★হঠাৎ আগুন লেগে বিপদ★
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজ আমি আবার আপনাদের সামনে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছি । নতুন নতুন কিছু প্রতিদিন শেয়ার করতে আমার কাছে অনেক ভালো লাগে । আর আমাদের পোস্টের ভিন্নতা আনতে এটা আমাদের করতেই হয় । এজন্য আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি এখানে নতুন নতুন কিছু শেয়ার করার জন্য । আজকে আমি আপনাদের সাথে একটি বিষয় শেয়ার করব । বিষয় টা হলো হুটহাট যেখানে সেখানে আগুন লেগে যায় সেটা । এ ধরনের ঘটনা আসলে অনেক বড় বিপদ বয়ে আনতে পারে যে কোন সময় । এরকম একটি ঘটনা আমার সাথেও দুই একবার ঘটেছে ।
আমরা যারা উচু বিল্ডিংগুলোতে থাকি তাদের সব সময় একটা ভয় থাকে যে যদি বিল্ডিং গুলোতে আগুন লাগে তাহলে সময় মত নিচে নামতে পারব কিনা । আবার বড় ধরনের কোন ভূমিকম্প হলে নিচে নেমে যেতে পারবো কিনা । এটা নিয়ে সবসময়ই একটা মনের ভিতরে ভয় কাজ করে । তখন নিচের দিকে থাকলে দৌড় দিয়ে বাইরে বের হয়ে আসা যায় । উপরের তলার বাসা গুলোতে থাকলে তখন ইচ্ছা করলেই হুট করে বাসা থেকে বের হওয়া সম্ভব হয় না অপেক্ষা করতে হয় সিরিয়াল ধরে ।
এরকম একটি ঘটনা ঘটেছিল আমার রোজার ভিতর । তখন রোজার সময় ছিল সকালবেলা সেহরি খেয়ে নামাজ পড়ে কিছু সময় ফোন টিপাটিপি করে মাত্র ঘুমানোর জন্য একটু চোখ লেগে এসেছে, তারপরে আবার সকালে ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যেতে হবে সেই টেনশনে ঘুমও ঠিকমতো আসছিল না । মাত্র ঘুমিয়েছি এর ভিতর দুই তিনবার কে যেন বাসায় কলিংবেল বাজাচ্ছে । নরমালি বাসার কলিংবেল বাজলে আমি সাথে সাথে খুলে দেই। কিন্তু সেদিন জানি না কি হয়েছিল আমার উঠতে ইচ্ছা করছিল না আলসেমি করে আমি শুয়ে ছিলাম । আর মেজাজটা খারাপ হচ্ছিল যে এত সকালে আবার কে আসলো । কারণ আমার বাসায় সকাল সকাল যদি কেউ আসে তখন মেজাজ গরম হয়ে যায় কারণ আমি অনেক রাত করে ঘুমাই এই কারণে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে আমার অনেক বিরক্ত লাগে । এজন্য কেউ যদি সকালে আমার বাসায় আসে তখন আমার বিরক্ত লাগে । আমি উঠছি না দেখে তখন আমার হাজব্যান্ড গিয়ে দরজাটা খুললো । দেখলে পাশের বাসার ভাবি এত সকালে কলিংবেল বাজাচ্ছে ।
দরজা খোলার সাথে সাথে ভাবি বললো যে ১২তলায় আগুন লেগেছে সবাই নিচে নামছে আপনারা এখনো টের পাননি । ওনারা লিফটের জন্য অপেক্ষা করছে কিন্তু লিফটে এত পরিমান লোড যে তারা কিছুতেই নিচে নামতে পারছে না । সিঁড়িতে অনেক ভিড় ছিল যার কারণে সিঁড়ি দিয়ে নামা সম্ভব হচ্ছিল না । আর আমরা টেরই পাইনি । তখন আমার হাজবেন্ড এসে আমাকে বলল যে আগুন লেগেছে তাড়াতাড়ি উঠ নিচে নামতে হবে । আমি তো সাথে সাথেই লাফিয়ে উঠলাম এবং ছেলে কেউ ডেকে উঠালাম । তাড়াতাড়ি জামাটা চেঞ্জ করে আমরা নিচে নামার জন্য রেডি হলাম । এদিকে বাসায় অনেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাসার দলিল পত্র থাকে সেগুলো কি করব বসে বসে সেটাই ভাবছি । এর ভেতরে মানুষজন নামতেই থাকছে । পরে আমরাও নামার জন্য দাঁড়িয়ে থাকলাম কিন্তু কিছুতেই নামতে পারছি না । লিফট সবসময় ফুল দেখাচ্ছে। পরে শেষ পর্যন্ত একজন এসে বলল যে এখন আর নামতে হবে না আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে । এরপর আমার হাসবেন্ড ও পাশের বাসার ভাই দুজন মিলে উপরে যেয়ে দেখে যে আগুন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণ এসেছে । রান্নাঘর থেকে কিভাবে যেন আগুন লেগে গিয়েছিল । আগুনটা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল যাদের বাসায় লেগেছিল তাদের একটু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । আগুনটা বাইরে যাওয়ার আগেই ওরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে । এরকম আগুন লাগার আরো একটি ঘটনা আছে সেটা অনেক ভয়াবহ ছিল । অন্য কোনদিন আপনাদের সাথে শেয়ার করব ।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে । আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি । সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ।
ডিভাইস samsung Galaxy s8 plus
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
আসলে এরকম আগুন লাগার বিষয়গুলো অনেক ক্ষতিকর। ভাগ্য ভালো ছিল আগুন বাহিরে বের হওয়ার আগে নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। না হলে কত বড় একটা বিপদ হতো আল্লাহই জানে। আমাদের সবার উচিত সাবধানে থাকা। আর এরকম আগুনের বিষয়গুলো নিয়ে সব সময় সতর্ক থাকাই ভালো। আগুন নিয়ে আরও কি একটি ঘটনা আছে তা পরবর্তীতে আপনার কাছ থেকে জানার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম। আশা করছি তা খুব তাড়াতাড়ি আমাদের মাঝে শেয়ার করবেন।
ঠিকই বলেছেন আপু আসলে আমাদের সবার সাবধানে থাকা উচিত। সবসময় মানুষজন সাবধানে থাকার চেষ্টা করে কিন্তু কখন যে এক্সিডেন্টলি এসব ঘটনা ঘটে যায় তা বলা যায় না।
ঈশ্বর কে ধন্যবাদ যে বড়ধরনের কোন বিপদ হয়নি। আমাদের দেশের বিল্ডিং গুলো ফায়ার সেফটি না মেনেই তৈরি করা হয় যার ফলে এই অবস্থা। অন্যান্য দেশের অন্তত ইমারজেন্সি এক্সিট সিড়ি থাকতেই হবে। যাই হোক এরপর থেকে সতর্ক থাকবেন আর গুরুত্বপূর্ণ কাগজগুলো একসাথে হাতের কাছে রাখবেন।
আমাদের বিল্ডিংয়ে নিজস্ব আগুন নেভানোর ব্যবস্থা রয়েছে অল্প হলে নিজেরাই কন্ট্রোল করা যায় বেশি হয়ে গেলে তখন আর করা সম্ভব হয় না।
মানুষের বিপদ কখনো বলে কয়ে আসে না হঠাৎ করেই চলে আসে। আর হঠাৎ করে কোনো বিপদ আসলে সেই বিপদটা হয় অনেক ভয়ানক।বড় বড় বিল্ডিংগুলো যদি আগুন লেগে যায় তাহলে মানুষের অবস্থা ভয়ানক খারাপ হয়ে যায়। সবাই আগুন থেকে বাঁচার জন্য দ্রুত নামার চেষ্টা করে এবং ভিড় জমে যায়। পাশের বাড়ির ভাবি আপনার না ডাকলে আপনারা তো কিছুই বুঝতে পারতেন না। হয়তো এর কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। সবে আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা। অনেক বড় দুর্ঘটনা থেকে নিজেদেরকে সেভ রাখতে পেরেছেন আল্লাহর ইচ্ছায়।
ঠিকই বলেছেন সবাই মিলে যখন হুড়মুড়িয়ে নামতে যায় তখন অন্য আরেকটা বিপদ ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এরকম বড় বিল্ডিং গুলোতে থাকলে আগুন এবং ভূমিকম্পের সময় খুবই বিপদে পরতে হয়। তাছাড়া আপনারা যত প্রিপারেশন নিয়ে নিচে নামার জন্য রেডি হয়েছেন ততক্ষণে তো আগুন বেশি লাগলে আপনাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যেত। এরকম বড় বিল্ডিং এ বিপদের সময় দুইটা লিফটে লোড তো থাকবেই। যাক ভালো হয়েছে যে শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। তা না হলে তো আপনারা নামতেই পারতেন না।
আমার এরকমই হয় আগুন লাগা কিংবা ভূমিকম্প দেখলে হুট করে নামতে পারি না তখন প্রিপারেশন নিয়েই নামতে নামতে দেখা যায় যে থেমে গেছে।
আসলে হঠাৎ করে এ ধরনের আগুন লাগার খবর পেলে সত্যিই বেশ আতঙ্কিত হওয়ারই বিষয় ।আর উপর তোলায় থাকলে সেটা তো অনেক বেশি সমস্যা ।সহজেই বের হওয়া যায় না ।যাই হোক অবশেষে আগুনটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এটাই বড় কথা ।সকলেরই উচিত সাবধানে থাকা। ধন্যবাদ।
ঠিকই বলেছেন আপু হঠাৎ করে এসব খবর শুনলে আসলেই অনেক ভয় লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
আপনি তো দেখছি অনেক বড় একটা বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলেন। আসলে মাঝে মাঝে এরকম কিছু বিপদ আমাদের সামনে আসে, যখন আমরা এদিকেও যেতে পারি না আবার অন্যদিকেও যেতে পারি না। ভাগ্যিস উপরের প্লেট থেকে আগুন বাহিরে বের হয়নি। এর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। আপনারা তো টেরই পাননি আগুন লেগেছিল যে। পাশের ফ্ল্যাটের ভাবিটি আপনাদেরকে ডেকেছিল। উঁচু এবং উপরের ফ্ল্যাটে থাকলে সহজে নিচে নামা যায় না। যে কোন বিপদ হলে বিপদে পড়তে হয়। আপনারা এরকম একটা বড় বিপদ থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন এটা জেনেই ভালো লেগেছে।
আসলেই কোন বিপদ আসলে তখন মনে হয় পা চলতেই চায় না । আর উপরের দিকে থাকলে তো কোন কথাই নেই ।
আগুন লাগার ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী আমি হয়েছিলাম। আমার এখনো মনে আছে আমি তখন সবেমাত্র ক্লাস নাইনে পড়ি। আমাদের গ্রামের বাসায় গিয়েছিলাম। হঠাৎ করে ঘুমের মাঝে শুনি অনেক শব্দ আর লোকজনের চিল্লাচিল্লি। সেই শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। দেখি আগুন লেগেছে পাশের দোকানগুলোতে। তখন থেকে আমার ভিতরে একটি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কোন চিল্লাচিল্লি শুনলেই মনে হয় আগুন লেগেছে। যাই হোক আপু অবশেষে সব কিছুই ভালোভাবে মিটে গেছে এটাই আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া। আসলে এরকম পরিস্থিতিতে কোন কিছুই মাথায় আসে না। যদি বড় ধরনের কোন ক্ষতি করে যেত তাহলে নিচে নামা সত্যিই ঝামেলার হয়ে যেত। আর রমজান মাসে দেখা যায় অনেকেই ঘুমের মধ্যে থাকে। তাই তো এই ভয়ানক ঘটনা গুলো টের পাওয়া যায় না।
ঠিক অল্পের ভিতর দিয়ে আগুনটা নিভে গিয়েছিল । আসলে আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া জানাচ্ছি আরও বড় ধরনের বিপদ থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম সেদিন ।
ঠিক বলেছেন আপু যারা বিল্ডিংয়ের উপর তালা বসবাস করে আগুন এবং ভূমিকম্প হলে তাদের জন্য বড়ই রিক্স। যেমন আপনাদের বিল্ডিংয়ে আগুন লাগলো কিন্তু তাড়াহুড়া করে মানুষের অনেক বিট পড়ে গেল। যদিও বড় আকারের কোন ক্ষতি হয় নাই। তারপর আপনাদের মনের ভিতর যে বয়টি লেগেছে ।এতে করে বোঝা যায় বিপদের সময় মানুষের অনেক সময় হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। তবে আপু বিপদের সময় অনেক সময় পাও চলে না। এসব আপদ বিপদ থেকে সবাইকে রক্ষা করুক।
উপরের তলায় থাকলে এ ধরনের বিপদগুলোতে লিফট খুঁজেই পাওয়া যায় না আর সিঁড়ি দিয়ে নামতে অনেক কষ্ট হয় ।
আল্লাহর কাছে লাখ শুকরিয়া বলতে হবে এই যাত্রা বিপদ থেকে আপনারা সবাই বাঁচলেন। ঠিক বলেছেন বেশি তালা বিল্ডিং গুলোর মধ্যে আগুন লাগলে তখন নামতে অনেক হিমশিম হয়। কারণ উপরের লোক গুলোর নামতে অনেক কষ্ট হয়। যেমন আপনেরা আগুনের কথা শুনে অনেক ভয় পেয়ে গেলেন এবং তাড়াহুড়া করে নামতে চাইলেন। আল্লাহ সবাইকে আপাত বিপদ থেকে রক্ষা করুক।
লিফটে জায়গা পাওয়া যায় না তবে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সবাই নামতে চায় তখন একটু ঝামেলায় পড়তে হয় । আস্তে আস্তে অনেক সময় নিয়ে নামতে হয় ।