নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা ( পর্ব ৮ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটা" গল্পের অষ্টম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর হঠাৎ দরজাটা নিজে থেকেই ধীরে ধীরে খুলে গেল আর ভেতরে ঢুকতেই ঋত্বিক স্তব্ধ হয়ে গেল। ঘরের মাঝখানে বিশাল একটি যন্ত্র, চারপাশে ভাঙা তার এবং পুরোনো মনিটর। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়-যন্ত্রটা এখনও চালু আর সবুজ আলো জ্বলছে।আর তার সামনে রাখা একটি ডায়েরি। ঋত্বিক ডায়েরিটা তুলে নিল। প্রথম পাতায় লেখা- "যদি কেউ এটা পড়ে, তাহলে বুঝবে আমি ব্যর্থ হয়েছি।" নিচে নাম- প্রফেসর অমিয় দত্ত। ঋত্বিক দ্রুত পড়তে শুরু করল- আমরা ভুল করেছি, আমরা একা নই, সময়ের ওপারে আরেকটি চেতনা আছে।
সৌমেন ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ও এখন আর মানুষ নয়। দরজাটা বন্ধ করতে হবে, না হলে একদিন ও ফিরে আসবে। ঠিক তখনই ডঃ মুখার্জি চিৎকার করে উঠল- ঋত্বিক! পিছনে! ঋত্বিক ঘুরে দাঁড়াতেই তার হাত থেকে ডায়েরিটা পড়ে গেল।ঘরের অন্ধকার কোণে একজন দাঁড়িয়ে আছে।ধুলোয় ঢাকা পোশাক এবং মুখে লম্বা সাদা দাড়ি। চোখ দুটো অস্বাভাবিক উজ্জ্বল আর ঠোঁটে এক ভয়ঙ্কর হাসি। লোকটা ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এল আর বললো- অরিন্দম...অনেক বছর পর দেখা। ডঃ মুখার্জির মুখ থেকে রক্ত সরে গেল। এরপর বলে উঠলো- না...এটা হতে পারে না!ঋত্বিক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল এবং লোকটা হেসে বলল- আমাকে ভুলে গেছ? আমি সৌমেন গুহ।
তোমরা যাকে মৃত ভেবেছিলে। তারপর সে ধীরে ধীরে ঋত্বিকের দিকে তাকাল। ঈশান রায়ের ছেলে...তোমার জন্যই আমি অপেক্ষা করছিলাম।কারণ, দরজাটা আবার খোলার চাবি তোমার কাছেই আছে। আর সেই বলে তার চোখ দুটো হঠাৎ সম্পূর্ণ কালো হয়ে গেল। ঘরের সব আলো নিভে গেল। আর অন্ধকারের মধ্যে ভেসে এল আরও অনেকগুলো ফিসফিসে কণ্ঠ- ফিরে আসার সময় হয়েছে। গবেষণাগারের অন্ধকার ঘরটা মুহূর্তের মধ্যে হিমশীতল হয়ে উঠল এবং সব আলো নিভে গেছে। শুধু নিষিদ্ধ ঘড়ির কাঁটাগুলো উল্টো দিকে ঘুরছে, আর সেই ক্ষীণ শব্দ- টিক... টিক... টিক...। অন্ধকারের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা সৌমেন গুহর চোখ দুটো অস্বাভাবিক কালো।
কিন্তু সেই কালো চোখের গভীরে যেন অসংখ্য মানুষের মুখ ভেসে উঠছে। হঠাৎ চারদিক থেকে একসঙ্গে ফিসফিসে কণ্ঠ ভেসে এল- দরজা খুলে দাও...সময়কে মুক্ত করো...আমরা ফিরে আসতে চাই...। ঋত্বিক আতঙ্কে পিছিয়ে গেল। আর এদিকে ডঃ অরিন্দম মুখার্জি চিৎকার করে উঠল- ওর দিকে তাকিও না! কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। সৌমেন গুহ ধীরে ধীরে হেসে উঠল- তোমরা এত বছর পরেও ভয় পেতে শেখোনি, অরিন্দম? ডঃ মুখার্জির কণ্ঠ কাঁপছিল- তুই আর মানুষ নেই, সৌমেন। মানুষ? এই কথা বলে সৌমেন অদ্ভুতভাবে হাসল। মানুষের সীমাবদ্ধতা আমি দশ বছর আগেই ছেড়ে এসেছি। তারপর সে ঋত্বিকের দিকে তাকাল আর বললো- তোমার বাবা এখনও অপেক্ষা করছে।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |


