একদিন নানু বাড়িতে ঘুরতে যাওয়ার অনুভূতি
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।
আমরা আগে থেকে চিন্তা করছিলাম নানু বাড়িতে যাব। যেহেতু আমার দুলাভাই নানুকে দেখতে যাবেন । কিন্তু যাবার আগের দিন আমার মামা-মামী বাসায় আসলেন , তারা এসে খুব করে বলে গেলেন তাদের বাড়িতে পরের দিন যাবার জন্য । তো আমরা তো এমনিতেই যাব তারপরেও পরের দিন আমরা যাবার কথা বললাম। আমরা দুপুরের দিকে যেতে চেয়েছিলাম , কারণ নানুর বাড়ি আমাদের বাসা থেকে যেতে খুব বেশি সময় লাগে না ,আধা ঘন্টা সময় লাগে।
কিন্তু আমরা যখন যাব তার বেশ কিছুক্ষণ আগে থেকেই শুরু হলো তুমুল বৃষ্টি । তখন তো খুবই খারাপ অবস্থা ।আমরা কি করে যাব ? এদিকে নানুবাড়ি থেকে আমার মামা-মামী বারবার ফোন দিচ্ছিল । আমাদের আসতে এত দেরি দেখে । কিন্তু যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছিল তার মধ্যে বের হওয়া খুবই মুশকিল ছিল । তারপরেও আমরা যেহেতু যাব ঠিক করেছি তারপরেও আমরা রওনা দিলাম বৃষ্টির মধ্যেই । রওনা দিলাম কি আর করার । তারপরে রাস্তায় মিষ্টি কিনে আমরা নানুবাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছি ।
বাড়িতে যখন আমরা পৌঁছলাম , ওখানে বৃষ্টি একেবারেই নেই । বেশ অবাক হলাম এতটুকু দূরত্ব তারপরেও এখানে একদম পরিষ্কার । যেহেতু দীর্ঘ দিন পর নানু বাড়িতে এসেছি তো বেশ ভালোই লাগছিল । সবার সঙ্গে কথাবার্তা বলছিলাম । নানু বাড়িতে গেলে একটা বিষয় আমাদের কাছে খুবই মজার লাগে , সেটা হচ্ছে নানু বাড়ির পাশ দিয়ে যে নদী বয়ে গেছে আমরা সেই নদীটির কাছে যাব এবং কিছু ফটোগ্রাফি করব । কিন্তু এবার বৃষ্টির কারণে নদীর কাছে যাওয়া হয়নি । সকালের দিকে অনেক বৃষ্টি হয়েছে তাই গ্রামের রাস্তাঘাট একটু ভেজা ও পিচ্ছিল হতে পারে তাই আর ওদিকে পা বাড়ায়নি ।
নানু বাড়িতে যেয়ে দেখলাম আমার মামাতো বোন বেশ কিছু ফুল ও অন্যান্য পাতাবাহার জাতীয় গাছ লাগিয়েছে । যেগুলো দেখে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগলো । কারণ আমি এমনিতেই গাছ বেশ পছন্দ করি আপনারা হয়তো সকলেই জানেন । আমার নিজেরও একটি বাগান আছে । তার ফুল মাঝে মাঝে আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করি । তাই আমি আমার মামাতো বোনের করা বাগানের কয়েকটি ফটোগ্রাফি নিলাম ।
বৃষ্টি ভেজা গাছগুলো দেখতে খুবই চমৎকার লাগছিল । এ ধরনের গাছগুলো এমনিতেই বেশ ভালো লাগে ।তারপর আবার বৃষ্টির পানি পড়ায় গাছগুলো বেশ প্রাণবন্ত লাগছিল । এই গাছগুলোর নাম আমার জানা নেই । হয়তো পাতা বাহার জাতীয় গাছ হবে ।
তারপর আমরা বেশ কিছুক্ষণ গল্প গুজব করার পর খাওয়া-দাওয়া করলাম । দেখলাম আমার মামি বেশ কয়েক রকমের খাবারের আয়োজন করেছেন এবং সেই সঙ্গে বিভিন্ন রকমের পিঠাও ছিল । তারপর আমরা সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষ করে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে গল্প করে আবার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম । তখন কিন্তু বৃষ্টি ছিল না । ব্যাস সন্ধ্যার আগেই আমরা বাসায় পৌঁছে গেলাম । এটাই ছিল আমার আজকের আয়োজন ।আশা করছি আপনাদের কাছে আমার নানুবাড়ি ভ্রমণের অনুভূতি টি বেশ ভালো লেগেছে ।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ফটোগ্রাফার: | @wahidasuma |
|---|---|
| ডিভাইস: | স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৪০ |
| লোকেশন | বাহিরদিয়া ব্রীজ , ফরিদপুর |
🔚ধন্যবাদ🔚
@wahidasuma
আমি ওয়াহিদা সুমা।আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।
আপনার নানুর বাড়িতে তো দেখছি খুবই সুন্দর সুন্দর পাতা বাহার গাছ রয়েছে। আপনার নানুর বাড়ির পাশে যে নদীটি আছে তার ফটোগ্রাফি করে অবশ্যই আমাদের সাথে শেয়ার করবেন আমি সেই অপেক্ষায় থাকবো। দেখে তো মনে হচ্ছে নানুর বাড়িতে এসে খুবই ভালো খাওয়া দাওয়া করেছেন এবং সবার সাথে গল্প গুজব করেছেন।
হ্যাঁ ভাইয়া দীর্ঘ দিন পর নানু বাড়িতে বেশ ভালোই মজা হয়েছে । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য । আর আমি অবশ্যই এরপরের বার গেলে নদীর ছবি তুলে আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব । ধন্যবাদ আপনাকে ।
নানু বাড়ি ভ্রমণ করে আপনি খুব সুন্দর অভিজ্ঞতা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফির মাধ্যমে।। আপনার গল্পটি পড়ে বুঝতে পারলাম খুব সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে নানুবাড়ি ভ্রমণ করে।। যদিও বৃষ্টির কারণে একটু হেনস্থা হতে হয়েছে তারপরও নানু বাড়ি বলে কথা মজাটাই অন্যরকম।।।
আমার অবশ্য নানু বাড়ি যাওয়া নিয়ে এরকম কোনদিন ফিলিংস আসে না কেননা আমার নানু বাড়ি একদমই আমার বাড়ির সাথে প্রতিদিনই দু-একবার করে যাওয়া হয়।।।।
আপনার নানু বাড়ি যেহেতু আপনার বাড়ির পাশে এবং প্রতিদিন একবার করে যা হয় তাহলে তো মজা নেই ভাইয়া । দূরে থাকলে মজা পেতেন । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
এই বিষয়টা আমিও ফিল করি আমার বন্ধুরা মাঝে মাঝে দেখি নানা বাড়ি গিয়ে বেশ কয়েকদিন মজন মাস্তি করে বাড়ি এসে নানান ধরনের গল্প শোনায়।। আমার অবশ্য বাড়ির পাশে হওয়াতে এরকমটা আর হলো না।। যাহোক তারপরও মাঝে মাঝে নানি বাড়িতে গেলে অনেক মজা করি ভাই বোনদের সাথে।।
সত্যি বলতে এরকম অবস্থা আমারও অনেক বার ঘটেছে। যখনই কোথাও বেরোবো তখন দেখতে পাই খুব বৃষ্টি। আবার যে জায়গাতে গিয়ে পৌঁছাবো সেখানে দেখি বৃষ্টির কোন নামও নেই। ধন্যবাদ আপনাকে খুব সুন্দর একটি অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য । আপনার জন্য শুভকামনা রইল ।
আপনাকে ও অনেক ধন্যবাদ খুব সুন্দর ভাবে গুছিয়ে মন্তব্যের ফিডব্যাক দেয়ার জন্য।
এতদিন পর নানু বাড়িতে গিয়ে আসলে অনেক মজা হয়েছিল। আপনিও দেখি অনেক সুন্দর সুন্দর বৃষ্টি ভেজা গাছের ছবি তুলেছিলেন। আমিও তুলেছিলাম । গাছের ছবিগুলো বৃষ্টিতে ভেজার কারণে আরও বেশি চমৎকার লাগছিল। এতদিন পর নানু বাড়িতে গিয়ে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। আপনার ছবিগুলো দেখে আবারও মনে পড়ে গেল সেই দিনের কথা।
আসলে নানু বাড়িতে ছোটবেলার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে । আপনার সেগুলো মনে পড়েছে জেনে ভালো লাগলো । ধন্যবাদ আপনাকে ।
আপনার নানু বাড়িতে আপনি খুব চমৎকার সময় কাটিয়েছেন। আপনার মামাতো বোন পাতাবাহার ফুলের গাছ লাগিয়েছে যা দেখে আপনি ফটোগ্রাফি করেছেন। খাবার-দাবার আড্ডা সবকিছু দেওয়ার পর দেখলেন আপনার মামি বেশ কিছু পিঠা বানিয়েছে। তারপর খাওয়া দাওয়া শেষে বাড়িতে রওনা দিলেন। আসলে এমন একটি সময় খুবই আনন্দে কাটিয়েছেন।
হ্যাঁ আপু বেশ আনন্দে কাটিয়েছিলাম সময় টি । আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য ভালো থাকবেন ।
আপনার মামাতো বোনের বাগানটি অনেক সুন্দর। গ্রামের বাড়ির এই জিনিসগুলোর ভাল লাগে।দেখে বোঝা যাচ্ছে গাছগুলোর পিছে তার বেশ শ্রম দিতে হয়েছে।আশা করি অনেক মজা করেছেন নানুবাড়িতে।ধন্যবাদ সুন্দর মুহুর্ত গুলো শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ ভাইয়া বেশ ভালো লেগেছিল । হ্যাঁ আমার মামাতো বোনের বাগান করার বেশ সখ আছে বোঝা গেল ।ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।
আমার দিদিমা মারা গিয়েছেন চার বছর হল। তারপর থেকে মামার বাড়ি যাওয়ার সেই আনন্দ আর নেই বললেই চলে। আপনার লেখার মাঝে আমিও পুরনো দিনের সেই আনন্দের মুহূর্ত গুলো খুঁজে পাচ্ছিলাম যেন। বৃষ্টির জল লেগে গাছের সৌন্দর্য একটু বেশি বেড়ে গেছে মনে হচ্ছে। ভার পেট খাবার খাওয়া তারপর আবার পিঠা 👌👌। মামার বাড়ি মধুর হাড়ি একদম ষোল কণায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
ইস ভাইয়া আপনার কথা শুনে বেশ খারাপ লাগলো । আসলেই দিদিমা না থাকলে মামার বাড়ি যাওয়ার কোনো আনন্দই নেই আমারও মনে হয় । এখন পর্যন্ত যেতে বেশ ভালই লাগে ।পরবর্তীতে কেমন লাগবে জানিনা । তবে বেশ ইনজয় করেছিলাম সেদিন । মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।ভালো থাকবেন ।
বাহ আপনার নানার বাড়িতে গিয়ে কিছু পাতাবাহার গাছের ফটোগ্রাফি করেছেন। সত্যি নানার বাড়ির মজায় খুব আলাদা। আপনাদের বাড়ি থেকে তেমন দূর না আদা ঘন্টার রাস্তা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে হস্তম্যস্ত হয়ে গেলেন। তারপর দেরি হবার কারণে আপনার মামা এবং মামি ফোন করতে লাগলেন। অসাধারণ লাগলো আমার কাছে। ধন্যবাদ খুব সুন্দর করে শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপনাকে আপু মনোযোগ দিয়ে আমার পোস্টটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য । ভালো থাকবেন ।আপনার জন্য শুভকামনা রইল ।
নানুর বাড়িতে যেতে আমাদের সকলের খুব ভালো লাগে। আপনি নানুর বাড়িতে গিয়েছেন জেনে খুব ভালো লাগলো। নানুর বাড়িতে যাওয়ার অনুভূতি গুলো খুব সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। আসলে ব্যস্ততার কারণে আজ অনেক দিন যাবৎ নানুর বাড়িতে যাওয়া হয়না আমার। এত সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
সময় পেলে যেয়ে ঘুরে আসবেন । আসলে এসব জায়গায় গেলে আমাদের মন এমনিতেই ভালো হয়ে যায় । ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য ।