"স্টিম ফর ট্রাডিশন" কমিউনিটিতে আপনারা সকলে কেমন আছেন? আশা করি পরমকরুনাময় আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে আপনারা সকলেই অনেক ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি। "স্টিম ফর ট্রাডিশন" কমিউনিটিতে আমার সৃজনশীলতা এবং অভিজ্ঞতা দিয়ে একটি পোস্ট উপস্থাপনা করতে যাচ্ছি। আশা করি সকলের কাছে ভালো লাগবে, ইনশাআল্লাহ।

| তো বন্ধুরা চলুন তাহলে শুরু করা যাক.... |


| প্রত্যেক বছরের বর্ষাকাল এবং শীতকালে আমার নানু বাড়িতে পুকুর ছ্যাকা হয়ে থাকে এবং আমি আমার নানুর বড় নাতি হিসেবে প্রত্যেকবারেই পুকুর ছ্যাকাতে আমার নানু বাড়িতে গিয়ে হাজির হই শুধুমাত্র কুকুর ছ্যাকার কারণে, এবং এই পুকুর ছ্যাকাতে অনেক মজা হয়ে থাকে কেননা আমাদের এই দিকে এরকম কোন পুকুর নেই এবং এভাবে কখনো মাছ ধরা হয় না। আর আমি তেমনটা মাছও ধরতে পারি না শুধু ওখানে মাছ ধরার চেষ্টা করি এবং কিছুটা ধরতে পারি। এগুলো আমাকে অনেক ভালো লাগে কারণ এভাবে একসঙ্গে মাছ ধরার মজাই আলাদা আবার সেখানে থাকে আমার নানু বড় মামা এবং ছোট মামা। সত্যি এই বিষয়গুলো আমাকে অনেক আনন্দ দেয়। এভাবে সবার সাথে একসঙ্গে মাছ ধরতে এবং কাঁদো নাড়াচাড়া করতে সত্যিই বিষয় গুলো অসাধারণ। |




| আমার নানুরা পাঁচ ভাই এবং ধান ক্ষেতের মাঝখানে যে পুকুরটি দেখতে পারতেছেন এখানে আমার নানুর পাঁচ ভাইয়েরেই নিজ নিজ নামের একটি করে ছোট ছোট অংশ নিয়ে পাঁচটি পুকুর রয়েছে। দূর থেকে এখানে দেখলে মনে হবে একটি পুকুর কিন্তু একটি পুকুরের মাছ দিয়ে আইল দিয়ে পাঁচ ভাগ করা হয়েছে, কাছে এসে দেখলে তা বোঝা যায়। এবং এখানে অনেক প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যায়। এবং মাছগুলো খেতেও অনেক মিষ্টি হয়ে থাকে কারণ এগুলো সব দেশে মাছ। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে এগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্তর হয়ে যাচ্ছ। যা আমাদের জন্য সত্যিই অনেক দুঃখজনক। কারণ যে পুকুরের মাছ খেয়ে থাকে সে বুঝে আসলে এগুলো মাছ কি রকম মিষ্টি হয়ে থাকে। মিষ্টি হওয়ার কারণ হলো বছরে শুধু দুইবার এই মাছগুলো ধরা হয়ে থাক। এবং মাছগুলো সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রত্যেকটি কুকুরের মাঝে মাঝে একটি করে গাছের মুড়া দেওয়া রয়েছে। এবং প্রত্যেকটি গাছের মোড়া নিচ থেকে অনেক গুলো বড় বড় মাগুর মাছ পাওয়া যায়। আমি যখন চার পাঁচ বছর আগে যেতাম তখন এই পাঁচ ভাগের এক অংশ থেকে প্রায় ২০০ কেজির মত মাছ পাওয়া যেত। এটি অনেকের বিশ্বাস নাও হতে পারে কিন্তু বিষয়টি আসলেই সত্যি। কিন্তু দিন দিন এর পরিমাণ কমে আসতেছে। |




| পুকুর থেকে যখন পানি তোলা হয় তখন পাঁচ ভাইয়ের পাঁচটি স্যালো মেশিন লাগিয়ে দেওয়া হয়। যাতে করে পানি গুলো তাড়াতাড়ি তোলা হয়ে যায়। প্রথমে পুকুরের পুরো অংশই পানি ছল ছলা থাকে। যখন মেশিন লাগানো হয় এবং ধীরে ধীরে পানি শুকিয়ে যায় তখন মাঝের আইল গুলো বাইর হয়। এবং তখনই সবাই কুকুরের মাঝ দিয়ে বানা বসিয়ে দেওয়া হয় যেন এক পুকুর থেকে আরেক পুকুরে মাছ লাফিয়ে যেতে না পারে। |


| যখন পুকুরের পানি একেবারে শুকিয়ে যায় তখন পুকুর থেকে পানা গুলো উপরে রেখে নিচে মাছ ধরা হয়। পানি একেবারে শুকিয়ে গেলে মাছ ধরতে অনেক মজা লাগে এবং কাঁদার মধ্যে তো হাত ঢুকায় দিয়ে মাছ ধরার তো আরো মজাই আলাদা। বিশেষ করে আমাকে এই সময় অনেক ভালো লাগে এবং আমি এই সময় গুলো উপভোগ করি। কারণ এইসব সময় তো আর সব সময় আসে না। আরো যখন এগুলো নানু বাড়িতে ঘটে তখন তো আর কোন কথাই নেই। শুধু মজা আর মজ। আমি সব সময় চিন্তা করি আমার খালাতো ভাই কবে বড় হবে আর আমরা একসঙ্গে দুই ভাই গিয়ে ওখানে অনেক মজা করব এবং মাছ ধরবো। |




| যে মাছগুলো দেখতে পারতেছেন এগুলো শুধু একটি মুড়া থেকে ওঠানো মাছ। আমি এই পিকটি তুলে নেই কারণ একটি মুড়া শেষ করতে সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। এখনো বাকি রয়েছে দুটি মুড়া এগুলো তুলতে তুলতে অনেকটাই রাত হয়ে যাবে। আর রাত হলে তো সে রকম সুন্দর ভাবে পিক তুলতে পারবো না। তাই এই পিকটি আমি সুন্দরভাবে এখানেই তুলে নেই। এবং সন্ধ্যার পরপরই আমাদের সবগুলো মুড়া থেকে মাছ ধরা শেষ হয়ে যায় এবং সব শেষ মুড়ায় আমরা অনেক বড় একটি বোয়াল মাছ ধরতে পাই, এবং বোয়াল মাছটির ওজন ছিল দেড় কেজি। এবং এই বোয়াল মাছটি আমি ধরতে পেরেছি অনেক মজা লাগতে ছিল তখন। সত্যিই এই সব মুহূর্তগুলো অনেক সুন্দরভাবে কেটে যায় যা আমি বুঝতেই পারি না। আমি চিন্তা করি এইসব মুহূর্তগুলো যদি প্রত্যেকদিন আসতো তাহলে আসলেই অনেক ভালো লাগতো। কিন্তু এটা তো কখনোই সম্ভব না কারণ সময় তো আর কারো জন্য অপেক্ষা করে না। এবং প্রত্যেকদিনই তো আর এতগুলো করে মাছ জন্ম নেয় না। তাই বিষয়গুলো বছরে দুইবার হলেও অনেক মজার হয়ে থাকে। |
| ডিভাইস | রিলেলমি ছি ১২ |
| ফটোগ্রাফার | @rimon03 |
| বিষয় | আর্ট |
| লোকেশন | বাংলাদেশ |
আমার পোস্টটি সম্পূর্ণ দেখার জন্য আপনাকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। ❤️...

ধন্যবাদ সবাইকে
...
🧡🧡🧡


আমার সম্পর্কে কিছু কথা:
আমি মো: খায়রুল ইসলাম। আর আমার ডাক নাম রিমন। আমি একজন ছাত্র। আমি লিখতে, পড়তে, খেলতে, ফটোগ্রাফি এবং অজানা বিষয় সম্পর্কে শিখতে অনেক ভালোবাসি।
..❤️..


পুকুরে মাছ ধরার অভিজ্ঞতা আছে আমার অনেক আগে থেকেই। গ্রামের বাড়িতে গেলে মেশিন দিয়ে পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরেছি। সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে গেল আপনার পোস্টের মাধ্যমে। অসাধারণ ফটোগ্রাফি করেছেন। মাছগুলো লোভনীয় ছিল। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর পোস্ট করার জন্য।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ
My Twitter link :---
https://twitter.com/Rimonkhan03/status/1658170828121595906?t=gRV3i_2peLZ9HDy4LVGktg&s=19
মেশিন নিয়ে পুকুরে পানি তোলা তারপর সবাই মিলে মাছ ধরা।সেই স্মৃতিগুলো এখন মনে পড়ে যায়। ফটোগ্রাফি গুলা আসলেই খুব সুন্দর হয়েছে।দেখে অনেক ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে শুধু একটি পোস্ট উপস্থাপন করার জন্য।
ধন্যবাদ
মাছ ধরতে আমার অনেক ভালো লাগে। পুকুরে মাছ ধরতে প্রায় আমি যাই। পুকুরে মেশিন লাগিয়ে পানি উঠে মাছ ধরার দৃশ্য দেখতেও অনেক ভালো লাগে। বেশ কিছুদিন আগে আমরাও পুকুর ছেকে মাছ ধরেছি। পুকুর ছেকলে সেখানে দেশি জাতীয় মাছ পাওয়া যায়।
জ্বি ভাই দেশি মাছ পাওয়া যায়।ধন্যবাদ
আসলে পুকুরপাড়ে মাছ ধরার দৃশ্য গুলো অসাধারণ হয়। আর আপনার নানার পুকুরে কচি পানা সংখ্যা অনেক বেশি তাই সেখানে অনেক প্রকারের মাছ হয়ে থাকে। ধন্যবাদ মামু সুন্দর একটি পোষ্ট আমাদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ মানু
@tipu curate
Upvoted 👌 (Mana: 1/8) Get profit votes with @tipU :)
ছেলেরা মূলত মাছ ধরতে পছন্দ করে। এটা তাদের একটা নেশার মতো। আমার ভাইও মাঝে মাঝে মাছ ধরতে যায়।আমিও বড়শি দিয়ে ধরেছি কয়েকবার।ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ
মাছ ধরতে আমার অনেক ভালো লাগে। তবে পুকুরে মাছ ধরার অভিজ্ঞতা খুব কম। ছোটবেলায় বেশ কয়েকবার পুকুরে মাছ ধরেছিলাম। চমৎকার ফটোগ্রাফি করেছেন ভাই শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
পোস্ট করার সময় বারবার চেক করবেন অনেক বানান ভুল
ধন্যবাদ ভাইয়া
পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দারুণ লেখছেন ভাই, আমাকেও পুকুরে মাছ ধরতে অনেক ভালো লাগে, আমি এখনো মাঝে মাঝে পুকুরে বা খাল বিলে মাছ ধরি,আপনি দারুণ ফটোগ্রাফি করছেন ভাই, আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ