একদিন মাকে নিয়ে পদ্মার পার থেকে ঘুরে আসা
আসসালামু আলাইকুম
আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের বন্ধুরা আপনারা সবাই কেমন আছেন ?আশা করছি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।আমিও আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ভাল আছি।
বন্ধুরা আজ আবারো আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি নতুন একটি পোস্ট নিয়ে ।আজ আমি বেশ কিছুদিন আগে মাকে নিয়ে একদিন ঘুরতে বেরিয়ে ছিলাম সে অনুভূতি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে এসেছি ।মূলত প্রথমে আমরা গিয়েছিলাম সুইট গেট। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরির পর মাকে নিয়ে আমি পদ্মার পাড়ে যেতে চেয়েছিলাম ।যদিও সে খুব একটা যেতে রাজি ছিল না ।কেননা এমনিতে সন্ধ্যা হয়ে আসছিল ।তারপরেও একটি রিক্সা নিয়ে গেলাম আমরা পদ্মার পাড়ে কিছু সময় ঘুরে আসার জন্য। সে অনুভূতি এখন আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে।
একদিন মাকে নিয়ে পদ্মার পার থেকে ঘুরে আসা
সুইচ গেট থেকে পর্দা নদীর দূরত্ব খুবই কম। যার কারণে আমি আম্মাকে নিয়ে পদ্মার পাড়ে যেতে চেয়েছিলাম। কেননা আম্মা পদ্মার পাড়ে অনেকদিন আগে গিয়েছিল ।আমি মাঝে মাঝে যাই আর জায়গাটা আমার কাছে বেশ ভালই লাগে । আমারও অনেকদিন যাওয়া হয়ে ওঠে না। তাই ভাবলাম মা কেউ ঘুরিয়ে নিয়ে আসি আর আমি নিজেও ঘুরে আসি সঙ্গে আমার মেয়েও ছিল। তবে সেখানে যাবার পর প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসলো ।সেখানে যাবার পর পদ্মা পাড়ের দৃশ্য দেখে সত্যি ভীষণ ভালো লেগেছিল। পদ্মার পাড়ে সারি সারি নৌকা বাধা ছিল ।যে নৌকায় করে সবাই ঘুরে বেড়ায়, এপার থেকে ওপারে যায়। হাতে সময় থাকলে আমরাও হয়তো নৌকায় করে ঘুরতে পারতাম ।কেননা আমি যতবার যাই ততবারই এই নৌকা গুলোতে ঘুরে বেড়াই।
তারপর সেখানে দেখলাম পানির উপর দারুন একটি রেস্টুরেন্ট। যদিও এটি গতবারও ছিল। তবে পানি যখন বাড়ে তখন এই রেস্টুরেন্ট দেখতে অনেক বেশি ভালো লাগে ।কেননা এমনি সময় পানি অনেক দূরে চলে যায় ।আর যখন পানি বৃদ্ধি পায় তখন রেস্টুরেন্টের নিচে পানি থাকে। যার কারণে রেস্টুরেন্ট টিতে বসলে দারুন একটা ভিউ পাওয়া যায় ।গতবার আমি সন্ধ্যার পরেও রেস্টুরেন্টে বেশ কিছু সময় বসে ছিলাম। রাতের বেলায় এরকম নদীর পাড়ে বসে থাকতে বেশ ভালো লাগে। সেখানে সমুদ্রের পারের বসার যে সিটগুলো থাকে সেগুলোর ব্যবস্থা রয়েছে। যেহেতু আমরা খুব অল্প সময়ের জন্য গিয়েছিলাম তার কারণে রেস্টুরেন্টে আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি।
নদী পার কে কেন্দ্র করে দেখলাম বেশ কিছু দোকান এবং শিশু পার্কের মতো তৈরি হয়েছে। যেখানে বাচ্চাদের বিভিন্ন রাইড রয়েছে এবং ছোট ছোট বিভিন্ন খেলনা পাতির দোকান রয়েছে। যেগুলো দেখলে বাচ্চারা কেনার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠে ।আবার শিশু পার্কে ঘুরতেও বেশ পছন্দ করে। তবে এবার আমাদের সময়ের অভাবে ওখানে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। দূর থেকে আমি মূলত ফটোগ্রাফি গুলো করেছিলাম।
বেশ কিছু লোক জনকে দেখলাম নৌকায় চড়ছে ।নৌকায় করে নদীর এপার থেকে ওপার যাচ্ছে, আবার ফিরে আসছে। কেউবা নদীতে আধা ঘন্টা ,এক ঘন্টার জন্য ভ্রমণ করছে। সব মিলিয়ে এরকম পানি থাকা অবস্থায় নৌকায় ঘুরতে আমার কাছেও বেশ ভালো লাগে ।আর সেদিনকার আকাশটাও চমৎকার সুন্দর ছিল ।সব মিলিয়ে দারুন একটা পরিবেশ ছিল। যদিও মাগরিবের আজান পড়ে গিয়েছিল যার কারণে সেখানে বেশি সময় দাঁড়ানো হয়নি। আমরা তারপরেই তাড়াহুড়ো করে একটি রিকশা নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ।আগামীতে আবার দেখা হবে নতুন কোন লেখা নিয়ে ।সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন ।আমার ব্লগ টি পড়ার জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
| ফটোগ্রাফার: | @wahidasuma |
|---|---|
| ডিভাইস: | OPPO Reno8 T |
🔚ধন্যবাদ🔚
@wahidasuma
আমি ওয়াহিদা আফরোজ সুমা।আমি একজন হাউজ ওয়াইফ। সমাজবিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স করেছি।ঘুরে বেড়াতে , ঘুমাতে এবং গান শুনতে আমি ভীষন পছন্দ করি।বাগান করা আমার শখ।এছাড়াও আর্ট , বিভিন্ন রেসিপি ট্রাই করতেও ভালো লাগে। আমি 🇧🇩বাংলাদেশি🇧🇩।বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি বাংলায় কথা বলতে ও লিখতে ভালোবাসি।ধন্যবাদ আমার বাংলা ব্লগকে এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
This post has been upvoted by @italygame witness curation trail
If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness
Come and visit Italy Community
Hi @wahidasuma,
my name is @ilnegro and I voted your post using steem-fanbase.com.
Come and visit Italy Community
নদীর তীর আমারও ভালো লাগে। আমাদের ওখানে আছে মেঘনা। গ্রামে গেলে দল বেধে ঘুরতে যাই। আগে সাইকেলে যেতাম। এখন মোটরসাইকেল থাকায় হুটহাট যাওয়া যায়। সাইকেলে দুই ঘন্টা লাগতো আমাদের। অনেক দূর কিনা! নদীর পাড়ে গেলেই মন ভালো হয়ে যায়। পদ্মা নদী দেখেনি। যাওয়াও হয়না। সুন্দর নদী পদ্মা।
হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন নদীর পাড়ে গেলে আসলেই মন ভালো হয়ে যায়।ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
পদ্মা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখছি অনেক সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন। আপনার কাটানো মুহূর্তটা অনেক সুন্দর ছিল। নদীর উপরে থাকা রেস্টুরেন্ট টা দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে । আসলে রাতের বেলায় এরকম জায়গাগুলোতে বসে থাকতে অনেক ভালো লাগবে। আবার দেখছি শিশু পার্কের মত তৈরি করা হয়েছে। এটা দেখে তো আরো ভালো লেগেছে। সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা নৌকাগুলো দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। নৌকায় ভ্রমন করতে তো আমার কাছে অসম্ভব ভালো লাগে।
হ্যাঁ আপু নদীর পাড়ের জায়গাটা আসলেই অনেক সুন্দর। এরকম জায়গায় সময় কাটাতে বেশ ভালই লাগে ।ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।