★একটি মেয়ের জীবনের কাহিনী★ শেষ পর্ব
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকে আমি আবার নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছি । বেশ কয়েকদিন আগে আমি একটি গল্প লিখেছিলাম সেই গল্পের আরো কিছু অংশ বাকি ছিল আজকে আমি আবার সেই গল্পের কিছু অংশ নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছি । এভাবে করে আমাদের জীবনের কাহিনী নিয়ে গল্প আকারে লিখলে সে লেখার কোন শেষ নেই । আমরা যদি আশেপাশের দিকে তাকাই তাহলে কোন না কোন ঘটনা আমাদের চোখে পড়ে এবং সেখান থেকে একটা ঘটনা আমি গল্প করে আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি ।
গত পর্বের লিঙ্ক: Link
গত পর্ব শেষ করেছিলাম সবাই মিলে তরীর বাবার বিয়ের ব্যবস্থা করছিল । এদিকে তরীর বাবাও বিয়ে করার জন্য রাজি ছিল । তরীকে না জানিয়ে তারা মেয়ে দেখাও শুরু করে দিয়েছিল । গ্রামে যাওয়ার নাম করে তরীর বাবা একটি মহিলাকে পছন্দ করেও ফেলেছিল এবং কদিন পরে বিয়ের জন্য সময়ও নিয়েছিল । এদিকে তরী তার কিছুই জানতো না । ফ্যামিলির লোকজন লোকটির একাকীত্ব দূর করার জন্য বিয়ের ব্যবস্থাটা করেছিল । এর ভিতরে হঠাৎ করে একদিন তরীর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ল হার্ট এটাক করে বসে । তখন তাকে দ্রুত হসপিটালে নেওয়া হয় এবং তার করোনা ধরা পরে ।তিন চার দিনের হসপিটালে ভর্তি থাকার পরে তরীর বাবাও একদিন না ফেরার দেশে চলে যায় ।
এদিকে তরী তার মা-বাবা দুজনকে হারিয়ে একেবারে একা হয়ে পরে । এখন তরী সবকিছু একা সামলানোর চেষ্টা করে । তরীর বাবা মারা যাওয়ার কিছুদিন পরে তার বাবার পাঞ্জাবী ঘাটতে গিয়ে দেখা যায় যে তরীর মায়ের একজোড়া বালা তার বাবার পকেটে । তরীর বাবা বিয়ে করার জন্যই বালা জোড়া রেখেছিল নতুন বউকে দেওয়ার জন্য । যেটা তরী বুঝতেই পারেনি এটা কেন সে রেখেছিল । যাই হোক এভাবে করে তরীর দুঃখে ভরা দিনগুলো চলছিল । এর ভিতর আত্মীয়-স্বজনরা তাদের আসল চেহারা দেখাতে শুরু করে । কারণ তরীর বাবা তাদেরকে অনেক বেশি পরিমাণে সাহায্যে সহযোগিতা করতো । তরীর বাবা মারা যাওয়ার পরে তারা আশা করে যে এখনো তরীর কাছ থেকে ঠিক সেই রকম ভাবে সাহায্য সহযোগিতা পাবে । তরীর বাবা মারা যাওয়ার পরে তরী ঠিকমতো টাকা পয়সা দিত না সেই কারণে আত্মীয় স্বজনরা তরীর উপরে খুবই রাগান্বিত ছিল ।
এরপর তারা তরীর বাবার সম্পত্তির জন্য তরীকে চাপ দিতে থাকে । তারা বলে যে তরীর বাবার তো ছেলে নেই যেহেতু তার ছেলে নেই তার সম্পত্তির অর্ধেক সম্পত্তি তারা দাবি করে বসে ।গ্রামের সম্পত্তি তরী একেবারে ছেড়ে দিয়েছে তার চাচাদেরকে দিয়ে দিয়েছে । তারা সবকিছুর ভাগ চায় এমনকি তার মায়ের নামে যেই বাড়িটা সেই বাড়িটারও ভাগ চায় । তারপর তাদের ব্যবহৃত গাড়ি সেই গাড়িটারও ভাগ তারা চায় । তরী না দেওয়াতে তারা তরীর নামে থানায় গিয়ে জিডি করে । যেটা শুনে আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা তরীর । নিজের আপন চাচা ফুফুরা তার সাথে এরকম আচরণ করছে যেটা তরী আসলেই মেনে নিতে পারেনা । ওর অনেক কষ্ট হয় আস্তে আস্তে তার চাচা ফুপু সবার সাথে তার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় ।এমনকি তরীর নামে লকারে যা রয়েছে সেটারও তারা ভাগ দাবি করে ।
তরী তার বাবা মারা যাওয়ার পরে সে ব্যাংকের লকার কিছুতেই খুলতে পারছিল না । কারণ ব্যাংকের লকারের নমিনি করা ছিল তার মা নামে । তরীর মা আগেই মারা গিয়েছে তার বাবা নাম আর চেঞ্জ করেনি যার কারণে ব্যাংকের লকার খুলতে তরীর অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে । শেষ পর্যন্ত এখন আবার আত্মীয়-স্বজনরা তরীর নামে মামলা দেওয়ার পাঁয়তারা করছে । জানি না শেষ পর্যন্ত কি হবে । আসলে বাবা মা মারা গেলে তখন আর নিজের আপন বলতে কিছুই থাকে না । বিশেষ করে সম্পত্তির কাছে তো সব সম্পর্কই বৃথা হয়ে যায় ।নিজের আপন চাচা ফুপুরা তার সাথে এরকম আচরণ করছে যেটা আসলেই দুঃখজনক ছিল । তারা তরীর নামে মামলা করতেও একটু ভাবেনি সম্পত্তির জন্য তারা এতটা নিচে নেমে গিয়েছিল ।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
গল্পটা পড়ে সত্যিই ভীষণ খারাপ লাগলো। একে তো তরী তার মা-বাবা হারিয়েছে আর দ্বিতীয়তঃ তার চাচা ফুফুরা সম্পত্তির জন্য তার নামে মামলা দিয়েছে সত্যিই হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা ।আসলে বাবা-মা না থাকলে আত্মীয়-স্বজন ও পর হয়ে যায় ।স্বার্থটাই সবার কাছে বড় হয়ে দাঁড়ায়। যাই হোক বেশ ভালো ছিল আপনার গল্পটি। ধন্যবাদ।
ঠিকই বলেছেন আপু বাবা মার মত আপন এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই । সবাই স্বার্থ খুঁজে স্বার্থ না পেলে তখন সবাই ভিলেন হয়ে যায় ।
টাকা পয়সা সম্পত্তির কাছে সম্পর্কের কোন মূল্য নেই বিশেষ করে বাবা মা মারা যাওয়ার পর চাচা ফুফুদের আসল চেহারা দেখা যায় আর তরীর চাচা ফুরফুরা তো আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে। তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রেরও ভাগ চাচ্ছে। নিজের ভাতিজির নামেই শেষমেষ মামলা করে বসলো। মামলায় কি হবে আল্লাহই জানে। দোয়া করি যেন তরীর পক্ষেই যেনো সবকিছু আসে।
এই মানুষগুলো আসলেই একটু বেশি লোভী যারা তার ব্যবহৃত জিনিসপত্রের উপরেও ভাগ বসাতে চায় ।
আসলে সম্পর্কে এমন একটা জিনিস যার জন্য সবকিছুর সম্পর্ক একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। সম্পত্তির প্রতি মানুষের অনেক বেশি লোভ। আর এই সম্পত্তির জন্যই তো তরীর আত্মীয়-স্বজনরা এখন এরকম লভী হয়ে গিয়েছে। আসলে বাবা মাকে হারালে আর কেউই আমাদের আপন থাকে না। শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালা জানে পরবর্তী জীবনে তরীর সাথে কি হতে চলেছে। তবে দোয়া করি তরীর জন্য যেন সে নিজের জীবনটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে এবং সব সমস্যা থেকে দূরে আসতে পারে।
ছেলে সন্তান না থাকলে মেয়ে সন্তানের মনে হয় কোন ভুমিকাই নাই সবকিছুই মানুষজন লুটেপুটে খেতে চায় ।