★অকৃতজ্ঞ ছেলে★ দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
গত পর্বের লিঙ্ক : Link
আজ আমি আবার আপনাদের সামনে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছি । আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব আশেপাশে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা । আসলে আমাদের আশেপাশে প্রতিনিয়ত অনেক ঘটনা ঘটে থেকে যেগুলো আমরা সবসময় দেখে থাকি । এসব ঘটনা দেখলে খুবই খারাপ লাগে কোন কিছু করার থাকে না । গত কয়েকদিন আগে আমি একটা ঘটনা শেয়ার করেছিলাম আজকে তার শেষ পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।
গত পর্বে শেষ করেছিলাম মা তার ছেলেকে সম্পত্তি লিখে দেয় তারপর শুরু হয় আসল কাহিনী । ছেলে আর ছেলের বউ দুজনে মিলে তার সাথে আরো খারাপ ব্যবহার শুরু করে এবং এক পর্যায়ে মহিলাকে বাসা থেকে বের করে দেয় । এমন কি বাসায় মহিলার যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিল সেগুলো মহিলাকে ধরতে দেয়নি । তখন মহিলাটা বলে যে এই বাসার সব জিনিসপত্র তো আমার আমি সব নিয়ে যাব । তখন ছেলে বলে তুমি আমার নামে বাসার সাথে সাথে সব লিখে দিয়েছো একটা সুতাও তুমি নিতে পারবা না ।এক কাপড়ে মহিলাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে ।
তখন সে কাঁদতে কাঁদতে বাসা থেকে বের হয়ে যেয়ে তার অন্য ছেলেকে ফোনে জানিয়েছে । তার ওই ছেলেটা ছিল ক্যাপ্টেন সে সাথে সাথে মাকে বলেছে তুমি থানায় গিয়ে একটা জিডি করো । মা যেতে রাজি না হলে ছেলে তাকে জোর করে পাঠিয়েছে । সেই ফোনে সব কিছু বলে দেয় পুলিশকে । এর ভিতর এই ছোট ছেলেও মায়ের নামে জিডি করার জন্য থানায় গিয়েছে । তখন ছেলেটা উল্টো থানায় গিয়ে বলেছে যে মা তার বাসা থেকে সবকিছু চুরি করে নিয়ে গিয়েছে । তখন মা ওই থানাতেই বসা ছিল তখন পুলিশ রা ওই ছেলেকে উল্টো বকাবকি শুরু করেছে । এবং তার মায়ের সাথে এসে ওই বাসা থেকে মায়ের সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়েছে । তখন অন্য কোন ছেলের বাসায় না গিয়ে তার অন্য আরো একটা ফ্ল্যাটে একাকী বসবাস করতে শুরু করেছে । এদিকে শুনেছি এই ছেলেও নাকি এই বাসাটা বিক্রি করে অন্য কোথাও চলে গিয়েছে ।
ছেলেটা যদি মায়ের সাথে ভালো আচরণ করতো তাহলে তো মায়ের এই সম্পত্তি সে নিজেই পেত জোর করে মাকে দিয়ে লিখে নিতে হতো না । আর মেয়েরা যখন বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে আসে তখন যদি ছেলের মাকে নিজের মা হিসেবে মেনে নেয় তাহলে তো আর এ ধরনের সমস্যাই হয় না । আর ছেলের মায়েরাও যদি ছেলের বউকে একটু মেয়ের মত দেখে তাহলে তো সংসারে আর কোন সমস্যাই হতো না । মহিলা সব সময় অন্যের সাথে ঝাঁঝালো গলায় কথা বলতো ঝগড়াটে মনোভাব পোষণ করে থাকতো । সেই কারণে সে মনে করেছিল যে ছেলের বউয়ের সাথে এমন করে পার পেয়ে যাবে । এদিকে ছেলেও তো মায়ের স্বভাব সম্পর্কে জানত যার কারনে ছেলে বউয়ের সব কথাতে সায় দিত । যে তার মা একটু ঝগড়াটে সেটা সে কারণে সে বউয়ের পক্ষে কথা বলত । মাকে সে ভালো হওয়ার কোন সুযোগই দিল না এক কথায় বাসা থেকে চুরির অপবাদ দিয়ে বের করে দিল ।
এজন্য আমাদের সবারই উচিত যে নিজের সম্পত্তি যতদিন পারা যায় নিজের নামে রাখা উচিত । সন্তানকে ভালোবাসা উচিত তবে এভাবে সবকিছু উজাড় করে তার নামে আগে থেকে দেওয়া উচিত নয় । কারণ এখনকার ছেলে মেয়েদের দিয়ে কোন ভরসা নেই তারা যখন তখন যেকোন আচরণ করে বসতে পারে । তখন আমাদের দুর্ভোগের কোন সীমা থাকে না ।যদি ওই মহিলার অন্য কোন থাকার ব্যবস্থা না থাকতো তাহলে তো তাকে রাস্তায় নামতে হতো । কারণ ছেলের বউরা দূর থেকেই ভালো তবে যখন কাছে যাবে তখন তাদের আসল চেহারা দেখা দেয় । আর ওই মহিলা এমন মানুষ যে সে কখনোই অন্যের সাথে বনিবনা করে থাকতে পারবে না । তাই সবসময়ই আমাদেরকে একটু নিজেদের স্বভাবটাকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করা উচিত । মানুষ সবসময়ই মনে করে যে বউয়েরই দোষ শুধুমাত্র বউয়ের দোষ দিলে চলে না এখানে দুই পক্ষেরই একটা ভূমিকা রয়েছে । কারো না কারো তো একটু নরম হতেই হয় তবেই না সংসারের শান্তি বজায় থাকে ।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
মা-বাবা যতই খারাপ হোক না কেন কোন সন্তানেরই উচিত বাবা-মার সঙ্গে এত বাজে আচরণ না করা। এই মহিলাটি একটু কড়া ছিল তাই বলে তার ছেলে তার সঙ্গে এমন আচরণ করবে এটা কখনোই কারো কাম্য নয়। তার মা যে কষ্ট পেয়ে বাসা থেকে চলে গিয়েছে ছেলে একদিন না একদিন এর পরিণতি ঠিকই ভোগ করবে। মহিলাটি যতই খারাপ হোক মহিলাটির জন্যই খারাপ লাগছে। ভালোবেসে সন্তানকে সব লিখে দিয়ে এই বিপদে পড়তে হলো।
ঠিকই বলেছেন আপু আমারও শুনে ঐ মহিলার জন্যই খারাপ লেগেছিল । বাবা-মা যতই খারাপ হোক না কেন ছেলে মেয়েরা এরকম করলে আসলেই খুব খারাপ লাগে ।
আসলে শাশুড়ি গুলো যদি নিজের ছেলের বউকে মেয়ের মতো মনে করে, আর ছেলের বউ যদি শাশুড়িকে নিজের মায়ের মত মনে করে তাহলে সংসারে এরকম কোন অশান্তি হবে না। প্রত্যেকটা সন্তানের উচিত তার বাবা-মাকে সম্মান দেওয়া তার বাবা মা যেরকমই হোক না কেন। এখানে মহিলাটিরও দোষ রয়েছে এটা বুঝতে পারছি, তবে তার সন্তান এরকম ব্যবহার করবে এটা মানা যায় না। সন্তানের উচিত ছিল মাকে ভালো হওয়ার একটা সুযোগ দেওয়া। মহিলাটির জন্য খারাপ লাগলো। আসলে মানুষ যত খারাপ হোক না কেন তাকে ভালো ব্যবহার দিকে ভালো করা উচিত।
এটা ঠিকই আজকালকার দিনে কেউ কাউকে ছেড়ে দিতে পারেনা । শাশুড়িরাও বউকে মেয়ে হিসেবে মেনে নিতে পারে না আবার বউরাও শাশুড়িকে নিজের মা ভাবতে পারে না । আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিন্তু তার উল্টোটাও হয় ।
মা বাবা খারাপ হতেই পারে, তবে সন্তানরা যে বাবা মায়ের সাথে এরকম আচরণ করবে এটা তো কোন কথা নয়। তাদের উচিত বাবা মাকে ভালো হওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং তাদের সাথে ভালোভাবে আচরণ করা। ছেলেটা কিন্তু বড় অন্যায় করেছে তার মায়ের সাথে এরকম ব্যবহার করে। সে যদি তার মাকে বুঝাতো এবং তার স্ত্রীও তার শাশুড়িকে ভালোভাবে বুঝত তাহলে আর এরকম হতো না। আর শাশুড়ির চিন্তাভাবনাও যদি ভালো হতো তাহলে তাদের সংসারে এরকম কিছুই হতো না। মহিলাটি খারাপ হলেও তার জন্য খুব খারাপ লেগেছে এমনিতে।
ছেলেটা তো আসলেই বড় অন্যায় করেছে মা যতই খারাপ হোক না কেন তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া মোটেও কোন ভালো কাজ হয়নি ।
মা-বাবা যতই খারাপ হোক না কেন সন্তান মায়ের সাথে এরকম করা কোনমতেই উচিত হয়নি। আর শাশুড়িদের কে ও ছেলের বউ হলে কি হবে যদি একটু মেয়ের মত দেখে আবার বউরাও যদি শাশুড়িদের কে নিজের মায়ের মত দেখে তাহলে সংসারে কোন সমস্যাই হবে না। মহিলাটি খারাপ হলেও তার সন্তান এভাবে ব্যবহার করার আমার কাছে খুব খারাপ লেগেছে। আসলে সন্তানকে সব সম্পদ লিখে দিয়ে মহিলাদের বিপদে পড়তে হলে।
বউ শাশুড়িরা যদি নিজেদেরকে নিজের মা মেয়ের মতো দেখতো তাহলে তো দুনিয়ায় কোন সমস্যাই থাকতো না, এটাই তো মানুষজন পারে না ।
অকৃতজ্ঞ ছেলের প্রথম পর্বটি আমি পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম আপু। আজ আবার শেষ পর্বটি পড়ে অকৃতজ্ঞ ছেলের মায়ের জন্য খুবই খারাপ লাগছে। হয়তোবা ছেলেটির মা খুবই ঝগড়াটে স্বভাবের ঠিকঠাকভাবে কারো সাথে বনিবনা করে চলতে পারেনা। তবুও তো সে মা, যে কিনা ছেলেটিকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে। অথচ সেই ছেলেটি তার মাকে চুরির অপরাধে বাড়ি থেকে বের করে দিল। এরকম ছেলের ভবিষ্যৎ কখনোই ভালো হতে পারে না আপু। আজ নয়তো কাল অবশ্যই এই অকৃতজ্ঞ ছেলের অধঃপতন হবেই। তবে আমি বুঝতে পারি না বর্তমান সময়ের মেয়েরা কেন তাদের শাশুড়িকে মেনে নিতে পারে না। আর শাশুড়িরা কেন বউকে মেয়ের মত দেখতে পারে না। যদি ছেলের বউ ও শাশুড়ির মধ্যে সম্পর্কটা ভালো হয়, তাহলে সেই সংসারে সুখের অভাব হয় না।
একদম তাই ভাইয়া বাবা-মার সাথে এরকম খারাপ আচরণ করলে তার পরিণতি খারাপই হবে । শুধু মেয়েরা মেনে নিতে পারে না তা না শাশুড়িরাও অনেক ক্ষেত্রে বউদের কে সহ্য করতে পারে না ।