কুঁচে মাছের রেসিপি ।। বাঙালি রেসিপি

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago

হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

আজকে আমি সাপ রান্না করেছি। শুরুতেই একটু মজা নিলাম 😄। সাপ এর মতো দেখতে একধরণের মাছ রান্না করলাম আর কি। এই মাছগুলোকে সাধারণত কুঁচে মাছ বলে, এছাড়াও আরো অনেক ভিন্ন ভিন্ন নাম আছে। এই কুঁচে মাছের স্বাদের কথা একমাত্র সেই জানে যে খেয়েছে, একদম মানে কষিয়ে রান্না করলে মনে হবে যেনো মাংস ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছি । একদম মাংসের মতো লাগে খেতে মশলা দিয়ে রান্না করলে। আর এই কুঁচে মাছ আমার অনেক পছন্দ। আমার বাড়ির পথে কুঁচে মাছ গেলে বাদ দিই না, মোটামুটি সপ্তাহে ৩ বার খাওয়া চলে এই মাছ। আর এই কুঁচে মাছ এখন শীতের সময় একটু টেস্ট বেশি লাগে, আর সাথে শরীরে রক্তও বাড়ে। যাইহোক এখন আমি এই সুস্বাদু রেসিপিটি আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো এবং রেসিপির মূল পর্বের দিকে চলে যাবো।


☬প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ:☬

উপকরণ
পরিমান
কুঁচে মাছ
১ টি
আলু
৪ টি
বেগুন
১ টি
টমেটো
১ টি
পেঁয়াজ
১ টি
রসুন
২ টি
কাঁচা লঙ্কা
৮ টি
শুকনো লঙ্কা
১ টি
সরিষার তেল
৪ চামচ
লবন
২.৫ চামচ
হলুদ
৩ চামচ
জিরা গুঁড়ো
১ চামচ


কুঁচে মাছ, আলু, বেগুন, টমেটো


পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা লঙ্কা, সরিষার তেল, লবন, হলুদ, জিরা গুঁড়ো


এখন রেসিপিটি যেভাবে তৈরি করলাম-----
প্রস্তুত প্রণালী:


❖কুঁচে মাছটিকে প্রথমে ভালো করে কেটে নেওয়ার পরে জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। আমি আলুগুলোর খোসা ছালিয়ে নেওয়ার পরে কেটে নিয়েছিলাম এবং জল দিয়ে ধুয়ে নিয়েছিলাম।

❖বেগুনটিকে কেটে পিচ পিচ করে নিয়েছিলাম এবং জল দিয়ে ধুয়ে নিয়েছিলাম। এরপর টমেটো কেটে হালকা কুচি মতো করে নিয়েছিলাম।

❖পেঁয়াজের খোসা ফেলে দেওয়ার পরে পেঁয়াজ কুচি করে নিয়েছিলাম এবং রসুনের খোসা ফেলানোর পরে কোয়াগুলো আলাদা করে নিয়েছিলাম। এরপর কাঁচা লঙ্কাগুলো কেটে নিয়েছিলাম।

❖কেটে রাখা কুঁচে মাছের গায়ে লবন ও হলুদ দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর গায়ে ভালো করে মাখিয়ে নিয়েছিলাম।

❖কুঁচে মাছের পিচগুলো ভালো করে ভাজা মতো করে নিয়েছিলাম। এরপর আলুর পিচগুলো ভালো করে ভেজে নিয়েছিলাম।

❖বেগুনের পিচগুলো ভেজে নিয়েছিলাম। এরপর পেঁয়াজ, রসুন আর সাথে একটি শুকনো লঙ্কা ভেজে নিয়েছিলাম।

❖পেঁয়াজ, রসুন ভাজা হয়ে গেলে তাতে টমেটো কুচি দিয়ে দিয়েছিলাম। টমেটো তাপে গলিয়ে পেঁয়াজ, রসুনের সাথে মিশিয়ে নিয়েছিলাম।

❖পেঁয়াজ, রসুন এবং টমেটোর মধ্যে ভাজা আলু আর কাঁচা লঙ্কা দিয়ে একসাথে মিক্স করে নিয়েছিলাম।

❖মিক্স করার পরে পরিমাণমতো জল ঢেলে দিয়েছিলাম এবং জলটা তরকারি সহ কিছুক্ষন ফুটিয়ে নিয়েছিলাম।

❖ফুটানোর পরে তাতে ভাজা কুঁচে মাছের পিচগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর ভাজা বেগুনের পিচগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। তরকারিটা পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য ১০ মিনিটের মতো দেরি করেছিলাম।

❖সুস্বাদু কুঁচে মাছের রেসিপি তৈরি হওয়ার পরে তাতে জিরা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। কুঁচে মাছের তরকারির কালারটা যা আসে না, দেখলেই মনটা ভরে যায়। আর এখন এই মজাদার তরকারিটা পরিবেশন করে খাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

রেসিপি বাই, @winkles

শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

Sort:  
 4 years ago 

EZrGNWcrMDNczaEXa66AEJHcKH7nrfa7r2fnEEb26owGbKmVZzVNY38ZTpQGcSKBRTWKQQ1NYenwo9LEQ2PvU7bfyvF5uQyBcpg9GAJ2va...2w7ep3LhhQa9kvWQkCLWjKffNejcyyHjp9ScganhREzkD3tjt9Po5p3UVrueKo7yazdVpNDXMDDSuBxwSR2of5d3Hw7x1SEccV31Hi7jLan7SSYxXeu1BPFSh4.png

দাদা কুঁচে মাছ আমি অনেক বার খেয়েছি এটা অত্যন্ত মজার একটি মাছ। আপনি আলু বেগুন টমেটো দিয়ে ভুনা করেছেন। রেসিপি টি এক কথায় অসাধারণ হয়েছে। আপনি খুবই সুন্দর ভাবে প্রতিটি স্টেপ আমাদের সাথে শেয়ার করেছন। খুবই ভালো লাগছে আমার আপনার রেসিপি টি। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এই অসাধারণ রেসিপিটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো দাদা।

EZrGNWcrMDNczaEXa66AEJHcKH7nrfa7r2fnEEb26owGbKmVZzVNY38ZTpQGcSKBRTWKQQ1NYenwo9LEQ2PvU7bfyvF5uQyBcpg9GAJ2va...2w7ep3LhhQa9kvWQkCLWjKffNejcyyHjp9ScganhREzkD3tjt9Po5p3UVrueKo7yazdVpNDXMDDSuBxwSR2of5d3Hw7x1SEccV31Hi7jLan7SSYxXeu1BPFSh4.png

 4 years ago 

কুচে মাছ আমাদের অত্যান্ত পরিচিত বিশেষ করে হাওয়ার বাওয়ার বা জল বদ্ধতা হয় এমন এলাকায়। এই মাছ বেশির ভাগ মানুষ খেতে গেলে কেমন করে বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশে অভস্থ না।আমি অনেক আগে খেয়েছিলাম বেশ সুস্বাদু লাগে।

খুব দারুন ভাবে রেসিপিটা করেছেন অনেক ভিন্ন লেগেছে ধন্যবাদ দাদা শেয়ার করার জন্য।

এই মাছ খুব কমই খাওয়া হয়। তবে খেতে অসাধারণ লাগে। তবে পেঁয়াজ দিয়ে ভুনা করে খেলে আরো বেশি মজা লাগে। খেতে একদম মাংসের মতো লাগে। তাছাড়া এই মাছ ওষুধ হিসেবে অনেক কার্যকরী একটি মাছ। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে রেসিপিটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।

 4 years ago 

আজকে আমি সাপ রান্না করেছি। শুরুতেই একটু মজা নিলাম

দাদা আপনার লেখার শুরুতে এই লাইনটি দেখে খুবই মজা পেয়েছি। কুঁচে মাছ আসলে দেখতে অনেকটা সাপের মত। আমাদের গ্রামের বাসার পুকুরে এই মাছগুলো মাঝে মাঝে দেখতে পাওয়া যায়। এখন যেহেতু নদী এবং পুকুরের পানি অনেকটা শুকিয়ে গেছে তাই এই মাছগুলো এখন বেশি পাওয়া যায়। কুঁচে মাছ অনেক দেখেছি কিন্তু কখনো খাওয়া হয়নি। এই মাছটি হয়তো আমাদের শরীরের জন্য উপকারী কিন্তু আমরা এই মাছের রন্ধনপ্রণালী সঠিকভাবে জানিনা বলে হয়তো খাওয়া হয়নি কখনো। দাদা আপনার এই রেসিপি দেখে অনেক ভালো লাগছে আমার। আপনি অনেক সুন্দর ভাবে আলু, বেগুন ও টমেটো দিয়ে মাছের রেসিপি তৈরি করেছেন। আপনি আপনার রন্ধনপ্রণালী অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন। দেখতে যেমন লোভনীয় লাগছে তেমনি খেতেও নিশ্চয়ই অনেক মজাদার হয়েছে। আসলে কোন কিছু যদি সঠিকভাবে রান্না করা হয় তাহলে সব কিছুই খেতে অনেক ভালো লাগে। আর এই মাছটি আপনি এত সুন্দর ভাবে রান্না করেছেন যে দেখেই বোঝা যাচ্ছে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও আপনি দারুন একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন দাদা। অনেক মজাদার একটি রেসিপি তৈরির প্রসেস সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।

 4 years ago 

  • ওয়াও দাদা খুব অসাধারণ একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন। এই রেসিপি কেউ শেয়ার করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। আমি অনেক আগে অনেকবার খেয়েছিলাম। কিন্তু এখন খাওয়া হয় না কোনোভাবেই। এটি রান্না করলে খুব সুস্বাদু হয়ে থাকে। বিশেষ করে ঝোল গুলো খেতে খুব অসাধারণ হয়ে থাকে। এত অসাধারন একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।
 4 years ago 

বাঙালিরা সবসময় খাবারের স্বাদে ভিন্নতা আনতে চায়। ঋতুর পরিবর্তন বাঙ্গালীদের খাবারের তালিকা পরিবর্তন করে দেয়। কুঁচে মাছ শীতকালে বেশি দেখতে পাওয়া যায়। তবে এ মাছ আমি কখনো খাইনি। আমার দাদুর কাছে শুনেছি এই মাছ শরীরের জন্য খুবই উপকারী। আসলে এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো আমরা দেখেই খেতে চাইনা। কিন্তু এই খাবারের মাঝে যে গুনাগুন রয়েছে সেগুলো আমরা কখনো বুঝতেও চাইনা। তবে আজকে আপনার এই মজার একটি রেসিপি দেখে আমারও ইচ্ছে করছে এই মাছটি খাওয়ার জন্য। আমি এর আগে কখনো এই মাছটি খাইনি। তবে আমার দাদুকে দেখেছি এই মাছ খেতে। তিনি বলতেন এই মাছ শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এই মাছটি দেখতে অনেকটা বাইন মাছের মত। দেখেই বোঝা যাচ্ছে আপনি অনেক সুন্দর করে এই রেসিপি তৈরি করেছেন। অনেক মজাদার একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি দাদা।

 4 years ago 
দাদা আজকে আমি এই রেসিপিটি দেখে খুবেই খুশি হইলাম। আমরা বন্ধুরা পিকনিক খাইলে কুঁচে দিয়ে খাইতাম। আমার অনেক ভালো লাগে খাইতে। আমি কতোবার যে খেয়েছি তার কোন হিসাব নেই৷ দাদা আপনি অনেক সুন্দর করে কুঁচে রেসিপিটি তৈরি করেছেন দেখে মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে। আমার খাইতে ইচ্ছা করতেছে দাদা৷ সুন্দর একটি রেসিপি আমাদের মাঝে ভাগ করে নেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।
 4 years ago 

আপনার রেসিপি দেখে আমার অনেক ভালো লাগলো দেখে মনে হচ্ছে অনেক লোভনীয় হয়েছে এটা দেখে আমার খুব খেতে ইচ্ছে করতেছে আর আপনি প্রতিটি ধাপ আমাদের অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন ধন্যবাদ আপনাকে

 4 years ago (edited)

😶😶 দাদা আমাদের দেশে কিন্তু এই জিনিস কেউ তেমন খাইনা। গনা কয়জন মানুষ ছাড়া। তবে আপনার রান্না কিন্তু দেখার মতো।

 4 years ago 

সপ্তাহে ৩ বার☺️ ,বাবা রে।প্রথমত আমিও একজন যে এই মাছকে সাপ বলি।এই মাছ শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী ও গাঁয়ে রক্ত হয় আমার বাবা-মা ও বলেন।কিন্তু সত্যি বলতে আমি এই মাছ খাই না।খুবই টেস্টি খেতে ,যেই খায় সেই গুণকীর্তন করে এই মাছের।কাঁটা কম,কিন্তু দেখলেই আমার গা শিরশির করে।রান্নাটি বেশ হয়েছে👌।ধন্যবাদ দাদা,শুভকামনা রইলো।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.098
BTC 64732.79
ETH 1859.73
USDT 1.00
SBD 0.38