নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা ( পর্ব ৯ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা" গল্পের নবম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর ঋত্বিকের বুক ধক করে উঠল আর বলে উঠলো- বাবা কোথায়? খুব কাছে। কিন্তু তোমরা যাকে "কাছে" বলো, আমাদের কাছে সেটা "সময়ের অন্য পাশ"। হঠাৎ পুরো ঘরটা কেঁপে উঠল। মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল যন্ত্রটা নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল। পুরোনো মনিটরগুলো একে একে জ্বলে উঠল। একটা মনিটরে তারিখ দেখা গেল- ১২ নভেম্বর, ২০১৬। ডঃ মুখার্জি পুরো স্তম্ভিত, কারণ এটা অসম্ভব! আরেকটা মনিটরে দেখা গেল সেই রাতের দৃশ্য- ল্যাবরেটরি, প্রফেসর অমিয় দত্ত এবং ঈশান রায়।
আর তরুণ অরিন্দম মুখার্জি। সবকিছু যেন নতুন করে ঘটছে। ঋত্বিক শ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইল। হঠাৎ পর্দার মধ্যে এক প্রচণ্ড আলোর বিস্ফোরণ। তারপর...ঈশান রায়কে আলো গিলে নিল। কিন্তু যাওয়ার আগে সে একবার পিছন ফিরে তাকিয়েছিল। তার চোখে ছিল ভয় আর সেই মুহূর্তে তার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল সৌমেন গুহ। কিন্তু সে তখনও মানুষ। ঋত্বিক বিস্ময়ে বলল- সৌমেনও ওখানে ঢুকেছিল? ডঃ মুখার্জি মাথা নাড়ল। হ্যাঁ, কিন্তু আর ফিরে আসেনি, অন্তত মানুষ হিসেবে নয়। সৌমেন হেসে বলল- ওপারে সময় থেমে আছে। ক্ষুধা নেই, মৃত্যু নেই এবং বার্ধক্য নেই। শুধু অসীম অস্তিত্ব। তোমরা যাকে ভয় বলো, আমরা তাকে মুক্তি বলি।
ঋত্বিক চিৎকার করে উঠল- আমার বাবাকে কোথায় রেখেছ? সৌমেনের মুখে অদ্ভুত হাসি আর বললো- রেখেছি? ও নিজের ইচ্ছায় আছে, চাইলে দেখে নাও। হঠাৎ নিষিদ্ধ ঘড়িটা উজ্জ্বল আলো ছড়াতে শুরু করল। ঘড়ির ভেতর থেকে এক ধরনের নীল আলোর বৃত্ত তৈরি হলো আর তার মধ্যে একটা পরিচিত মুখ ফুটে উঠল। ঋত্বিকের বুক কেঁপে উঠল আর বললো- বাবা! ঈশান রায়!একই মুখ, একই চেহারা এবং দশ বছর আগের মতোই। একটুও বুড়ো হয়নি। ঈশানের চোখ ভিজে উঠল- ঋত্বিক...তুই এত বড় হয়ে গেছিস? ঋত্বিক কেঁদে ফেলল- বাবা! তুমি কোথায়? আমি বেঁচে আছি, কিন্তু খুব বেশি সময় নেই। ঋত্বিক কাঁপা গলায় বলল- আমি তোমাকে নিয়ে আসব।
ঈশান আতঙ্কিত হয়ে মাথা নাড়ল- না! এখানে আসবি না!এটা কোনো পৃথিবী নয়। সময় এখানে থেমে আছে। কিন্তু কিছু একটা আমাদের ব্যবহার করছে। ওরা আমাদের স্মৃতি খেয়ে বেঁচে থাকে। যত দিন যাচ্ছে, আমি ভুলে যাচ্ছি আমি কে। তোর মায়ের মুখ... তোর ছোটবেলার কথা... সবকিছু ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। ঋত্বিকের চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল। তাহলে কী করব? ঈশান দ্রুত বলল- দরজাটা বন্ধ করে দে, চিরতরে। আমাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করিস না। নাহলে ওরা আমাদের পৃথিবীতে চলে আসবে। ঠিক তখনই ঈশানের পেছনে ছায়াগুলো নড়ে উঠল। অসংখ্য জ্বলন্ত চোখ। একটা ভয়ঙ্কর অবয়ব ধীরে ধীরে এগিয়ে এল। ঈশানের মুখে আতঙ্ক। ওরা চলে এসেছে!....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


