নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা ( শেষ পর্ব )

in আমার বাংলা ব্লগ3 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000083997.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা" গল্পের শেষ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর সে ধীরে ধীরে নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা ধরে ফেলল। আর নিজের আঙুলে কেটে যাওয়া রক্ত সেই ঘড়ির ওপর পড়তেই টিক...টিক...টিক...শব্দটা ধীরে ধীরে কমে এল। পুরো পৃথিবী যেন থেমে গেল আর কালো সত্তাটা প্রচণ্ড চিৎকার করে উঠল। অসংখ্য ছায়ামূর্তি অদৃশ্য হতে শুরু করল এবং অন্ধকার দরজাটা বন্ধ হতে লাগল। ঈশান রায় শেষবারের মতো হাসল- বিদায়, ঋত্বিক...আমি গর্বিত...। তার বাবার অবয়ব ধীরে ধীরে আলোর মধ্যে হারিয়ে গেল। বাবা! বলে ঋত্বিক চিৎকার করে উঠল, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা থেমে গেছে চিরতরে।

ছয় মাস পর কলকাতার নিজের বাড়িতে বসে ঋত্বিক নতুন একটা বই লিখছে। নাম ছিল- "নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা"। মধুমিতা দেবী এখন আগের চেয়ে অনেক শান্ত। ডঃ অরিন্দম মুখার্জি সমস্ত গবেষণার নথি ধ্বংস করে দিয়েছে, পাহাড়ের সেই গবেষণাগার আর নেই, ভূমিকম্পে সব ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু মাঝে মাঝে গভীর রাতে ঋত্বিকের মনে হয় কেউ যেন তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ যেন মৃদু স্বরে বলছে- "ভয় পাস না, আমি আছি।" একদিন আলমারি গুছাতে গিয়ে সে বাবার পুরোনো একটা ছবি খুঁজে পেল। ছবির পেছনে ঈশান রায়ের হাতের লেখা- "সময় কখনও থামে না। কিন্তু ভালোবাসা সময়ের থেকেও দীর্ঘজীবী।"

ঋত্বিক ছবিটা বুকে চেপে মৃদু হেসে ফেলল। বাইরে তখন বিকেলের আলো এবং দেয়ালের ঘড়িতে সময় চলছে। স্বাভাবিক এবং নিয়মমতো। আর বহু বছর পরে প্রথমবারের মতো ঋত্বিক অনুভব করল- সব রহস্যের উত্তর পাওয়াটাই শেষ কথা নয়, কিছু রহস্য থেকে যায়। কিছু বিদায় অসম্পূর্ণই থাকে। আর কিছু মানুষ...সময়ের ওপারেও আমাদের সঙ্গে থেকে যায়।


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png



Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.094
BTC 63573.30
ETH 1778.51
USDT 1.00
SBD 0.39