ওলকপি দিয়ে মসুরের ডালের রেসিপি
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
আজকে আপনাদের সাথে আমি একটা রেসিপি শেয়ার করে নেবো। আজকে আমি নিরামিষ রান্না করেছি। প্রতি শুক্রবারে আমাদের বাড়িতে সবাই নিরামিষ খায় কিন্তু আমি সপ্তাহে সাত দিনেই আমিষ খাই, মানি না নিয়মকানুন। আমার কাছে শুধু নিরামিষ এক তরফা ভালো লাগে না, তবে সাথে আমিষ কিছু থাকলে আর সমস্যা হয় না । গতদিন রাতের মাছের তরকারি ছিল তাই আজকে আর আলাদা করে কিছু আমিষ রান্না করা হয়নি। আর বাড়িতে সবাই যেহেতু আজকে নিরামিষ খাবে তাই ভাবলাম এইটা করে রাখি। তো আজকে আমি ডালের রেসিপি তৈরি করেছিলাম, তবে এই ডালের রেসিপিটাকে আরেকটু অন্যরকমভাবে কি করা যায় তাই ভেবে দেখলাম যে ডালের সাথে যদি ওলকপি দেই তাহলে কেমন লাগবে খেতে। আর এইটা ভেবেই দুটি ওলকপি যোগ করে দিলাম কারণ এখন নতুন ওলকপি দিয়ে খেতে ভালোই লাগবে। ওলকপি তো এমনিতেই জ্বালি পেলে কাঁচাই খেয়ে থাকি।ছোটবেলার একটা ছোট কাহিনী বলি, গ্রামে ছোটবেলায় বন্ধুরা মিলে ওলকপি খাওয়ার জন্য লোকের ওলকপি ক্ষেতে গিয়ে হামলা করতাম লুকিয়ে লুকিয়ে 😄। আর যেহেতু ক্ষেতগুলো বিলের দিকে থাকতো তাই সহজে কেউ টের পেতো না, এই নিয়ে বেশ মজা হতো। ওলকপি কাঁচা খেতেও ভালো লাগে, তবে একদম কচিগুলো মানে সবে হচ্ছে এমন অবস্থায় খেতে বেশি ভালো লাগে।আর কাঁচা ওলকপি খাওয়াও উপকার আছে আমাদের শরীরের জন্য। যাইহোক এখন আর সেই মজা নেই আর সেই জ্বালি ওলকপি পাইও না বাজারে তেমন। আর ডালের সাথে ওলকপিটা দিয়ে স্বাদটাই যেন অন্যরকম টেস্ট লেগেছিলো আর এইটা প্রথবার খেলাম। যাইহোক এখন এই রেসিপিটার মূল উপকরণের দিকে চলে যাবো।
❆প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ:❆
✦এখন রেসিপিটা যেভাবে প্রস্তুত করলাম---
☫প্রস্তুত প্রণালী:☫

➤ওলকপি দুটির খোসা প্রথমে ভালোভাবে ছালিয়ে নিয়েছিলাম এবং কেটে নেওয়ার পরে ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়েছিলাম। এরপর কাঁচা লঙ্কাগুলো কেটে নেওয়ার পরে ধুয়ে নিয়েছিলাম।
➤একটি প্যানে তেল দিয়ে তাতে কেটে রাখা ওলকপির পিচ দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর একটু কড়া মতো করে ভেজে নিয়েছিলাম।
➤এইবার মসুরের ডাল জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিয়েছিলাম এবং তারপর একটি কড়াইতে দিয়ে দিয়েছিলাম।
➤মসুরের ডাল কড়াইতে দিয়ে দেওয়ার পরে কয়েকবার একটু নেড়েচেড়ে ভাজা মতো করে নিয়েছিলাম। এরপর তাতে জল দিয়ে দিয়েছিলাম।
➤জল দেওয়ার পরে ফুল আঁচে বসিয়ে দিয়েছিলাম ডালগুলো ফুটানোর জন্য এবং ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে আসার জন্য। জ্বাল দিতে দিতে জলগুলো একদম কমে এসেছিলো আর ডালগুলো ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে এসেছিলো।
➤সেদ্ধ ডাল হাতা দিয়ে কয়েকবার চেপে চেপে গলিয়ে নিয়েছিলাম এবং একটি পাত্রে ঢেলে রেখে দিয়েছিলাম। এরপর কড়াইটি একবার জল দিয়ে ধুয়ে নিয়ে তাতে তেল দিয়ে দিয়েছিলাম এবং তেল গরম হলে তাতে শুকনো লঙ্কা, তেজ পাতা আর গোটা জিরা দিয়ে দিয়েছিলাম।
➤সব একটু ভাজা মতো হয়ে আসলে গলিয়ে রাখা ডাল আবার কড়াইতে ঢেলে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে ভেজে রাখা ওলকপির পিচগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম।
➤ওলকপির পিচ দেওয়ার পরে তাতে স্বাদ মতো লবন আর হলুদ গুঁড়ো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তাতে পরিমাণমতো জল দিয়ে দিয়েছিলাম।
➤জল দেওয়ার পরে তাতে কাঁচা লঙ্কাগুলো দিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর তরকারিটা ভালোভাবে ফুটিয়ে নিয়েছিলাম কিছুক্ষন ধরে আর তরকারিটা হয়ে আসার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম।
➤ঝোলটা কমে আসলে আর ডালটা ঘন হয়ে আসলে আমার তরকারিটা হয়ে গেছিলো এবং আমি তাতে অল্প করে জিরা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। এরপর পরিবেশনের জন্য একটি পাত্রে তুলে নিয়েছিলাম।
রেসিপি বাই, @winkles
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |




ওলকপি দিয়ে মসুর ডালের মজাদার রেসিপি তৈরি করেছেন। আসলে দাদা প্রতিদিন আমিষের চাহিদা একটু আলাদা কিছু খাওয়া উচিত। তাহলে খুব ভালো লাগে। আপনার আজকের রেসিপি পরিবেশন আমার খুবই ভালো লেগেছে। মজাদার রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আসলে এভাবে ওলকপি দিয়ে সুস্বাদু রেসিপি তৈরি করা হয়নি।আর আগের মতো বাজারে ওল কপি পাওয়া যায় না। তাই অনেকদিন পর দেখতে পেলাম এবং আপনার রেসিপির পরিবেশন অনেক ভালো লাগলো।
দাদা এই আজকের রেসিপি রেসিপি আমার কাছে একদমই নতুন লাগলো।
আমরা আবার শুক্রবারে একটু ভালো খাবারের ব্যাবস্থা করি। যাক আপনার ছোটবেলার ওলকপি চুরির গল্প শুনছিলাম আর আপন মনে হাসছিলাম। আমি আবার কখনো এগুলো করার তেমন সুযোগ পাইনি।
আগে দেখলাম ওলকপি ভাজি করেছেন, এরপর আবার ডাল আলাদা সিদ্ধ করে নিলেন। সবশেষে আবার সবগুলো একসাথে দিয়ে রান্না করলেন। এভাবে রান্না করলে তো স্বাদ না হয়ে যায় কোথায়। ধন্যবাদ দাদা চমৎকার রেসিপি আমাদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য।
দোয়া রইল পুরো পরিবারের জন্য।
দাদা আপনার রেসিপি পোস্টগুলো দেখে যে কেউ বুঝে ফেলবে আপনি আমিষ খেতে খুবই পছন্দ করেন। আমারও আমিষ খুবই পছন্দের মাঝে মাঝে নিরামিষ ভালোই লাগে। তাছাড়া আজকে আপনি ডালের সাথে ওলকপি দিয়ে খুব সুন্দর একটা রেসিপি করেছেন। এই ওলকপি সবজি কবে খেয়েছি আমার মনে পড়ছে না তার স্বাদটা ভুলে গিয়েছি। অনেক সুন্দর একটা রেসিপি দেখতে পেলাম দাদা।
আপনার মতো এই রেসিপি আমিও আগে কখনও খাইনি। খেয়ে দেখতে হবে দেখে মনে হচ্ছে ভালো খেতে হয়েছে। তবে কাঁচা ওলকপি কেমন খেতে এটাও জানা নেই আমার।ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটা নতুন রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
দৈনন্দিন খাবারে একটু আমিষ না থাকলে আবার কোনটা থেকে কোনটার ঘাটতি পড়ে যাবে বলা যায় না। দাদা আপনি আজ সিম্পল কিন্তু মজাদার একটি রান্নার রেসিপি শেয়ার করেছেন। ওলকপি এবং মসুর ডাল দুটি খাবারই খুব পুষ্টিকর। মসুর ডালও এক ধরনের আমিষ। আপনি ওলকপি চাক করে কেটে কড়া করে ভেজে নিয়েছেন যা আমার কাছে ভালো লেগেছে। রেসিপি খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন যা দেখে যে কেউ রান্না করে খেতে পারবে। রান্নার পরিবেশন দেখে খুব খেতে ইচ্ছা করছে। ধন্যবাদ দাদা ।
নিরামিষ খেতে আমারও ভালো লাগে না। তবে ভিন্ন কিছু তৈরি করে খেতে ভালোই লাগে। ফুলকপি দিয়ে ডাল খেয়েছি অনেক তবে ওলকপি দিয়ে ডাল খাওয়া হয়নি। ছোটবেলায় গ্রামে গেলে মুলা চুরি করে তুলতাম কিংবা মিষ্টি আলু চুরি করে তুলে খেতাম। কিন্তু ওলকপি কখনো কাঁচা খাওয়া হয়নি। আসলে ছোটবেলার স্মৃতি গুলো অনেক মধুর ছিল। হয়তো মাঝে মাঝে সেই স্মৃতিগুলো মনে পড়ে যায়। আসলে ছোটবেলায় আমরা কিন্তু সবাই পাক্কা চোর ছিলাম 🤭🤭। মসুর ডাল দিয়ে ওলকপির রেসিপি আমার কাছে দারুন লেগেছে। ওলকপি গুলো ছোট ছোট পিস করে ভেজে নিয়ে এরপর ডাল দিয়ে রান্না করাতে খেতে নিশ্চয়ই আরো বেশি ভালো লেগেছে। আসলে নতুন নতুন রেসিপির আইডিয়া গুলো হয়তো আপনার মাথা থেকেই আসা সম্ভব দাদা। তাইতো আমরাও এই মজার রেসিপি গুলো শিখতে পারি দাদা। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ভিন্ন ধরনের একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
দাদা কেমন আছেন, আশাকরি ভাল আছেন।আজ আপনি রেসিপি দিলেন মসুরের ডাল দিয়ে ওলকপি রান্না। এই রেসিপিটি আমার কাছে খুব আনকমন লেগেছে। আপনি ওলকপি ভেজে নিয়ে রান্না করলেন,রেসিপি খুব লোভনীয় লাগলো। খেতে খুবই মজা হয়েছে তা বুঝতে পারছি। রেসিপির প্রতিটি ধাপ খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন এজন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। অনেক অভিনন্দন রইলো আপনার জন্য।
দাদা আপনাদের মত আমরাও ক্ষেতের মধ্যে হামলা করেছিলাম, হাহাহা। সেই অতীতের স্মৃতিগুলো মনে পড়লে এখনও অনেক হাসি পায়। দাদা আপনার রেসিপি অনেক চমৎকার ছিল। অনেকদিন হল ওলকপি খাওয়া হয় না, এখন তো খেতে ইচ্ছে করছে।
দাড়ান দাদা আমি খবর দিচ্ছি ঔই ওলকপির মালিকদের।চুরি যে করেছেন তার জরিমানা নেওয়ার জন্য🤣🤣 আপনার কাছ থেকে।ঠিকানা টা একটু দিয়েন তো,দাদা।যাই হোক ওলকপি কাচা কখন খাওয়া হয়নি, এমনকি ডাল দিয়েও না।নতুন একটা রেসিপি শিখলাম আপনার কাছ থেকে।ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে
দাদা ওলকপি কাচাঁ খাওয়া শরীরের জন্য ভাল তাই বলে কি বন্ধুরা মিলে অন্য মানুষের খেতে হামলা দিবেন,হা হা হা। গোপন কথা বলতে গেলে আমরাও কম করি নাই হি হি হি। যায়হোক এখন সব কিছুই স্মৃতি হয়ে আছে। দাদা আমিষ আর নিরামিশে এত নিয়ম কানুন এখন আর কেউ মানে না। যেখানে যেটা পাচ্ছে সেটাই খাচ্ছে। তবে ডালের সাথে ওলকপি আপনি যেমন প্রথম রান্না করেছেন আমিও প্রথমবার দেখলাম। ধন্যবাদ দাদা।