😋লোভনীয় কচুর শাক ভাজি রেসিপি😋
আসসালামু আলাইকুম। হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো আছি।
আজ আবারও চলে আসলাম মজাদার ও উপকারী রেসিপি নিয়ে। আমি আপনাদের সাথে আজ কচুর শাকের রেসিপি শেয়ার করবো। এই শাক আমাদের জন্য খুবই উপকারী। কচুর শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকে। অন্যান্য শাকের থেকে কচুর শাক বেশি উপকারী। তারজন্য আমাদের সবার উচিত কচুর শাক খাওয়া। আপনাদের কচুর শাক নিয়ে এত কথা বলছি আর আমিই কচুর শাক পছন্দ করি না। তার অবশ্য কারণও আছে আসুন আপনাদের কাছে শেয়ার করি সেই কারণ।
আমি তখন খুব ছোট আর একদিন আমার অনেক জ্বর আসে। তখন কোনো তরকারি দিয়ে খেতে ভালো লাগছিল না। মা কে বললাম আমি শাক দিয়ে ভাত খাব। এরপর মা কচুর শাক রান্না করে। মা আমাকে খাইয়ে দেয় অল্প খেয়ে বললাম আর খাব না। তখন মা জোর করে আরেকটু মুখে দেওয়াতে আমার বমি চলে আসে। এই সময় কচুর শাকের গন্ধটা আমার কাছে অনেক খারাপ লাগে আর সেই গন্ধ আজও আমি পাই। এরপর থেকে কচুর শাক খাওয়া বন্ধ করে দিলাম। কারণ সেই দিনের পর মুখের কাছে নিলেই বমি আসে।
এক্ষেত্রে মায়ের কোনো দোষ নেই কারণ সন্তান না খেয়ে থাকলে প্রতিটা মা ই এমন করে। মা চিন্তা করলো সারাদিন কিছু খায়নি যখন তাহলে পেট ভরে কটা ভাত খাওয়ালে ভালোও লাগবে আর শরীরে শক্তিও পাওয়া যাবে। কারণ জ্বর হলে এমনেতে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে যায়। তখন মন না চাইলেও খাবার খেতে হবে শরীর ঠিক রাখার জন্য। কিন্তু মা বুঝতে পারেনি এমন হবে। যাই হোক আমি জানি আপনাদের অনেকের কচুর শাক খুব পছন্দ। আমার হাসবেন্ড খুব পছন্দ করে। কিন্তু আমি খেতে পারিনা বলে আনা হয় না।
গতকাল বাজার করতে গিয়ে অনেক বড় একটি কচুর গাছ নিয়ে এসেছি। গাছের উপরের অংশ কাঁচা ছিল বলে তা দিয়ে শাক রান্না করলাম। তাহলে চলুন রেসিপির ধাপগুলো দেখে নেওয়া যাক।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
| নাম | পরিমাণ |
|---|---|
| কচুর শাক | এক বাটি |
| রসুন | ২ টি |
| পেঁয়াজ | ২ টি |
| শুকনা মরিচ | পরিমাণ মতো |
| তেল | পরিমাণ মতো |
| হলুদ গুঁড়া | ১ চামচ |
| মরিচ গুঁড়া | দেড় চামচ |
| ধনিয়া গুঁড়া | হাফ চামচ |
| জিরার গুঁড়া | হাফ চামচ |
| লবণ | স্বাদ মতো |
রেসিপি তৈরির ধাপসমূহ
😋১ম ধাপ😋
প্রথমে আমি পেঁয়াজ, রসুন আর শুকনা মরিচ কুচি কুচি করে কেটে নেবো।
😋২য় ধাপ😋
এরপর কচু ছোট ছোট পিস করে কেটে নিলাম। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে একটি পাতিলে নিয়ে চুলায় বসিয়ে দিলাম। এরপর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিলাম সিদ্ধ হওয়ার জন্য।
😋৩য় ধাপ😋
কচু কাটার পর এক পাতিল হয়েছিল আর সিদ্ধ হওয়ার পর একদম অল্প হয়ে গিয়েছে।এবার আমি একটি জালির মধ্যে নিয়ে পানি ঝরিয়ে নিলাম। কারণ এভাবে না করলে গলা চুলকাতে পারে।
😋৪র্থ ধাপ😋
এখন চুলায় কড়াই বসিয়ে দেব। এরপর কড়াই গরম হলে এতে পরিমাণ মতো তেল দিয়ে দেব।
😋৫ম ধাপ😋
এবার তেল গরম হয়ে গেলে এতে শুকনা মরিচ কুঁচি দিয়ে একটু ভেজে নেব। এরপর এতে পেঁয়াজ ও রসুন কুচি দিয়ে দেব।
😋৬ষ্ঠ ধাপ😋
এরপর একটু সময় এগুলো ভেজে এতো গুঁড়া মশলা দিয়ে দেব। এরপর অল্প পানি দিয়ে কষিয়ে নেব।
😋৭ম ধাপ😋
এরপর দুটো তেজপাতা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নেব। তেজপাতা দেওয়ার পর খুব সুন্দর ঘ্রাণ আসতেছিল।
😋 শেষ ধাপ😋
এরপর এতে সিদ্ধ করা কচুর শাক দিয়ে দেব। এরপর ভাজা ভাজা করে নামিয়ে নেবো। তাহলেই হয়ে যাবে আমার আজকের লোভনীয় কচুর শাক ভাজি রেসিপি । এবার পরিবেশনের জন্য চলে যাব।
😋 পরিবেশন 😋
এখন আমি আপনাদের সাথে আমার রেসিপি সুন্দর ভাবে পরিবেশন করার জন্য নিয়ে আসছি। আপনাদের কাছে যদি আমার এই রেসিপি ভালো লাগে তাহলে একবার বাসায় তৈরি করে দেখবেন। আশা করি আমার মতো আপনাদের কাছেও অনেক ভালো লাগবে। আজ এ পর্যন্ত আবার দেখা হবে নতুন কোনো রেসিপির মাধ্যমে। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং নিরাপদে থাকেন।
আমি তানজিমা। আমি একজন বাংলাদেশী। আমার মাতৃভাষা বাংলা বলে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ করি। আমি ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বিবিএ শেষ করেছি।
আমি ছবি আঁকতে, পড়তে, লিখতে ফটোগ্রাফি, রেসিপি এবং ডাই বানাতে খুব পছন্দ করি। আবার আমি ভ্রমণ বা ঘুরাঘুরি করতে খুব পছন্দ করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে খুব পছন্দ করি। আমি চেষ্টা করি সব সময় যেন নতুন কোনো কিছু করা যায়।
আপু আপনি ঠিকই বলেছেন কচু শাক ভাজি সত্যিই লোভনীয় রেসিপি। কারন এই সবজিটা আমার কাছে দারুন লাগে। কচুর মধ্যে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন রয়েছে। যা শরীরের জন্য খুবই উপকারি। ধন্যবাদ আপু।
হ্যাঁ ভাইয়া কচু শাক আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তার জন্য মাঝে মাঝে এই শাক খাওয়া উচিত। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মতামতের জন্য।
ছোট বেলায় দাদু বলতেন কচু শাক খেলে চোখের জ্যোতি বাড়ে। আপনার কচুর শাকের রেসিপি দেখে দাদুর কথা মনে পড়ে গেল। সত্যিই খুবই মজাদার সুস্বাদ লোভনীয় কচুর শাক ভাজি রেসিপি আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। দেখে খুব ভালো লাগলো ।আপনার রন্ধন প্রক্রিয়া খুবই দুর্দান্ত হয়েছে। আমাদের মাঝে চমৎকারভাবে রানার ধাপ সমূহ উপস্থাপন করেছেন। দেখে মনে হচ্ছে খেতে খুবই মজাদার এবং সুস্বাদু হবে। এত চমৎকার রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
আমার এই রেসিপি দেখে আপনার দাদুর কথা মনে পড়ছে শুনে খুব ভালো লাগলো। হ্যাঁ ভাইয়া খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছিল সময় পেলে অবশ্যই রেসিপির ধাপ গুলো দেখে বাসায় তৈরি করে নেবেন। ধন্যবাদ।
অনেককেই দেখিয়ে লম্বা কচুর ডালগুলো রান্না করে। তবে আমি কখনো রান্না করে খাইনি। আপনার রেসিপিটি দেখে বেশ ভালই লাগছে। অবশ্যই একদিন বাসায় রান্না করব। তবে আমরা সবসময় কচুশাকটাই বেশি খেয়ে থাকি এভাবে রান্না করে। ধন্যবাদ আপু নতুন একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
আপু একবার বাসায় রান্না করে দেখবেন। এভাবে এই ডাল রান্না করে খেতে খুবই সুস্বাদু হয়। আশা করি আপনার কাছে ভালো লাগবে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
অনেক সময় আছে যে জ্বরের মধ্যে জোর করে খাওয়ালে তার প্রতি একটা অনীহা চলে আসে। আর আপনি তো খেতে গিয়ে বমি করে দিয়েছিলেন তাহলে তো আপনার এই জিনিসটার প্রতি আরো অরুচি চলে আসবে। আর আপু এটা তো কচুর শাক না কচুর ডাটা ভুনা করেছেন। এই খাবারটা খেতে কিন্তু অনেক ভালো লাগে।
ঠিক বলেছেন আপু জ্বরের মুখে এভাবে খেলে অনেক সময় খাবারে অনীহা চলে আসে। আপু আমাদের এদিকে কচুর শাক বলে। যাই হোক ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য দিয়ে পাশে থাকার জন্য।
আপনি ঠিকই বলেছেন, সব মায়েরাই এমন হয়।তার সন্তানদের জোর করে খাওয়াতে চায়, তাছাড়া কচু শাকে প্রচুর ভিটামিন রয়েছে।আপনার স্বামীর জন্য আপনি সুন্দর করে কচুশাক রান্না করেছেন।আসলে কচুশাকের গায়ের আশ ফেলে দিয়ে আমরা একেবারেই রান্না করি।তখন আর আলাদা করে সেদ্ধ করে নেওয়ার দরকার হয় না।আপনার রেসিপিটি দেখে বোঝা যাচ্ছে বেশ সুস্বাদু হয়েছে, নিশ্চয়ই আপনার স্বামী খুশি হয়েছেন এটা খেয়ে।তবে চিংড়ি দিলে জমে যেত,ধন্যবাদ আপু।
দিদি অনেক সময় দেখা যায় কচু চুলকায় তার জন্য আমরা এভাবে সেদ্ধ করে নেই। তাহলে আর খাওয়ার সময় গলা ধরে না। আপনার সুন্দর মন্তব্য পড়ে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
কচু ভাজি খুব সুস্বাদু একটি খাবার। এই সবজিতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন আছে। আপনি খুব সুন্দরভাবে রান্না করে আমাদের মাঝে রেসিপি শেয়ার করেছেন। রান্নার পদ্ধতি আমার ভালো লেগেছে। পরিবেশন দেখে লোভ লেগে গেল, খুব খেতে ইচ্ছে করছে ভাত দিয়ে। ধন্যবাদ আপু।
ভাইয়া তাহলে খাওয়ার জন্য চলে আসেন। আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
আপু আপনার টাইটেলে দেখলাম কচু শাক রান্না করেছেন, অথচ ভেতরে গিয়ে দেখি কচুর ডাটা রান্না করেছেন। হয়তোবা অঞ্চল ভেদে একেক জায়গায় একেক রকম নাম হয়, সে ক্ষেত্রে হয়তো আপনি কচুশাক বলেছেন। তবে আমাদের এদিকে কচুর ডাটা বলে। আর কচুর পাতাকে কচু শাক বলে। যাইহোক আপু নাম দিয়ে নয়, রেসিপি নিয়ে কথা, আপনার তৈরি রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে খেতে খুবই মজার হয়েছে। রন্ধন প্রণালীও ছিল অসাধারণ। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু, খুবই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু একটি রেসিপি তৈরি করে তার প্রতিটি ধাপ শেয়ার করার জন্য।
ঠিক বলেছেন ভাইয়া অঞ্চল ভেদে একেক জায়গার ভাষা একেক রকম। আমাদের এদিকে কচুর শাক বলা হয়। হ্যাঁ খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছিল। ধন্যবাদ সুন্দর মতামতের জন্য।
কচুর শাকের আপনি অনেক লোভনীয় রেসিপি প্রস্তুত করেছেন।
তবে আমি কচু শাকের ঘন্ট খেয়েছি অনেকবার ভাজি কখনো খাওয়া হয়নি।
আপনার প্রস্তুত করার রেসিপিটি দেখেই খুব লোভ হচ্ছে খেতে নিশ্চয়ই খুব মজা হবে।।
ভাইয়া তাহলে বাসায় একবার তৈরি করে দেখবেন আশা করি আপনার কাছে ভালো লাগবে। তবে আমি কখনো কচুর শাকের ঘন্ট খাইনি। আপনার কাছ থেকে শুনে মনে হচ্ছে খুব সুস্বাদু হবে। ধন্যবাদ।
ছোটবেলায় আমি একবার চা খেয়ে বমি করেছিলাম। তখন থেকে আর চায়ের গন্ধ সহ্য করতে পারি। আপনার দেখি আমার মতই অবস্থা হয়েছে আপু। তবে কচু শাক কিন্তু আমার ভীষণ প্রিয়। যাইহোক আপনি এই খাবারটি না খেয়েও দারুন ভাবে রেসিপি তৈরি করে উপস্থাপন করেছেন। রেসিপিটি দারুন হয়েছে আপু।
হ্যাঁ আপু সেদিনের পর থেকে এখন কেন জানি আর খেতে পারি না। আপনার খুব পছন্দ শুনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
ওয়া! আপু কতদিন যে কচু শাক খাওয়া হয় না। বেশ প্রিয় এই শাকটি। তবে আপনার রান্না করার স্টাইলটি কিন্তু ভিন্ন রকমের ছিল । এভাবে কখনও কচু শাক ভাজি করে খাওয়া হয়ে উঠে নি। আপনার করা রেসিপি দেখেই মনে হচ্ছে এত মজার রেসিপিটি একবার ট্রাই করে দেখবো।
আপু তাহলে আজই এভাবে বাসায় কচুর শাক রান্না করে খেয়ে দেখবেন আশা করি ভালো লাগবে। খুব সুন্দর মন্তব্য করেছেন। ধন্যবাদ।