শেষ ফোনকলের রহস্য ( পর্ব ১০ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে একটা নতুন গল্প শেয়ার করে নেবো। গল্পটির নাম হলো "শেষ ফোনকলের রহস্য"। এর দশম পর্ব শেয়ার করবো। এরপর তার মুখ অন্ধকারে ঢাকা। কিন্তু সেই মানুষটি খুব শান্ত গলায় বলল- অবশেষে তুমি সবকিছুর কাছাকাছি পৌঁছে গেছ, অর্ণব। এবার বলো সত্যিটা শুনতে প্রস্তুত তো? ঘরের ভেতর টর্চের আলো কাঁপছে। বাইরে ঝড়ের শব্দে পুরোনো জানালা গুলো বারবার কেঁপে উঠছে। টেপ রেকর্ডারের রিল ধীরে ধীরে থেমে গেছে। পুরো বাড়িটা যেন নিঃশ্বাস আটকে অপেক্ষা করছে। অর্ণবের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির মুখ এখনও অন্ধকারে ঢাকা। কয়েক সেকেন্ড কেউ কোনো কথা বলল না।
অবশেষে লোকটি নিজেই এগিয়ে এল। টর্চের আলো মুখে পড়তেই অর্ণবের চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি, মুখে দাড়ি এবং চোখের নিচে গভীর কালি। কিন্তু সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ল তার ডান গালের পুরোনো কাটা দাগ। লোকটি শান্ত স্বরে বলল- আমাকে খুঁজছিলে না? অর্ণব কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল- আপনি কে? লোকটি কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে বলল- আমার নাম রুদ্রজিৎ রায়। অর্ণব যেন মাটিতে গেঁথে গেল। অসম্ভব! কারণ সংবাদপত্রে যাকে নিখোঁজ বলা হয়েছিল, তিনি তাহলে বেঁচে আছেন? রুদ্রজিৎ টেবিলের ওপর ছড়িয়ে থাকা কাগজগুলোর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন- পাঁচ বছর ধরে এই দিনটার অপেক্ষা করেছি। অর্ণবের গলায় রাগ আর আতঙ্ক মিশে গেল।
আপনি কোথায় ছিলেন এতদিন? যেখানে থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল। কে বাধ্য করেছিল? রুদ্রজিৎ উত্তর দিলেন না। বরং একটি পুরোনো ফাইল তুলে অর্ণবের হাতে দিলেন। ফাইলের প্রথম পাতায় বড় অক্ষরে লেখা- প্রকল্প: শেষ ফোনকল। অর্ণব বিস্মিত। এটা কী? রুদ্রজিৎ ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন- বারো বছর আগে আমি একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ছিলাম। শহরে কয়েকজন মানুষ রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হচ্ছিল।আশ্চর্যের বিষয়, প্রত্যেকের মোবাইলের শেষ কলটি এসেছিল এমন নম্বর থেকে, যার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। অর্ণব শিউরে উঠল। কারণ একই ঘটনা তার সঙ্গেও ঘটেছে। রুদ্রজিৎ বললেন- আমি তদন্ত করতে গিয়ে আবিষ্কার করি, সব ঘটনার সঙ্গে একটি জায়গার অদ্ভুত সম্পর্ক রয়েছে- প্ল্যাটফর্ম নম্বর তিন।
ঘরের নীরবতা আরও ভারী হয়ে উঠল। রুদ্রজিৎ টেবিল থেকে কয়েকটি ছবি তুলে ধরলেন। প্রথম ছবিতে একজন কলেজ ছাত্র, দ্বিতীয় ছবিতে এক ব্যবসায়ী, তৃতীয় ছবিতে একজন রেলকর্মী এবং চতুর্থ ছবিতে মেঘলা। প্রতিটি ছবির পেছনে একই বাক্য লেখা- শেষ ফোনকল গ্রহণের পর নিখোঁজ বা মৃত। অর্ণবের হাত কেঁপে উঠল। তাহলে মেঘলাও? রুদ্রজিৎ ধীরে বললেন- মেঘলা মারা যায়নি যেভাবে সবাই বিশ্বাস করে। মানে? তার মৃত্যুর গল্পটা তৈরি করা হয়েছিল। অর্ণবের মাথার ভেতর যেন বিস্ফোরণ ঘটল। আপনি বলতে চাইছেন, দুর্ঘটনাটা সাজানো ছিল? রুদ্রজিৎ সরাসরি উত্তর দিলেন না। তিনি একটি পুরোনো মানচিত্র খুলে ধরলেন। মানচিত্রে প্ল্যাটফর্ম নম্বর তিনের নিচে আঁকা রয়েছে অসংখ্য গোপন সুড়ঙ্গ।অর্ণব বিস্ময়ে বলল- এগুলো কী?......
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


