নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা ( পর্ব ১০ )

in আমার বাংলা ব্লগ21 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000083997.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে "নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা" গল্পের দশম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর বললো- ঋত্বিক! ঘড়িটা, বাকিটা শোনা গেল না।ছবিটা মিলিয়ে গেল। সৌমেন গুহ এবার প্রচণ্ড রেগে উঠল। চুপ! ওদের কথা শুনবে না! তোমার বাবা দুর্বল হয়ে গেছে, ও বুঝতে পারছে না। এই পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে এবং আমাদের পৃথিবী শুরু হবে। হঠাৎ পুরো গবেষণাগার কেঁপে উঠল, প্রফেসর অমিয় দত্তের পুরোনো যন্ত্রটা দ্রুত ঘুরতে শুরু করল। ডঃ মুখার্জি আতঙ্কে বলল- না!দরজাটা আবার খুলছে! সৌমেন হেসে উঠল- দশ বছর অপেক্ষা করেছি, আজ পূর্ণগ্রহণ। আজ দুই সময়ের সীমারেখা সবচেয়ে দুর্বল। আজ কেউ আর আমাকে আটকাতে পারবে না।

হঠাৎ প্রফেসর অমিয় দত্তের ডায়েরির শেষ পাতা নিজে থেকেই খুলে গেল। ঋত্বিক তাড়াতাড়ি পড়তে শুরু করল এবং সেখানে লেখা- "যদি সৌমেন ফিরে আসে, তাহলে মনে রেখো..." "দরজা খোলা যায় শুধু নিষিদ্ধ ঘড়ির মাধ্যমে।" "কিন্তু বন্ধ করা যায় শুধুমাত্র রক্তের বিনিময়ে।" "ঈশানের রক্তের উত্তরাধিকারীই শেষবারের মতো সময়ের কাঁটা থামাতে পারবে।" ডঃ মুখার্জি স্তম্ভিত।ঋত্বিক...এর মানে...ঋত্বিক ধীরে ধীরে মাথা তুলল।আর ঠিক তখনই মাটির নিচ থেকে যেন কেউ ধাক্কা দিতে লাগল। পুরো ল্যাবরেটরি ফেটে যেতে শুরু করেছে। দেয়াল ভেঙে যাচ্ছে আর মাঝখানে তৈরি হচ্ছে এক বিশাল অন্ধকার দরজা।

সেই দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য ছায়ামূর্তি আর তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একজন। ঈশান রায়। কিন্তু তিনি একা নন, তার কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে সেই বিশাল কালো সত্তা। আর তার জ্বলন্ত চোখ সরাসরি ঋত্বিকের দিকে তাকিয়ে। তারপর প্রথমবারের মতো সে কথা বলল- ঈশানের ছেলে...তুমি এসেছ...এবার তোমার পালা...। পুরো গবেষণাগারটা যেন ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছিল। দেয়াল ফেটে যাচ্ছে, মেঝে কাঁপছে। আর মাঝখানে তৈরি হওয়া সেই বিশাল অন্ধকার দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য ছায়ামূর্তি। তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ঈশান রায় আর তার কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল কালো সত্তাটা যেন সমস্ত আলো শুষে নিচ্ছে।

তার জ্বলন্ত চোখ দুটো স্থির হয়ে আছে ঋত্বিকের ওপর। ঈশানের ছেলে...এবার তোমার পালা... চারদিকে একসঙ্গে হাজার কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হতে লাগল- এসো...আমাদের সঙ্গে এসো...সময়কে মুক্ত করো...। ডঃ অরিন্দম মুখার্জি চিৎকার করে উঠল- ঋত্বিক! ওদের কথা শুনবে না! সৌমেন গুহ তখন পাগলের মতো হাসছে- দেখছ? ওরা তোমাকে ডাকছে! ওরা তোমাকেই বেছে নিয়েছে! ঋত্বিকের হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরা নিষিদ্ধ ঘড়িটা গরম হয়ে উঠছে।হঠাৎ তার কানে ভেসে এল বাবার কণ্ঠ- ঋত্বিক...না...ওদের কাছে যাস না... আমি অনেক দেরি করে বুঝেছি...ওরা সময় নয়...ওরা স্মৃতি...ওরা অস্তিত্ব...


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png



Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.090
BTC 62154.06
ETH 1736.43
USDT 1.00
SBD 0.38