি ঈশ্বরের কাছে।
একজন শিক্ষিত মা জাতির আশীর্বাদ এটা আসলেই ঠিক কথা বলেছেন একটা পরিবারের যদি শিক্ষিত মা থাকে তাহলে ওই পরিবারের ছেলেমেয়েগুলোও খুব সহজে শিক্ষিত হতে পারে। আজকে আপনার এই পোস্টটি পড়ে আমার অনেক ভালো লেগেছে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপা আপনি আমাদের সামনে এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন।
#miwcc
Muy buena publicación te felicito.
আপনার পোষ্টের এই লাইনগুলোর সাথে আমি সহমত পোষণ করছি। এটা এক প্রকার নির্যাতন। যখন পরিবারের কাছ থেকে ধীরে ধীরে তাদের স্বাধীনতার সম্মান হারিয়ে ফেলে। নিজেরা যখন বুঝতে পারে। তাদের কোন সম্মান নেই। তখন তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
মেয়েদের বয়স যখনই 14 বা 15 তে পা দেয়। তখনই পরিবার থেকে তাদেরকে বোঝানো হয়। তাদেরকে পরের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হবে। সেখানে গিয়ে কাজ করতে হবে। রান্নাবান্না করতে হবে, তাই তারা পরিবারের মায়ের সাথে যেন, রান্নাটা ভালোভাবে শিখে নেয়।
তাদেরকে বলা হয় তাদের কোন স্বাধীনতা নেই।তাদের যতটুকু স্বাধীনতা আছে, সেটা শুধু ঘরের ভেতরে। তারা কখনো একা বাহিরে বের হতে পারবে না।
আসলে আপনার পোষ্টের প্রত্যেকটা ওয়ার্ডই মূল্যবান। যদিও আগের তুলনায় সমাজ একটু এগিয়েছে। কিন্তু গ্রাম অঞ্চলে এখনো এই সমস্যা গুলোর কোন সমাধান হয়নি। প্রতিনিয়ত কোন না কোন মেয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে। এ সকল নির্যাতন মাথা নত করে স্বীকার করে নিচ্ছে।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, এই লিঙ্গের বৈষম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় আমাদের সাথে আলোচনা করার জন্য। প্রত্যেকটা মানুষের এই জিনিসগুলো জানা প্রয়োজন।
আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল,ভালো থাকবেন।
#miwcc
আমাদের সমাজে থাকা অনেক কুসংস্কার রয়েছে যার কারনে আমাদের সমাজের থাকা কিছু কিছু মানুষের ভেদাভেদ সৃষ্ট করে থাকে ৷
আমাদের সমাজে থাকা প্রতিটি মানুষকে সঠিক বিচার থেকে শুরু করে সঠিক সম্মান প্রদান করতে হবে ৷ এবং সবাইকে সমান অধিকার প্রদান করা হবে ৷
ধন্যবাদ দিদি আপনার পোস্ট টি পড়ে অনেক ধারনা অর্জন করতে সক্ষম হলাম ৷ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ৷ ভালো থাকবেন দিদি ৷
#miwcc
প্রিয় আপু, আপনার সাথে আমি সহমত পোষন করছি। আমাদের দেশেও কিন্তু বর্তমানে এই লিঙ্গ বৈষম্য ব্যপক আকার ধারন করেছে।
ফলস্বরুপ মেয়েরা সামাজিক ভাবে অবহেলার স্বীকার হচ্ছে। এতে করে তারা মানসিক ভাবে অনেক বিপর্যস্ত হচ্ছে।
তাই আমাদের সকলের উচিত এই সমস্যা সমাধানে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহন করা।
ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি বিষয় তুলে ধরার জন্য।
#miwcc
আসলে দিদি আপনার পোস্টটি পড়ে আমি সত্যিই হতবাক।জানিনা কমেন্ট হিসেবে কি লিখলে আমার মনের যথার্থ ভাবটা প্রকাশ পাবে।
বর্তমান যুগে দাড়িয়েও যেসব বাবা মা মেয়ে সন্তানকে পরিবারের বোঝা মনে করে,মেয়েদেরকে ছেলে সন্তানের থেকে কম মুল্যায়ন করে, মেয়েদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে তারা আসলে বাবা মা হবার যোগ্যতাই রাখে না।
আপনার পাশের বাড়ির মেয়েটার মায়ের কাছে আমার শুধুমাত্র একাই প্রশ্ন যে,উনি নিজে কি মেয়ে নন?একজন মা হয়ে নিজের মেয়েকে তার ছেলের থেকে কম মুল্যায়ন কিভাবে করে?
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, হয়তো ঐ মহিলার মাতৃত্বে আর লিঙ্গে দুটোতেই সমস্যা রয়েছে।
শুধুমাত্র সন্তান প্রসব করলেই মা হওয়া যায় না।হাজারো অগ্নিপরিক্ষার মধ্য দিয়ে পাশ করে তার পরে একজন মেয়ে মা হয়ে ওঠে।
আসলে দিদি বলতে চাইলে হয়তো পরো রাত লিখেও ঐ মহিলার ওপরে আমার ক্ষোভ কমবে না।তাই আমি আর বেশি লিখতেও চাচ্ছি না।
আমি শুধু এতটুকুও বলতে চাই,আজকের পর থেকে নিজেকে একজন মা হিসেবে পরিচয় দিতে ঐ মহিলার উচিৎ আগে দশবার ভেবে নেওয়া।
#miwcc