চন্দ্রহাসি বাংলো ( পর্ব ৮ )

in আমার বাংলা ব্লগ10 months ago
হ্যালো বন্ধুরা, আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

ChatGPT Image Aug 6, 2025, 03_09_12 AM.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "চন্দ্রহাসি বাংলো" গল্পটির অষ্টম পর্ব শেয়ার করে নেবো। তো এই বাংলোর মোটামুটি একটা অধ্যায় কেবল শেষ হয়েছে। কিন্তু তাও এই বাংলোতে আরো এমন কিছু আছে, যা আগের থেকেও ভয়ানক। সুধীর এর মনে তো সন্দেহের বীজ তৈরী হয়ে গিয়েছে। এখন সে এই রহস্যের ভেদ উন্মোচন করতে চায়। তাই সুধীর পরেরদিন থেকে এই মিশনে একটা মুখ্য ভূমিকা রাখতে চলেছে। সে দারোয়ানকে বলে রাখে আগে থেকে যে, পরেরদিন সকাল হলেই এই মিশন শুরু করব।

তবে এই বিষয়ে দারোয়ান কিছুই জানেনা, তাকে সাধারণ ভাবেই বলে রেখেছে যে, আগামীকাল সকালে এই বাংলো পুরোটা ভালো করে ঘুরেফিরে দেখব। যাইহোক, এরপর সকাল হলেই ব্রেকফাস্ট করেই শুরু করলো মিশন। কয়েকটা ঘর ঘুরতে ঘুরতে একটা ঘরের মেঝেতে কাঠ নড়বড়ে হয়ে গেছিল, তো সেটা সরাতে গেলেই সেখানে দেখলো একটা পুরোনো লোহার সিন্ধুক। দারোয়ান সুধীরকে আস্তে স্বরে ডেকে বললো- এইরকম সিন্ধুক আগে তো কখনো দেখিনি!

অনেক বছরের পুরোনো, যেনো প্রায় ৫০-৬০ বছরের হবে। এখন দুইজনের মনে কৌতুহল এর জন্ম নেয়, যে এত বছরের সিন্ধুকে এমন কি আছে, যে এত বছর এইভাবে বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এখন এই সিন্ধুকের তালা খুলতে গেলে তো চাবি লাগবে, কিন্তু এত বছরের এই চাবির হদিশ কোথাও মিললো না। এখন এর ভেতরে কি আছে, সেটা দেখার জন্য তো খুলতেই হবে। শেষে কোনো উপায় না পেয়ে সবাই যা করে অর্থাৎ দারোয়ান এর কাছে একটা হাতুড়ি মতো ছিল, সেটা দিয়ে বাড়িয়ে ভেঙে ফেলে।

এরপরে সেখানে বিশেষ কিছু বলতে গয়না এইসব কিছু ছিল না, পরিবর্তে কিছু চিঠি, ছবি আর একটা ডায়েরি ছিল। ওখানে ডায়েরির পাতা খুলতেই সুধীর বিস্মিত হয়ে পড়ে। কারণ সেখানে একজন মানসিক ডক্টর বাসুদেব মুখার্জি এর ব্যক্তিগত নোটস লেখা ছিল। সুধীর শুধু বিস্মিত হয়েছে মানসিক এর বিষয়টা নিয়ে অর্থাৎ চন্দ্রার কি তাহলে মানসিক সমস্যা ছিল! আসলে চন্দ্রা যে বারবার বিষয়টা উল্লেখ করতো ওখানে যে, সে আয়নায় একজন পুরুষকে দেখতে পাচ্ছে অর্থাৎ যে ওকে ডাকছে।

এই বিষয়টা নিয়ে তার বাবা-মাকে সাবধান করলেও তারা বিষয়টা শোনেননি। ডক্টর তার মানসিক সমস্যা নিয়ে এই আয়নাকেই সন্দেহ করেছিলো, মূলত এটাই তার প্রধান উৎস ছিল। এইসব ডায়েরির পৃষ্ঠায় লেখা ছিল। ডায়েরির পরের পাতায় আরো একটা বিষয়ে লেখা ছিল অর্থাৎ চন্দ্রাকে ডক্টর তার চেম্বারে এক ঘন্টা রাখার পরে পুরো স্পষ্ট ভাবে বুঝলো যে, তার চোখে একটা ভয় লুকিয়ে আছে। আর সে ডক্টরকে ওখানে থাকাকালীন একবার বলেছিলো যে, আমি জানি আমি আর বাঁচব না।

এই কথার কোনো জবাব তার কাছে ছিল না। সুধীর এর কাছে বিষয়টা আরো আশ্চর্য আর ভয়ানক মতো লাগে। সে নিজেই এই ডায়েরি পড়ে যেনো ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বন্ধ করে দিলো। এই ডায়েরি পড়ে সুধীর এর কাছে একটা বিষয় মনে হলো যে, চন্দ্রার মৃত্যু কোনো প্রাকৃতিক নয়, এটা কোনোভাবে ঘটানো হয়েছে। আর সেটা মানসিক যন্ত্রণায় হতে পারে আবার তার থেকেও কোনো ভয়ংকর ভাবেও ঘটতে পারে।.....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png



Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

অসাধারণ, @winkles! "চন্দ্রহাসি বাংলো"-র অষ্টম পর্বটি যেন রহস্যের জাল আরও গভীর করে তুলছে। সুধীরের সন্দেহ আর পুরোনো সিন্দুকের আবিষ্কার—গল্পের প্রতিটি বাঁক আমাকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো আটকে রেখেছে। চন্দ্রার মানসিক অবস্থা এবং ডায়েরীর নোটগুলো যেন ভয়ংকর এক সত্যের দিকে ইঙ্গিত করছে।

আপনার লেখার ভঙ্গি সাবলীল এবং বর্ণনাগুলো জীবন্ত। প্রতিটি চরিত্র যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আমি বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়েছি গল্পের সেই অংশে, যেখানে সুধীর ডায়েরি পড়ে ভয়ে কাঁপতে থাকে।

আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি পরবর্তী পর্বের জন্য! এই রহস্যের শেষ কোথায়, তা জানার জন্য তর সইছে না। আপনার এই পোস্টে মন্তব্য করে অন্য পাঠকদেরও উৎসাহিত করুন, তারাও যেন এই রোমাঞ্চকর যাত্রায় শামিল হতে পারে। চালিয়ে যান, @winkles! আপনার সৃষ্টি আরও অনেক পাঠকের হৃদয় জয় করুক।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.083
BTC 60116.64
ETH 1564.69
USDT 1.00
SBD 0.42