আমার লেখা গল্প "যমজ বোন" পর্ব-৩
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে।
আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজকে আবার হাজির হয়ে গেলাম "যমজ বোন" গল্পটির তৃতীয় পর্ব নিয়ে। যারা আমার গল্পটি পড়ে উৎসাহ দিচ্ছেন তাদেরকে অনেক বেশি ধন্যবাদ। নতুন নতুন গল্প লেখা শিখছি। আপনাদের উৎসাহ পেলে লেখার আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। এই গল্পটি লেখতে আমার কাছে বেশ ভালো লাগছে। কারন এরকম মিষ্টি প্রেমের গল্প লেখতে এবং পড়তে দুটোই ভালো লাগে। আশা করি আজকের পর্বটিও আপনাদের ভালো লাগবে।
যমজ বোন
এভাবে বেশ কিছুদিন চলতে থাকে। রিতা অসুস্থতার জন্য কলেজে আসে না। আর এই ফাঁকে মিতা এবং হৃদয়ের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। দুজনে কলেজ শেষে একসঙ্গে আড্ডা দেয়। মিতা রিতার মতো অভিনয় করার চেষ্টা করে। কিন্তু তারপরও মাঝেমধ্যে তার দুষ্টুমি প্রকাশ পেয়ে যায়। হৃদয় প্রথমে ভাবে যে ওকে দূর থেকে দেখে যতটা চুপচাপ শান্ত মনে হয় আসলে ও অতটা শান্ত নয়। এভাবেই চলতে থাকে তাদের সম্পর্ক।
একদিন গল্পে গল্পে হৃদয় বলে-- প্রথম যেদিন তোমাদের দুই বোনকে দেখেছিল তুমি চুপচাপ থাকার কারণে তোমাকে আমার বেশি ভালো লেগেছিল। এজন্য বেশ কিছুদিন ধরে তোমাকে ফলো করছিলাম।
এ কথা শোনার পর মিতা কিছুটা থমকে যায়। তার আর বুঝতে বাকি থাকে না যে সে তাকে রিতা ভেবে প্রপোজ করেছে। সে মনে মনে খুবই কষ্ট পায় এবং সেখান থেকে দ্রুত বিদায় নিয়ে চলে যায়।
মিতা বাসায় এসে ভাবতে থাকে এটা কি হয়ে গেল। সে তো হৃদয়কে খুব ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু হৃদয় তো তাকে ভালোবাসে না। সে রিতাকে ভালোবাসে। কিন্তু মিতা হৃদয়কে হারাতে চায় না। কিন্তু হৃদয় সব জানতে পারলে কি হবে। ওকে কি সব খুলে বলবে? তাছাড়া রিতাও কি হৃদয়কে ভালোবাসে?
মিতা রিতার সঙ্গে কথা বলে । রিতার কাছে হৃদয়ের কথা জিজ্ঞাসা করে। কিছু জানে কিনা কৌশলে জানতে চায়। কিন্তু রিতা জানায় যে সে হৃদয় কে চিনে না এবং তার বিষয়ে কিছু জানেও না। তাছাড়া ছেলেদের নিয়ে ভাবার এত সময় নেই তার। সে পড়ালেখায় মনোযোগী হতে চায়। মিতা কিছুটা স্বস্তি পায়।
এভাবে আরো কিছুদিন কেটে যায়। মিতা হৃদয়কে হারানোর ভয়ে সত্যি কথাটা গোপন করে যায়। কিন্তু তার ভিতরে একটা ভয় কাজ করতে থাকে। যদি হৃদয় জেনে ফেলে তাহলে কি হৃদয় তাকে ভুল বুঝবে? মাঝেমধ্যে চিন্তা করে সে হৃদয়কে সবকিছু জানিয়ে দিবে। কিন্তু সাহস করে উঠতে পারে না।
এদিকে রিতা ও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। সে কলেজে যেতে চায়। কিন্তু মিতা ভয় পায় যদি রিতা কলেজে গেলে হৃদয় বুঝতে পেরে যায়। সেজন্য সে রিতাকে আরো কিছুদিন রেস্ট নিতে বলে। তাকে বলে যে কলেজের সবতো সে জানতেই পারছে তাহলে এত তাড়াহুড়া করে কলেজে যাওয়ার কি দরকার আরো কিছুদিন রেস্ট নিতে। রিতাও কিছুদিন রেস্ট নিতে রাজি হয়ে যায়। রিতা আর কিছুদিন পর থেকেই কলেজে যেতে রাজি হয়। মিতা মনে মনে ভাবে এভাবে কতদিন সে হৃদয়ের কাছ থেকে সত্যিটা লুকিয়ে রাখবে।
মিতা হৃদয়ের কাছে সত্যিটা লুকিয়ে রেখে ঠিক করছে কিনা অবশ্যই জানাবেন? পরবর্তীতে কি হলো জানতে হলে পরবর্তী পর্বের সাথেই থাকুন। সময় নিয়ে আমার গল্পটি পড়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
ধন্যবাদ
@tania
| আমি তানিয়া তমা। আমি বাংলাদেশে থাকি। ঢাকায় বসবাস করি। আমি বিবাহিত। আমার দুটি ছেলে আছে। আমার শখ রান্না করা, শপিং করা, ঘুরে বেড়ানো। আমি বাংলায় কথা বলতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলাদেশকে ভালবাসি। |
|---|
VOTE @bangla.witness as witness OR SET @rme as your proxy
যমজ বোন গল্পটার তৃতীয় পর্ব পড়ে আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। রিতা তো হৃদয়কে চিনিও না। আর হৃদয় মিতাকে রিতা ভেবে তার ভালোবাসার কথা বলে দিয়েছিল। আর এই কয়েকদিনের মধ্যে মিতাও হৃদয়কে অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছে দেখছি। মিতার মধ্যে ভয় কাজ করছে এটা ভেবে যে, হৃদয় যদি সত্যিটা জানতে পারে তাহলে তাকে ছেড়ে চলে যাবে। আর মিতা তাকে এত বেশি ভালোবেসে ফেলেছে যে, তাকে হারাতে চায় না। আর সেজন্য মিতা মিথ্যা বলেছে হৃদয় কে। পরবর্তীতে কি হয় এটা জানার জন্য অপেক্ষা থাকলাম।
আমার গল্পটি পড়ে উৎসাহমুলক মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
মিতা হৃদয়ের কাছে সত্যি কথাটা লুকিয়ে খুব বাজে কাজ করছে। কারণ মিথ্যা দিয়ে কিছু শুরু হলে সেটার ফলাফল মোটেই ভালো হয় না। আর সত্য কখনো গোপন থাকে না। একদিন না একদিন ঠিকই বের হয়ে আসে। মিতা যতই তালবাহানা করে রিতাকে বাসায় রাখুক না কেনো, একদিন না একদিন রিতা তো অবশ্যই কলেজে যাবে। আর ধীরে ধীরে হৃদয় সবকিছু জানতে পারবে। হৃদয়ের মনে তো এমনিতেই একটু একটু সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে ইতিমধ্যে। কারণ সে তো রিতাকে চুপচাপ শান্তশিষ্ট মেয়ে ভেবে পছন্দ করেছে। কিন্তু এখন তো অন্য রকম মনে হচ্ছে। যাইহোক পরবর্তী পর্বে আরো অনেক কিছু জানতে পারবো আশা করি।