নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা ( পর্ব ৬ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা" গল্পের ষষ্ঠ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর সে বললো- অসম্ভব! আমিও তাই ভেবেছিলাম। ডঃ মুখার্জি একটা পুরোনো ডায়েরি বের করল। এই ডায়েরিটা অমিয় দত্তের ছিল। ঋত্বিক পড়তে শুরু করল- সময়কে থামানো যায় না। কিন্তু তার গতি পরিবর্তন করা যায়। আমি এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছি, যা সময়ের দুটি স্তরের মধ্যে দরজা খুলতে পারে। যদি কেউ সেই দরজা পেরিয়ে যায়, তাহলে হয়তো সে আর নিজের সময়ে ফিরতে পারবে না।ঋত্বিকের শরীর শিউরে উঠল- তাহলে বাবা... তোমার বাবা আর আমি ভুল করে সেই পরীক্ষার অংশ হয়ে পড়েছিলে। কী হয়েছিল? ডঃ মুখার্জির চোখ ভিজে উঠল।
২০১৬ সালের ১২ নভেম্বর। সেই রাতে আমরা আবার পরীক্ষাটা চালু করি।সবকিছু ঠিকই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ ঘড়ির কাঁটা উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করে। আর তারপর...পুরো ঘরটা আলোয় ভরে যায়। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। যখন জ্ঞান ফিরে আসে... ঈশান আর সেখানে ছিল না। সে যেন বাতাসের মধ্যে মিলিয়ে গিয়েছিল। ঋত্বিক নিঃশব্দে বসে রইল। তাহলে বাবা মারা যায়নি? না, তাহলে বাবা কোথায়? ডঃ মুখার্জি ধীরে ধীরে বলল- সময়ের ওপারে। ঠিক তখনই বাইরে প্রচণ্ড বজ্রপাত হল। হঠাৎ পুরো বাড়ির আলো নিভে গেল। আর সেই মুহূর্তে টেবিলের ওপর রাখা নিষিদ্ধ ঘড়িটা নিজে থেকেই খুলে গেল। কাঁটা উল্টো দিকে ঘুরছে। ডঃ মুখার্জির মুখে আতঙ্ক ফুটে উঠল।
না! এটা আবার শুরু হয়েছে! ঘড়ির ভেতরে এবার একটি নতুন ছবি ফুটে উঠল। একটা পুরোনো ল্যাবরেটরি, ভাঙা যন্ত্রপাতি। আর সেই অন্ধকারের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে একজন মানুষ। ঋত্বিকের বুক ধড়ফড় করে উঠল। লোকটা তার বাবা- ঈশান রায়। কিন্তু তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে আরেকটি ছায়ামূর্তি। মানুষের মতো, অথচ মানুষ নয়। দুটি জ্বলন্ত চোখ, লম্বা কালো অবয়ব। আর সেই ছায়াটা ধীরে ধীরে ঈশানের কাঁধের ওপর হাত রাখল। ঠিক তখনই ঘড়ির ভেতর থেকে ভেসে এল এক ভয়ঙ্কর কণ্ঠ- দশ বছর অপেক্ষা করেছি... এবার দরজাটা পুরোপুরি খুলবে... আর তোমরা সবাই...আমাদের সময়ে চলে আসবে...।বজ্রপাতের শব্দে পুরো পাহাড় যেন কেঁপে উঠছিল। অন্ধকার ঘরের ভেতরে নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা উল্টো দিকে ঘুরে চলেছে।
আর সেই ছোট্ট পকেট ঘড়ির ভেতরে দেখা যাচ্ছে ভাঙাচোরা এক ল্যাবরেটরি।ঈশান রায় দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। কিন্তু তার পেছনে যে ছায়ামূর্তিটা দাঁড়িয়ে আছে, তার দিকে তাকিয়ে ঋত্বিকের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। দুটি জ্বলন্ত চোখ এবং মুখের কোনো স্পষ্ট আকৃতি নেই। তবু মনে হচ্ছে, সে যেন তাকিয়ে আছে সরাসরি তাদের দিকেই। আর পরের মুহূর্তেই দৃশ্যটা হারিয়ে গেল। ঘড়ির ঢাকনা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল। ডঃ অরিন্দম মুখার্জি কাঁপা হাতে চেয়ারে বসে পড়ল। ওরা আবার আমাদের খুঁজে পেয়েছে। ঋত্বিক বিস্ময়ে বলল- ওরা কারা? বৃদ্ধ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল- আমি জানি না ওদের কী নাম দেব। মানুষ নয়, আবার পুরোপুরি ছায়াও নয়। আমরা ওদের নাম দিয়েছিলাম- "সময়ের রক্ষক"।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


