★গ্যাসের চুলায় প্রেসার কুকারে ভাপা পিঠা তৈরির রেসিপি★
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজ আমি আপনাদের সামনে মজাদার একটি রেসিপি নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছি। আর সেই রেসিপিটি হচ্ছে ভাপা পিঠা বানানোর রেসিপি। ভাপা পিঠা আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। এই শীতের সময় প্রায় প্রতিদিনই আমি ভাপা পিঠা বাইরে থেকে কিনে এনে খেয়ে থাকি। বাইরের পিঠা খেয়ে কোনভাবে শান্তি পাই না, তারপরেও খাই কারণ বাসায় খুব একটা বানাতে পারি না। আবার বাইরে থেকে যখন কিনে আনি তখন কেনার সময় লোকদেরকে বলি যে গুড় বেশি করে দিন কিন্তু তারপরও তারা যতোটুকু দেওয়ার ততটুকু দেয়। ভাবা পিঠার ভিতর গুড় বেশি না হলে সেটা খেতে আমার কাছে ভালো লাগে না । তাই আম্মার কাছ থেকে শিখে নিয়ে এবার নিজেই বানানোর ট্রাই করলাম একটু ভিন্ন পদ্ধতিতে। আমার কাছে ভাপা পিঠা বানানোর জিনিসপত্র কোনটাই নেই, তারপরও বাসায় যে জিনিসগুলো ছিল সেগুলো দিয়ে বানিয়েছি। পিঠা তো হয়েছে দেখতে যেমনই হোক না কেন । সেটি এখন আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
খেজুরের গুড়
লবন
নারিকেল
পানি
কার্যপ্রণালী
প্রথমে একটা বোলের ভিতরে চালের গুড়া নিয়ে তার ভেতরে একটু লবণ দিয়ে নরমাল পানি দিয়ে হাত দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিচ্ছি।
হাত দিয়ে গুঁড়াগুলো ভালো করে মাখিয়ে নিয়ে ৫ মিনিট পরে একটা চালনিতে নিয়ে চেলে নিতে হবে।
সবগুলো গুড়া আমি চালনিতে করে চেলে নিয়েছি। চালার পরে দেখুন কত সুন্দর মিহি হয়েছে দেখতে । এই ভাপা পিঠা বানানোর চালাটাই আসল এই চালাটা চালতে গেলেই আমার সবচেয়ে কষ্ট লাগে এজন্যই পিঠা বানাতে ইচ্ছা করে না, তারপরও কষ্ট করে এবার করে নিয়েছি।
এরপর স্টিলের ছোট্ট একটা বাটি নিয়ে তার ভেতরে প্রথমে একটু চালের গুড়ো দিয়ে নিয়েছি।
তারপর সেই চালের গুড়ার উপরে কিছু নারিকেল কোরা ও গুড় দিয়ে দিয়েছি।
এরপর তার ওপরে আবার কিছু চালের গুড়া দিয়ে ঢেকে দিয়ে আবার উপর দিয়ে নারিকেল কোরা ও গুড় দিয়ে দিয়েছি।
এরপর সুন্দরভাবে চালের গুড়া দিয়ে গুড় ও নারকেল গুলোকে ঢেকে দিয়েছি।
তারপর চুলার উপরে একটি প্রেসার কুকার বসিয়ে দিয়েছি এবং প্রেসার কুকারের উপরের যে সিটিটা উঠে সেটা খুলে দিয়েছি । এরপর একটি তেল ঢালার কাপ সিটির উপরে বসিয়ে নিয়েছি। পানিটা বলক আসলে একটা নেট দিয়ে বাটিটাকে পেঁচিয়ে তারপর তার উপরে বসিয়ে দিয়েছি ।ছবিতে যেরকম দেখতে পাচ্ছেন ঠিক সেইরকম। দুই মিনিট পরে আমি পিঠাটাকে নামিয়ে নিয়েছি ।এরপর একটা প্লেটে সুন্দরভাবে পরিবেশন করেছি। দেখতে যেমন সুন্দর লাগছে খেতে কিন্তু খুবই মজা হয়েছিল একেবারে গুড়ে ভরপুর খুবই মজাদার পিঠা।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
@tipu curate
Upvoted 👌 (Mana: 6/7) Get profit votes with @tipU :)
বাহ আপু খুবই সুস্বাদু রেসিপি শেয়ার করেছেন। আপনার পিঠা দেখে তো লোভ লেগে গিয়েছে। শীতের সময়ে ভাপা পিঠা খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। আপনি খুব সুন্দর ভাবে প্রেসার কুকারে ভাপা পিঠা তৈরি করেছেন। এত সুন্দর হয় প্রসার কুকারের ভাপা পিঠা জানা ছিল। আমিও একদিন চেষ্টা করে দেখবো। ধন্যবাদ আপু মজাদার পিঠা রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আসলে আপু ভাপা পিঠা তৈরি করলে আমার মনে হয় ভাপা পিঠা খাওয়া যা, ময়দা খাওয়াও তাই। তারপরও অনেক সময় খেজুরের গুড় দিয়ে ভাপা পিঠা তৈরি করলে গরম গরম খেতে ভালোই লাগে। আপনি প্রেসার কুকার এর সাহায্যে খুবই সুন্দর করে ভাপা পিঠা তৈরি করেছেন। তবে আপনি যে পদ্ধতির ভাপা পিঠা তৈরি করেছেন এটা আমি প্রথম দেখলাম। যাইহোক সুন্দর একটি ভাপা পিঠা রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আমার সবচেয়ে প্রিয় পিঠার রেসিপি।ভাপা পিঠা আমার ফেভারিট তবে প্রেসার কুকারে এভাবে কখনো ভাপা পিঠা তৈরি করে খাওয়া হয়নি। তবে পিঠার ছবি দেখে অনেক লোভনীয় লাগছে আপু। লোভনীয় ভাপা পিঠার রেসিপি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আপনি তো দেখছি আমার খুবই ফেভারিট একটি পিঠা তৈরি করে সবার মাঝে ভাগ করে নিয়েছেন। যদি পিঠাগুলো ভাগ করে নিতেন তাহলে কিন্তু অনেক ভালো হতো। আমি তো দেখছি আপনি পিঠার রেসিপিটি তৈরি করে শেয়ার করবেন। যাইহোক আপনার তৈরি করার পদ্ধতি কিন্তু খুবই ভিন্ন ছিল যার কারণে একটু বেশি ভালো লেগেছে আমার কাছে। দেখে বুঝতে পারছি বেশ ভালোই লেগেছে খেতে।
ভাপা পিঠা তৈরির রেসিপিটা দুর্দান্ত হয়েছে আপু। ভাপা পিঠা তৈরির পদ্ধতিটা আমার কাছে সত্যিই ইউনিক লেগেছে। প্রেসার কুকারে ভাপা পিঠা তৈরি করা যায়, সেটা আগে জানা ছিল না। আপনার তৈরি করা ভাপা পিঠা গুলো দেখতে খুব সুন্দর লাগছে আপু। আমার তো দেখেই খেতে ইচ্ছে করছে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, এত মজাদার একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
শীতকালীন এই রেসিপিটা প্রত্যেকের কাছেই খুব জনপ্রিয় এবং আকর্ষণীয় বটে। আমি তো শীতকাল হলেই মাঝেমধ্যে বাইরে থেকে কিনে খাই। তবে তাতে মনের শান্তি মেটে না, যদি বাড়ি অগণিত ভাবে না খাওয়া যায় তাহলে। এগুলো বানানোর জন্য আলাদা স্টিমার পাওয়া যায়। তবে আপনার বানানোর স্টাইলটা আমার কাছে বেশি ইউনিক লাগলো। আর পিঠাগুলো দেখতেও সুন্দর এবং আকর্ষণীয় হয়েছে। আপনার উপস্থাপনাও খুব সুন্দর ছিল।
ভাপা পিটার দেখলে মনে পড়ে যায় শীতের সকালে কুয়াশার সময় নিজেকে চাঁদরে মোড়ানো রেখে চুলার পাশে বসে সুন্দর একটি মুহূর্তে পিঠা খাওয়ার অনুভূতি। তবে যাই হোক সেই অতীত স্মৃতিগুলো এখন আর তেমন নেই চলে এসেছে আধুনিক যন্ত্রপাতি গ্যাস বিভিন্ন প্রকার কুকার আর তা দিয়ে আজ তৈরি হয় সেই ঐতিহ্যবাহী ভাপা পিঠ। আপনি খুব সুন্দর ভাবে পিঠা তৈরি করে আমাদের মাঝে দেখিয়েছেন দেখে আমার এমন অনুভূতিগুলো মনের মধ্যে ভেসে উঠলো। খুবই ভালো লাগলো আপু আপনার পিঠা দেখে।