চা খেতে গিয়ে গরম গরম রসগোল্লা খাওয়ার আনন্দ
বন্ধুরা
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভালো আছেন।সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি। আজ অনেকদিন পর আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি। যতই ভাবি নিয়মিত থাকবো। কিন্তু হয়ে উঠছে না। বাবু স্কুলে যাওয়ার পর থেকেই যেন ব্যাস্ততা যেন বেড়েই চলেছে। শত ব্যস্ততার মাঝেও একটু আধটু ঘুরতে বেরোনো হয়। আসলে মাঝে মধ্যে ঘুরতে না গেলে জীবনটা এক ঘেয়েমি হয়ে যায়।তাই একটু সময় করে মাঝে মধ্যে ঘুরতে যাওয়া হয়। প্রায় মাস খানেক আগে আপনাদের দাদাকে বলছিলাম একটু গঙ্গার ঘাটে যাবে ঘুরতে। আসলে নদী, পাহাড়, সমুদ্র আমার খুবই ভালো লাগে। আর আমার নদীর কাছে বসে থাকতে বেশ ভালো লাগে। তাই মাঝে মধ্যে গঙ্গার ঘাটে ঘুরতে যাই।কিন্তু আপনার দাদার সময় হচ্ছিলো না। তবে একটু সময় বের করে গত সপ্তাহে বললো চলো তোমাকে গরম গরম রসগোল্লা খাইয়ে নিয়ে আছি আর তোমার পছন্দের জায়গা গঙ্গার ঘাটে ও ঘুড়িয়ে নিয়ে আছি।শুনে তো আমি খুবই আগ্রহী হয়ে উঠেছিলাম। কারণ গরম গরম রসগোল্লা যা আমি কোনদিন খাইনি আবার গঙ্গার ঘাটে যেতে পারবো। আসলে মিষ্টি খেতে আমি খুবই ভালবাসি। রসগোল্লার প্রতি আমার একটু দুর্বলতা আছে বরাবরই।
আমি কয়েকবার বাড়ীতে রসগোল্লা তৈরী করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোন বার ঠিকভাবে হয়নি। এদিকে সবাইকে দেখি রসগোল্লা তৈরী করে ফেসবুক ও ইউটিউবে দেয়। এমনকি আমার বড় জা সে ও বিভিন্ন ধরনের রসগোল্লা তৈরী করতে পারে। শুধু আমি পারি না। বেশ কয়েকদিন ধরে অনেক দুধ ও নষ্ঠ করেছি। কিন্তু আমি রসগোল্লা তৈরী করতে পারিনি। তাই রাগ ছেড়েই দিয়েছি মিষ্টি বানানো। তাই আমার বহুদিন ধরে ভাবছিলাম রসগোল্লা তৈরী দেখবো। কিন্তু সেরকম কোন সুযোগ হচ্ছিলো না। তাই নিলয় একদিন বললো বৌদি আমার শ্বশুর বাড়ির কাছে মিষ্টি তৈরি করে সেখান থেকে তোমাকে গরম গরম রসগোল্লা খাওয়াবো আর তুমি তৈরি করা দেখতে ও পারবে। তাই আমরা বিকাল ৪ টার দিকে বেরিয়ে পড়লাম। সেই মিষ্টির দোকানে খোঁজ নিয়ে দেখলো তারা ৯ টার পর মিষ্টি তৈরি করবে। তবে নিলয় আমাদের কথা বলাতে তারা রাত ৮ টার দিকে বানাতে চাইলো। ঠিক তখন আপনাদের দাদা চলো আগে একটু চা খেয়ে তারপর গঙ্গার ঘাটে যাবো আর সেখান থেকে ফেরার পথে আমরা রসগোল্লা তৈরী করা দেখে আসবো। আমি ও চা খাওয়ার কথা শুনে ভালো লাগলো। কারণ নিলয়ের শ্বশুর বাড়ির কাছে এর আগে বেশ কয়েক বার চা খেতে গিয়েছি। বেশ ভালো স্বাদের চা তৈরি করে।আর বিভিন্ন ধরনের চা পাওয়া যায় সেখানে।তবে আমার মালাই কেশর চা খুবই পছন্দের। ওই চা খাওয়ার লোভে অনেকবার যাওয়া হয়। আমরা চা এর দোকানে গিয়ে সবার জন্য চা অর্ডার করে দিলাম। চা আসতে একটু সময় লাগছে কিন্তু নিরিবিলি বসে থাকতে ইচ্ছা করে না। তাই ফোনটা বের করে ছবি তুলতে শুরু করে দিলাম।
আসলে আমাদের এখন এমন হয়েছে একটু সময় পেলেই ফোন চাপাচাপি শুরু করে দেই।এমনকি কোথাও ঘুরতে গিয়ে ও ফোন চালাই আর গল্প করি। মোট কথা আমরা ফোনটাকে বাদ দিয়ে আড্ডা দেওয়া ভুলে গেছি বললেই চলে। আমাদের এখন এমন হয়েছে ফোন ছাড়া অচল। আমরা এক বেলা না খেয়ে থাকতে পারবো।কিন্তু ফোন ছাড়া এক সেকেন্ড ও থাকতে পারি না। তবে এটা আমার নিজের ক্ষেত্রে ও এটাই হয়। যাইহোক অবশেষে আমাদের চা এসে গেলো।
আমরা চা খেয়ে বিল পেমেন্ট করে গঙ্গার ঘাটে গেলাম। গঙ্গার ঘাট নিয়ে অন্য একদিন আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। গঙ্গার ঘাট থেকে আমরা সাড়ে আটটার দিকে আমরা মিষ্টির দোকানে চলে এলাম সেখানে এসে দেখি রসগোল্লা তৈরী করা শুরু করেছে।
দুধ থেকে ছানা কেটে ভালো করে ছানা পয়েম দিয়ে রাখা হয়েছে।
পয়েম করা ছানা থেকে ছোট ছোট বলের মতো তৈরি করছে।
ছানা দিয়ে রসগোল্লা তৈরী করে রেখেছে। এবার চিনির রিসে দেওয়ার অপেক্ষা।
চিনির রসে মিষ্টি গুলো দেওয়ার পর জ্বাল দিতে লাগলো।
অবশেষে ২০ মিনিট পর তৈরী হয়ে গরম গরম রসগোল্লা। এবার খাওয়ার পালা।
এবার দোকানদার সবাইকে দুটো করে রসগোল্লা খেতে দিলো। গরম রসগোল্লা খেতে বেশ ভালোই লাগছিলো। টিনটিন বাবু ও বেশ করে খেয়েছিলো। এরপর আমি বাড়ীতে সবার জন্য গরম গরম রসগোল্লা কিনে নিয়ে আসলাম। আমি রসগোল্লা নিয়ে আসলে সবাই বেশ মজা করে খেয়েছিলো।এবং অনেক খুশি হয়েছিলো। দিন শেষে পরিবারের সবার এই হাসি টুকু চাই।
জিভে পানি চলে আসলো একেবারে 🤤
আমার গরম রসগোল্লা খাওয়ার খুব শখ ছিল। একদিন হঠাৎ করেই একটা মিষ্টির দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি মিষ্টি বানাচ্ছে। সেখান থেকে গরম রসগোল্লা খাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। যদিও মিষ্টি জাতীয় জিনিস ঠান্ডা খাওয়াই বেশি মজা কিন্তু গরম রসগোল্লা খাওয়ার অভিজ্ঞতাটাও ভালো ছিল।
মিষ্টির মধ্যে কিছু কিছু মিষ্টি আমার খুবই প্রিয়। রসগোল্লা খেতেও খুব ভালো লাগে। যদি গরম গরম রসগোল্লা হয় তাহলে তো কথাই নেই। প্রায় দশ বছর আগে একবার গরম গরম রসগোল্লা খেয়েছিলাম। যখন আমার খালামনির বিয়ে ছিল তখন বাজার থেকেই এই মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিল।তবে আমি তখন সেখানে বসেই খেয়েছিলাম। আর মালাই চা তো খাওয়া হয়নি তবে দাদার একটা পোস্টে মালাই চায়ের কথা পড়েছিলাম। আর সেদিন আপনিও গিয়েছেন সেটা জানতাম না। যাইহোক বৌদি দারুন উপভোগ করেছেন সময়গুলো। তবে একদম কাছ থেকে এভাবে রসগোল্লা তৈরি করার প্রসেসিং দেখেছেন সেটা শুনে ভালো লাগলো। আশা করি আমাদের মাঝে এবার একটা রেসিপি তৈরি করে শেয়ার করবেন ।
একবারে গঙ্গার ঘাটে গিয়ে চা খাওয়া হয়ে গেল আবার গরম গরম রসগোল্লা তৈরি করা শিখে নিলেন সেই সাথে রসগোল্লার টেস্ট উপভোগ করলেন। আগে যেহেতু রসগোল্লা তৈরি করতে পারতেন না সেহেতু এখন ভালোমতোই পারবেন কেননা কিভাবে রসগোল্লা তৈরি করতে হয় সেটা তো কাজ থেকে দেখলেন। আপনাদের কাটানো সুন্দর সময় টুকু আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ দিদি।
কথায় আছে এক ঢিলে দুই পাখি, ঠিক তেমন টাই হল, চা খেতে গিয়ে সুন্দর লোভনীয় রসগোল্লা। রসগোল্লা তৈরীর কার্যক্রম বেশ ফটোগ্রাফি করেছেন পাশাপাশি আমাদের মাঝে বর্ণনা করে তুলে ধরেছেন, খুব ভালো লাগলো সুন্দর এই পোস্ট।
দিদি আপনি দেখছি চা খেতে যেয়ে রসগোল্লা তৈরি করার পদ্ধতি প্রনালি গুলো খুব সুন্দর ভাবে দেখলেন এবং সেখান থেকে ছবি সংগ্রহ করে আমাদের মাঝে শেয়ার করলেন। আবার সেখান থেকে গরম গরম রসগোল্লা খেলেন এবং সেখান থেকে রসগোল্লা কিনে বাসায় নিয়ে গেলেন। ধন্যবাদ দিদি এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
চা খেতে গিয়ে গরম গরম রসগোল্লা শুনেই তো জিভে জল আসলো।গরম রসগোল্লা কখনো খাইনি তবে আপনার পোস্ট পড়ে বুঝতে পেলাম একদম অসাধারণ খেতে হয় গরম গরম রসগোল্লা। সুন্দর করে ফটোগ্রাফি ও করেছেন। আর একদম ঠিক কথা বলেছেন ফোন ছারা আড্ডা যেন অসম্পূর্ণ হয়, ফোনও আমাদের আড্ডা সঙ্গী। গঙ্গার পাড়ের গল্প শোনার অপেক্ষায় রইলাম।
মালাই কেশর চা এবং গরম গরম রসগোল্লা দুইটাই খুব লোভনীয় লাগছে। আমার এমন গরম গরম রসগোল্লা খাওয়া হয় নাই এখনো। টিনটিন বাবুও মজা করে খেয়েছে আর বাসায় নেওয়ায় পরিবারের বাকিরাও যে ভীষণ খুশি হয়েছে জেনে ভালো লাগলো। আসলেই দিন শেষে পরিবারের আনন্দটুকুই চাই আমরা সবাই।
মালাই চা আমার খুব পছন্দ এবং গরম গরম রসগোল্লা খাওয়ার মজাই আলাদা। আমি কিছুদিন আগে গরম গরম রসগোল্লা খেয়েছিলাম। দারুণ লেগেছিল খেতে। বেশ ভালোই ঘুরাঘুরি করলেন এবং মজার মজার খাবার খেলেন বৌদি। আসলে মাঝে মধ্যে একটু ঘুরাঘুরি করলে মনটা ফ্রেশ লাগে। যাইহোক এতো সুন্দর অনুভূতি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ বৌদি।
ইস্ কি লোভনীয় খাবার রে বাবা! মালাই চা আর রসগোল্লা দেখেই তো চোখ পড়ে আছে ও গুলোর মধ্যে। চোখ ফিরাবো কি করে দিদি? টিনটিন বাবু তো দেখছি বেশ মজা করেই খেল।তবে সত্যি বলতে পরিবারের আনন্দ দেখলে কিন্তু জীবনের সব কষ্ট গুলো দূর হয়ে যায়।
বৌদি আপনার ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের মাঝে পোস্ট শেয়ার করেছেন দেখে ভালো লাগলো। টিনটিন বাবু যেহেতু এখন স্কুলে যাচ্ছে তাই তো ব্যস্ততা অনেক বেড়ে গেছে। আর ব্যস্ততার মাঝেও সবাই মিলে ঘুরতে গিয়েছেন দেখে অনেক ভালো লাগলো। গরম গরম রসগোল্লা খাওয়া মজাই আলাদা। বৌদি আপনি তো রান্নায় অনেক পারদর্শী। আশা করছি এখন নতুন করে চেষ্টা করলে অবশ্যই সফল ভাবে রসগোল্লা বানাতে পারবেন। বৌদি আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগলো। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।