"বাড়ীতে চুলায় তৈরি বড়দিনের হোয়াইট ফরেস্ট কেক"
বন্ধুরা
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। গতকাল ছিল বড়দিন। আমাদের বাড়িতে বড়দিন তেমন ভাবে উদযাপন করা হয় না। শুধু টিনটিন বাবু কে একটা Santa Claus এর একটা। ড্রেস কিনে দেওয়া হয় । আর টিনটিন বাবু কেক কাটতে ও খেতে খুব পছন্দ করে তাই ছোট একটা কেক এনে দেওয়া হয়। তাই গতবছর টিনটিন বাবু কে দুইটা Santa Claus এর ড্রেস দেওয়া হয়েছিলো। সেখান থেকে একটা পড়েছিল আর একটা ড্রেস ছিলো। কাল বড়দিনের জন্য কিছু কিনছিলাম না। আমার শরীরটা খুব একটা ভালো ছিলো না। সেই জন্য গতকাল আর বাইরে যাওয়া হয়নি। ভেবেছিলাম এবার হয়তো টিনটিন বাবু বড়দিনের কেক খেতে পারবে না। কারণ কেক আনতে পারিনি। কাল সকালে টিনটিন বাবু ফোনে কেক দেখে শুধু কেক কেক করছিলো। এটা দেখে আমি বুঝতে পারছিলাম ওর খুব কেক খেতে ইচ্ছা করছিলো। তখন নিজের অসুস্থতা ভুলে গিয়ে ভাবলাম ওর জন্য ছোটো একটা কেক তৈরি করে দিই। আর টিনটিন বাবু হোয়াইট ফরেস্ট কেক খেতে খুব পছন্দ করে তাই ভাবলাম হোয়াইট ফরেস্ট কেক তৈরি করে দিই। এই কেক খেতে খুবই টেস্টি। এবং এটি বানানো খুবই সহজ। চাইলে আপনারা ও বাড়ীতে তৈরি করতে পারবেন। আমি এর আগে ও বেশ কয়েক বার কেক তৈরি করেছি। কিন্তু কখনও আপনাদের সাথে শেয়ার করা হয়নি। তাই ভাবলাম হোয়াইট ফরেস্ট কেক এর রেসিপিটি আপনাদের সাথে শেয়ার করি। আর আমি কেক টি তৈরি করেছি
খেজুরের গুড় দিয়ে। আমি এর আগে চিনি দিয়ে তৈরি করেছি। তাই ভাবলাম এবার গুড় দিয়ে তৈরি
করি। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
উপকরণ:
১. ময়দা - ২ কাপ
২. ডিম - ৪ টি
৩. গুঁড়া দুধ - ১ কাপ
৪. ভ্যানিলা এসেন্স - ১ চামচ
৫. বেকিং পাউডার - ১ চামচ
৬. বেকিং সোডা - হাপ্ চামচ
৭. খেজুরের গুড় - ২ কাপ
৮. চিনি - ২ চামচ
৯.লবণ - ১ চামচ
১০. সাদা ভিনেগার - ১ চামচ
১১. তরল দুধ -১ চামচ
১২. ক্রিম পাউডার - ১ কাপ
১৩. লাল রং - ১ ফোঁটা
১৪. সয়াবিন তেল - ১ কাপ
১৫. কাগজ - পরিমান মতো
ডিম
ভ্যানিলা এসেন্স, বেকিং পাউডার ও বেকিং সোডা
চিনি
প্রস্তুত প্রণালী :
১. প্রথমে একটা পাত্রে দুই কাপ ময়দা, এক কাপ গুড়া দুধ, বেকিং পাউডার এক চামচ, বেকিং সোডা হাপ্ চামচ ও লবণ এক চামচ এক সাথে দিয়ে টিকনী দিয়ে টেলে নিতে হবে। এবং অবশিষ্ট অংশ ফেলে দিতে হবে।
২. এবার টেলে নেওয়া গুঁড়ো হ্যান্ড মিক্সি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।
৩. মেশানো হয়ে গেলে আলাদা করে রেখে দিতে হবে।
৪. এবার একটা পাত্রে ডিম চারটি ভেঙ্গে নিতে হবে। এবং কুসুম ও সাদা অংশ আলাদা করে নিতে হবে।(ফ্রীজের ডিম হলে এক ঘন্টা আগে বের করে রাখতে হবে। কেননা সরাসরি ফ্রিজ থেকে বের করা ডিমে কেক ভালো হয় না।)
৫. এবার সাদা অংশ একটা হ্যান্ড মিক্সি মেশিন দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। চাইলে আপনারা চামচ দিয়ে ও। করতে পারেন। কিন্তু চামচ দিয়ে করলে সময় লাগবে আর আমার মেশিন আছে তাই আমি এটা দিয়ে করছি।
৬. ডিমের সাদা অংশ প্রায় ফোম এর মতো করে নিতে হবে। ফোম তৈরি হয়ে গেলে কুসুম দিয়ে দিতে হবে।
৭.আবার হ্যান্ড মিক্সি মেশিন দিয়ে ওই ডিমের কুসুম প্রায় ২০ মিনিটের মতো ফেটিয়ে নিতে হবে।
৮. কুসুম ফেটানো হলে এর ভিতরে এক কাপের মতো খেজুরের গুড় ও ২ চামচ চিনি ও এক চামচ ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে দিতে হবে।
৯.এবার আরও ১৫ মিনিট ধরে ফেটিয়ে নিতে হবে। যত ভালো ফেটানো হবে তত কেক নরম হবে। তাই একটু সময় নিয়ে ফেটাতে হবে।
১০.এবার ফেটানো হয়ে গেলে এর ভিতরে টেলে রাখা গুঁড়ো গুলো দিয়ে এবার হাত দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।
১১. এবার ওই বেটারের ভিতর হাপ কাপ সয়াবিন তেল দিয়ে আবারও ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। মেশানো হয়ে গেলে ৫ মিনিট রেস্টে রেখে দিতে হবে।
১২. এবার কেক বানানোর ছাঁচে কাগজ লাগিয়ে তার উপর একটু তেল ব্রাশ করে নিতে হবে।
১৩.এবার কেকের ছাঁচে কেকের বেটার ঢেলে দিতে হবে। এবং ছাঁচ ধরে একটু ঝাঁকিয়ে নিতে হবে।
১৪.এবার চুলার উপর একটা কড়াই বসিয়ে দিয়ে তার ভিতর বালি দিয়ে দিতে হবে। চুলার আঁচ বাড়িয়ে দিতে হবে। বালি গরম হয়ে গেলে একটা লোহার জালি বসিয়ে দিতে হবে।
১৫. লোহার জালির উপর বেটার সহ ছাঁচ বসিয়ে দিতে হবে।
১৬.চুলার আঁচ মিডিয়ামে দিতে হবে। এবং একটা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।এভাবে চুলার উপর ৪০ মিনিট রেখে দিতে হবে।
১৭. এবার কেক সাজানোর জন্য ক্রিম তৈরি করে নিতে হবে। ক্রিম তৈরি করার জন্য এক কাপ ক্রিম পাউডার ও হাপ্ কাপ ঠান্ডা তরল দুধ ও এক কাপ খেজুরের গুড় এক সাথে দিয়ে হ্যান্ড মিক্সি মেশিন দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিতে হবে।
১৮. ফেটাটে ফেটাটে শক্ত ফোমের মতো তৈরি করে নিতে হবে।
১৯. এবার ক্রিম কিছু সময়ের জন্য ডিপ ফ্রিজে রেখে দিতে হবে।
২০. এবার চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। ৪০ মিনিট পর ঢাকনা তুলে একটা টুট পিক দিয়ে চেক করে দেখতে হবে ভিতরে কাচা আছে কি না। কেক তৈরি হয়ে গেলে একটা পাত্রে নামিয়ে নিতে হবে।
২১. একটা ছুরি দিয়ে কেক কেটে সমান করে কেটে নিতে হবে।
২২. সমান করে কাটা হয়ে গেলে দুই ভাগ করে নিতে হবে।
২৩. এবার কেক সাজিয়ে নেওয়ার জন্য এক ভাগ কেক বোর্ডের উপর রাখতে হবে। এবং কেকের চার পাশে কাগজ দিয়ে দিতে হবে।
২৪. কেকের উপর উপর দিতে হবে। এবং কেকের চার পাশে ক্রিম লাগিয়ে দিতে হবে।
২৫. ওই ক্রিমের উপর আর এক ভাগ কেক বসিয়ে দিতে হবে। এবং তার উপর ভালো করে ক্রিম লাগিয়ে দিতে হবে।
২৬. ক্রিম লাগানো হয়ে গেলে তার উপরে হোয়াইট চকলেট ছিটিয়ে দিতে হবে।
২৭. এবার কেক এর উপর কিছু ফুল বানিয়ে দিলাম।
২৮. এবার কিছু ক্রিম লাল রং মিশিয়ে নিতে হবে। সেই লাল ক্রিম দিয়ে একটু সাজিয়ে দিলাম। আমার কাছে চেরি ফল ছিল না তাই বাধ্য হয়ে লাল রং মেশাতে হলো।
২৯. এবার কেক সাজানো হয়ে গেলে অবাঞ্চিত কাগজ গুলো তুলে নিতে হবে। তাহলে এবার আমার হোয়াইট ফরেস্ট কেক তৈরি।
তৈরি হয়ে গেল আমার বড় দিনের হোয়াইট ফরেস্ট কেক। এভাবে আপনারা যে কোনো অনুষ্ঠানে প্রিয় জনের জন্য কেক তৈরি করতে পারবেন।
খুবই সুন্দর একটা কেক তৈরির রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন বৌদি। আপনার কেক তৈরির এই রেসিপিটা এতটাই সুন্দর হয়েছে যা আমার বলার ভাষা থাকতে চেনা। বড়দিন উপলক্ষে আমিও একটি কেক তৈরি করেছিলাম কিন্তু আমার একটি আপনার কেকের মতো এতটা সুন্দর হয়েছিল না। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ বউ নেই এমন সুন্দর একটা কেক আমাদের মাঝে উপহার দেবার জন্য।
ওয়াও আপু অসাধারণ কেক হয়েছে। বড়দিনের হোয়াইট ফরেস্ট কেক টি দেখতে বেশ লোভনীয় লাগছে। খেতেও হয়তো খুব সুস্বাদু হয়েছে। আপনার উপস্থাপনা অস্থির। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবগুলো পদ্ধতি দেখিয়েছেন। এতে করে আমি খুব সহজেই এই কেক বানানো শিখে গেলাম। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি কেক বানানোর রেসিপি দেওয়ার জন্য।
হ্যা খেতে খুবই সুস্বাদু ছিল।আপনাকেও ধন্যবাদ ভাইয়া।
আসলে বাচ্চাদের আবদারের কাছে মায়ের পবিত্র শরীর খারাপ খুবই তুচ্ছ। শত শরীর খারাপ থাকলেও তাদের আবদার পূরণ করতে ভালই লাগে। হোয়াইট ফরেস্ট কেক আমারও খুবই পছন্দের। বৌদি আপনি এই কেকটি খুবই চমৎকার করে বানিয়েছেন। দেখে মনে হচ্ছে যে অনেক মজাদার হয়েছে। তাছাড়া আপনি বানানোর পদ্ধতি গুলো খুব সুন্দর উপস্থাপন করেছে এটি দেখে যে কেউ বানিয়ে ফেলতে পারবে। শুভকামনা রইল আপনার এবং টিনটিন বাবুর জন্য।
@tipu curate 2
Upvoted 👌 (Mana: 4/6) Get profit votes with @tipU :)
আসলে "মা" তো "মাই" হয় । সন্তানের জন্য তো মা তার জীবনটা ও দিতে রাজি । আপনি এত অসুস্থ থাকার পরেও টিনটিন বাবুর ইচ্ছা বা চাহিদা পূরণ করলেন । নিজের অসুস্থতার কথা ভুলে গিয়ে । "মা" হিসেবে আপনাকে সেলুট জানাই বৌদি ।
যাইহোক , আপনার বড়দিনের হোয়াইট ফরেস্ট কেক" অসাধারণ হয়েছে । তবে গুঁড় ও চিনির উভয়ের তৈরি হোয়াইট ফরেস্ট কেক" ভালো লাগে । আপনার উপস্থাপনা ও অনেক সুন্দর হয়েছে । শুভকামনা রইল ।
অও, অসাধারণ হয়েছে বৌদি কেকটি।আপনি দেখছি কেক তৈরিতে ও বেশ পারদর্শী।আপনি অসুস্থ শরীর নিয়ে খুবই পরিশ্রম করে কেকটি বানিয়েছেন তাই এটি সুস্বাদু হতে বাধ্য।এভাবেই অনন্তকাল মায়ের ভালোবাসা বেঁচে থাকুক সকল শিশুর হৃদয়ে।কেক আমার ও খুব পছন্দের।তবে আমাদের নিরামিষ কেক কিনে আনা হয়েছিল।টিনটিন বাবু নিশ্চয়ই অনেক খুশি হয়েছিল কেকটি দেখে ।ধন্যবাদ বৌদি।
প্রথমে বড় দিনের অনেক অনেজ শুভেচ্ছা দিদি ইশ্বর মঙ্গল করুক সেই কামনা করি।
বড় দিন কে নিয়ে অনেক সুন্দর ন্যাচারাল একটা কেক বানিয়েছেন খুবই সুন্দর হয়েছে আর আপনি তো রান্নার অলরাউন্ডার সুন্দর না হয়ে পারে।ধাপ গুলোও খুব গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন দিদি।শুভ কামনা রইলো।
বড়দিনের হোয়াইট ফরেস্ট কেক টি দেখতে বেশ লোভনীয় লাগছে । আমার তো দেখেই খিদা আরো বেড়ে গেল। আমি কেক তৈরি করতে পারি না আপনার এই রেসিপিটি দেখে মনে হচ্ছে কেক তৈরি করতে পারব। বড়দিন উপলক্ষে আপনি দারুন একটি কেক আমাদের মাঝে উপহার দিয়েছেন
। ধন্যবাদ দিদি আপনাকে এমন সুস্বাদু একটি কেক রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ওয়াও বৌদি, সত্যি সত্যি দারুণ একটা কেক তৈরী করেছেন। আসলে এই হলো মা, শত অসুস্থ্য থাকলেও সন্তানের জন্য সব উপেক্ষা করে ঠিক তাকে খুশি করার চেষ্টা করে যান।
আজকের কেকটি সত্যি বেশ দারুণ হয়েছে, এবং ওভেন ছাড়া গ্যাসের চুয়াল কিভাবে স্বাদের কেক বানাতে হয় সেটাও দেখিয়ে দিলেন। পুরো পদ্ধতিটির সুন্দর উপস্থাপন করেছেন। আশা করছি টিনটিন বাবু খুব খুশি হয়েছে কেকটির স্বাদ নিয়ে। অনেক অনেক শুভ কামনা রইল তার জন্য। ধন্যবাদ
বাহ্ বাহ্ আপু অসাধারণ আমি ফাস্টে ভেবেছিলাম এটা কিনে আনা কেক ,আপনি এতটা সুন্দর ভাবে কেক টি তৈরী করেছেন দেখে মন টা ভরে গেলো। আপনি যথেষ্ট কষ্ট করেছেন এই কেকটি তৈরি করতে সেটা প্রতিটি ধাপ দেখে বুঝা যাচ্ছে। অনেক দারুন ডিজাইন ও করেছেন সব মিলিয়ে অসাধারণ।